
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
'লা নুই বেঙ্গলি' কেবল একটি প্রেমের উপন্যাস নয়, এটি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গভীর সাংস্কৃতিক ব্যবধান এবং এক তরুণের আবেগাপ্লুত অনুভূতির অমলিন দলিল। রোমানীয় সাহিত্যিক মির্চা এলিয়াদ ১৯৩০-এর দশকের কলকাতার পটভূমিতে মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে তাঁর স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র প্রেমের স্মৃতি এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বই সম্পর্কে
বিশ্ববিখ্যাত রোমানীয় চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ ও লেখক মির্চা এলিয়াদের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী আধা-আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'লা নুই বেঙ্গলি' (মূল রোমানিয়ান নাম: 'মৈত্রেয়ী')। ১৯৩০-এর দশকে তরুণ এলিয়াদ ভারতে এসেছিলেন প্রাচ্যদর্শন ও সংস্কৃত অধ্যয়ন করতে। সেখানে প্রখ্যাত দার্শনিক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের গৃহে অবস্থানকালে তাঁর বিদুষী তরুণী কন্যা মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে এলিয়াদের এক নিবিড় প্রণয়সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এই প্রেমের পরিণতি ছিল বিষাদময়—সামাজিক ও পারিবারিক কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এলিয়াদকে গৃহত্যাগ করতে হয় এবং ভারত ছাড়তে বাধ্য হন।
ইউরোপে ফিরে গিয়ে স্মৃতিবিজড়িত সেই প্রেমকে কেন্দ্র করে এলিয়াদ রচনা করেন এই ক্লাসিক উপন্যাসটি। বইটি ফরাসি অনুবাদে 'লা নুই বেঙ্গলি' (La Nuit bengali) বা 'বেঙ্গল নাইটস' নামে বিশ্বজুড়ে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পায়। এতে ঔপনিবেশিক কলকাতার আবহ, তৎকালীন ভারতীয় পারিবারিক কাঠামো এবং দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতর জন্ম নেওয়া অনুভূতির উন্মাদনা অত্যন্ত নিখুঁত ও সংবেদনশীলভাবে উঠে এসেছে। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য এই অনুবাদ গ্রন্থটি এক অনন্য ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক দলিল।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
মির্চা এলিয়াদের 'লা নুই বেঙ্গলি' বিশ্বসাহিত্যের এমন এক বিরল সৃষ্টি, যা ব্যক্তিগত জীবনের গভীর আবেগ ও সাহিত্যিক উৎকর্ষের মেলবন্ধন। এলিয়াদের লেখনীতে একদিকে যেমন রয়েছে ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্টতা ও রোমান্টিকতা, অন্যদিকে তেমনি ধরা পড়েছে তৎকালীন কলকাতার অন্দরমহল ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি এক বিদেশীর মুগ্ধতা ও সংশয়। উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় নায়ক অ্যালেনের মানসিক দ্বন্দ্ব ও প্রণয়ের ব্যাকুলতা পাঠককে আবেগাপ্লুত করে।
সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এই বইটি পড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর সমান্তরালেই রয়েছে মৈত্রেয়ী দেবীর কালজয়ী উপন্যাস 'ন হন্যতে'। এলিয়াদের এই রচনায় সম্পর্কের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছিল, তার উত্তরে বহু বছর পর মৈত্রেয়ী দেবী সত্যের আলোয় উন্মোচন করেছিলেন তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে 'লা নুই বেঙ্গলি' শুধু স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের এক বিরল যুগলবন্দী পাঠের অংশ হিসেবেও অত্যন্ত উপভোগ্য। অনুবাদটি প্রাঞ্জল ও গতিশীল, যা মূল বইয়ের রোমাঞ্চ ও আর্তি চমৎকারভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়।
মূল বিষয়
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক সংঘাতের মাঝে এক তরুণ-তরুণীর আবেগঘন ও নিষিদ্ধ প্রেমের আখ্যান।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
অ্যালেন (মির্চা এলিয়াদ): ইউরোপীয় প্রকৌশলী ও তরুণ গবেষক, যিনি কলকাতায় এসে সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের সান্নিধ্যে প্রাচ্যদর্শন অধ্যয়ন করেন এবং প্রেমে পড়েন।
মৈত্রেয়ী: দার্শনিক পিতার বিদুষী ও সংবেদনশীল কন্যা, যার সাথে অ্যালেনের গড়ে ওঠে এক নিবিড় আত্মিক ও আবেগীয় সম্পর্ক।
নরেন্দ্র সেন (সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত): মৈত্রেয়ীর পিতা ও খ্যাতনামা পণ্ডিত, যিনি অ্যালেনের শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হন।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





