দিঘলীতলার কান্না – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৭৬
দিঘলীতলার কান্না – বইটির এক ঝলকঃ
শ্রেষ্ঠ নাগরিক আর বলতে গেলে দেশের আর দশের এখন ওঁরাই ভরসা । অন্যদের যে মানসিকতা দেখছি, তা উল্লেখেরও অযোগ্য ।
: সাহেবজাদা।
আপনাদের প্রিয় কিছু দাম্ভিক, গোঁয়ার আর গণ্ডমূর্খের মতো ওঁরা মোটেই সংকীর্ণমনা নন ।
কিন্তু ওরা তো ইংরেজদের পক্ষের লোক। ইংরেজগত প্রাণ। ইংরেজদের সুখে ওদের সুখ, ইংরেজদের দুঃখে ওদের দুঃখ ।
এবার জবাব দিলেন মীর কাশিম। তিনি বললেন- হতেই হবে। আমাদের সকলেরই মানসিকতা তাই হওয়া উচিত। ইংরেজরা এদেশে এখন বিরাট এক শক্তি। আর না হোক, তাদের সাথে মিত্রতা বজায় রেখে চলাই এখন সবার আমাদের কর্তব্য। ওদের সাথে শত্রুতা করলে লাভ আমাদের এক বিন্দুও নেই, আছে কেবলই ক্ষতি । তদুপরি ওরা আমাদের বন্ধু। পরম উপকারী বন্ধু । ব্যবসার মাধ্যমে কর-শুল্ক দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোটা ধরে রেখেছেন ওরা। ইংরেজরা আমাদের সম্পদের উৎস, সৌভাগ্যের ডিব্বা।
: কিন্তু তারা তা এদেশটা গ্রাস করার তালে আছে?
মীর কাশিম বিরক্তির সাথে বললেন- এটা খামাখা আপনাদের এক জুজুর ভয়। ওরা এদেশ নিতে আসবে কেন? ওদের কি নিজের দেশ নেই। আমাদের চেয়ে এখন অনেক উন্নত দেশ ওদের। এ জঞ্জাল ওরা নিতে আসবে কেন? দুর্জনদের হাত থেকে এদেশের জনগণকে মুক্তি দিতে ওরা আমাদের সাহায্য করতে চান- এই আর কি! ওরা আমাদের সাহায্যকারী বন্ধু ।
: কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উচ্ছেদ করে ওরা তো এদেশের স্বাধীনতাটাই বিপন্ন করতে যাচ্ছে?
মীর জাফরের আওলাদ মীরন ফের বললেন- স্বাধীনতা তাতে বিপন্ন হবে কেন? ঐ দুর্জন, গোঁয়ার আর গণ্ডমূর্খ সিরাজই কি এদেশের স্বাধীনতার একমাত্র স্বত্ত্বাধিকারী, না স্বাধীনতা রক্ষার একমাত্র সৈনিক? স্বাধীনতাটা কি তার পৈতৃক সম্পত্তি? আমাদের কথা বাদই দিলাম, ঐ জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, রাজবল্লভ বাবুরা কি এদেশের স্বাধীনতা চান না? তারা কি এদেশের বাসিন্দা নন? স্বাধীনতার প্রতি কি তাদের দরদ নেই?
: কিন্তু মুসলমান শাসনটা তো এতে করে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে?
: কে বিলুপ্ত করবে?
ঐ জগৎ শেঠ বাবুরা আর ইংরেজরা ? হাজার হোক, ওরা বিধর্মী। ওরা চাইবে কেন, তাদের মাথার উপর মুসলমান শাসন থাকুক ।
মীরনের রোষ আরো বেড়ে গেল । তিনি গরমকণ্ঠে বললেন- দেখুন হাজী সাহেব ! খামাখা ঐ স্বধর্ম বিধর্মের কথা তুলে দেশের সৎ নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ পয়দা করবেন না । ঐ বিষ ছড়াবেন না ।
বিষ ছড়ানো হবে কেন? এইটেই তো স্বাভাবিক কথা। আমাদের সমাজ ধর্ম কি আর ওদেরগুলো আর এক। একেবারেই পৃথক জিনিস। আমাদের দীন আর জীবনযাত্রা বিপন্ন হতে পারে ভয়ে আমরাই কি চাইবো, আমাদের মাথার উপর ওদের শাসন থাকুক ?
কেন চাইবো না? আমাদের জীবনযাত্রা তাতে বিপন্ন হবে কেন? মুসলমান অমুসলমান সবাই আমরা ভাই ভাই। এক ভাইয়ের দ্বারা আর এক ভাইয়ের ধর্ম আর জীবনযাত্রা বিপন্ন হবে কেন ?
: তা না হলে সেটা তো মহৎ বিষয় ছিল । কিন্তু আলামত কি তাই দেখা যাচ্ছে?
আলবত দেখা যাচ্ছে । বরং আপনারা কিছু সংকীর্ণমনের মানুষেরাই ওদের মতো উদার হতে না পেরে, মুসলমান অমুসলমানকে পৃথক করে দেখছেন আর দেশে বিভেদ পয়দা করছেন । মনোভাবটা উদার করুন ।
এরপরও হাজী আফতাব জোর দিয়ে বললেন- তবুও এটা সত্য যে, ঐ ইংরেজ আর শেঠ বাবুরা যত উদারই হোন, এই মুসলমান হুকুমাতের পক্ষের লোক কখনো তারা নন । এটাকে বরদাস্ত করার উদারতা আদৌ তাদের নেই । নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাত করার পর শেঠ বাবুদের পক্ষে রেখে ইংরেজরা যদি এদেশের মালিকানা নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে থাকবে আমাদের হুকুমাত, না থাকবে এদেশের আজাদী?
সীর কাশিম পুনরায় ক্ষিপ্তকণ্ঠে বললেন- অসম্ভব। আমরা আছি কি করতে? সে সুযোগ তাদের দেবো কেন আর তারাই বা তা নেবেন কেন? ইংরেজরা এদেশে বাণিজ্য করতে এসেছেন, এদেশ কেড়ে নিতে আসেননি। এত হীন মানসিকতার লোক তারা নন ।
তবু যদি কেড়ে নিতে চায় তারা? সিরাজকে পরাজিত করে তারা যদি মসনদের দিকে এগোয়, পারবেন আপনারা তখন তাদের ঠেকাতে?
আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আর আমাদের অগ্রাহ্য করে এগুবেন তারা? কি যে আপনাদের কল্পনা!
তাই যদি এগোয়? যুদ্ধে জয়ী হয়ে তামাম ক্ষমতা হাতে নেয়ার পর, আপনাদের ওরা যদি মোটেই আর গ্রাহ্য না করে? আপনাদের কথায় যদি আদৌ আর কান না দেয়?
মীর কাশিম ধমকে উঠে বললেন- থামুন! কিছুটা আত্মীয় আছেন, ঐ আত্মীয়ই থাকুন। হিংসুটে মন নিয়ে আজগুবি কল্পনার জাল বুনবেন না; আর তা বুনে সবাইকে বিভ্রান্ত করবেন না। আমরা কি তখন বসে বসে ঘোড়ার ঘাস কাটবো? তেমন অবস্থা দেখলে, ঐ বেনিয়াদের এই দেশ থেকে লাথি মেরে বের করে দেবো । মীর জাফর এ কথায় চমকে উঠে বললেন- আহ! খবরদার, খবরদার! ওকি বেআদবী করছো? এ কথা সাহেবদের কানে গেলে তারা বেজায় নাখোশ হবেন যে ! অন্য এক প্রসঙ্গ নিয়ে একদল অন্য লোক এসে পড়ায় এ আলোচনা আর এগোয়নি ।
এরপর একদিন সংঘটিত হলো পলাশীর যুদ্ধ। এ দেশের মালিকানা চলে গেল ইংরেজদের হাতে। বিপক্ষের লোক হওয়ায়, পলাশীর পরে পরেই অমুসলমান ব্যবসায়ীরা হাজী আফতাবের ব্যবসায়ের মালমাত্তাসহ তার সর্বস্ব লুটে নিলো। একই সাথে ইংরেজদের দালালেরা হাজী সাহেবের জানের উপর হামলা করে বসলো । অগত্যা পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজী আফতাব বাংলা ছেড়ে পালিয়ে দিল্লীর পার্শ্ববর্তী এই এলাকায় এলেন আর সেই থেকে এখানেই তিনি আছেন । আজ এই পথ প্রান্তে মীর কাশিমকে পড়ে থাকতে দেখে সেদিনের সেই স্মৃতিটি বার বার তার মানসপটে ভেসে উঠতে লাগলো । মনে হতে লাগলো মীর কাশিমের সেদিনের সেই দাম্ভিক উক্তি ।
স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি ভাবতে লাগলেন- ইংরেজদের লাথি মেরে বাংলা থেকে বের করে দেয়ার বড়াই করলেন যে মীর কাশিম, সেই মীর কাশিম আজ বাংলার বাইরে বিদেশের এই ধুলোয় আর ইংরেজরা গাঁট হয়ে বসে আছে বাংলায় ।
দালাল-গাদ্দারেরা কতই না দূরদৃষ্টিহীন হয় ।
হাজী আফতাবের মৃদু কাশির শব্দে মীর কাশিমের তন্দ্রা ছুটে গেল। ‘কে কে’ বলে আতংকের সাথে তিনি ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ালেন। একদৃষ্টে মুখের দিকে চেয়ে থাকার পর চিনতে পেরে তিনি আবেগভরে জড়িয়ে ধরলেন হাজী আফতাবকে ।
এরপর দুইজন ঐ গাছের তলেই বসলেন। তারা দুইজনই এই অবস্থায় এই দূর এলাকায় কেন, একে অন্যের প্রশ্নের জবাবে দুইজনই পর পর তা ব্যাখ্যা করে শোনালেন। মীর কাশিমের বিবরণ শুনে হাজী আফতাব এক ফাঁকে বললেন- কাঙ্গালের কথা বাসি হলে মনে পড়ে জনাব। এমনটা যে ঘটবে, তা সেদিন আগেই আমি বলেছিলাম। কিন্তু আপনারা তাতে কর্ণপাতই করলেন না। আজ দেখুন তো, পারলেন আপনারা ইংরেজদের বাংলা থেকে বের করে দিতে? বরং আপনারাই তো, মানে আপনিই তো….
কথার মাঝেই মীর কাশিম করুণকণ্ঠে বললেন- কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেবেন না হাজী সাহেব । কত বড় যে ভ্রান্তির উপর তখন আমরা ছিলাম, আজ তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি।
হাজী আফতাব আফসোস করে বললেন- আজ আর তা বুঝতে পেরে ফায়দা কি জনাব? সর্বনাশ যা করার তা তো করেই আপনারা ছেড়েছেন ।
মীর কাশিম আর জবাব দিতে পারেননি । এক হলো পয়গম্বর, আর হলো অবতার । চাল চলন আদব-আখলাক আলাদা হলেও কাজটা দুইয়ের প্রায় একই । অর্থাৎ মানুষের মনের ময়লা পরিষ্কার করে তার পরম কল্যাণ সাধন করা। সূক্ষ্ম পার্থক্যটা হলো- পয়গম্বরেরা পরকাল ও পরমজন প্রত্যাশী আর অবতারেরা ইহলোকে আত্মপ্রচারে বিশ্বাসী । পয়গম্বর পাঠান আল্লাহ । অপরদিকে পরম প্রভু নিজেই নাকি অবতার হয়ে ইহলোকে আসেন। শাস্ত্রকারদের
কথা ।
তা আসুন । তবে পয়গম্বর আর আসবেন না। শেষ পয়গম্বরের মাধ্যইে পয়গম্বর পাঠানো শেষ করেছেন আল্লাহ । রইলো এখন অবতার । পরম প্রভু বিশ্ববাজার গরম করে কতবার যে অবতার হয়ে এ বিশ্বে অবতরণ করলেন, তার ইয়ত্তা নেই । তবে ভাব দেখে ধরে নেয়া হয়েছিল- শরম পেয়েই পরম প্রভুও শেষমেশ চরম অবস্থান নিয়েছেন । মেকার হয়ে এসে বেকার মানুষকে দেখার মতো করে মেরামত করার খাহেশ তাঁর মিটেছে । কয়লার ময়লা যে ধুলেও যায় না, এটা শেখার মতো আক্কেল তার হয়েছে । অমানুষকে মানুষ বানানোর ঠেকা আর তাঁর নেই ।
কিন্তু ওরে বাবা! একি উল্টা দৃশ্য। পরম পুরুষ তো পরম পুরুষ, তেত্রিশ কোটি দেবতারাই যে গুষ্ঠি সমেত অবতার হয়ে এ দুনিয়ায় অবতীর্ণ হবেন- এটা কি ভাবার কথা? কিন্তু বাস্তবে তাই হয়েছে। স্বর্গীয় মালগাড়ী ভর্তি হয়ে এসে তাঁরা এ দুনিয়ায় অবতরণ করেছেন । তা করবেন করুন আর অন্যের ঘাড়ে পড়ুন। কিন্তু না, সবার আগে পড়েছেন একদম আমাদের ঘাড়ে। এই অবতরণ করার পথে এ্যাক্সিডেন্টের কারণে মালগাড়ীর কয়েকটা বগি হঠাৎ করে উল্টে একদম আপ্সাইড ডাউন । ফলে, মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ার মতো কয়েক লক্ষ অবতার আগেই ঝর ঝর করে ঝরে পড়েছেন এই সোনার বাংলার বুকে। ব্যস্, কম্ম কাবার । অবতারগণ কোমর বেঁধে এখানেই স্বকর্মে মনোনিবেশ করেছেন। সোনার বাংলার মানুষকে সোনার মানুষ বানানোর দুর্মদ মানসিকতা নিয়ে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। স্বর্গের সুখ মর্ত্যেই তাঁরা দিতে চান সোনার বাংলার মানুষদের। বাংলাটাকে বানাতে চান আনন্দভরা স্বর্গের নন্দন কানন । ছুটাতে চান এখানে ডু-ফুর্তির ফোয়ারা। বিভিন্ন নামে আর বিভিন্ন পরিচয়ে তাঁরা কর্মরত আছেন মানুষের রূপ ধরে। ছোট্ট বাংলাদেশ আর কয়েক লক্ষ অবতার । তাই, ঘুরতে ফিরতে প্রায়শই সাক্ষাৎ ঘটে এদের ।
এমনই এক অবতার কৌশিক আহম্মদ কেদার। বড়ই বিজ্ঞজন। পেশায় স্কুলের প-িত । লোকে বলে, উনি প-িত নন, উনি স্কুলের প্রভাষক । মি-মিন্ করে ছাত্র পড়ান না কৌশিক আহম্মদ কেদার । মহাপ্রভুর ভাষণ দেন ক্লাসে । তাক্ লাগান নাবালক ছাত্র-ছাত্রীদের। ভাষণ দেন সহকর্মীদের মাঝেও। অনগ্রসর, ধর্মান্ধ আর কূপমণ্ডক মানুষেরাই অগ্রগতির বাধা- এই তথ্যই এই অবতার অহরহ প্রচার করে বেড়ান । বলা বাহুল্য, এটা ঐকতানে প্রচার করে বেড়ান এই কয়েক লক্ষ সকলেই । এঁরা জরাজীর্ণ সমাজটাকে একটা ফূর্তিভর্তি বাগানবাড়ি বানানোর বাণী শোনান সবাইকে । কৌশিক আহম্মদ কেদারও সেই বাণী মানুষকে শোনান আর সেই স্বর্গীয় বাণী বিনামূল্যে দ্বারে দ্বারে ফেরি করে বেড়ান ।
ভাষণ তাঁর গুরুগম্ভীর। মোহন্তজির মতো ভাবগম্ভীর তাঁর চালচলন। স্বদেশী আন্দোলনের নেতার মতো এই কেদার মিয়া কাঁধে রাখেন সাইডব্যাগ, মাথায় রাখেন কাঁধ-ছোঁয়া বাবরি চুল, গায়ে দেন খদ্দরের লম্বা পাঞ্জাবী, পরিধান করেন ইয়াংকিদের পরিত্যক্ত তালি দেয়া জিংকের প্যান্ট। ভাবটা কবি কবি, মুখে চটুল কবিতা। লেখা পড়েন কালকুটের বুলি কপচান কার্ল মার্কসের। অস্তিত্ত্বে তাঁর ডারউইন, মস্তিষ্কে ফ্রয়েড্ ।
এহেন জনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার বাঙ্গালী কি কম আছে সোনার বাংলায় ? অল্পদিনেই বেশ কিছু সাহাবা, তওবা, নন্দী ভিরিঙ্গী জুটে গেছে কেদার নাথের । গুড়ি, কেদার মিয়ার চারপাশে। নূর মুহম্মদ পার্থ কেদার মিয়ার এমনই একজন সদ্য দীক্ষিত সাগরেদ। পার্থ নামটা কৌশিক মিয়াই জুড়ে দিয়েছেন তার মূল নামের সাথে । এতে নাকি জৌলুশ বাড়ে নামের । অসাম্প্রদায়িকতার খোশবু ছড়ায় ভুর ভুর করে । তবে নূর মুহাম্মদ পার্থ কৌশিক আহম্মদ কেদারের সদ্য দীক্ষিত শিষ্য হেতু গুরুর আদর্শ এখনও সে পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। মাঝে মাঝেই নানা রকম প্রশ্ন করে বসে।
একদিন খবরের কাগজ হাতে কেদার মিয়া মুড় নিয়ে বসেছিল। নূর মুহম্মদ পার্থ এসে বললো- কি গুরু, খুব খুশি খুশি ভাব যে?
বিজয়গর্বে কেদার মিয়া বললেন- ঠুকে দিয়েছি একখানা কাঠমূর্খ এক নাদান, সাহিত্যের সংজ্ঞাটাই জানে না, সেই ব্যাটা কয়দিন আগে কাগজে এক আর্টিকেল লিখেছিল। দিয়ে দিয়েছি তার এই দাঁতভাঙ্গা জবাব ।
হাতে ধরা কাগজটা নাচাতে লাগলেন কেদার মিয়া। পার্থ প্রশ্ন করলো- কি রকম, কি রকম?
কেদার মিয়া বললেন- আরে সে কথা আর কি বলবো? বই-পুস্তক পড়ে না, সাহিত্যের খবর রাখে না, বিদ্যাবুদ্ধি দ্যাডুচোঙ্গা- সেই মূর্খ লিখেছে, অবসর বিনোদনের জন্যে খেলাধূলার প্রতি মানুষের আজকাল অধিক আকৃষ্ট হওয়ার কারণটা কি, সেই কথা। লিখেছে— “ভাল গল্প উপন্যাস আর ভাল সিনেমা ছবি বাজারে এখন দুর্লভ বস্তু। বই পুস্তক সব যৌনতত্ত্বে ভরা আর সিনেমা-ছবি যাত্রা-নাটক সব অশ্লীলতায় ভরপুর। ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে কোন সিনেমা ছবি আজকাল আর দেখার উপায় নেই পিতামাতার। গল্প উপন্যাসে কেবলই যৌন আবেদনের
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!