ফ্রি আমেরিকা – আবুল আসাদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আবুল আসাদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৭
ফ্রি আমেরিকা – বইটির এক ঝলকঃ
পৃথিবী যেন হয় আমাদের ফাউন্ডারস ফাদারসদের, কোন ষড়যন্ত্রকারীদের নয়। তাঁর কথিত এই ‘ষড়যন্ত্রকারীদের নতুন পৃথিবীটা’ কি, সেটা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।’ বলল চার্লস ওয়ারনার।
“শহীদ আলেকজান্ডার হ্যামিল্টনের ঐ টেপ থেকেই পরিষ্কার, জেনারেল শ্যারন ও জোনসরা ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’-এর নামে যে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন আমেরিকার মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে, সেটাই ঐ ষড়যন্ত্র।’ বলল ডন এ্যাডওয়ার্ড।
“কিন্তু কেন এটা ষড়যন্ত্র আমি বুঝতে পারছি না। বরং আমি তো দেখছি, এই নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন আমেরিকার জন্যে বিশ্বনেতৃত্বের মুকুট নিয়ে আসবে। এতে দোষ কোথায়?’ বলল এ্যান্ড্রু জ্যাকবস ।
‘এর একটা উত্তর আমি দিতে পারি আমার ছেলে হ্যারি এ্যাডওয়ার্ডের ভাষায়। কিছুদিন আগে আমাদের ফ্যামিলি গ্যাদারিং-এ নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার নিয়ে বিতর্ক উঠলে সে বলেছিল, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বনেতৃত্বের লোভ দেখিয়ে তাকে বিশ্বের ‘খল নায়ক’-এ পরিনত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জাতিসংঘের বিশ্বায়ন কর্মসূচীর পেছনের সকল কলকাঠি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতি প্রভৃতির বিশ্বায়নকে যতই লোভনীয় মোড়কে বাজারজাত করা হোক, অধিকাংশ জাতি রাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, তার সাথে আই এম এফ ও বিশ্বব্যাংক ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে পড়াই এর একটি প্রমাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিতর্কিত বিশ্বায়নের নেতা সাজিয়ে ও বিশ্বপুলিশের তকমা পরিয়ে তাকে বিতর্কিত ও বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। আমেরিকার বন্ধুর বেশ পরে আমেরিকার বিরুদ্ধে এটা সাংঘাতিক ষড়যন্ত্র। জেনারেল শ্যারনরা হিটলারকে ঘৃনা করেন, কিন্তু তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হিটলারের জার্মানী’ বানাতে চাচ্ছে। এর অর্থ তারা আমেরিকার জন্যে হিটলারের পরিনতি আশা করে।’ বলল দানিয়েল ময়নিহান।
দানিয়েল ময়নিহান থামতেই এ্যান্ড্রু জ্যাকবস বলে উঠল, ‘ভবিষ্যত সম্পর্কে এটা একটা ধারনা মাত্র।’ হাসল আনা প্যাট্রেসিয়া। বলল, ‘ধারনা বলে একে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না মিঃ জ্যাকবস। দেখুন গোটা দুনিয়ায় ইউরোপ আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। তার মধ্যে আবার বৃটিশরা আমাদের সবচেয়ে কাছের। সেই বৃটেনের শীর্ষ নীতি- নির্ধারকরা আড়ালে কি বলে থাকে জানেন? বলে, ‘সবাই সব জায়গায় আজ দেখছে আমেরিকার বেপরোয়া জেদপনা ও একলা চল নীতিকে।’ আমাদেরই হার্ভার্ডের একজন বিদেশ-নীতি বিশেষজ্ঞ (স্যামুয়েল হান্টিংটন) বলেছে, ‘বিশ্বের জাতি-রাষ্ট্রসমূহ এবং জনগনের বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে একাকী হয়ে পড়েছে।’ তার মত হলো, ‘আমেরিকা কখনই বিচ্ছিন্ন আর বন্ধু হারানোর নীতি গ্রহন করবে না। কিন্তু তার পদক্ষেপই অবশিষ্ট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।’ ‘ফ্রি আমেরিকা’র হ্যারি এ্যাডওয়ার্ডরা ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থাকে’ এই বিচ্ছিন্নকারী পদক্ষেপ হিসাবে অভিহিত করছে। তাদের এই মত ফেলে দেবার মত নয় যে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গ্লোবালাইজেশন বা একক স্ট্যান্ডারডাইজেশন জাতি-রাষ্ট্রসমূহকে বৈরী করে তুলবেই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেই। অন্তিম মুহূর্তে জেনারেল হ্যামিল্টন এই বোধ থেকেই একে ‘ষড়যন্ত্রের বিশ্ব ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জায়গায় চেয়েছেন ফাউন্ডার ফাদারসরা যে বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছেন সেই বিশ্ব ব্যবস্থা। ‘ নিরূপায়ের একটা হাসি ফুটে উঠল এ্যান্ড্রু জ্যাকবসের মুখে। বলল,
‘আমাদের ফাউন্ডার ফাদারসদের আলাদা বিশ্ব ব্যবস্থাটা কি?”
