দাস্তানে মুজাহিদ – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

দাস্তানে মুজাহিদ – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আমিন ইবনে সালাম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৫

দাস্তানে মুজাহিদ – বইটির এক ঝলকঃ

অপর হাতে লাঠি নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন । বার্ধক্যে বৃদ্ধের ভুরু পর্যন্ত সাদা হয়ে গেছে। তাঁর মুখে পুরনো জখমের দাগ। দেখে মনে হয় এককালে তিনি তলোয়ার নেযা নিয়ে খেলেছেন। ইবনে আমের তাঁকে চিনতে পেরে এগিয়ে এসে মোসাফাহা করলেন। বৃদ্ধ ক্ষীণকণ্ঠে বললেন- মকতবে আমি আপনাকে খুঁজে এসেছি। সেখানে শুনলাম আপনি এখানে এসেছেন ।
: আপনি বড়ই তকলিফ করেছেন । বসুন ।
বৃদ্ধ ইবনে আমেরের কাছে বসলেন। ইবনে আমের তাঁকে বললেন- বহুদিন পর আপনার জিয়ারত নসীব হলো। বলুন, কি করে এলেন?
বৃদ্ধ বললেন- আজকের মসজিদের ঘটনা শুনেছি লোকের মুখে। যে নওজোয়ানের হিম্মতের তারিফ করছে বসরার বাচ্চা বুড়ো সকলে, আমি তাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছি। শোনলাম, সে নাকি আবদুর রহমানের বেটা । আবদুর রহমানের বাপ ছিলেন আমার অতি বড় দোস্ত। ছেলেটির সাথে দেখা হলে আমার তরফ থেকে কয়েকটি জিনিস আপনি তাকে দেবেন ।
বৃদ্ধ তাঁর পুঁটলি খুলে বললেন- পরশু তুর্কিস্তান থেকে খবর পেয়েছি, ওবায়দা শহীদ হয়েছে।
: কোন ওবায়দা? আপনার নাতি? ইবনে আমের প্রশ্ন করলেন ।
: হ্যাঁ তাই । আমার ঘরে তার এই তলোয়ার আর বর্ম ফালতু পড়ে ছিলো । আমার ঘরে এসব জিনিসের হক আদায় করার মতো আর কেউ নেই । তাই আমার ইচ্ছা কোন মুজাহিদকে এগুলো নজরানা দেবো । ইবনে আমের নায়ীমের দিকে তাকালেন। তাঁর মত বুঝতে পেরে নায়ীম উঠে গিয়ে বৃদ্ধের কাছে বসতে বসতে বললেন- আপনার গুণগ্রাহিতায় আমি ধন্য । যথাসাধ্য আপনার তোহফার সদ্ব্যবহার আমি করবো । আমায় আপনি দোয়া করুন।
মধ্যরাতের কাছাকাছি মজলিস শেষ হলে সবাই যার যার ঘরে চলে গেলেন । নায়ীম তাঁর মামার সাথে যেতে চাইলেন, কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসেম তাকে নিজের কাছে রেখে দেন।
মুহাম্মদ বিন কাসেমের অনুরোধে সাঈদ নায়ীমকে সেখানে থাকতে বললেন । ইবনে আমের ও সাঈদকে বিদায় দেবার জন্য নায়ীম এবং মুহাম্মদ বিন কাসেম ঘরের বাইরে এলেন এবং কিছু দূর তাঁদের সাথে সাথে গেলেন । নায়ীমের সাথে তখনও সাঈদের কোনো আলাপ হয়নি বাড়ি ঘর সম্পর্কে। চলতে চলতে তিনি প্রশ্ন করলেন- নায়ীম! বাড়ির খবর সব ভাল তো?
: জি হ্যাঁ মামা! বাড়িতে সবাই ভাল। আম্মি …। নায়ীম আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। চিঠিটা বের করার মতলব করে তিনি হাত ঢোকালেন জেবের মধ্যে, কিন্তু কি যেন চিন্তা করে খালি হাতই জেব থেকে বের করলেন । হ্যাঁ, বোন কি বলেছিলেন?
:
: তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন ।
বাকি রাতটা নায়ীম বিছানায় পড়ে এপাশ-ওপাশ করে কাটালেন। ভোর হবার খানিকটা আগে তার চোখে নামলো ঘুমের মায়া। তিনি স্বপ্নে দেখলেন, তিনি যেনো তার এলাকার মুগ্ধকর পরিবেশে মহব্বতের সুরঝংকারের মাঝখানে প্রিয়তমার সান্নিধ্য থেকে দূরে বহু দূরে সিন্ধুর দিগন্তপ্রসারী ময়দানে যুদ্ধের বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ।
পরদিন নায়ীম ফৌজের একজন সিপাহসালার হিসেবে রওয়ানা হয়ে গেলেন । প্রতি পদক্ষেপে তিনি যেনো তাঁর পুরনো লোকালয় ভেঙে চলেছেন, আর সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন আকাঙ্ক্ষার দুনিয়া গড়তে। সন্ধ্যার খানিকক্ষণ আগে তাঁর লঙ্কর চলেছে এক উঁচু টিলার ওপর দিয়ে। যে বাগিচার ছায়ায় নায়ীম কত সুখ-শান্তির দিন কাটিয়েছেন তারই দিকে নজর পড়ছে এখান থেকে। এ পথ থেকে দু’ক্রোশ দূরে রয়েছে তার যৌবনের নিষ্পাপ আশার প্রতীক, তার অন্তরের আকাঙ্ক্ষিত প্রিয়জন। মন চায় তনি তিনি ঘোড়া ছুটিয়ে চলে যান সেই মরুভূমির হুরের কাছে, তাঁকে দুটো কথা বলেন, দুটো কথা শুনে আসেন তার কাছ থেকে এ বিদায় মুহূর্তে, কিন্তু মুজাহিদদের আত্মা এ সূক্ষ্ম অনুভূতির ওপর বিজয়ী হয়। পকেট থেকে তিনি চিঠিটা বের করেন, পড়েন, আবার তা গুঁজে রাখেন পকেটে ।
বাড়িতে আবদুল্লাহ ও নায়ীমের শেষ কথাবার্তা শোনার পর আযরার খুশির অন্ত নেই । তার রূহ যেন আনন্দের সপ্তম আসমানে উড়ে বেড়াচ্ছে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে যেন শুনতে পাচ্ছে আসমানের সেতারাদের নির্বাক সংগীত। সারা রাত জেগে থেকেও যেন তার মুখে ফুটে ওঠেছে আগের চাইতে বেশি খুশির আভাস । হতাশার আগুনে জ্বলে পুড়ে যাবার পর আশাতরু আবার ফুলে ফুলে সবুজ হয়ে ওঠেছে।
আবদুল্লাহর উপকারের বোঝা যেনো ভারাক্রান্ত করে তুলেছে আযরার মন। তার অন্তহীন আনন্দের ভেতর ব্যথা হয়ে বাজে আবদুল্লাহর উপকারের গোপন লজ্জা । সে ভাবে, আবদুল্লাহর এ ত্যাগ তো শুধু নারীমের জন্যই নয়, তাদের দু’জনেরই জন্য। তাঁর মহব্বত কতো নিঃস্বার্থ ! কতোটা ব্যথা তাঁর মনে লেগেছে! আহা! সে যদি এমনি করে ব্যথা না দিয়ে পারতো! আহা! নায়ীমকে যদি সে এতটা মহব্বত না করতো আর আবদুল্লাহর মনে এমনি করে আঘাত না দিতো। কল্পনার এ বেদনাদায়ক অনুভূতি মুহূর্তের মধ্যে চাপা পড়ে যায় তার অন্তর থেকে ওঠে আসা আনন্দের সুরঝংকারে।
আযরা ভেবেছে নায়ীম ফিরে আসবেন সন্ধ্যার আগেই। বড় কষ্টে কেটেছে তার অপেক্ষার দিন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, কিন্তু নায়ীম ফিরে এলেন না । গোধূলির ম্লানিমা যখন রাতের অন্ধকারে রূপান্তরিত হতে লাগলো, আসমানের কালো পর্দায় ঝিকমিক করতে লাগলো অসংখ্য সেতারার মোতি, তখন আযরার অস্থিরতা ক্রমাগত বেড়ে চললো। মধ্যরাত অতীত হয়ে গেলো, দুঃখের রাতকে আশার সান্ত্বনা দিয়ে আযরা পাশ ফিরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো । পরের দিনটি কাটলো আরও অস্থিরতার ভেতর দিয়ে এবং পরের রাতটি হলো যেনো আরও দীর্ঘ।
আবার ভোর কেটে গেলো, সন্ধ্যা হলো; কিন্তু নায়ীম ফিরে এলেন না । সন্ধ্যাবেলা আযরা ঘর থেকে বেরিয়ে কিছু দূরে এক টিলার উপর গিয়ে নায়ীমের পথ চেয়ে বসে রইলো । বসরার পথে বার বার ধূলি উড়ছে কম বেশি করে । বার বার সে ভাবে, ওই বুঝি নায়ীম এলেন। প্রতিবার হতাশ হয়ে সে চেপে ধরে তার কম্পিত বুক। উট-ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে চলে যায় কত পথিক। দূর থেকে সে দেখে, বুঝি নায়ীম এলেন। কিন্তু কাছে এলেই সে দেখে, সব ভুল । সন্ধ্যার ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। রাখাল দল ফিরে যাচ্ছে আপন ঘরে। গাছের ওপর কল গুঞ্জন করে পাখিরা তাদের সমজাতীয় পাখিদের সন্ধ্যার আগমনী পয়গাম জানাচ্ছে। আযরা ঘরে ফিরে যাবার ইরাদা করেছে, অমনি পেছন থেকে শুনতে পেলো কার পায়ের আওয়াজ। ফিরে দেখলো আবদুল্লাহ আসছেন । হায়া-লজ্জায় আযরার চোখ নত হয়ে এলো । আবদুল্লাহ কয়েক কদম এগিয়ে এসে বললেন- আযরা! এবার ঘরে চলো । চিন্তা করো না । নায়ীম শিগগিরই এসে পড়বে। বসরার কোনো বড়লোক দোস্ত ওকে আসতে বাধা দিয়েছেন । আযরা কোনো কথা না বলে চললো ঘরের দিকে। পরদিন বসরা থেকে এক লোক এলে জানা গেলো, নায়ীম সিন্ধুর পথে রওয়ানা হয়ে গেছেন । খবর পেয়ে সাবেরা, আবদুল্লাহ ও আযরার মনে নানারকম ধারণা জাগলো । সাবেরা ও আবদুল্লাহর সন্দেহ হলো, হয় তো নায়ীমের আত্মম্ভরিতা তার মনকে ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিমুখ করেছে । আযরার সন্দেহ তাদের থেকে ভিন্ন ধরনের । বসরার বড় বড় লোক তার দোস্ত, আর তাদের কেউ তাকে আসতে বাধা দিয়েছেন- আবদুল্লাহর এই কথা তার মনের উপর গভীর রেখাপাত করেছে । সে বার বার মনে মনে বলছে, নারীমের দেহ সৌন্দর্য ও বাহাদুরীর খ্যাতি বড় বড় লোককে তার কাছে টেনে এনেছে। তারা হয় তো তার সাথে সম্পর্ক রাখাটাকে গর্বের বিষয় মনে করে সম্ভবত বসরার হাজারো সুন্দরী ও বড় ঘরের মেয়ে তার কাছে আত্মনিবেদন করতে লালায়িত। আর আমার এমন গুণই বা কোথায়, যা তাকে ফিরিয়ে রাখবে অপরের প্রতি আকর্ষণ থেকে! যদি তার জেহাদে যেতেই হয়, তবু কেন আমায় বলে গেলেন না? তাকে বাধা দেবার মতো কে আছে এ বাড়িতে? হয় তো এ এলাকায় তার পেরেশানির কারণ আমিই ছিলাম না। হয় তো আর কারও সাথে তিনি মহব্বতের সম্পর্ক পেতেছিলেন । …. কিন্তু না। তা কখনও হতে পারে না । নায়ীম, আমার নায়ীম… এমন তো নয় কখনও। তিনি আমায় ধোকা দিতে পারেন না। আর যদি দেনই, তাহলেই বা তাকে নিন্দা করার কি অধিকার আছে আমার?
