চাই সাম্রাজ্য – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

চাই সাম্রাজ্য – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৫৪২

চাই সাম্রাজ্য – বইটির এক ঝলকঃ

আল দাউদ প্লেন ত্যাগ করার দশ সেকেণ্ড পর অ্যাকটিউয়েটর সেটের টাইমার হাইড্রলিক আর্য-টাকে সচল করে তুললো। বন্ধ হয়ে গেল হেল হোলের হ্যাচ, সেই সাথে থেমে গেল শব্দটাও ।
‘কই, আর তো কিছু শুনতে পাচ্ছি না!’
‘কিসের শব্দ ছিলো ওটা?’
‘কি জানি। আগে কখনো শুনিনি। একবার মনে হলো, প্রেশার লিক কিনা।’
অ্যাটেনড্যান্ট তার কাঁধ ছোঁয়া সোনালি চুল নেড়ে মেইন কেবিনের দিকে এগোলো। ‘তুমি বরং ক্যাপটেনকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।’
চীফ স্টুয়ার্ড ইতস্তত করতে লাগলো। জরুরী কোনো ব্যাপার না হলে ক্যাপটেন তাঁকে বিরক্ত করতে নিষেধ করেছেন। তবে, ভাবলো সে, আগে তাকে প্লেন আর আরোহীদের নিরাপত্তার দিকটা দেখতে হবে । ইন্টারকম ফোনের রিসিভার কানে তুললো সে, চাপ দিলো বোতামে । ‘ক্যাপটেন, চীফ স্টুয়ার্ড বলছি। মেইন কেবিনের সামনে থেকে অদ্ভুত একটা শব্দ শুনলাম আমরা । ওখানে কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে ?”
কোনো জবাব এলো না । তিনবার চেষ্টা করার পরও সাড়া না পেয়ে দিশেহারা বোধ করলো চীফ স্টয়ার্ড, বারো বছরের চাকরিতে এটা তার কাছে সম্পুর্ণ নতুন একটা অভিজ্ঞতা। কি করবে ভাবছে, এই সময় প্রায় ছুটতে ছুটতে ফিরে এলো ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট, কি যেন বললো তাকে । প্রথমে কান দেয়নি তার কথায়, তারপর ঝট্ করে তার দিকে ঘুরলো চীফ স্টুয়ার্ড। ‘কি বললে ?’
‘আমাদের নিচে মাটি।
‘মাটি ?’ ‘সরাসরি আমাদের নিচে, হাঁপাতে হাঁপাতে বললো মেয়েটা, চোখ পিটপিট করছে। ‘একজন আরোহী আমাকে দেখালো।’
মাথা নাড়লো চীফ স্টয়ার্ড। ‘অসম্ভব! সমুদ্রের মাঝখানে থাকার কথা আমাদের। সম্ভবত ফিশিং বোটের আলো দেখেছে সে। আব- হাওয়া সংক্রান্ত গবেষণার জন্যে, ক্যাপটেন বলেছেন…।’
‘বিশ্বাস না হয় নিজেই দেখো না!’ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবেদনের সুরে বললো অ্যাটেনড্যান্ট। ‘নিচের মাটি দ্রুত উঠে আসছে ৷ আমরা বোধহয় ল্যাণ্ড করতে যাচ্ছি।’
গ্যালির একটা জানালার সামনে গিয়ে দাড়ালো চীফ স্টুয়ার্ড, নিচে তাকালো। আটলান্টিকের কালো পানির বদলে সাদা একটা উজ্জ্বল ভাব দেখতে পেলো সে। প্লেনের নিচে বরফের বিশাল একটা বিস্তৃতি পিছন দিকে ছুটে যাচ্ছে, খুব বেশি হলে দুশো চল্লিশ মিটার নিচে, নেভিগেশন লাইটের প্রতিফলন পরিষ্কার দেখা গেল। আঁতকে উঠলো চীফ স্টুয়ার্ড, ঘুরে উঠলো মাথাটা । এটা যদি ইমার্জেন্সী ল্যাণ্ডিং হয়, ক্যাপটেন মেইন কেবিনের ক্রুদের জানাননি কেন ? সিট বেল্ট বাঁধার বা ধূমপান না করার নির্দেশ দেননি কেন ? হতভম্ব চেহারা নিয়ে অ্যাটেন- ড্যান্টের দিকে ফিরলো সে। ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’
জাতিসংঘের প্রায় সব আরোহীই জেগে রয়েছে, পত্র-পত্রিকা পড়ছে বা কথা বলছে। ঘুমোচ্ছেন একা শুধু উম্মে সালিহা। মেক্সিকো সর- কারের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক সেমিনার শেষ করে বিশ্বব্যাংকের হেডকোয়ার্টারে ফিরছে, প্লেনের লেজে একটা টেবিলে জড়ো হয়েছে তারা সবাই। প্রতিনিধিদলের নেতা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, নিচু গলায় কথা বলছেন, থমথম করছে তাঁর চেহারা। মেক্সি- কোর অর্থনীতি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, গোটা দেশ দেউলিয়া হতে আর বেশি দেরি নেই, অথচ আর্থিক সহায়তা লাভেরও কোনো আশা কেউ তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না।
ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করলো, ‘ইমার্জেন্সী প্রসি- ডিউর শুরু করা উচিত নয় ?’
‘আরোহীদের কিছু জানিয়ো না । অন্তত এখুনি নয়। আগে আমাকে ক্যাপটেনের সাথে যোগাযোগ করতে দাও ।’
‘কিন্তু তার কি সময় আছে ?’
‘জা-জানি না।’ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে মেইন কেবিন ধরে হন হন করে এগোলো চীফ স্টুয়ার্ড, আরোহীদের কিছু বুঝতে না দেয়ার জন্যে মুখের সামনে একটা হাত রেখে হাই তুললো ৷ সাম- নের পর্দাটা হ্যাচকা টানে সরিয়ে ককপিটের দরজার সামনে থামলো সে, হাতল ধরে মোচড় দিলো। ভেতর থেকে তালা মারা ।
নক-করলো সে । তারপর ঘুসি মারলো। কোনো সাড়া নেই । ক্যাপটেনকে নিয়ে তিনজন রয়েছে ভেতরে, কি করছে তারা? মরিয়া হয়ে দরজার গায়ে লাথি মারলো সে। দরজার কবাট হালকা বোর্ড দিয়ে তৈরি, বাইরের দিকে খোলে। দ্বিতীয় লাথিতে সেটা ভেঙে গেল। দোরগোড়া টপকে ভেতরে ঢুকলো চীফ স্ট য়ার্ড । ঢুকেই পাথর হয়ে গেল ।
অবিশ্বাস, বিস্ময়, ভয় ও আতংক, বাঁধ ভাঙা পানির মতো এক- যোগে সবগুলো অনুভূতি গ্রাস করে ফেললো তাকে। ক্রুদের একজন মেঝেতে পড়ে আছে, আরেকজন তার প্যানেলে হুমড়ি খেয়ে রয়েছে। ক্যাপটেন বব রিচার্ডসন অদৃশ্য। ডিক হার্টকে টপকাতে গিয়ে তার গায়ে হোঁচট খেলে। চীফ স্টুয়ার্ড, খালি পাইলটের সিটের ওপর ঝুঁকে উইণ্ডশীল্ড দিয়ে বাইরে তাকালো । প্লেনের নাকের সামনে বিপুল বিস্তার নিয়ে ঝুলে রয়েছে হফ সঞ্জো- কাল গ্লেসিয়ারের চূড়া, খুব বেশি হলে মাইল দশেক দূরে। তারা আলোয় সবুজাভ দেখালো বরফের গা। কি ঘটতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে আতংকে দিশেহারা বোধ করলো স্টুয়ার্ড। প্লেন কিভাবে চালাতে হয় সে-সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই তার, তবু পাইলটের সিটে বসে কন্ট্রোল কলামটাকে দু’হাতে আঁকড়ে ধরলো সে। নিজের কথা ভাবছে না, কিন্তু আরোহীদের বাঁচানোর শেষ একটা চেষ্টা তো করতেই হবে। হুইলটাকে নিজের বুকের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করলো সে । কিছুই ঘটলো না।