‘সেটা হলো, তোমার হাত তুমি ততটা সম্প্রসারিত করো, যতটা করলে অন্যের নাক স্পর্শ না করে। অর্থাৎ কারো স্বার্থে হস্তক্ষেপ না করে। যদি এ নীতিবোধে মানুষ উজ্জীবিত হয়, তাহলেই শুধু পারস্পরিক সমতা, সম্মান ও সহযোগিতা ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গঠন সম্ভব। আমাদের ফাউন্ডার ফাদারসরা এ বিশ্ব ব্যবস্থারই স্বপ্ন দেখেছেন।’
আনা প্যাট্রসিয়া থামতেই চার্লস ওয়ারনার বলে উঠল, ‘এবার আমাদের বৈঠকের আমরা উপসংহার টানতে পারি।’
‘আমরা দুজন শেষ মুহূর্তে এসেছি। জানিনা আগে আরও কি আলোচনা হয়েছে। তবে আমি মনে করি, এই বৈঠকের সমাপ্তি ঘটাতে পারি একটা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। সেটা হলো, ‘ঈশ্বর যেন আহমদ মুসাকে দীর্ঘ জীবন দান করেন। তিনি মৌলবাদী হলেও আমেরিকাকে একটা অক্টোপাসের কবল থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করলেন। তিনি শুধু ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ধরেছেন তাই নয়, ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার সব ব্যবস্থাই সম্পন্ন করেছেন।’ বরর ডন এ্যাডওয়ার্ড।
“মিঃ এ্যাডওয়ার্ডের সব কথা সাথে আমি একমত। তবে ষড়যন্ত্রটাকে ইহুদী ষড়যন্ত্র বলা ঠিক নয়। বিজ্ঞানী জন জ্যাকবস, ডেভিড উইলিয়াম জোনসও জেনারেল শ্যারনরা একটা ষড়যন্ত্রকারী গ্রুপ এং ইহুদী গ্রুপ বটে কিন্তু আমেরিকার যারা দেশপ্রেমিক ইহুদী তাদের প্রতিনিধি তারা নয়। সুতরাং একে ইহুদী ষড়যন্ত্র না বলে ইহুদীবাদী একটা গ্রুপের ষড়যন্ত্র বলা উচিত। দেখুন পত্রিকায় ফ্রি আমেরিকার যে প্রতিবাদ আজ প্রকাশিত হয়েছে তাতেই আছে ইহুদী ব্যাংকার আইজ্যাক বেনগুরিয়ান ও তাঁর মেয়ে সাবা বেনগুরিয়ান জেনারেল শ্যারনদের বিরোধিতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, তবু আমেরিকার স্বার্থ জলাঞ্জলী দিতে চাননি।’ বলল আনা প্যাট্রসিয়া ।
‘ধন্যবাদ মিস প্যাট্রসিয়া। আপনার সাথে আমি একমত। তবে আহমদ মুসা সম্পর্কে বেশী বলার পক্ষে আমি নই। ঘটনাচক্রে তাঁর সাহায্য আমরা পেয়েছি। কিন্তু তাঁর মৌলবাদী চরিত্র সহজে যাবার নয়।’ বলল এ্যান্ড্রু জ্যাকবস।
হাসল ডন এ্যাডওয়ার্ড। বলল, ‘মৌলবাদ দেখে আমরা অভ্যস্তই। ইহুদীদের চেয়ে বড় মৌলবাদী দুনিয়াতে আর কেউ নেই। দুনিয়ার সবাইকে বুকে টেনে নেবার জন্য ইসলাম দুহাত বাড়িয়ে আছে। কিন্তু কোন নন-ইহুদী ইহুদী হতে পারে না, ইহুদী হওয়া চিরদিনের জন্য শুধু বনি ইসরাইলের জন্যে বরাদ্দ। আর আহমদ মুসা যেটুকু মৌলবাদী, সেটুকু মৌলবাদী আমরা অনেকেই। বাইবেলের মৌলবিধানকে আমরা অনেকেই দৃঢ়ভাবে মেনে চলতে চাই।’
