
দি ব্রিজ অন দি দ্রিনা - আইভো অ্যানড্রিচ (The Bridge On The Drina)
লেখক: আইভো অ্যানড্রিচ
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
চার শতাব্দী ধরে দ্রিনা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পাথরের এক প্রাচীন সেতু—যা কেবল দুই পাড়ের মানুষকে সংযুক্ত করেনি, বরং দেখেছে সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, যুদ্ধ ও ভালোবাসার মহাকাব্য।
বই সম্পর্কে
'দি ব্রিজ অন দি দ্রিনা' (The Bridge on the Drina) নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক আইভো অ্যানড্রিচের এক অমর মহাকাব্যিক উপন্যাস। এটি মূলত বসনিয়ার ভিসেগ্রাদ শহরে দ্রিনা নদীর ওপর নির্মিত মেহমেদ পাশা সেতুর চার শতাব্দীর (ষোড়শ শতক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত) ইতিহাস ও স্থানীয় মানুষের জীবনের গল্প।
উপন্যাসটিতে কোনো একক কেন্দ্রীয় মানব চরিত্র নেই; বরং দ্রিনা নদীর সেতুটিই এখানে প্রধান চরিত্র। অটোমান সাম্রাজ্যের জাঁকজমকপূর্ণ যুগ থেকে শুরু করে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের দখল এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কাল পর্যন্ত বলকান অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এবং তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত অত্যন্ত নিপুণভাবে এই গ্রন্থে চিত্রিত হয়েছে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
আইভো অ্যানড্রিচের বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত জীবন্ত, দার্শনিক এবং ঐতিহাসিক সত্যে সমৃদ্ধ। লোকগাথা, মিথ এবং বাস্তব ইতিহাসকে তিনি এমনভাবে বুনেছেন যা পাঠককে সরাসরি বলকান অঞ্চলের অস্থির সময়ে নিয়ে যায়। পাথরের সেতুটির স্থায়িত্ব যেন মানুষের নশ্বর জীবন এবং সাম্রাজ্যগুলোর ক্ষণস্থায়িত্বের বিপরীতে এক গভীর দার্শনিক প্রতীক।
বিশ্বসাহিত্যের এই অসামান্য ক্লাসিকের বাংলা অনুবাদটি অত্যন্ত সাবলীল ও পাঠযোগ্য। ঐতিহাসিক উপন্যাসপ্রেমী এবং নোবেল সাহিত্যের পাঠকদের জন্য বইটি এক অসাধারণ সংকলন।
মূল বিষয়
বলকান অঞ্চলের চার শতাব্দীর ইতিহাস, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং মেহমেদ পাশা সেতুর নীরব ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
মেহমেদ পাশা সোয়াকোলোভিচ: অটোমান সাম্রাজ্যের গ্র্যান্ড ভিজিয়ার যিনি শৈশবের স্মৃতি ধরে রাখতে সেতুটি নির্মাণের আদেশ দেন।
আবিদাগা: সেতু নির্মাণের নিষ্ঠুর ও কঠোর রাজকীয় তদারককারী।
রাদিশ্লাভ: সেতু নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সার্ব কৃষক।
আলিহোজা: ভিসেগ্রাদের এক রক্ষণশীল ও চিন্তাশীল মুসলিম ব্যবসায়ী, যিনি ইতিহাসের পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





