ঈমানদীপ্ত দাস্তান ৮ম খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৭
ঈমানদীপ্ত দাস্তান ৮ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
৫৩৮ হিজরীর মহররম মাস। সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী দামেশকে অবস্থান করছেন। আজ তাঁর চেহারাটা উজ্জ্বল। চোখে আনন্দের ঝিলিক বিরাজ করছে। তাঁর চেহারার এই ঔজ্জ্বল্য আর চোখের এই ঝিলিক তাঁর হাইকমান্ডের সালার ও ঘনিষ্ঠজনরা ভালোভাবে জানেন। তিনি যখন কোনো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন তাঁর চোখে-মুখে এই ভাবটা ফুটে ওঠে। যেসব মুসলিম আমীর, শাসক ও দুর্গপতি ক্রুসেডারদের বন্ধু হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, সুলতান তাদের প্রত্যেককে নিজের অনুগত ও পক্ষভুক্ত করে নিয়ে ফেলেছেন। তাদের মধ্যে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ হলেন হাল্ব ও মসুলের গবর্নর ইদ্দীন ও ইমাদুদ্দীন। তারা কয়েক বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সুলতান আইউবীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। তাদের বাহিনী এখন আইউবীর যৌথ বাহিনীর অধীন।
সুলতান আইউবী প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ফিলিস্তীন অভিমুখে যাত্রা করার আগে তিনি ঈমান বিক্রেতা মুসলিম আমীর-শাসকদের পদানত করবেন, যাতে তারা তাঁর ও প্রথম কেবলার মাঝে প্রতিবন্ধক হতে না পারে। এই প্রতিজ্ঞা পালন করে এখন তিনি দামেশকে অবস্থান করছেন। তিনি তরবারীর জোরে গাদ্দারদের সোজা পরে এনে বলেননি আমি বিজয়ী। বরং তিনি আক্ষেপ করে বলতেন, ইসলামের ইতিহাসের এই অধ্যায়টি খুবই লজ্জাজনক বিবেচিত হবে, যাতে বর্ণনা করা হবে সালাহুদ্দীনের শাসনামল কালো যুগ ছিলো। সে যুগে ক্রুসেডাররা বাইতুল মুকাদ্দাস দখল করেছিলো আর মুসলমানরা আপসে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো। অবশ্য সুলতান বলতেন, গাদ্দারদেরকে পক্ষভুক্ত করে আমি ক্রুসেডারদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছি।
আজ যখন তিনি দামেশকে তাঁর হাইকমান্ডের সালার-উপদেষ্টা এবং অসামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে তলব করেন, তখন সকলে তাঁর চেহারায় বিশেষ এক দীপ্তি ও চোখে সেই ঝিলিক দেখতে পান, যা মাঝে-মধ্যে দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে। সকলে বুঝে ফেলে, সুলতান তাঁর গন্তব্য অভিমুখে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেছেন। আর সকলের জানা, সুলতানের গন্তব্য বাইতুল মুকাদ্দাস। এখন তাদেরকে তাঁর মুখ থেকে শুনতে হবে, কবে কোন্ সময় যাত্রা শুরু হবে, বিন্যাস কীরূপ হবে এবং পথ কোন্টা হবে।
‘আমার বন্ধুগণ!’— সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী ভাষণ শুরু করেন- ‘আপনারা প্রত্যেকে নিশ্চয়ই এ কথা বলে আমাকে সমর্থন যোগাবেন যে, আমরা বাইতুল মুকাদ্দাস অভিমুখে রওনা করতে প্রস্তুত আছি। আজ আমি আপনাদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দান করবো, সন্দেহ নিরসনের লক্ষ্যে আপনারা আমাকে যেসব প্রশ্ন করবেন, আপত্তি উত্থাপন করবেন, সব আমাদের ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমাদের শব্দ-ভাষা, আমাদের অঙ্গীকার ইতিহাসের লিপিতে পরিণত হবে। এই লিপি আমাদের সর্বশেষ প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আমরা জগতে এই ইতিহাসের লেখা রেখে যাবো আর মহান আল্লাহর সমীপে নিজেদের আমল নিয়ে উপস্থিত হবো। আমরা আমাদের অনাগত প্রজন্ম এবং মহান আল্লাহর সমীপে লজ্জিত হবো, নাকি সম্মানিত সে সিদ্ধান্ত আমাদেরকেই নিতে হবে। বিজয়ের গ্যারান্টি আমরা কেউ দিতে পারবো না। তবে আমরা প্রত্যেকে এই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতে পারি যে, আমরা লড়াই করবো, জীবন দেবো- ফিরে আসবো না।’
সুলতান আইউবী সকলের প্রতি তাকান। তাঁর ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে ওঠেছে। তিনি বললেন- ‘আমি আপনাদেরকে আত্মপ্রবঞ্চনায় লিপ্ত করবো না। আপনাদের কারো কারো মনে ভয় থাকতে পারে, আমাদের সৈন্য সংখ্যা ক্রুসেডারদের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া আমরা নিজ ভূমি থেকে বহু দূরে যুদ্ধে যাচ্ছি। আমি আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমরা সব সময় অল্প কম নয়- অনেক কম সৈন্য দ্বারা কয়েকগুণ বেশি দুশমনের সঙ্গে লড়াই করেছি ও বিজয় অর্জন করেছি। যুদ্ধ সংখ্যা দ্বারা নয়- চেতনা ও বুদ্ধি দ্বারা লড়া হয় । ঈমান শক্ত হলে বাহু, তরবারী এবং মনও শক্ত হয়ে যায় । আমাদের কাছে ঈমানের কমতি নেই। বুদ্ধির অভাব নেই। আপনারা ঈমান অটুট রাখুন। শক্তিকে ব্যবহার করুন ।
‘আমাদের একজনও নিজেদের ও দুশমনের সামরিক শক্তির তুলনা করছি না’ – কমান্ডো বাহিনীর সালার সারেম মিসরী দাঁড়িয়ে বললেন । তিনি বুঝিয়ে দিয়ে বণ্টন করতে হবে। আমাদের অগ্রযাত্রা বিভিন্ন অংশের অগ্রযাত্রা হবে। প্রতিটি অংশের পথ আলাদা হবে।’
‘আমি যথারীতি গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা করে রেখেছি। আপনাদের ব্যতীত অন্য কারো কোনো কমান্ডার বা সৈনিকের জানবার প্রয়োজন নেই, আমরা কোথায় যাচ্ছি। দুশমনের অঞ্চলে আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছে। তারা দুশমনের খুঁটিনাটি সকল গতিবিধি ও সিদ্ধান্তের সংবাদ আমাদের পৌঁছিয়ে দিচ্ছে। এখন আবশ্যক হলো, আমাদের অঞ্চলে শত্রুর যেসব গোয়েন্দা আছে, তাদেরকে অন্ধ, বধির ও বিভ্রান্ত বানিয়ে ফেলতে হবে। হাসান ইবনে আবদুল্লাহ তারও ব্যবস্থা করে রেখেছে। আমি আপনাদেরকে আরো একটি বিষয় বলে দিতে চাই। তা হচ্ছে, ফৌজের একটি অংশ আমার সঙ্গে থাকবে। আমি তাদের কার্ক নিয়ে যাবো ।”
সুলতান আইউবী হঠাৎ নিশ্চুপ হয়ে যান। তার মাথাটা নুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর মাথাটা ঝটকা দিয়ে উপরে তুলে বললেন- ‘চার বছর কেটে গেছে আমি একটি কসম খেয়েছিলাম, আমাকে সেই কসম পূরণ করতে হবে।’
সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবীর সেই কসম ছিলো এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি কনফারেন্সে চার বছর আগের সেই ঘটনাটি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। আপনারা পড়ে এসেছেন, খৃস্টান শাসকগণ এমনই চরিত্রহীন মানুষ ছিলেন যে, তারা মুসলমানদের কাফেলা লুণ্ঠন করতেন। তারা কাজটা সৈন্যদের দ্বারা করাতেন। হজ্ব যাত্রীদের কাফেলা হেজাজ যাওয়া এবং আসার সময় তারা পথে পথে ওঁৎ পেতে বসে থাকতো। এক খৃস্টান সম্রাট প্রিন্স অর্নাত- যিনি সে সময় কার্কের শাসক ছিলেন- নিজ আদেশে এবং নিজের বিশেষ বাহিনী দ্বারা এ কাজ করাতেন। এই অপকর্মের জন্য তিনি গর্বও করে বেড়াতেন। কোন হজ্ব কাফেলা লুণ্ঠন করাতে পারলে তিনি এমনভাবে উল্লাস প্রকাশ করতেন, যেনো বড় ধরনের বিজয় করে ফেলেছেন। শুধু মুসলমান ঐতিহাসিকগণই নন- ইউরোপিয়ান ঐতিহাসিকগণও তার এই দস্যুবৃত্তির কাহিনী বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
১১৮৩ অথবা ১১৮৪ সালের ঘটনা। অর্নাতের বাহিনী হেজাজ থেকে মিসরগামী একটি হজ্ব কাফেলার উপর আক্রমণ চালায় এবং কাফেলা লুণ্ঠন করে। মিসরী কাহিনীকার মুহাম্মদ ফরিদ আবু হাদীদ লিখেছেন, সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবীর এক কন্যাও উক্ত কাফেলায় ছিলো। তবে আর কোন ঐতিহাসিক উক্ত কাফেলার সুলতান আইউবীর কন্যা থাকার কথা উল্লেখ করেননি। একজন ঐতিহাসিক শুধু এটুকু লিখেছেন যে, সুলতান আইউবী যখন অর্নাতের বাহিনীর হজ্ব কাফেলা লুণ্ঠনের এবং কয়েকটি মেয়ের অপহরনের সংবাদ পান, তখন তিনি গর্জে ওঠে বলেছিলেন- ‘ওরা আমার কন্যা। আমি এর প্রতিশোধ নেবো।”
কাফেলায় কয়েকটি যুবতী মেয়ে ছিলো। খৃস্টানরা তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। তখনই সুলতান আইউবী কসম খেয়েছিলেন- ‘অর্নাতকে আজ থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত শত্রু মনে করছি। আমি কসম খাচ্ছি, তার থেকে আমি নিজ হাতে এর প্রতিশোধ নেবো।”
সকলে জানেন, তাদের সুলতান এই ধারায় এবং এই ভঙ্গিতে কখনো কথা বলেননি। তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলা এবং আবেগ পছন্দ করেন না। তাঁর প্রতিটি উক্তি সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। আজ যখন তিনি প্রতিশোধের কসম খেলেন, সকলে বুঝে ফেললেন, এটা সুলতানের প্রত্যয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এমনিতে প্রত্যেক খৃস্টান সম্রাটই ইসলামের দুশমন। কিন্তু অর্নাতের অতিরিক্ত একটি অপরাধ হলো, তিনি ইসলাম ও রাসুলে পাক (সা.) সম্পর্কে অপমানজনক উক্তি করে থাকেন। মুসলিম বন্দিদের সম্মুখে দাঁড় করিয়ে রাসূলে আকরামকে (সা.) গালাগাল করেন এবং বলেন- ‘ডাকো তোদের কাবার প্রভূকে, এসে তোদের সাহায্য করুক। পাঠ করো তোদের রাসুলের কালেমা, তোমরা মুক্ত হয়ে যাও।’ তারপর তিনি অট্টহাসিতে ফেটে পড়তেন। তার এই চরিত্র সম্পর্কে সুলতান আইউবী অবহিত ছিলেন। তাই যখনই তিনি অর্নাতের নামোচ্চারণ করতেন, তার প্রতি মন ভরে ঘৃণা প্রকাশ করতেন।
আজ চার বছর পর সুলতান আইউবী যখন খৃস্টানদের বিরুদ্ধে সেনাভিযানের জন্য সালারদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করছেন, তখন তাদের উক্ত ঘটনাটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন- ‘ঐ হতভাগ্য কাফেরটা থেকে আমাকে নিজ হাতে প্রতিশোধ নিতে হবে। আল্লাহ আমাকে আমার রাসূলের অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার সাহস ও সুযোগ দান করুন।’ তিনি সালারদেরকে আরো দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে বললেন- ‘আমি আশা করছি, আমরা তিন মাস পর সেই মওসুমে হিত্তিনের অঞ্চলে গিয়ে উপনীত হবো, যখন সূর্যের কিরণ পানির ফোটাকে বালিকণায় পরিণত করে দেয় এবং যখন বালির সেই জ্বলন্ত কণাগুলো মানুষকে সিদ্ধ করে ফেলে এবং বালুকাময় প্রান্তরে মরিচিকা আর আকাশে উড়ন্ত বালুকণা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আমি ক্রুসেডারদেরকে সেই সময় যুদ্ধ করতে বাধ্য করবো, যখন সূর্যটা মাথার উপর থাকবে। ক্রুসেডাররা লোহার বর্ম ও শিরস্ত্রাণে ঝলসে যাবে। তারা আমাদের তীর-তরবারী-বর্শার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে লোহার পোশাকটা পরিধান করে থাকে, তা প্রত্যেক ক্রুসেডারের জন্য জাহান্নামে পরিণত হয়ে যাবে।’
যুদ্ধের জন্য সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী জুন-জুলাই মাসকে নির্বাচন করেছেন। ইতিহাসবিদ এবং ইউরোপীয় যুদ্ধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকগণ সুলতান আইউবীর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। এই সময়টায় মরুভূমি চুল্লি থেকে বের করা লোহার ন্যায় গরম থাকে। ক্রুসেডার সৈন্যরা লোহার পোশাকের নীচে সংরক্ষিত থাকে। তাদের নাইটরা মাথা থেকে পা পর্যন্ত বর্মপরিহিত থাকে। তীর-তরবারী তাদের উপর কোন ক্রিয়া করতে পারে না। কিন্তু সুলতান আইউবী তাদের এই নিরাপত্তা পোশাকটাকে তাদের বিরাট এক দুর্বলতায় পরিণত করে দেন। একে তো তিনি গেরিলা ধরনের যুদ্ধ করতেন। স্বল্পসংখ্যক সৈন্য দ্বারা দুশমনের পার্শ্বের উপর বিদ্যুদ্গতিতে আক্রমণ চালাতেন। তারা কাজ সেরে চোখের পলকে উধাও হয়ে যেতো। তার এই কৌশলের কারণে দুশমনকে ছড়িয়ে যেতে হতো এবং চলার গতিবেগ বাড়িয়ে দিতে হতো। কিন্তু এ বর্ম-শিরস্ত্রাণের কারণে তারা প্রয়োজন অনুপাতে দ্রুত দৌড়াতে পারতো না। বিপরীতে সুলতান আইউবীর সৈন্যদের এ সমস্যাটা ছিলো না।
সুলতান আইউবী আরেকটি কৌশল এই অবলম্বন করেছিলেন যে, তিনি যুদ্ধ তখন শুরু করবেন, যখন সূর্য মাথার উপর থাকবে এবং মরুভূমি স্ফুলিঙ্গে পরিণত হবে। এ সময়টায় বর্ম চুলার ন্যায় উত্তপ্ত হয়ে যায়। পিপাসায় দেহ শুকিয়ে যায়। অথচ পানি থাকবে সুলতান আইউবীর দখলে। মরুভূমির ঝলসানো উত্তাপ ইসলামী বাহিনীর জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করতো। কিন্তু তাদের পোশাক হতো হাল্কা-পাতলা। তাছাড়া সুলতান আইউবীর প্রশিক্ষণ ছিলো অত্যন্ত কঠিন। তিনি উট-ঘোড়া এবং সমস্ত বাহিনীকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মরুভূমিতে রেখে দিতেন এবং নিজেও তাদের সঙ্গে অবস্থান করতেন। তিনি তাঁর ফৌজকে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকারও
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!