তখনকার সময় দেবল ছিলো সিন্ধুর এক মশহুর বন্দর । শহরের চার দেয়ালের ওপর সিন্ধুরাজের এতটা ভরসা ছিল, ময়দানে নেমে মোকাবেলা না করে তিনি তার বেশুমার ফৌজ নিয়ে আশ্রয় নিলেন শহরের ভেতরে। মুহাম্মদ বিন কাসেম শহর অবরোধ করে মিনজানিকের সাহায্যে প্রস্তর বর্ষণ শুরু করলেন। কিন্তু কয়েক দিনের কঠিন হামলা সত্ত্বেও মুসলিম বাহিনী শহরের দেয়াল ভাঙতে পারলো না । অবশেষে একদিন একটা ভারী পাথর পড়লো এক মশহুর বৌদ্ধ মন্দিরের ওপর। মন্দিরের স্বর্ণ-গম্বুজ টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়লো নীচে। তার সাথেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো বুদ্ধের এক প্রাচীন মূর্তি। মূর্তিটি ভেঙে পড়ায় রাজা দাহির অশুভ লক্ষণ মনে করে ঘাবড়ে গেলেন এবং রাতের বেলায় ফৌজ সাথে নিয়ে পালিয়ে গেলেন ব্রাহ্মণাবাদে ।
দেবল বিজয়ের পর মুহাম্মদ বিন কাসেম এগিয়ে এলেন নীরুনের দিকে। নীরুনের বাসিন্দারা লড়াই না করেই হাতিয়ার সমর্পণ করে দিলো ।
নীরুন দখল করার পর মুহাম্মদ বিন কাসেম ভরোচ ও সিস্তানের মশহুর কেল্লা জয় করলেন। রাজা দাহির ব্রাহ্মণাবাদে পৌঁছে চারদিকে দূত পাঠিয়ে হিন্দুস্তানের রাজা-মহারাজাদের কাছে সাহায্যের আবেদন করলেন। তার আবেদনে দুশ’ হাতী ছাড়া আরও পঞ্চাশ হাজার ঘোড়সওয়ার ও কিছুসংখ্যক পদাতিক সিপাহী এসে জমা হলো তার পাশে। রাজা দাহির বিপুল সেনাসামন্ত সাথে নিয়ে ব্রাহ্মণাবাদের বাইরে এসে সিন্ধু নদের কিনারে এক বিস্তৃত ময়দানে তাঁবু ফেলে মুহাম্মদ বিন কাসেমের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন ।
মুহাম্মদ বিন কাসেম কিশতির সেতু রচনা করে সিন্ধু নদ পার হলেন। ঈসায়ী ৭১৩ সালের ১৯ জুন মুহাম্মদ বিন কাসেমের ফৌজ এসে সন্ধ্যাবেলায় তাঁবু ফেললো রাজা দাহিরের তাঁবু থেকে দুই ক্রোশ দূরে। ভোর বেলা দাহির বাহিনীর শঙ্খঘণ্টা বেজে ওঠলো। অপরদিকে উচ্চারিত হলো ‘আল্লাহু আকবর’ তাকবির ধ্বনি এবং দুই লকর নিজ নিজ দেশের সামরিক রীতি অনুযায়ী সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে চললো পরস্পরের দিকে।
মুহাম্মদ বিন কাসেম তাঁর ফৌজকে পাঁচশ’র ছোট ছোট দলে ভাগ করে হুকুম দিলেন সামনে এগিয়ে যেতে। অপরদিকে সিন্ধুর ফৌজে সবার আগে দু’শ’ হাতী এগিয়ে এলো । ভয় পেয়ে মুসলিম বাহিনীর ঘোড়াগুলো পিছু হটে যেতে লাগলো । এসব দেখে মুহাম্মদ বিন কাসেম তাঁর ফৌজকে হুকুম দিলেন তাঁর বর্ষণ করতে। একটি হাতী মুসলিম সিপাহীদের সারি দলিত করে এগিয়ে এলো সামনের দিকে । মুহাম্মদ বিন কাসেম সেটির মোকাবেলা করার জন্য এগিয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু তাঁর ঘোড়া ভয়ে সেই ভয়ঙ্কর জানোয়ারের কাছেও যেতে চাইলো না। মুহাম্মদ বিন কাসেম বাধ্য হয়ে নেমে পড়লেন ঘোড়া থেকে এবং এগিয়ে গিয়ে হাতীর শুঁড় কেটে ফেললেন । নায়ীম ও সাঈদ তাঁর মতোই এগিয়ে গিয়ে কেটে দিলেন আরও দু’টি হাতীর শুঁড় । আহত হাতী উলটো দিকে ঘুরে সিন্ধুর ফৌজকেই দলিত করে বেরিয়ে গেলো। বাকী হাতীগুলো তীরবৃষ্টির ভেতর দিয়ে এগুতে পারলো না। সেগুলো আহত হয়ে সিন্ধুর সিপাহীদের সারি ছিন্নভিন্ন করে চললো। সুযোগ বুঝে মুহাম্মদ বিন কাসেম সামনের সারির সিপাহীদের এগিয়ে যেতে হুকুম দিলেন এবং পেছনের দলগুলোকে তিন দিক থেকে শত্রুবাহিনীর ঘিরে ফেলতে নির্দেশ দেন। মুসলিম বাহিনীর প্রাণপাত সংগ্রামের ফলে শত্রুবাহিনীর পা টলটলায়মান হয়ে পড়ে। সাঈদ কয়েকজন দুঃসাহসী যোদ্ধাকে সাথে নিয়ে শত্রুবাহিনীর সারি ভেদ করে গিয়ে তাদের মধ্যভাগে পৌঁছে যান । নায়ীমও তার বাহাদুর মামার পেছনে পড়ে থাকতে রাজি ছিলেন না। তাই তিনি নেযা হাতে পথ খোলাসা করে তার কাছে এগিয়ে গেলেন। রাজা দাহির তার রানীদের মাঝখানে এক

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top