একটি ভ্রমর পাঁচটি ফূল – কাসেম বিন আবুবাকার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

একটি ভ্রমর পাঁচটি ফূল – কাসেম বিন আবুবাকার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাসেম বিন আবুবাকার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১১

একটি ভ্রমর পাঁচটি ফূল – বইটির এক ঝলকঃ

সংশোধন করার জন্য আর একটা ভুল করতে চায় এবং তা যদি কেউ জানতে পারে তখন দ্বিতীয় ব্যক্তির উচিত প্রথম ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া। আপনার কথা আমি স্বীকার করে নিয়ে বলছি, আপনাকে আর একটা ভুল করতে দেব না। কোৱান পাকে আল্লাহ বলেছেন, “শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।” শয়তান মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে নানান অসৎ কাজ করার জন্য উৎসাহ জোগায়। যারা ধর্মের জ্ঞান রাখে এবং আল্লাহকে ভয় করে, তারা শয়তানের প্রলোভনে পড়ে কোন অন্যায় পথে অগ্রসর হয় না। দুনিয়াতে ভালর প্রতি সাবইয়েরই আকর্ষণ থাকে। তাই বলে তাকে পাওয়ার জন্যে অন্যায়ের পথ অবলম্বন করা কোন মানুষেরই উচিৎ না। যদি কেউ নিজের খেয়াল চরিতার্থ করার জন্য বিবেক বিসর্জন দিয়ে সেই পথে অগ্রসর হয়, তাহলে মাত্র কয়েক দিনের জন্য সুখ শান্তি পেলেও চিরকাল এই মরজগতে যেমন অশান্তি পাবে তেমনি পরকালেও অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।
সামীনা বানু মকবুলকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ঐ সব হিতপোদেশ আমাকে দিতে হবে না। ওসব আমার জানা আছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি অন্যায়ের পথে আমরা অগ্রসর না হ ন্যায়ের পথে যাতে পাড়ি দিতে পারি, সে ব্যবস্থা আমি করবো।
মকবুল বলল, তা কি করে হয়? এট অসম্ভব কথা।
সামীনা বানু বললেন, মানুষ আজকাল অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছে। আপনি শুধু কথা দিন, আমাকে বিমুখ করবেন না। তারপর দেখবেন, আপনার জন্য আমি কি করি। প্রয়োজন বোধে আমি আমার নিজের প্রাণের বাজী রেখে আপনাকে একান্ত করে পাবার জন্য পথ তৈরী করবো।
মকবুল সামীনা বানুর সাহস দেখে ও তার কথা শুনে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে আর কোন কথা বলতে পারল না। তার ভীষণ ভয় করতে লাগল। যদি কেউ তাদের কথাবার্তা শুনে ফেলে। কথাটা মনে হতে শিউরে উঠল। সামীনা বানু বললেন, কি হল শিউরে উঠলেন কেন? মনে হচ্ছে খুব ভয় পেয়েছেন। পুরুষের এটা শোভা পায় না। বিপদে যারা ভয় পায় তারা কাপুরুষ। আপনি তো তা নন। তবু কেন তয় পাচ্ছেন?
মকবুল সামলে নিয়ে চিন্তা করল, আর বেশীক্ষণ এভাবে আলাপ করলে কেউ না কেউ জানতে পারবে। বলল, ভেবে চিন্তে কয়েকদিন পরে আপনাকে জানাব। এবার দয়া করে জানালাটা বন্ধ করে দিন। কেউ জানতে পারলে কেলেঙ্কাররি শেষ থাকবে না।
মৃদু হেসে সামীনা বানু বললেন, আপনি কলঙ্ককে তয় করছেন কেন? পুরুষদের চরিত্রের যতই অবনতি হোক না কেন, তাদে গায়ে কোন কলঙ্কই দাগ কাটে না। কলঙ্ক তো মেয়েদের। তারা একটু কিছু অন্যায় করলেই তার সঙ্গে আরো কিছু জড়িয়ে কলঙ্কের ঢোল পিটান হয়। পুরুষ ও নারী দুজনে মিলে অন্যায় করে। অথচ পুরুষটাকে নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না । অপরপক্ষে মেয়েটাকে নিয়ে নারী পুরুষ সবাই কলঙ্ক রটাতে থাকে। আমি কলঙ্ককে ভয় করি না। কারণ কলঙ্ক হল প্রেমের ভূষণ। সারা পৃথিবীর মধ্যে কোন প্রেমিক- প্রেমিকার কলঙ্ক রটেনি, এমন নজীর দেখাতে পারবেন? পারবেন না। আর একটা কথা বলে শেষ করব। লিলিকে একটু ও প্রশ্রয় দেবেন না। খুব কড়া নজরে দেখবেন। তারপর তিনি জানালা লাগি সিলেন।
মকবুল হততন্ত্রের মত কিছুক্ষণ জানালার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিয়ে পড়তে শুরু করল। পড়া শেষ হতে অনেকক্ষণ পাথরের মূর্তির মত বসে রইল। তার বাহ্যিক জ্ঞান ও লোপ পেল। আসরের আযান শুনে চিঠিটা বালিশের তলায় রেখে নামায পড়ার জন্য মসজিদে গেল। উদ্ভ্রান্তের মত নামায পড়ে ফিরে এসে আর একবার চিঠিটা পড়তে লাগল-
মাষ্টার ভাই,আমার অস্তারের অন্তস্থল থেকে হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা পাঠালাম, গ্রহণ করে আমার নারী জন্মকে সার্থক করো। তুমি করে লিখছি বলে মনে কিছু নিও না। তুমি আজ একবছর ধরে আমার মনের মণিকোঠায় বাস করছ। জানি এক জনের স্ত্র হয়ে এবং বড় বড় দুটো ছেলেমেয়ের মা হয়ে এভাবে গৃহশিক্ষকের কাছে পত্র দেওয়া ঘোরতর অন্যায়। তবু কেন লিখলাম, তা পুরো পত্রটা পড়লে বুঝতে পারবেন। আমি ধনী ঘরের মেয়ে। ইসলামপুর রোডে আমার বাবার পাঁচটা কাপড়ের পাইকারী দোকান। সেগুলোর মধ্যে বাবা একটা আমার নামে করে দিয়েছেন। বর্তমানে সেটার মালিক আমি না হলেও বাবা মারা যাবার পর হব। আমরা তিন ভাইবোন। সুভাইই আমার চেয়ে ছোট। যিনি আমার স্বামী, উনি আমার বড় ফুপুর ছেলে। ওনার নাম রসিদ। চার বছরের রসিদকে রেখে ফুপা মারা যান। আমার দাদা ফুপুর আবার বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ফুপু রাজী হয় নাই। ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ভিটেয় থেকে যায়। অবশ্য ফুপু বেশীর ভাগ সময় তার বাবার বাড়ীতে থাকত। রসিদ সেইখানেই মানুষ হতে থাকে। ফুপু রসিকে নিয়ে কয়েকদিনের জন্যে মাঝে মাঝে গিয়ে স্বামীর ভিটে দেখাশুনা করত। দাদা মারা যাবার পর ফুপু ও রসিদ আমার বাবার কাছে থাকত। রসিদ ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর বাবা তাকে নিজের ব্যবসায় নামায়। তারপর থেকে ফুপু এখানে স্বামীর ভিটেয় থেকে যায়। রসিদ ও মায়ের কাছ থাকত। বাবার বিজনেস দেখাশুনা করত বলে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ীতে ও তাকে থাকতে হত। তার সঙ্গে আমি মেলামেশা না করলে ও এমনি কথাবার্তা বলতাম। সে দেখতে খুব সুন্দর ছিল। আমি এইচ.এস.সি. পাশ করে যখন ডিগ্রীতে ভর্তি হবার চিন্তা করছি তখন হঠাৎ একদিন শুনি রসিদের সঙ্গে আমার বিয়ে। শুনে বাবাকে ও মাকে বললাম, আমি আরো পড়াশুনা করব। এত তাড়াতাড়ি তোমরা আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছ কেন? বাবা বললেন, আমারও তাই ইচ্ছা। কিন্তু তোরবড় ফুপুর শরীর ভাল যাচ্ছে না। সে ছেলের বৌ দেখে মরতে চায়। তোকে তার খুব পছন্দ। আমি আর তোর মা তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সে আমাদের হাতে ধরে কেঁদে কেঁদে তোকে বৌ করার কথা জানান। তার অবস্থা দেখে আমরা না করতে পারিনি। জানিস বোধ হয়, তোর বড় ফুপুই আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। আমি যখন জনায় তখন তোর দাদী অনেকদিন কঠিন অসুখে ভুগেছিল। তাই তার মনে কষ্ট দিতে মন চাইল না। তুই চিন্তা করিস না, রসিদ খুব ভাল ছেলে। ব্যবসা খুব ভাল বুঝে। বিয়ের পর তাকে আলাদা ব্যবসা করে দেব। তাছাড়া মা ছাড়া তার আর কেউ নেই। তুই সুখেই থাকবি। তবু আমি অমত প্রকাশ করে খুব কান্নাকাটি করেছিল- াম। কিন্তু তারা আমার কান্নাকাটি কানে তুলেনি। একদিন খুব ধূমধামের সঙ্গে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। স্বামীর ঘরে এসে প্রথম দিকে তেমন কোন অসুবিধে হয় নি। বড় ফুপু আগের থেকে আমাকে ভালবাসত। বৌ হিসাবে পেয়ে আরো বেশী ভালবেসেছিল। তবে স্বামীকে খুব আপন করে পেলাম না। সে একটু এড়িয়ে চলত। বিয়ের পর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর যে প্রগাঢ় টান, সেটা তার কাছ থেকে পেলাম না। বিয়ের পরপর বাবা তার চকবাজারের সাবানের কারখানা জামাইয়ের নামে লিখে দিয়ে সেটার সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব রসিদের উপর ছেড়ে দিয়ে ইসলামপুরের দোকানগুলো দেখাশুনা করতে লাগল। রসি দিনরাত ব্যবসা নিয়ে ব্যাস্ত থাকত। প্রথম দিকে সাত আট দিন পর একদিনের জন্যে বাড়ী এসে সংসারের দরকারী জিনিস পত্র কিনে দিয়ে চলে যেত। আমার দেহের দিকে তার কোন টান ছিল না। প্রথম প্রথম লজ্জায় আমি কিছু বলতে পারতাম না। মনে করতাম এটা হয়তো তার স্বাভাব। বেশ কয়েক মাস এরকম চলার পর আমি অগ্ন ভূমিকা নিলাম। সে সময় বুঝতে পারলাম তার যৌন ক্ষমতা খুব কম। চিন্তা করলাম এই জন্যে বোধ হয় আমার মত রূপসী বৌকে এড়িয়ে চলে। এখন আমাকে যে রকম দেখছেন, তখন যে কি রকম ছিলাম, তা

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top