সকল বই (Library)
রিক্সাওয়ালা - লাও শে (Rickshawala by Lao She) – লাও শে বইয়ের প্রচ্ছদ

রিক্সাওয়ালা - লাও শে (Rickshawala by Lao She)

লেখক: লাও শে

ডাউনলোড করুন
লেখকলাও শে
ক্যাটাগরিঅনুবাদ
প্রকাশনীঅনুবাদ প্রকাশন
প্রকাশ সাল2018
পৃষ্ঠা216 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

আধুনিক চীনা ক্লাসিক উপন্যাস 'ক্যামেল শিয়াংজি' বা 'রিকশা বয়'-এর অনবদ্য বাংলা অনুবাদ।
একজন সৎ, পরিশ্রমী যুবকের নিজের একটি রিকশা কেনার স্বপ্ন ও বাস্তবতার সাথে সংঘাত।
তৎকালীন চীনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বিশৃঙ্খলা ও মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত শ্রেণির শোষণ।
মানুষ কীভাবে সামাজিক অবিচারের মুখে ক্রমশ আত্মবিশ্বাস ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে তার জীবন্ত রূপায়ণ।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একটি রিকশা কিনে স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল শিয়াংজি। কিন্তু নির্মম সমাজব্যবস্থা ও প্রতিকূল পরিবেশ কি তাকে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেবে?

বই সম্পর্কে

আধুনিক চীনা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক লাও শে রচিত 'রিক্সাওয়ালা' (মূল নাম: 'ক্যামেল শিয়াংজি' বা 'রিকশা বয়') বিশ শতকের এক অমর সাহিত্যকর্ম। উপন্যাসটির পটভূমি ১৯২০-এর দশকের বেইজিং শহর। গ্রামীণ পটভূমি থেকে শহরে আসা তরুণ ও সুঠাম দেহের অধিকারী শিয়াংজির একটাই স্বপ্ন ছিল—কঠোর পরিশ্রম করে জমানো টাকায় নিজের একটি রিকশা কেনা এবং আত্মমর্যাদার সাথে জীবিকা নির্বাহ করা।

কিন্তু তৎকালীন অস্থিতিশীল যুদ্ধপরিস্থিতি, সামরিক বাহিনীর লুটতরাজ, মহাজনদের শোষণ এবং সামাজিক বঞ্চনা বারবার শিয়াংজির সাজানো স্বপ্নকে চুরমার করে দেয়। তিনবার সে নিজের রিকশা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছায়, কিন্তু প্রতিবারই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর শোষকদের চক্রান্ত তাকে সর্বস্বান্ত করে তোলে।

'রিক্সাওয়ালা' কেবল একটি ব্যক্তির দুঃখ-গাথা নয়, বরং পুঁজিবাদ ও তৎকালীন অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজব্যবস্থার নগ্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শিয়াংজির মানসিক ও শারীরিক রূপান্তরের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে একটি নিষ্ঠুর ব্যবস্থা একজন আদর্শবাদী ও নিষ্পাপ মানুষকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে নিঃস্ব করে দেয়।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

লাও শে এর 'রিক্সাওয়ালা' বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক শিয়াংজির প্রতিটি ঘামবিন্দু, ক্লান্তি আর নিরাশার দীর্ঘশ্বাস গভীরভাবে অনুভব করবেন। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল এবং বর্ণনামূলক হলেও এতে রয়েছে তীব্র বাস্তবমুখী সুর। লেখকের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এতটাই গভীর যে প্রাচীন বেইজিংয়ের অলিগলি, রিকশাচালকদের কষ্টকর জীবন এবং তৎকালীন সমাজচিত্র চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণ। শিয়াংজির স্বপ্ন দেখা, বারংবার প্রতারিত হওয়া এবং পরিশেষে সমস্ত আশা হারিয়ে সমাজের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার করুণ পরিণতি পাঠকমনে গভীর দাগ কাটে। যারা বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী অনুবাদ এবং সমাজ-বাস্তবতাবাদী উপন্যাস ভালোবাসেন, তাদের জন্য 'রিক্সাওয়ালা' অবশ্যই একটি অবশ্য-পাঠ্য গ্রন্থ।

মূল বিষয়

বিশ শতকের গোড়ার দিকে বেইজিংয়ের সামাজিক শোষণ, দারিদ্র্য ও এক সাধারণ রিকশাচালকের বেঁচে থাকার হৃদয়বিদারক লড়াই।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

শিয়াংজি (Xiangzi): উপন্যাসের মূল চরিত্র, গ্রাম থেকে শহরে আসা আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী তরুণ রিকশাচালক।

হু নিউ (Hu Niu): রিকশা ভাড়াদাতা কোম্পানির মালিকের চতুর ও দৃঢ়চেতা কন্যা।

লিউ সি (Liu Si): রিকশা শেডের মালিক এবং শিয়াংজির নির্মম মহাজন।

ফুজি (Fuzi): শিয়াংজির প্রতিবেশী এক অসহায় তরুণী, যার জীবন চরম ট্র্যাজেডিতে শেষ হয়।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে