সকল বই (Library)
ক্রীতদাসের হাসি - শওকত ওসমান – শওকত ওসমান বইয়ের প্রচ্ছদ

ক্রীতদাসের হাসি - শওকত ওসমান

লেখক: শওকত ওসমান

ডাউনলোড করুন
লেখকশওকত ওসমান
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীসন্ধানী প্রকাশনী
প্রকাশ সাল1962
পৃষ্ঠা112 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রচিত একটি শক্তিশালী রূপকধর্মী রাজনৈতিক উপন্যাস।
ঐতিহাসিক আবহে বাগদাদের খলিফা হারুনুর রশীদের দরবারকে রূপক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে মানুষের শরীর কেনা গেলেও মনের আনন্দ বা নির্মল হাসি কেনা অসম্ভব—এ সত্যের উন্মোচন।
উপন্যাসটি ১৯৬৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করে।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

ক্ষমতা ও ঐশ্বর্য দিয়ে দাস কেনা যায়, বাঁদি কেনা যায়, রাজ্য জয় করা যায়; কিন্তু মানুষের হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস কিংবা অকৃত্রিম হাসি কেনা যায় কি? শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' ঠিক এই প্রশ্নটিকেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে চরম প্রতাপশালী শাসকের মুখোমুখি।

বই সম্পর্কে

'ক্রীতদাসের হাসি' কথাশিল্পী শওকত ওসমানের এক অবিস্মরণীয় রূপক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পটভূমিতে রচিত হয়। প্রকাশ্য প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ থাকায় লেখক বাগদাদের খলিফা হারুনুর রশীদ ও তাঁর শাসনব্যবস্থাকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে তৎকালীন নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রের চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন।

কাহিনীতে দেখা যায়, খলিফা গভীর রাতে ছদ্মবেশে নগর পরিভ্রমণকালে এক ক্রীতদাসের প্রাণখোলা, বাঁধভাঙা হাসির শব্দ শুনতে পান। ঐশ্বর্যের চূড়ায় বসেও যে হাসির সন্ধান খলিফা কখনো পাননি, এক নিঃস্ব দাসের সেই হাসির রহস্য উন্মোচনে তিনি উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। তিনি তাতারি নামের ঐ দাসকে রাজপ্রাসাদে ডেকে আনেন এবং তাকে হাসার আদেশ দেন। কিন্তু আদেশে যে হাসা যায় না, খাঁচায় বন্দি করে যে আনন্দের জন্ম দেওয়া যায় না—তা খলিফার ক্ষমতার দম্ভ মেনে নিতে পারে না।

উপন্যাসটির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, মানুষের মন এবং তার আনন্দ প্রকাশের অধিকার স্বাধীন। সামরিক বুটের তলায় দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা এই রূপক রাজনৈতিক উপন্যাসটি আজও সার্বজনীন প্রাসঙ্গিকতায় উজ্জ্বল।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি স্বৈরতন্ত্রের গালে এক শৈল্পিক চপেটাঘাত। লেখক অত্যন্ত দক্ষ হাতে আরব্য রজনীর আবহকে ব্যবহার করে সমসাময়িক রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারহীনতার জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। কাহিনীর প্রতিটি পরতে ক্ষমতার অহংকার বনাম মানুষের অন্তর্নিহিত স্বাধীনতার সংঘাত দৃশ্যমান।

উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত পরিমিত, কাব্যিক এবং তীক্ষ্ণ। তাতারির চরিত্রটি কেবল একজন সাধারণ দাস নয়, সে শোষিত মানবাত্মার প্রতীক। খলিফার সমস্ত পুরস্কার, প্রলোভন এবং পরবর্তীতে নির্মম নির্যাতন ও চাবুকের আঘাতও তাতারির মুখ থেকে একটি কৃত্রিম হাসি বের করতে পারেনি। তাতারির শেষ কথা ও কান্না মানব ইতিহাসের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকী জয়গান হয়ে বাজে।

যাঁরা রাজনৈতিক সচেতন সাহিত্য, রূপক উপন্যাস এবং তীব্র মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের আখ্যান পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য। ক্ষুদ্র কলেবরের এই উপন্যাসটি শেষ করার পর পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী এক ভাবনার ছাপ রেখে যায়।

মূল বিষয়

স্বৈরাচারী ক্ষমতার দম্ভ এবং মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও অনুভূতির চিরন্তন সংঘাত।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

তাতারি: এক নিবেদিতপ্রাণ ক্রীতদাস, যার নির্মল ও মুক্ত হাসি শোনার জন্য খলিফা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

মেহেরজান: তাতারির প্রণয়িনী বাঁদি, যার উপস্থিতিতে তাতারির হাসি স্বাভাবিক প্রাণবন্ততা পায়।

হারুনুর রশীদ: বাগদাদের প্রতাপশালী খলিফা; যার অপরিসীম ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাতারির স্বতঃস্ফূর্ত হাসি ক্রয় করতে ব্যর্থ হন।

জাফর: খলিফার অনুগত উজির।

মাসরুর: খলিফার প্রধান জল্লাদ।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে