সকল বই (Library)
নন্দিত নরকে - হুমায়ূন আহমেদ – হুমায়ূন আহমেদ বইয়ের প্রচ্ছদ

নন্দিত নরকে - হুমায়ূন আহমেদ

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

ডাউনলোড করুন
লেখকহুমায়ূন আহমেদ
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীখান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি
প্রকাশ সাল1972
পৃষ্ঠা78 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের নিদারুণ অভাব, ভালোবাসা ও মানসিক দ্বন্দ্বের বাস্তব রূপায়ণ।
প্রতিবন্ধী বোন রাবেয়ার করুণ পরিণতি ও ভাই মন্টুর চরম আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী গল্প।
উপন্যাসটির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন আহমদ ছফা ও ড. আহমদ শরীফের মতো শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

মধ্যবিত্তের চারদেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন কান্না, অপ্রকাশিত লজ্জা এবং চরম ভালোবাসার এক অনন্য আখ্যান 'নন্দিত নরকে'। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন রাবেয়াকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডি নাড়িয়ে দেয় পুরো পরিবারটিকে।

বই সম্পর্কে

'নন্দিত নরকে' কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস, যা রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এবং ১৯৭২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যজগতে এক নতুন ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বরের আগমন ঘটে। সাধারণ আটপৌরে মধ্যবিত্ত জীবনের আলো-আঁধারি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দ-বেদনা এবং ভেতরে জমে থাকা তীব্র হাহাকার অত্যন্ত সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে এই বইটিতে।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সীমিত আয়ের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। পরিবারের মানসিক ভারসাম্যহীন ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে রাবেয়াকে নিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন আবর্তিত হয়। একদিকে রাবেয়ার প্রতি পরিবারের গভীর মায়া ও মমতা, অন্যদিকে সমাজের কুৎসিত লালসা এবং দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কষাঘাত পরিবারটিকে ক্রমশ এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। রাবেয়ার অপ্রত্যাশিত মাতৃত্ব পরিবারে ডেকে আনে এক চরম বিপর্যয়।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্বভাবসুলভ সহজ ও সাবলীল ভাষায় মানুষের মনের গহীন অনুভূতিগুলোকে উন্মোচন করেছেন। কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা অলঙ্কারের বাহুল্য ছাড়াই তিনি এমন এক গভীর সামাজিক সত্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং দীর্ঘদিন স্মৃতির পাতায় অমলিন থেকে যায়।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

'নন্দিত নরকে' বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। আহমদ ছফার মতো বিদগ্ধ সমালোচক এ বইটি পড়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি হুমায়ূন আহমেদকে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। খুব অল্প পরিসরে একটি পরিবারের অন্দরের মানসিক ভাঙাগড়া ও মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে এতোটা তীব্রভাবে তুলে ধরা সত্যিই বিরল।

উপন্যাসটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর চরিত্র নির্মাণ এবং সংলাপের সাবলীলতা। মন্টুর রাগ ও ভালোবাসা, কথক খোকার নিরুপায় পর্যবেক্ষণ, আর অবলা রাবেয়ার প্রতি সমাজের নির্দয় আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়। উপন্যাসের পরিণতি এত বেশি আবেগঘন ও মর্মান্তিক যে সাধারণ পাঠকের পক্ষে চোখের জল ধরে রাখা কঠিন।

সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ এই উপন্যাসটি প্রতিটি বইপ্রেমী মানুষের জীবনে অন্তত একবার পড়া উচিত। এটি শুধু একটি গল্প নয়, বরং আমাদের সমাজের চিরচেনা অথচ গোপন এক ট্র্যাজেডির জীবন্ত দলিল।

মূল বিষয়

মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন, সামাজিক অবক্ষয় এবং মানবিক ট্র্যাজেডি

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

খোকা: উপন্যাসের কথক ও পরিবারের বড় ছেলে, যার দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরো গল্পটি বর্ণিত হয়েছে।

রাবেয়া: খোকার বড় বোন, যিনি মানসিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং এক করুণ ট্র্যাজেডির শিকার।

মন্টু: খোকার ছোট ভাই, যে রাবেয়াকে গভীরভাবে ভালোবাসে এবং অন্যায়ের চরম প্রতিশোধ নেয়।

মাস্টার কাকা: পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, যিনি ঘটনাক্রমে গভীর সন্দেহের মুখে পড়েন।

রুনু: ছোট বোন, পরিবারের দুঃখ-কষ্টের নীরব সাক্ষী।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে