বড় ক্ষুধা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৫৮
বড় ক্ষুধা – বইটির এক ঝলকঃ
রানার সঙ্গে গভীর পানির কিনারায় মাছ ধরতে এসে এরকম
হারানো দু’একটা ফাঁদ খুঁজে পেয়েছে বেল, ভেতরে তিল ধারনের জায়গা নেই, জ্যান্ত আর মরা মাছে গিজগিজ করছে—ঈল থেকে শুরু করে প্যারটফিশ, অক্টোপাস থেকে শুরু করে কাঁকড়া, সব আছে। তার বন্ধু বিদেশী হলে কি হবে, স্থানীয় ফিশারম্যানদের মত পাষাণ নয়। গভীর পানিতে যখনই নামার সুযোগ হয়, হারানো ফাঁদ খুঁজে বের করে, খুলে দেয় খাঁচার দরজা।
তবে, উনিশ শো নব্বুই সালে বারমুডা সরকার ট্র্যাপ ফিশিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অনেকের মত বেলেরও ধারণা, ফাঁদ নিষিদ্ধ হবার পর আবার হয়তো বারমুডায় মাছ ফিরে আসবে। তবে রানার মনে সন্দেহ আছে । সন্দেহ আছে বেলের বন্ধু টেডি ওয়াটারম্যানেরও।
ওয়াটারম্যান ইউএস নেভী বেস-এ কাজ করে। পরিবেশ সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখে সে। বেলকে একটা রিপোর্ট দেখিয়ে বলেছে, বারমুডার চারপাশে পানির তাপমাত্রা গত বিশ বছরে দুই ডিগ্রী বেড়ে গেছে। কোন কোন বিজ্ঞানীর মতে অ্যামাজন জঙ্গল কেটে সাফ করা আর অতিরিক্ত ফসিল ফুয়েল জ্বালাবার কারণে এটা ঘটেছে। আবার কেউ কেউ বলছে, এটা প্রকৃতির একটা নিজস্ব ছন্দের কারণে ঘটছে, যেমন বরফ যুগ আসে ও যায়। তার বন্ধু রানা বলেছে, ওর দেশেও নাকি ঠিক এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে উঠে আসছে পানির স্তর। শুধু তাই নয়, বঙ্গোপসাগরেও মাছের আকাল শুরু হয়েছে। কারণটাও পরিষ্কার।
টোপ দিয়ে ডীপ লাইন সেট করতে এক ঘণ্টা লাগল ওদের। লাইনের শেষ মাথায় একটা রাবার বয়া আটকাল রানা, তারপর ফেলে দিল বোট থেকে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে ওটা, বাতাসের সঙ্গে দক্ষিণ-পুব দিকে এগোচ্ছে বোট। একটা ঝুড়ি থেকে রুটি, মাখন, সেদ্ধ ডিম আর কোক বের করল বেল। নিজের ভাগটা আলাদা করে নিয়ে বোটের সামনে চলে গেল সে, খেতে খেতেই পাম্প মোটরটা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করল আবার ।
খাওয়া শেষ করে হুইলহাউসে উঠে এল রানা, রেডিও অন করে আবহাওয়া বার্তা শুনল, তারপর কান পাতল কে কি ধরেছে জানার জন্য। একজন ক্যাপটেন রিপোর্ট করল, সে একটা হাঙর তুলেছে। চ্যালেঞ্জার ব্যাংক থেকে এক চার্টার বোটের আরেক লোক জানাল, কয়েকটা অ্যালিসন টুনা জুটেছে তার কপালে। বাকি কেউ কিছু পায়নি ।
মাথার ওপর থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়তে শুরু করেছে সূর্য, এই সময় লাইন টেনে তুলল ওরা। আটটা হুকে ধরা পড়েছে ছোট আকারের এক জোড়া লাল স্ন্যাপার। সেগুলো পানিতে ফেলে দিয়ে আকাশের দিকে তাকাল রানা, তারপর পানির দিকে। কোথাও কোন ফিন দেখা যাচ্ছে না, এমনকি আকাশে কোন ক্ষুধার্ত পাখিও নেই। ট্রাউজারে হাত মুছে বেলের দিকে তাকাল ও। ‘চলো, ফেরা যাক।’ কেবিনে ঢুকতে যাবে, ওকে বাধা দিল বেল।
‘ওদিকে তাকাও।’ দক্ষিণ দিকের আকাশে হাত তুলল সে ।
ওদিক থেকে নেভীর একটা হেলিকপ্টার আসছে ওদের দিকে। ‘এই সময় ওটা যাচ্ছে কোথায়?”
‘কোথাও না। স্রেফ সময় কাটাচ্ছে।’
একটু পরই ওদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল ওটা। রানা ভাবল, হয়তো বেলের কথাই ঠিক। সার্চ-অ্যাণ্ড-রেসকিউ অপারেশন ছাড়া নেভী পাইলটদের কোন কাজ নেই বারমুডায়। যদিও এই পাইলট অলস সময় কাটাচ্ছে বলে মনে হলো না। কারণ হেলিকপ্টারটা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সোজা উত্তর দিকে যাচ্ছে। হুইলহাউসে ঢুকে রেডিও অন করল রানা । ‘ড্রাগন ওয়ান –ড্রাগন ওয়ান…ড্রাগন ওয়ান …দিস ইজ সী কুইন… কাম ব্যাক…।’
লেফটেন্যান্ট টেডি ওয়াটারম্যানকে ডেকে অপারেশনস অফিসার জানাল, মায়ামি যাবার পথে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-এর এক পাইলট বারমুডার বিশ মাইল উত্তর থেকে একটা ইমার্জেন্সী কল শুনতে পেয়েছে।
পাইলট কিছু দেখতে পায়নি, কারণ ঘণ্টায় পাঁচশো মাইল গতিতে ছুটছিল তার প্লেন, সাগর থেকে ছ’মাইল ওপর দিয়ে। তবে তার ভিএইচএফ রেডিওতে সিগন্যালটা পরিষ্কার ধরা পড়েছে। সন্দেহ নেই, কেউ ওখানে বিপদে পড়েছে।
বারমুডা ন্যাভাল এয়ার স্টেশনের টাওয়ার থেকে মায়ামি, আটলান্টা, ডারহাম, বাল্টিমোর ও নিউ ইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, জানতে চাওয়া হয় কোন প্লেন পৌঁছুতে দেরি করছে কিনা । তারপর যোগাযোগ করা হয় বারমুডা হারবার রেডিওর সঙ্গে, কোন জাহাজ বা বোট নিখোঁজ কিনা জানার জন্যে। কেউ কিছু বলতে পারেনি। তবে ন্যাভাল এয়ার স্টেশন চুপ করে থাকতে পারে না, বিপদ-সঙ্কেত পেলে তৎপর তাদের হতেই হবে।
বিশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আকাশে উঠে এসেছে ওয়াটারম্যান, আজ অনেক দিন পর নিজেকে তার একজন জ্যান্ত মানুষ বলে মনে হচ্ছে। বারমুডায় কিছু ঘটছে না, জীবনটা একেবারে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। হোক ইমার্জেন্সী কল, তবু তো একটা কাজ পাওয়া গেল। সত্যি হয়তো পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে কেউ । ওয়াটারম্যানের সমস্যা শুধু একঘেয়েমি নয়। কেন যেন তার মনে হচ্ছে, মারা যাচ্ছে সে-শারীরিক অর্থে নয়, মানসিক অর্থে। চিরকাল অ্যাডভেঞ্চারের ভক্ত সে, বিপদে পড়ে রোমাঞ্চিত হতে চায়, উপলব্ধি করে পরিবর্তন ছাড়া দম আটকে স্রেফ মারা যাবে।
মিশিগান রাজ্যের নেভী অফিসাররা ঠিকই তাকে চিনতে পেরেছিলেন। দুটো পা-ই ভাঙা, এমন এক তরুণ নৌ-বাহিনীতে নাম লেখাতে চায়? আশ্চর্য ব্যাপার তো! কৌতূহল বশতই অফিসারদের বোর্ড মীটিঙে ডাকা হলো তাকে। ওয়াটারম্যানের একটা পা ভেঙেছে স্কিইং-এ, অপরটা হ্যাণ্ড-গ্লাইডিং- এ, অথচ এখনও দুটো খেলাতেই সাংঘাতিক নেশা তার। শুধু তাই নয়, চোদ্দ বছর বয়েস থেকে সার্টিফিকেট পাওয়া স্কুবা ডাইভার সে। নেভীর সাইকোলজিক্যাল- প্রোফাইল টেস্টে তিনজনের নাম বলল ওয়াটারম্যান, এরা তার হিরো—আর্নস্ট হেমিংওয়ে, থিয়োডর রুজভেল্ট আর জেমস বণ্ড। কারণ হিসেবে লিখল, ‘তিনজনই তাঁরা কর্মীপুরুষ, দর্শক নন, নিজেদের জীবন তাঁরা অপচয় হতে দেননি।’ বাস্তবের সঙ্গে কিংবদন্তী আলাদা না করায় অফিসাররা অসন্তুষ্ট হননি। তাঁরা বুঝতে পারেন, ছেলেটার মধ্যে যে অসম্ভব প্রাণশক্তি রয়েছে তা সদ্ব্যবহারের একটা সুযোগ তাকে দেয়া উচিত। তার এই প্রাণচাঞ্চল্য যদি দেশ সেবার কাজে লাগে, মন্দ কি। উনিশশো তিরাশি সালে, গ্রাজুয়েট হবার আগেই, নৌ-বাহিনীতে নাম লেখাল সে, নিউপোর্ট-এর অফিসার্স ক্যানডিডেট স্কুলে ট্রেনিং নিতে চলে গেল।
প্রথম কয়েক বছর তার প্রত্যাশা পূরণ হলো। আণ্ডারওয়াটার ডিমোলিশন এক্সপার্ট হয়ে উঠল সে। দক্ষ হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে উত্তীর্ণ হলো। কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে সাগর পাড়ি দিল সে, পানামায় সত্যিকার যুদ্ধ দেখার সুযোগ ঘটল। তারপর মীটিয়ারলজি আর ওশেনোগ্রাফির ওপর এক বছরের একটা কোর্স কমপ্লিট করল।
জীবনে যা চেয়েছিল তাই পেয়েছে ওয়াটারম্যান, তার পেশায় অ্যাডভেঞ্চারের কোন অভাব নেই। কিন্তু গত এক-দেড় বছর হলো বৈচিত্র্য আর মজা সব গায়েব হয়ে গেছে । কোন কিছুই আর ভাল লাগে না তার। এর একটা কারণও অবশ্য আছে।
প্যান-আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক অ্যাটেনড্যান্ট মেয়ের প্রেমে পড়েছিল ওয়াটারম্যান। মেয়েটাও তার মত স্কিয়ার ও স্কুবা ডাইভার, দু’জন তারা দুনিয়ার বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে। দু’জনেই বয়সে তরুণ, বুকে সাহসের কোন অভাব নেই। বিয়ে একটা সম্ভাবনা বলে মনে হত, একান্ত প্রয়োজন নয়। বর্তমানটাকে চুটিয়ে উপভোগ করছিল, এবং তাতেই খুশি ছিল ।
তারপর এল উনিশশো ঊননব্বুই সালের সেপ্টেম্বর মাস। ওরা তখন নর্থ কুইনসল্যাণ্ডে । সৈকত থেকে খানিকটা দূরে সরকেল নিয়ে বেড়াচ্ছিল সাগরে। বিপজ্জনক প্রাণী সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছিল ওদের, তবে রুটিন ওয়ার্নিং রলে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। শার্ক আর ব্যারাকুডার সঙ্গে সাঁতরাচ্ছিল ওরা, কিভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয় জানে। ওদের দৃষ্টিতে সাগর বিপজ্জনক কোন জগৎ নয়, বরং অ্যাডভেঞ্চার আর আবিষ্কারের উৎস ।
দেখল একটা কচ্ছপ সাঁতার কেটে যাচ্ছে। ওটার পিছু নিল তারা । গতি কমাল কচ্ছপ, মুখ খুলল, যেন কিছু খেতে চায়, যদিও খাবার মত কিছু তারা দেখতে পেল না । কাছে চলে এল দু’জন, ওটার সৌন্দর্য আর পানিতে ভেসে থাকার নৈপুণ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছে। ছোঁয়ার জন্যে হাত বাড়াল ক্যাথি, খোলে হাত বুলিয়ে আদর করবে। হঠাৎ কি হলো,
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!