দুঃসাহসিক – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৭২
দুঃসাহসিক – বইটির এক ঝলকঃ
আমরা ছায়ার মত মিলিয়ে যাব।’
‘রাজি। মিলিয়ে না গেলেও ভয়ের কিছু নেই। আপনি ছাড়া ফাঁসাবার মত কাউকে পাচ্ছি না আমি হাতের কাছে। আর, বিশ্বাস করুন, প্রাণ থাকতে আপনাকে কোন রকম বিপদে ফেলব না আমি।
‘হয়েছে, হয়েছে,’ বিদ্রূপের হাসি হাসল মায়া ওয়াং। ‘আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। কাজেই আমার জন্যে আপনার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক না ঘামালেও চলবে।’ রানার সামনে এসে দাঁড়াল সে। আর দয়া করে কচি খুকিও ঠাওরাবেন না আমাকে। কাজে নেমেছি যখন, তখন আত্মরক্ষা করবার ক্ষমতাও আমার আছে। কার্যক্ষেত্রে আমার ক্ষমতার পরিচয় পেলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন আপনি।
উঠে দাঁড়াল রানাও। অসহিষ্ণু মায়া ওয়াং-এর জ্বলন্ত চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে মৃদু হাসল। বলল, ‘যে-কোনও কাজ আপনার চেয়ে ভাল পারব আমি। ভাববেন না। আমাকে পেয়ে লাভই হবে আপনার। কিন্তু এক মিনিটের জন্যে আপনার মিলিটারি মেজাজ আর মাতব্বরির ভাবটা ছাড়ুন তো। আপনার বন্ধুত্ব চাই আমি। সব যদি ভালয় ভালয় চুকে যায় তাহলে হংকং পৌঁছে আবার আপনার সাথে দেখা হতে পারে না?’
কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করে ভেতর ভেতর একটু খারাপ লাগল রানার। মেয়েটিকে ভাল লেগেছে ওর। বন্ধুত্ব যদি হয় ভালই। কিন্তু রানার আসল উদ্দেশ্য এই বন্ধুত্বের সুযোগে ওদের দলে ঢোকা। বন্ধুত্বকে স্বার্থের খাতিরে ব্যবহার করতে চিরদিনই ঘৃণা বোধ করে সে। কিন্তু করতেই হবে। কর্তব্য ইজ কর্তব্য।
রানার চোখের দিকে চেয়ে ধীরে ধীরে কোমল হয়ে এল মায়ার জ্বলন্ত দৃষ্টিটা। অসহিষ্ণু কর্তৃত্বের ভাবটা চলে গেল চেহারা থেকে। এই প্রথম সে স্পষ্ট অনুভব করল কতখানি শক্তিশালী একটা ব্যক্তিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে। রানার মধ্যেকার প্রবল পৌরুষ এবং প্রচণ্ড ক্ষমতার বিচ্ছুরণ অভিভূত করে ফেলল ওকে। মেয়েমানুষের এ ব্যাপারে ভুল হয় না। দেরিতে হলেও উপলব্ধি করল মায়া ওয়াং, সত্যিই তার সামনে দাঁড়ানো লোকটির তুলনায় কোনও দিক থেকে সে কিছুই নয় । লোভনীয় ঠোঁট দুটো ফাঁক হলো একটু। আড়ষ্ট হয়ে এল কথাগুলো।
‘আমি, আমি—মানে,’ থেমে গিয়ে ঢোক গিলল মায়া। তারপর নিচু গলায় বলল, ‘বুধবার কোনও কাজ নেই আমার। সন্ধ্যায় ডিনার খেতে পারি আমরা একসাথে। আটটায়। কাউকে কিছু বলতে পারবেন না এ ব্যাপারে। রিপা বে হোটেল। ভিক্টোরিয়া থেকে আধঘণ্টার পথ। আপনার অসুবিধে আছে?’ রানার চোখের দিকে না চেয়ে ঠোঁটের দিকে চেয়ে রইল মায়া ওয়াং ।
চমৎকার হবে। অসুবিধে কি? হংকং পৌঁছে আর কাজ নেই আমার। বুধবারের অপেক্ষায় আজ থেকেই আমার দিন কাটতে চাইবে না আর।’ রানা ভাবল আর বেশি ঘাঁটানো ঠিক হবে না। কোনও কিছু ভুল করে বসবার আগেই কেটে পড়তে হবে এখান থেকে। ‘যাক, আর কিছু বলবার আছে?’ আবার কাজের কথায় ফিরে গেল সে।
ঘোরটা কেটে গেল মায়ার। ‘না।’ বলে কি যেন মনে পড়ল ওর। চট করে জিজ্ঞেস করল, ‘কয়টা বাজে এখন?’ একটু আগেই ঘড়ির দিকে চেয়েছিল রানা। তাই নিজের ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে মায়ার সোনার রিস্ট-ওয়াচের দিকে চেয়ে বলল, ‘পৌনে নয় ।
‘ভুলেই গেছিলাম, কাজ আছে আমার।’ ঘুরে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে হাটতে আরম্ভ করল মায়া। রানা চলল পেছন পেছন। তালাটা খুলে দরজা খুলবার আগে ঘুরে দাঁড়াল মায়া ওয়াং। চোখের দৃষ্টিতে রানার ওপর বিশ্বাস আর বন্ধুত্বের ভাব। বলল, ‘আপনি পারবেন। শুধু প্লেনে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকবেন। আর যদি কিছু গোলমাল হয় তাহলে ভয় পাবেন না। এবার যদি ঠিকমত কাজ করতে পারেন, এ ধরনের কাজ আপনাকে আরও জোগাড় করে দেবার চেষ্টা করব। আর,’ একটু হাসল মায়া, ‘আর আমাদের যে আবার দেখা হবে সে-কথাটা গোপন রাখবেন। কোনওভাবে যদি প্রকাশ পায়, তাহলে আর কোনদিনই দেখা হবে না। “কথাটা মনে রাখব। আমার মনের অবস্থা জানলে এতবার করে সাবধান করতেন না।’
কাঁধটা একটু ঝাঁকিয়ে দরজা খুলে হাঁ করে দিল মায়া ওয়াং। রানা বেরিয়ে গিয়ে দাঁড়াল করিডরে। ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, অবাক হয়ে দেখল ঠোঁটের ওপর একটা আঙুল রেখে কথা বলতে নিষেধ করছে মায়া ওকে। মৃদু হাসল রানা। এ হাসিরও কোন প্রত্যুত্তর এল না মায়ার কাছ থেকে। স্থির দৃষ্টিতে রানার চোখে চোখ রেখে ধীরে এবং দৃঢ় হাতে বন্ধ করে দিল সে দরজাটা রানার মুখের ওপর।
লম্বা করিডর ধরে চলে গেল রানা লিফটের দিকে। চুপচাপ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থেকে কান পেতে রইল মেয়েটি। রানার জুতোর শব্দ মিলিয়ে গেল দূরে। ফিরে এল সে শোবার ঘরে। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। গুনগুন করে গান ধরল একটা। মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই গান থামিয়ে ভাবতে লাগল ওই নিষ্ঠুর চেহারার বলিষ্ঠ, বুদ্ধিমান লোকটার কথা। একটা বিচিত্র হাসি ফুটে উঠল ওর ঠোঁটে।
ঠিক যখন ন’টা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি, বেরিয়ে এল মেয়েটি হোটেল থেকে বাইরে। রাস্তা পার হয়ে হাঁটতে থাকল দক্ষিণে। নয়টার সময় পৌছল সে একটা পাবলিক টেলিফোন বুদে। তিনবার রিং হতেই ওপাশের রিসিভার উঠানোর ক্লিক শব্দ পাওয়া গেল। চুপচাপ শুনতে থাকল সে টেপ রেকর্ডারের খশখশ শব্দ । পুরো এক মিনিট পর ওপাশ থেকে একটা শব্দ কানে এল ।
‘বলো।’-
হাতের রুমালটা মুখের ওপর রেখে বলল মেয়েটি, ‘মায়া বলছি। নতুন হেলপার ঠিক আছে। টেনিস খেলে। র্যাকেট নেবে সাথে। আই রিপিট। র্যাকেট নেবে সাথে। বাকি ব্যবস্থা সব ঠিক। দশটা পাঁচে রিং করব আবার।’
রিসিভার নামিয়ে রেখে হোটেলে ফিরে এল মায়া ওয়াং। বারবার ওই লোকটার কথা মনে আসছে কেন? বারবার ওর মুখের চেহারাটা ভেসে উঠছে কেন চোখের সামনে? মঙ্গলবার সকাল নয়টার মধ্যেই মালপত্র গোছগাছ করে তৈরি হয়ে নিল মাসুদ রানা। এককালে যার দাম এবং চাকচিক্য ছিল প্রচুর, এমনি একটা পুরানো দুমড়ানো সুটকেস জোগাড় করে ফেলেছে সে। একজন টেনিস খেলোয়াড়ের সুটকেসের মতই দেখতে হয়েছে সেটা। একজোড়া দামী স্যুটের সাথে খেলার পোশাক-পরিচ্ছদ, এমন কি একজোড়া দুর্গন্ধযুক্ত কেডস্ পর্যন্ত আছে তার মধ্যে । কয়েকটা ডানলপ বল আছে নতুন পুরানো মেশানো। গোটাকতক সাদা শার্ট, একজোড়া নাইলনের মোজা, চারটে আণ্ডারওয়্যার, তার মধ্যে দুটো স্পোর্টস মডেল, ইত্যাদিতে প্রায় ভরে এসেছে সুটকেসটা।
এবারে একটা ছোট অ্যাটাচি কেসে সাবান, টাওয়েল, ইলেকট্রিক শেভ, ‘হাউ টু প্লে পোকারে’র একটা অর্ধেক মলাট ছেঁড়া বই, পাসপোর্ট আর টিকেট রাখল সে সাজিয়ে। এর একটা গোপন কুঠুরিতে ওর ওয়ালথারের জন্যে একটা সাইলেন্সার এবং চারটে এক্সট্রা ম্যাগাজিন ভর্তি বত্রিশ রাউণ্ড থ্রী-টু ক্যালিবারের গুলি রাখা আছে সযত্নে।
টেলিফোন বেজে উঠল। রানা ভাবল গাড়ি এসে গিয়েছে বুঝি—কিন্তু অবাক হয়ে শুনল রিসেপশনিস্ট বলছে : ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন থেকে একজন লোক দেখা করতে চায়। চমকে উঠল রানা। আই.টি.সি! অর্থাৎ পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স! রানা জানে সাংহাইয়ে ওদের ব্রাঞ্চ আছে—কিন্তু তাদের সাথে নিষ্প্রয়োজন বোধে যোগাযোগ করেনি সে ইচ্ছে করেই। তাছাড়া সময়ও কম। কিন্তু এই শেষ মুহূর্তে কি সংবাদ নিয়ে এল পি.সি.আই.? এরাও তাহলে চোখ কান খোলা রেখেছিল?
‘সোজা ওপরে পাঠিয়ে দিন,’ বলল রানা।
কয়েক মিনিট পর ঘরে ঢুকল একজন শান্তশিষ্ট চেহারার বাঙালী ভদ্রলোক। পাতলা, লম্বা একহারা চেহারা—অতিরিক্ত এক ছটাক মাংস নেই গায়ে। ছিমছাম পোশাক পরিচ্ছদ। স্টিফ কলার সাদা শার্ট, লাল বো টাই। মুখে মৃদু হাসি। চোখ দুটোতে শিশুসুলভ সারল্য। পুরু গোঁফটা মুখের সাথে বেমানান।
“আমার নাম রাযাউল করিম।’ মাথা নুইয়ে চীনা কায়দায় অভিবাদন করল সে। বুক পকেট থেকে একটা খাম বের করে দিল। তারপর বলল, ‘বুড়া মিঞা পাঠাইছে এইটা আপনের জইন্য। ঘাবড়াইয়া গেছে গিয়া এক্কেরে। লন, পইরা ফালান।’
বহুদিন পর বাংলা বলবার চান্স পেয়ে একেবারে অরিজিনাল ল্যাংগোয়েজ ছেড়ে দিল উপবাসী রেযাউল করিম। ওকে বসিয়ে খাম খুলে ভেতরের কাগজটা বের করল রানা। ওয়ান এইটথ্ ডাবল ক্রাউন কাগজে ইংরেজিতে টাইপ করা। নিচে বা ওপরে কোনও নাম নেই। বাংলা করলে দাঁড়ায়
‘আমরা অনেক খোঁজ খবরের পর অনুমান করেছি যে তোমার এই অ্যাসাইনমেন্টের সঙ্গে বিশ্বকুখ্যাত রেড লাইটনিং টং-এর সাক্ষাভাবে জড়িত থাকার সম্ভাবনা আছে। এটা কোন ধর্মীয় দল নয়—পুরোপুরি ক্রিমিনাল। হংকং-এ এরাই সর্বশক্তিমান হলেও আসলে এদের হেড কোয়ার্টার হচ্ছে ম্যাকাও। নারকোটিক্স, গোল্ড স্মাগলিং, অরগানাইজড্ প্রসটিটিউশন, বিরাট স্কেলে জুয়া, ইত্যাদি থেকে নিয়ে হেন কাজ নেই যা এরা করে না। এদের বিরুদ্ধে হংকং-এ আইনত কিছুই করা যাবে না। শক্তি দিয়ে দমন করা তো চিন্তারও বাইরে। সরকারী উঁচু মহলে এদের নিজস্ব লোক আছে। দলপতির নাম চ্যাঙ।
‘কাজেই, লাইটনিং টং-এর সাথে যদি সংঘর্ষের উপক্রম হয় বা কোনও রকম খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ হেড অফিসে রিপোর্ট করে কাজ থেকে নিবৃত্ত হবে। ভদ্রতার খাতিরে প্রাণ দেয়ার প্রয়োজন নাই।
*এটাকে আমার অফিশিয়াল অর্ডার বলে জানবে।
রানার চোখের সামনে পরিষ্কার ভেসে উঠল মেজর জেনারেল (অব) রাহাত খানের চেহারাটা। স্থির, গম্ভীর, তীক্ষ্ণ, ঋজু একটা ব্যক্তিত্ব। হৃদয়ের সমস্ত ভালবাসা আর ভক্তি যার হাতে সমর্পণ করে রানা নিশ্চিন্ত ।
আগাগোড়া দু’বার পড়ে আনমনে ভাঁজ করে পকেটে রাখতে যাচ্ছিল রানা কাগজটা — হাত বাড়াল রেযাউল করিম। মুখে মৃদু হাসি।
‘দ্যান দেখি। আমার কাছে দ্যান। পোলাপান মানুষ, হারাইয়া ফালাইবেন দলিলটা।’
‘দলিল?’ অবাক হলো রানা ।
‘হ। দলিলই তো। এই দলিল হাতে নিয়া কেস করুম না আমি বুড়া মিঞার নামে আপনের জানাজাটা সাইরা নিয়াই!’
“কেন? বুড়ো মিঞার দোষ?’ হাসল রানা।
‘দোষ? এইটারে দোষ কন আপনে? এইটা শুনা। আরে, ঘাবড়াইয়া যখন গেলি, তো অখনই ইস্টপ্ কইরা দে না। জাইনা হুইনা পোলাটারে পাঠাস্ ক্যান্ ঠাঠার মুখে?
ঠাঠা কি?’
‘ঠাঠা বুঝেন না। আঁই? ঢাকাইয়া পোলা ঠাঠা বুঝলেন না? আরে বাজ, বাজ, বজ্র। লাইটনিং টং-এর কথা কই। একবার ঝলসাইয়া উঠলে আর চারা নাই, মুহূর্তে শ্যাষ। তা যাইবেন যখন, গরীবের একটা কথা ফালায়া দিয়েন না-তেরিবেরি দেখলেই কাইটা পইরেন। নাইলে চিবির মোদে পইরা যাইবেন কোলাম। যা-তা মনে কইরেন না টং-রে।
বক্তব্য শেষ করে রানার হাত ধরে কয়েকটা ঝাঁকুনি দিল রেযাউল করিম। রানা বুঝল হালকা-পাতলা দেহে শক্তি আছে।
‘আচ্ছা, এই মেসেজের কথা চাইনিজ সিক্রেট সার্ভিস জানে না?’
‘খুব জানে। ক্রিপটোগ্রাফিতে এক্কেরে হাফেজ হইয়া গেছে না ওরা! এতক্ষণে খবরটা হজম কইরা ফালাইছে লু সান। দুনিয়ার কুনো খবর আর আ-জানা নাই । ‘ ‘ওরা জানে এই রেড লাইটনিং-এর কথা?’
‘তা কইতে পারি না। বুড়ামিঞা কৈত্থেইকা এই খবর বাইর করল তা-ও জানি না। সবই তো অনুমান। কিন্তুক একটা কথা কইয়া দেই, চীনারা এক্কেরে বেদিশা হইয়া গেছে গিয়া । বোম সিরিয়াস। জানের পরোয়া নাই। যে-কোনও বিপদের মুখে ঠেইলা দিব আপনেরে। কাজেই নিজে হুঁশিয়ার থাইকেন। একটা মাসুদ রানা গেলে পি.সি.আই. কানা হইয়া যাইব না আর এরাও ক্রিপটোগ্রাফির একখানা ম্যাজিক ফরটিফোর মেশিন ধরাইয়া দিয়া খুশি কইরা দিব বুড়া মিঞারে। আমরাও সিনা টান কইরা চলুম-আইতে যাইতে দশবার কইরা সেলামালকি দিব লু সান হালায়। কিন্তু ক্ষতিটা হইল কার? ঠাণ্ডা মাথায় একটু চিন্তা কইরা দেইখেন—আর হুঁশিয়ার থাইকেন। আইচ্ছা ভাই, সালামালেকুম। আপনের আবার টাইম হইয়া যাইতেছে।’
‘ওয়ালাইকুম সালাম। এবং সদুপদেশের জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
বেরিয়ে গেল রেযাউল করিম। হৈ-হৈ করে বেশ জমিয়ে রেখেছিল এতক্ষণ। ঘড়ি দেখল রানা—নয়টা পঁচিশ। হঠাৎ ফাঁকা লাগল ওর চারটা পাশ। জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল সে। অসংখ্য গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, বাই- সাইকেল, রিকশা আর পথচারী ব্যস্তসমস্ত করে রেখেছে রাস্তাটাকে। সবাই ছুটছে। সবারই কাজ আছে। সে-ই কেবল একাকী দাঁড়িয়ে আছে জানালার ধারে। এপ্রিলের হলুদ রোদ বিছিয়ে পড়েছে প্রকাণ্ড পার্কের সবুজ ঘাসে। একটা ফোয়ারা অনর্থক জল ছিটাচ্ছে আকাশের দিকে। একজোড়া জংলী কবুতর বিভোর হয়ে আদর করছে পরস্পরকে সাংহাই মিউজিয়ামের কার্নিসে বসে।
প্রতীক্ষা করছে রানা। প্রতীক্ষা করতে ওর কোন দিনই ভাল লাগে না। বিছানায় এসে বসে শোল্ডার হোলস্টার থেকে পিস্তলটা বের করে শেষ বারের মত পরীক্ষা করে নিল রানা। সবগুলো গুলি বের করে নিয়ে ট্রিগারের টেনশনটা অনুভব করল সে বার কয়েক ফাঁকা ফায়ার করে। স্লাইড টেনে দেখে নিল ব্যারেলের ভেতর ময়লা আছে কিনা । তারপর সন্তুষ্ট চিত্তে রেখে দিল যথাস্থানে।
‘আপনার জন্যে গাড়ি এসে গেছে, স্যার,’ মিনিট দশেক পর টেলিফোনে সংবাদ এল ।
জানালার ধারে গিয়ে দাঁড়াল আবার রানা। যাত্রা তবে শুরু হলো। পাকস্থলীতে সেই শূন্যতার অনুভূতিটা হলো আবার। ভয় ঠিক নয়—অজানার রোমাঞ্চ । অজানার পথে পা বাড়াতে গেলে এই অনুভূতিটা হয় ওর। প্রায়ই হয়।
করাঘাতের শব্দে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল সে। একটা বয় সুটকেসটা তুলে নিল এক হাতে । অ্যাটাচি কেসটা নিজেই নিয়ে বয়ের পেছন পেছন নৈমে এল রানা নিচে । মাথা থেকে দূর করে দিল সব চিন্তা। সামনের দিকে ফেরাল সে তার সন্ধানী দৃষ্টি। হোটেল লঙ কী-র সুইং ডোরের ওপাশে যা ঘটতে চলেছে সেইটুকুই এখন ওঁর কাছে সত্য। আর কিছুই ভাবার দরকার নেই।
কালো একটা মার্সিডিস টু-টোয়েনটি দাঁড়িয়ে ছিল বাইরে। গাড়ির পেছনের সীটে তোলা হলো রানার সুটকেসটা।
‘আপনি সামনে বসুন।’ অনুরোধ নয়, আদেশের সুর ড্রাইভারের কণ্ঠে।
সামনের সীটে গিয়ে বসল রানা। হু-হু করে ছুটে চলল গাড়ি প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!