বুশ পাইলট – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৪১
বুশ পাইলট – বইটির এক ঝলকঃ
‘কেন?’
“শিকার ফুরিয়ে গিয়েছিল, তিমি, শ্রাগ করল রানা। ‘প্রতি বছর তিমি শিকারেন জন্যে চার-পাঁচশো জাহাজ এসে ভিড় করত এই এলাকায়। অতিরিক্ত মেরে মেরে শেষ করে দিয়েছিল, প্রায় বিলুপ্ত, উত্তর আমেরিকার বুনো মোষের মত।’
রাস্তার শেষ মাথায় ছোট একটা গির্জার ধ্বংসাবশেষ দেখা গেল। তার পিছনে গোরস্থান। ভাঙা দেয়াল। ভিতরে ঢুকল ওরা। শ্যাওলায় ঢাকা প্রথম কবরফলকটা কাছে দাঁড়াল।
“অ্যাঙ্গাস ম্যাকক্লারেন, মৃত্যু ১৮৩০,’ জোরে জোরে পড়ল রুথ। ‘স্কটল্যাণ্ডের লোক।
মাথা ঝাঁকাল রানা। ‘তিমি শিকারের ইতিহাসে খুবই খারাপ একটা বছর ছি ওটা। প্যাকের বরফ গলতে দেরি হয়েছিল। ওখানে আটকা পড়েছিল উনিশ জা ইংরেজ ওয়েইলার। শোনা যায়, একবারে হাজারেরও বেশি লোক গিয়ে ঠাঁই নিয়েছিল ওই বরফের স্তূপে।
অর্ধেক মুছে যাওয়া নামফলক পড়তে পড়তে কবরগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে চলল রুথ। একটা কবরের পাশে থেমে গেল। সামান্য কুঁচকে গেছে ভুরু । এক হাঁ ভাঁজ করে বসল। দস্তানা পরা হাতে কবরফলক থেকে ডলে সরাল সবুজ শ্যাওলা। খুব যত্ন করে একটা স্টার অড ডেভিড খোদাই করা রয়েছে পাথরের গায়ে, তার নীচের লেখাটা বিড়বিড় করে পড়ল রুথ, ‘অ্যারন আইজাক, মৃত্যু ২৭শে জুলাই, ১৮৬৩।’
ফলকে আরও যা লেখা রয়েছে, তাতে বোঝা যায় লিভারপুল থেকে আসা ি কুইন’ নামে একটা জাহাজের পেটি অফিসার ছিল অ্যারন আইজাক ।
হাঁটু গেড়ে বসে খোদাই করা অক্ষরগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে ও, একটা হা কবরফলকে রাখা, চেহারায় বিষণ্ণতা। পাশে দাঁড়ানো রানার দিকে মুখ তুে তাকাল। প্রথম থেকে যে রকম দেখে আসছিল—রুক্ষ-কঠিন একটা মেয়ে ওর এই পরিবর্তন বিস্মিত করল রানাকে। এখন আর বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না, বাইরের লৌহকঠিন আবরণের আড়ালে নরম আবেগপ্রবণ একটা মন আছে মেয়েটার।
উঠে দাঁড়াল রুথ। পাথরে বাঁধাই চারকোনা একটা উঁচু কবরের উপর প দুলিয়ে বসল। ‘আচ্ছা, একটা কথা বলুন তো। দুনিয়ায় এত জায়গা থাকে গ্রীনল্যাণ্ডে কেন আপনি?’
এই প্রশ্নটারই আশঙ্কা করছিল রানা। তবে তৈরি রয়েছে ও। ফ্রেডেরিকসবর্গের সবাইকেই যে কৈফিয়তটা দেয়, সেটাই দিল। ‘খুব সোজা — শুধু গ্রীষ্ম মৌসুমের দুই মাসেই অন্য জায়গায় বারো মাসে যা কামাতাম তার দ্বিগুণ কামাই আমি এখানে।’ টাকার খুব দরকার আপনার, তাই না?”
“হ্যাঁ, দরকার। আরও দুটো প্লেন কেনার ইচ্ছে আছে আমার।’ *শুনে তো উচ্চাভিলাষী লোক মনে হচ্ছে আপনাকে । তারপর?
‘লাব্রাডর আর নিউফাউন্ডল্যাণ্ডে নিজের কোম্পানি খুলতে পারলে পাঁচ-ছয় বছরেই বড়লোক হয়ে যাব।’
‘খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে।’
‘না হওয়ার কোন কারণ নেই। আমার যা বয়েস, এটাই তো খাটার সময়।’
‘হাঁ’ এমন ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল রুথ, যেন রানার কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না, কিছু একটা সন্দেহ করছে। কথা আদায়ের জন্য অন্য পথ ধরল ও, ‘নিশ্চয় খুব ভাল, সুন্দরী একটা মেয়ে কোথাও অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে?’
“তাই নাকি? জানি না তো! কী নাম ওর?’
তারমানে ওরকম কেউ নেই আপনার?’
হাসল রানা। ‘বুঝতে পারছি, আপনি আমার সম্পর্কে সব জানতে চাচ্ছেন। বেশ, আপনাকে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিচ্ছি। আমার নাম মাসুদ রানা – জন্ম বাংলাদেশে, ইংল্যাণ্ডের নাগরিক। লণ্ডনের স্কুল অভ ইকোনোমিকস থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রি নিয়েছি, ইউনিভার্সিটি এয়ার স্কোয়াড্রনে ফ্লাইং শিখেছি। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর ন্যাশনাল সার্ভিসে বাধ্যতামূলক কাজ করতে হয়েছে। ভাবলাম, এত কষ্ট করে শিখলামই যখন, শিক্ষাটাকে কাজে লাগাই। তাই পুরানো ফ্লিট এয়ার আর্মে একটা শর্ট সার্ভিস কমিশন নিলাম। সার্ভিস থেকে বেরিয়ে এসে পাবলিক রিলেশন অফিসে একটা চাকরি নিলাম।’
‘সুবিধে করতে পারেননি?’
‘ভালই ছিল চাকরিটা, সাবধানে জবাব দিল রানা। এই মেয়েটা বোকা নয়, কতটা বিশ্বাসযোগ্য করে ওর কাছে মিথ্যে কথাগুলো বলতে পারবে ভাবছে। কিন্তু সারাক্ষণ ডেস্কে বসে ফাইল ঘাঁটা আর টেলিফোনে কথা বলা সহ্য করতে পারলাম না। এক সকালে অফিসে ঢুকে ডেস্কের ওপর জমা হওয়া চিঠির স্তূপের দিকে শেষবারের মত তাকিয়ে বেরিয়ে চলে এলাম। জমানো টাকার শেষ হাজার পাউণ্ড খরচ করলাম কনভারশন কোর্সের পিছনে। একটা কমার্শিয়াল পাইলটের লাইসেন্স জোগাড় করলাম।’
‘তারপর এখানে চলে এলেন। মুক্ত মাসুদ রানা-যেখানে খুশি উড়ে যেতে পারে—যা ইচ্ছে করতে পারে। অবৈধ কাজকারবারে জড়িয়ে পড়লেও বাধা দেয়ার কেউ নেই।’ আনমনে বিড়বিড় করল রুথ।
আশা করি কৌতূহল মিটেছে আপনার, রানা বলল। এবার রুথ ম্যাককেইনের জীবনের কিছু কথা শোনা যাক। যতদূর মনে পড়ে রুথ নামটা হিক নাম । তারমানে, আপনি ইহুদি।’
‘কোন সন্দেহ নেই তাতে,’ রুথ বলল। ‘ইজরায়েলে জন্ম ও বড় হওয়া মেয়ে তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরানো ভাষার ওপর লেকচার দেন আমার বাবা।’
‘আপনার সিনেমায় যোগ দেয়ার কথা বলুন।’
‘ছোটবেলা থেকেই সিনেমা খুব পছন্দ আমার। সিনেমা হলে ছবি দেখতে বসে বার বার মনে হতো, ইস্, আমি যদি অভিনয় করতে পারতাম। ইসরায়েলে থাকতে প্রথমে একটা থিয়েটারে অভিনয় করেছি, সেখান থেকে সিনেমায় ছোট্ট একটা চরিত্র, তারপর ইটালিতে কাজ করার আমন্ত্রণ। ওখানে বেশ কয়েকটা ছবিতে কাজ করেছি। ওখানেই দেখা হয়েছে গ্লেনের সঙ্গে। একটা যুদ্ধের ছবিতে কাজ করছে তখন ও, লোকেশনে ওর সঙ্গে পরিচয়। শুধু অভিনয়ই করছে না তখন, ছবি পরিচালনাও করছে। সিনেমা বানানোর বেশির ভাগ টাকাও ওরই দেয়া।’
‘ওই ছবিটাতে আপনাকে কাজ দিয়েছেন গ্লেন?’
‘প্রথমে ছোট একটা চরিত্রে। কিন্তু সারা ছবিতে মেয়েমানুষের চরিত্র আঁ একটাই, তাই পত্রিকা সমালোচকদের চোখে ঠিকই পড়েছিলাম।
হঠাৎ করেই যেন জাদুমন্ত্রের ছোঁয়ায় রুথের পিছনে কুয়াশার চাদর উধাও হয়ে গিয়ে পর্বত চোখে পড়ল। ঝকঝকে নীলাকাশ ফুঁড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছে কে পর্বতের চূড়া। একটু আগের ধোঁয়াটে অন্ধকারের কথা কল্পনাই করা যায় না এখন । ‘যাবার সময় হলো।’ রুথকে নামতে সাহায্য করার জন্য ভদ্রতা করে হাত বাড়াল রানা ।
কিন্তু হাতটা না ধরে লাফিয়ে নামল রুথ। পর্বতের দিকে তাকাল। ‘নাম ওটার?’
‘আগ্সোসাট, রানা বলল। ‘এস্কিমো শব্দ, এর মানে পোয়াতির পেট।’ ‘হুঁহ; আর নাম খুঁজে পেল না!’ রুক্ষ শোনাল রুথের কণ্ঠ।
হনহন করে হেঁটে দেয়ালের ভাঙা জায়গা দিয়ে বেরিয়ে গেল ও।
আবার আগের রুক্ষ, কঠিন খোলসটা ফিরে এসেছে ওর। শামুকের মা খোলার ভিতরে গুটিয়ে নিয়েছে আবার নিজেকে। নিজে থেকে না খুললে ওই খোলা আর কোনমতেই খোলা যাবে না ।
গম্ভীর মুখে ওকে অনুসরণ করল রানা।
তিন
ডিস্কোর সর্বদক্ষিণ প্রান্তে আরও দুটো পর্তুগিজ স্কুনার দেখল ওরা। ওগুলোর পিছে ঝিরঝিরে বাতাসে পাল তুলে দিয়ে নৌবহরের মত এগিয়ে চলেছে চোদ্দো ফুট লম্ব একসারি ডোরি নৌকা। হলুদ আর সবুজ পাল উজ্জ্বল রোদে ঝলমল করছে।
বাতাসে ভেসে দ্বীপের পাথুরে শিরদাঁড়া পার হয়ে এসে ওপাশের প্রণালীতে যেন ঝাঁপ দিতে তৈরি হলো রানার প্লেন। মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপটাকে আলাদা কর রেখেছে এই প্রণালী। দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে প্লেন। কয়েক মুহূর্ত পরেই যা দেখতে চেয়েছিল, চোখে পড়ল রানার ।
এই উপকূলের একটা খাঁটি এস্কিমো ফিশিং ভিলেজ নারকোয়াসিট। পনেরো ষোলোটা উজ্জ্বল রঙ করা কাঠের ঘর মালার মত ছড়িয়ে আছে সমুদ্রের কিনারে পানিতে নোঙর করা রয়েছে দু’তিনটে ওয়েইল বোট আর ডজনখানেক কাইয়াক ।
পাড় থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে রয়েছে ‘আইসবার্গ’। নব্বই ফুট লম্বা, ছিপছিে সুন্দর গঠন। ডিজেল ইঞ্জিনে চলে। উজ্জ্বল সাদা রঙ করা ইস্পাতে তৈরি খোর তার উপর ঘন লালের অলঙ্করণ। বাতাসের দিক থেকে মোড় নিয়ে ল্যাণ্ডিঙের প্রস্তা নিচ্ছে রানা, এ সময় হুইলহাউস থেকে ব্রিজে বেরিয়ে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াল একজ লোক, ওদের দিকে চোখ।
‘গ্লেন নাকি?’ লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে রুথ। ভালমত দেখতে পারি না।’ প্লেন মোড় নিচ্ছে, তাই দেখছে না ও।
মাথা নাড়ল রানা, ‘না, ও হেনরি হল্যান্ডবার্গ, গ্রীনল্যাণ্ডের লোক। ন্যুক থেকে এসেছে। এই উপকূল ওর অতি পরিচিত। জাহাজের পাইলট হিসেবে নিয়োগ করেছেন ওকে গ্লেন
“নিজের জাহাজের নাবিকদেরও এখানে সঙ্গে করে এনেছে?
‘সেটাই তো স্বাভাবিক। অনেককেই এনেছেন। একজন ইঞ্জিনিয়ার, দুজন ডেক হ্যাণ্ড, একজন বাবুর্চি সবাই আমেরিকান। আর স্টুয়ার্ড লোকটা ফিলিপিনো।’ “বিলি হেসিয়ানো?”
‘হ্যাঁ।’
খুশি মনে হলো রুথকে। যাক, ভালই। পুরনো চেনা মুখ দেখলে অস্বস্তি কমে।’
প্লেন নীচে নামিয়ে উড়ে গেল রানা। প্যাক আইস কতখানি ছড়িয়ে রয়েছে দেখার জন্য । ঘাবড়ানোর মত কিছু দেখল না। আর দেরি না করে পানিতে নামল ও। ট্যাক্সিইং করে এগোল তীরের দিকে। আগেরবারের মতই ডাঙার কাছাকাছি পৌঁছে ঢাকা নামিয়ে দিল, চাকায় ভর করে উঠে এল ডাঙায়। ঠিক এই সময় গ্রাম থেকে দৌড়ে এল প্রথম কুকুরটা। ইঞ্জিন বন্ধ করে পাশের দরজা খুলে যখন উঁকি দিল রানা, সবগুলো কুকুর ততক্ষণে পৌঁছে গেছে, প্লেনের কাছে অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে গলা ফাটাচ্ছে। রাগত ভঙ্গিতে নিজেদের এলাকায় অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্লেনটার বিরুদ্ধে।
কয়েকটা এস্কিমো ছেলেমেয়ে ছুটে এসে ডাল দিয়ে বাড়ি মারার ভঙ্গি করে আর পাথর ছুঁড়ে ওগুলোকে তাড়াল। তারপর এক জায়গায় জড় হয়ে তাকিয়ে রইল রানাদের দিকে। বাদামী মঙ্গোলিয়ান মুখগুলোতে হাসি নেই কারও, অতিশয় গম্ভীর। পরনের ভারি ফার-লাইন্ড্ পারকায় অনেক বেশি ফোলা দেখাচ্ছে ওদেরকে । *খুব আন্তরিক তো মনে হচ্ছে না,’ রুথ বলল ।
পকেট থেকে বাদামী রঙের একটা প্যাকেট বের করে দিল রানা, ‘এগুলো দিয়ে দেখুন ।
প্যাকেট খুলে ভিতরে তাকাল রুথ। ‘কী এগুলো?’.
‘পেপারমেণ্ট লজেন্স। কখনোই হাসি ফোটাতে ব্যর্থ হয়নি।’
এবারেও হলো না। প্যাকেটটা দেখেই এগিয়ে আসতে শুরু করেছে ছেলেমেয়েগুলো, মুখের ভারী মেঘ কেটে গিয়ে যেন হাসির উজ্জ্বল রোদ ফুটেছে । চোখের পলকে ঘিরে ফেলল রুথকে। এক ঝাঁক বাড়ানো হাত ঝটকা দিয়ে উঠে গেল ওর দিকে।
রুথকে রেখে পানির দিকে এগোল রানা। আইসবার্গ থেকে একটা ওয়েইলবোট আসছে। মাঝামাঝি দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। হালের হাতলের কাছে দাঁড়ানো একজন ডেক হ্যাণ্ড। গলুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে হেনরি। হাতে দড়ি । ইঞ্জিনচালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতেই মোড় নিতে আরম্ভ করল ওয়েইলবোট। দড়িটা তীরে ছুঁড়ে দিল হেনরি। এক থাবাতেই ধরে ফেলল রানা এক পা পানিতে। টানতে লাগল দড়িটা। এক মুহূর্ত পরেই ওর পাশে এসে দাঁড়াল হেনরি, দড়ি ধরল, ওয়েইলবোটটাকে টেনে আনতে সাহায্য করল রানাকে। সৈকতের কাছাকাছি নিয়ে এল বোটটাকে।
ভাল ইংরেজি বলে হেনরি। পনেরো বছর ক্যানাডিয়ান আর ব্রিটিশ মার্চেন্ট মেরিনে কাজ করেছে। ইংরেজি শেখার সুযোগটা হাতছাড়া করেনি।
ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আপনার জন্যে,’ রানাকে বলল ও। হঠাৎ করে কুয়াশায় যেভাবে ঢেকে ফেলল।
*আরগামাস্কে নেমে পড়েছিলাম,’ রানা জানাল। ‘ঘণ্টাখানেক আটকে ছিলাম ওখানে।’
মাথা ঝাঁকাল হেনরি। “উপকূল চেনে এ রকম কারোর জন্যে অবশ্য তত ভয় নেই। মেয়েটা কে?’
‘বলল তো প্লেনের বন্ধু।
“কিন্তু মেহমান যে আসবে, আমাকে তো বলেনি।’
“জানে না, তাই বলেনি।’
‘তাই?’ ভ্রূকুটি করল হেনরি। ‘কিন্তু বস মোটেও খুশি হবেন না।’
শ্রাগ করল রানা। ‘আমাকে চাপাচাপি শুরু করল, না এনে পারলাম না। আপনার বস ওকে থাকতে না দিলে আমার সঙ্গে ফিরে যাবে। সন্দ্ৰেতে পৌঁছে দেব । ওখান থেকে ইয়োরোপ-আমেরিকা যেখানে ইচ্ছে যেতে পারবে।’
‘যদি মনে করেন, আপনি সব সামলাতে পারবেন, আমার আপত্তি নেই। আমি এ-সবে নাক গলাতে যাচ্ছি না। এমনিতেই প্রচুর ঝামেলায় আছি ।
অবাক মনে হলো রানাকে। ‘কী হয়েছে?’
“আর বলবেন না, বসকে নিয়েই যত ঝামেলা,’ তিক্ত শোনাল হেনরির কণ্ঠ। “নিজেকে ধ্বংস করার জন্যে এ-রকম উন্মাদ হয়ে যেতে দেখিনি আমি আর কাউকে।’
‘কী করেছেন?’
‘এই তো পরশু দিন হ্যাগামুটের কাছে গিয়েছিলাম মেরু ভালুকের খোঁজে—ওঁর নতুন পাগলামি। কয়েকজন এস্কিমো শিকারির সঙ্গে দেখা, কাইয়াক নিয়ে সিল শিকারে যাচ্ছিল। বলাই বাহুল্য, ওদেরকে সঙ্গে যেতে অনুরোধ করলেন বস। ফেরার পথে ওদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে একাই চলছিলেন, আর পড়বি তো পড় বরফের ওপর একটা যণ্ডা ওয়ালরাসের সামনে।’
‘ওটাকে একা মারার চেষ্টা করেছিলেন?’ প্রশ্ন করল বিস্মিত রানা।
‘একা তো বটেই—সঙ্গে রাইফেল বন্দুক থাকলেও এক কথা ছিল— হারপুন দিয়ে। ‘তারপর?’
“ছুটে এসে প্রথম ধাক্কাতেই ওঁকে চিত করে ফেলল ওয়ালরাস, কামড় দিয়ে দুই টুকরো করে ফেলল হারপুন। ভাগ্য ভাল, ঘটনাটা হ্যাগামুট থেকে আসা একজন শিকারির চোখে পড়েছিল। ওয়ালরাসটা বসকে খতম করে দেয়ার আগেই দৌড়ে গিয়ে ওটাকে গুলি করল শিকারি।’
‘গ্লেন জখম হয়েছেন?’
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!