কলাম ঢিল হতে চাইছে না অথচ আশ্চর্য; অলটিমিটারে দেখা গেল প্লেন ধীরে ধীরে হলেও ওপর দিকে উঠছে। আবার হুইলটা নিজের দিকে টানলো সে, এবার আরো জোরে। সামান্য একটু কাছে এলো । দৃঢ় চাপ অনুভব করে বিস্মিত হলো সে। তার চিন্তাশক্তি স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করছে না। অভিজ্ঞতা এতোই কম যে বুঝতে পারছে না অটো- মেটিক পাইলটের ওপর আসুরিক শক্তি খাটাচ্ছে সে, যেখানে মাত্ৰ পঁচিশ পাউণ্ড চাপ-ই ওটাকে নত করতে পারে ।
স্বচ্ছ ঠাণ্ডা বাতাসে গ্লেসিয়ারটাকে এতো কাছে মনে হলো যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। থুটল সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে কলাম- টাকে আবার কাছে টানলো সে। থেমে থেমে, জেদ আর অনিচ্ছার ভাব নিয়ে, কাছে এলো বটে, কিন্তু আবার পিছিয়ে গেল খানিকটা। যেন যন্ত্রণাকাতর মন্থরতার সাথে ওপর দিকে নাক তুললো প্লেন, বরফ আর তুষার ঢাকা চূড়াটাকে টপকালো মাত্র একশো মিটার ওপর দিয়ে । আসল বব রিচার্ডসনকে তার লণ্ডন ফ্ল্যাটে খুন করেছে আল দাউদ । ছদ্মবেশ নেয়ার ব্যাপারে সে একজন জাদুকর, বেচারা বব রিচার্ডসনের ফ্ল্যাটে বসেই চেহারা বদলে নিয়েছে। এই মুহূর্তে বরফের রাজ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে, চোখে একজোড়া নাইট গ্লাস তুলে তাকিয়ে রয়েছে দূরে। সুমেরুপ্রভা ম্লান হয়ে এলেও আকাশের গায়ে হফস্- জোকালের কিনারাগুলো এখনো ঠাহর করা যায় ।
উত্তেজনা আর প্রত্যাশায় টান টান হয়ে আছে পরিবেশ। দু’জন টেকনিশিয়ান আলে। আর ট্র্যান্সমিটার বীকন তুলে একটা হেলিক- প্টারে ভরছে বটে, কিন্তু তারাও চালের ওপর দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে গ্লেসিয়ারের চূড়ার দিকে। পাথুরে মূর্তির মতো স্থির হয়ে রয়েছে আল দাউদ, এক দুই করে সেকেণ্ড গুণছে, আশা যে-কোনো মুহূর্তে আগুনের বিস্ফোরণ দেখতে পাবে। কিন্তু কিছুই ঘটলো না ।
চোখ থেকে বিনোকিউলার নামিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। মেসি- য়ারের নিস্তব্ধতা চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো তাকে, ঠাণ্ডা আর নির্বিকার। মাথার কাঁচা-পাকা পরচুলা খুলে বরফের ওপর ছুঁড়ে মারলো সে ৷ বুট জোড়া খুললো, বুটের ভেতর থেকে বের করলো শক্ত মোটা স্পঞ্জ, দৈর্ঘ্য বাড়াবার জন্যে ব্যবহার করতে হয়েছিল। সচেতন, পাশে তার অন্ধভক্ত বন্ধু এখলাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। ‘আশ্চর্য মেকআপ, আল দাউদ, আপনাকে চেনাই যাচ্ছিলো না।’ লম্বা সে, রোগাটে, পাকানো রশির মতো শরীর, মাথায় বাবরি।
“ইকুইপমেন্ট সব তোলা হয়েছে ?”
‘জ্বী। আমাদের মিশন কি সাকসেসফুল, আল দাউদ ?’
‘হিসেবে ছোট্ট একটা ভুল হয়েছে। যেভাবেই হোক চূড়া টপকে

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top