ডন এ্যাডওয়ার্ড থামতেই চার্লস ওয়ারনার বলে উঠল, ‘প্লিজ কথা না বাড়িয়ে আমরা আলোচনার উপসংহার টানতে চাই। মিস আনা প্যাট্রসিয়া ঠিকই বলেছেন শ্যারন-জোনসদের ষড়যন্ত্রকে আমরা ইহুদী ষড়যন্ত্র বলবনা। আমেরিকা ও আমেরিকার বাইরে এ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হলেও ইহুদীবাদী একটা গ্রুপ মাত্র এর সাথে জড়িত। আর মিঃ এ্যাডওয়ার্ড উপসংহার সম্পর্কে যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা ভালো। তবে আহমদ মুসার জন্যে ঐ প্রার্থনার প্রয়োজন নেই, আমরা আহমদ মুসাকে ধন্যবাদ জানাব, স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আহমদ মুসা হলো উন্মুক্ত তরবারী। আমরা আজ এখানে দুটি ব্যাপারে একমত হতে পারি, এক. আহমদ মুসা সম্পর্কে আমাদের এই অনুভুতি সরকারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে আমরা জ্ঞাপন করবো, দুই. আমেরিকা থেকে এই ইহুদীবাদী ষড়যন্ত্র সমূলে উৎপাটনের জন্যে সব ব্যবস্থাই আমাদের সরকারকে গ্রহন করতে বলব এবং সরকার রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও যে ত্বরিত এই ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে এগিয়ে এসেছেন, এজন্যে আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাব।’ থামল চার্লস ওয়ারনার।
আনা প্যাট্রসিয়া, দানিয়েল ময়নিহান ও ডন এ্যাডওয়ার্ডসহ প্রায় সকলেই একবাক্যে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ এই দুই বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি।’ ‘আমার আপত্তি নেই, তবে আমরা ইনফরমাল বসেছিলাম। আমরা সম্মিলিতভাবে এসব কথা কি বলব?’ বলল এ্যান্ড্রু জ্যাকস।
‘অবশ্যই মিঃ জ্যাকবস। আমরা জেনারেল শ্যারনদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে এই যে এখানে বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম তার প্রায়শ্চিত্ত হওয়া দরকার। আমি এখানে আসার আগে ফ্রি আমেরিকার সারা জেফারসন দেখতে এসেছিল হ্যারিকে। দেখলাম, তারা বৈঠকের খবর জানে। সারা জেফারসন আমার মাধ্যমে আপনাদের সবার কাছে আপীল করেছেন তাদেরকে সাহায্য করার জন্যে। আমি মনে করি, বৈঠকে আমরা যদি ঐ দুটি বিষয়ে একমত হই, তাহলে তাদেরকে সাহায্য করা হয়, আমাদেরও প্রায়শ্চিত্ত হয়।’ বলল দানিয়েল ময়নিহান আবেগ জড়িত কন্ঠে।
আরও ভালো হতো, যদি আপনি সারা জেফারসনকে দাওয়াত দিতেন এ মিটিং-এ আসার জন্যে। তার জন্যে সত্যিই গর্ববোধ হয়। তিনি ইয়ং আমেরিকার যোগ্য নেত্রী।’ বলল ডন এ্যাডওয়ার্ড। ‘তাঁকে দাওয়াত দেয়ার কথাই আমার মাথায় আসেনি। তাছাড়া তাঁরও সময় ছিল না। তিনি এফ বি আই হেড কোয়ার্টারে যাবার পথে আমার বাসায় উঠেছিলেন।’ বলল দানিয়েল ময়নিহান।
‘আচ্ছা তাহলে আমরা উঠতে পারি।’ বলে চরালস ওয়ারনার এ্যান্ড্রু জ্যাকবসের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মিঃ জ্যাকবস আপনাকে সবার পক্ষ থেকে সুন্দর আতিথেয়তার জন্যে ধন্যবাদ’
বলতে বলতে উঠে দাঁড়াল চার্লস ওয়ারনার। তার সাথে সাথে সবাই উঠে দাঁড়াল।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!