বাউন্টি হাণ্টার্স – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৫২২
বাউন্টি হাণ্টার্স – বইটির এক ঝলকঃ
কথা, আমাদের ব্যারিকেডের কাছে আসার আগেই শেষ করতে পারছি! বোধহয় পিছনে সাপ্লাই গুহা! জেনারেটার, গ্যাসোলিনের অভাব নেই, সঙ্গে প্রচুর খাবার, পানি আর অ্যামিউনিশন! মনে করি না আগামী এক বছরে ওরা নড়বে ওখান থেকে!’
‘আমরা যদি এদেরকে ঘুরে পিছনে যাই?’ বলল তিশা, ডানদিকে একসারি সুড়ঙ্গের দিকে ইশারা করল ।….
‘না, ওদিকে বুবি-ট্র্যাপ! ট্রিপ ওয়ায়ার! ল্যাণ্ড মাইন! ওদিকে পাঠিয়ে শেষ করেছি আমার দুইজন ট্রেইণ্ড সৈনিক! লড়াইয়ের জন্যে বেশ ক’দিন ধরে অপেক্ষা করছে এরা! মুখোমুখি লড়াই ছাড়া উপায় নেই! আমার আরও লোক দরকার!”
তখনই দেখা গেল, পিছনের সুড়ঙ্গে অস্ত্রের ব্যারেলের , ফ্ল্যাশলাইট।
ওদের অন্তত আরও বিশজন সৈনিক আসছে।
‘যাক, রিইনফোর্সমেন্ট, খুশি হয়ে বলল মেজর মিত্র। রওনা হয়ে গেল সে।
ওদিকে চোখ রেখেছে তিশা, দেখল ওই দলের নেতার সঙ্গে হ্যাণ্ডশেক করল মেজর ।
অবাক তো, ভাবল তিশা। কর্নেল উড বলেছিল পরের টিম আসবে কমপক্ষে বিশ মিনিট পর। তা হলে এরা এত দ্রুত পৌঁছায় …
তিশা দেখল, হাত নেড়ে ব্যারিকেড দেখাল মেজর মিত্র। পরিস্থিতি বোঝাতে শুরু করেছে। নতুন দলের দিকে পিঠ দিয়েছে সে। আর তখনই নতুন দলের নেতা ঝট্ করে কী যেন বের করল বেল্ট থেকে। জিনিসটা চালাল মেজর মিত্রের ঘাড়ের উপর। প্রথমে বুঝল না তিশা, কী ঘটছে।
সামান্যতম নড়ল না মেজর জয়ন্ত মিত্র।
পরক্ষণে সবই বুঝল তিশা, হতবাক হয়ে গেল। ছিটকে একদিকে রওনা হয়েছে মেজরের মাথা। এক সেকেণ্ড দাঁড়িয়ে থেকে ধড়াস্ করে মেঝেতে পড়ল বেচারার প্রাণহীন ধড় । চমকে যাওয়ারও সময় পেল না তিশা, গর্জে উঠেছে নতুন দলের সাবমেশিনগান ।
গুলি শুরু করেছে পিছন থেকে।
বিদ্যুদ্বেগে স্টিলের মিনি-স্কিপগুলোর ওপাশে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিশা। চারপাশে বিধছে বুলেট। এক সেকেণ্ড পর তিশার পাশে ঝাঁপিয়ে নেমে এল নিশাত এবং ওর দলের অন্য দুই সৈনিক।
নয়।
মিত্রপক্ষের অন্যান্য অফিসার ও সৈনিকের কপাল এত ভাল
পিছন থেকে আসা বুলেটের ঝড় শেষ করে দিয়েছে সবাইকে খোলা জায়গায় । অসংখ্য রক্তাক্ত গর্ত তৈরি হয়েছে তাদের দেহে। থরথর করে কাঁপছে লাশগুলো গুলি খেয়ে ।
‘আল্লা, এ কী!’ জং ধরা স্টিলের মিনি-স্কিপের দেয়াল ঘেঁষে
বসে পড়েছে তিশা।
ওরা আটকা পড়েছে দুই দলের মাঝে।
একদল সামনে ।
একদল পিছনে ।
ওদের অবস্থা স্যাণ্ডউইচের মত ।
‘আমাদের বাঁচতে হবে,’ তিশার কানের কাছে বলল নিশাত।
“এসো!’
‘কোথায়, আপা?’
‘এদিকে!’
লাফ দিয়ে উঠে নিশাতের পাশে ছুটল তিশা।
পিছনে আসছে দলের দুই সৈনিক।
মিনি-স্কিপের ওদিকে দুই ব্যারিকেডের মাঝের সুড়ঙ্গ ধরে
ছুটতে গিয়ে বেড়ালের ক্ষিপ্র গতি তুলল ওরা। তিশা ও নিশাত যখন পাতাল-সুড়ঙ্গ ধরে ছুটছে, ওই একই সময়ে খনি-মুখে গুহার ভিতর ব্রেক কষে থামল রানা ও খবিরের লাইট স্ট্রাইক ভেহিকেল।
সামনের ড্রিফটের মেঝেতে রোলার কোস্টারের মত ট্র্যাক দেখল রানা। দূরে, বহু নীচে গেছে দুই সমান্তরাল লাইন। তখনই পাশের এক টানেল থেকে ছিটকে বেরোল দুই লোক ।
ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল রানা ও খবির, হাতে এমপি-৭ সাবমেশিনগান। একই কাজ করল লোকদুটো।
‘আফজাল না?’ জানতে চাইল রানা, কুঁচকে গেছে ভুরু। ‘আফজাল হোসেন?’
‘স্যর, আপনি?’ অস্ত্র নামিয়ে নিল ডানদিকের লোকটা। ‘আরেকটু হলে আপনাকে খুনই করে ফেলতাম, স্যর!’
এইমাত্র পাহাড়ের উপর কিলাই বাবাম্বার স্নাইপারদের শেষ করে ফিরেছে তারা।
আফজালের পাশের লোকটার নাম কৃষ্ণ গোপাল হাওলাদার। ‘লেফটেন্যান্ট তিশাকে খুঁজছি,’ বলল রানা। ‘সে কোথায়?’ ‘নীচে, স্যর,’ বলল আফজাল ।
তিরিশ সেকেণ্ড পর লাইট স্ট্রাইক ভেহিকেলে চেপে ঢালু ড্রিফট বেয়ে নীচে রওনা হয়ে গেল রানা, পাশে খবির । ভাগাভাগি করে এসেছে রিয়ার গানারের সিটে অন্য দুই সৈনিক।
দূরে গিয়ে পড়েছে এলএসভির হেডলাইট। তিরিশ ডিগ্রি ঢালু পথ, বুক চিরে রেলগাড়ির লাইন
পথের শেষে পৌঁছে এলএসভির গিয়ার নিউট্রাল করল রানা, পরক্ষণে ব্যবহার করল ব্যাক গিয়ার। বনবন করে উল্টো ঘুরতে লাগল চাকাগুলো। নেমে যাওয়ার গতি কমছে।
রানার স্ট্যাটেজি কাজে এল, কয়েক সেকেণ্ডে কমে গেল নীচে যাওয়ার গতি। পরের দশ গজ যাওয়ার পর আবারও এলএসভির ফার্স্ট গিয়ার ফেলল রানা, গতি তুলল গাড়ির।
ড্রিফট টানেলের শেষে গোলকধাঁধার মত জায়গা । পাশ কাটাল ওরা নেপালি কমাণ্ডোর লাশ।
পুরোপুরি খোলা জায়গায় নিশাত, তিশা এবং ওদের দুই সৈনিক। মাত্র তিরিশ গজ দূরে শত্রুদের ব্যারিকেড।
ওখানে রয়েছে কমপক্ষে দুই শ’ ড্রাগ অ্যাডিক্ট আফ্রিকান সৈনিক।
তিশাদের দলটাকে শেষ করে দেয়ার মস্ত সুযোগ তাদের। তিশা ধরেই নিয়েছে, এবার মরতে হবে ওদেরকে।
কিন্তু মরতে হলো না ।
অবশ্য গুলির আওয়াজ পেল তিশা।
ওই গুলি শুরু হয়েছে শত্রুদলের ব্যারিকেডের পিছনে। ভুরু কুঁচকে গেল তিশার। আগে কখনও এমন গোলাগুলির আওয়াজ শোনেনি ।
গুলি চলছে বড় দ্রুত ।
অস্ত্রটা হতে পারে ছয় ব্যারেলের মিনি-গান ।
এরপর যা দেখল তিশা, অবাক না হয়ে পারল না । কিলাই বাবাম্বার ব্লকেড উড়ে যাচ্ছে গুলির ঝড়ে।
ব্যবহার করা হচ্ছে কমপক্ষে এক লাখ হাইপারভেলোসিটি বুলেট।
হুলুস্থুল পড়ে গেছে কিলাই বাবাম্বার বাহিনীর ভিতর। নিজেদের ব্যারিকেড টপকে পালাতে চাইছে সবাই। ছুটে আসছে নো-ম্যান্স্-ল্যাণ্ড লক্ষ্য করে। পিট্টি খাওয়া কুকুরের মত ভেগে আসছে। একটু আগে একইভাবে তিশাদেরকে খতম করতে চাইছিল তারা। একটা ব্যাপার পরিষ্কার বুঝল তিশা ওদের চেয়ে অনেক ভয়ঙ্কর একদল লোক ধাওয়া করেছে ড্রাগ অ্যাডিক্ট টেরোরিস্টদেরকে।
নিজেদের ব্যারিকেড ফেলে পালাচ্ছে আফ্রিকানরা, কোমরে- – পিঠে-মাথায় বুলেট খেয়ে মরছে। নানাদিকে ছিটকে পড়ছে লাশগুলোর কাঁচা মাংস ও রক্ত।
ব্যারিকেড পেরুবার সময় টুকরো টুকরো হয়ে গেল এক আফ্রিকান টেরোরিস্ট। এক মুহূর্ত আগে সবুজ টার্গেটিং লেসার স্থির হয়েছিল তার উপর ।
সবুজ লেসার… ভাবল তিশা।
‘তিশা!’ পাশ থেকে চেঁচাল নিশাত, ‘কী হচ্ছে বুঝতে পারছ?’ ‘বোধহয়,’ পাল্টা জানাল তিশা। ‘আমরা এখানে দুই দল নই, কমপক্ষে চারটা দল! আপা, আসুন! জলদি!’
‘কোথায় যাবে?’
‘একটা কাজ নিয়েই তো এসেছি। আসুন, সেটা শেষ করি!’ কুঁজো হয়ে নো-ম্যান্স্-ল্যাণ্ড ধরে ছুটতে লাগল নিশাত ও তিশা। ঢুকে পড়ল কনভেয়ার বেল্টের নীচে। ছুটছে বামদিকের এয়ার ভেণ্ট লক্ষ্য করে।
ভাসমান কনভেয়ার বেল্টের উত্তরাংশে পৌঁছে গেল, আর তখনই ব্যারিকেডের ওদিক থেকে তাড়া খেয়ে এল মাঝবয়সী চার টেরোরিস্ট।
তাদের তিনজন আছড়ে-পাছড়ে উঠল কয়েকটা বাক্সের উপর। ওগুলো রাখা ছিল সিঁড়ির ধাপের মত। উপরের বাক্স থেকে লাফ দিয়ে কনভেয়ার বেল্টে নামল তারা। চতুর্থজন টিপে দিল কন্সোলের পেটমোটা সবুজ বাটন।
সগর্জনে চালু হয়ে গেল কনভেয়ার বেল্ট ।
পরের মুহূর্তে দেখা গেল, বেল্টের উপরে ওঠা তিন টেরোরিস্ট
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!