
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
'জননী' বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ক্লাসিক উপন্যাস। প্রতিকূল গ্রামীণ পরিবেশে এক দরিদ্র মায়ের মমতা, আত্মত্যাগ এবং জীবনের চরম সংকটের বাস্তব চিত্র এখানে অঙ্কিত হয়েছে।
বই সম্পর্কে
কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের কালজয়ী উপন্যাস 'জননী' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে এক অতি সাধারণ গ্রামীণ পরিবারের প্রতিদিনের ক্ষুধা, বঞ্চনা ও টিকে থাকার লড়াই জীবন্ত হয়ে উঠেছে। উপন্যাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু 'দরিয়া বিবি' নামের এক মমতাময়ী নারী, যে চরম দারিদ্র্য ও সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝেও নিজ সন্তান ও সংসারের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে।
লেখক অত্যন্ত দরদ ও নির্মম বাস্তবতার মিশ্রণে দেখিয়েছেন কীভাবে গ্রামীণ সমাজের শোষণ, ক্ষুধা ও প্রকৃতির বিরূপ আচরণ মানুষের অনুভূতিগুলোকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। উপন্যাসে মাতৃত্ব কেবল একটি সম্পর্কের নাম নয়, বরং তা জীবনসংগ্রামের এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নিখুঁত গ্রামীণ ভাষা ও জীবনদর্শনের কারণে উপন্যাসটি পাঠকদের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
শওকত ওসমানের 'জননী' কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি গ্রামীণ বাংলার এক জীবন্ত দলিল। উপন্যাসের পরতে পরতে রয়েছে নিখাদ মানবিক আবেগ ও বেদনাবিধুর বাস্তবতা। দরিয়া বিবির চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে চিত্রিত হয়েছে যে পাঠক তার আনন্দ-বেদনায় সহজেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। বিশেষ করে তীব্র অভাবের দিনে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য এক মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা পাঠকের চোখে জল এনে দেয়।
বইটির ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল, শক্তিশালী এবং তৎকালীন পল্লীবাংলার লোকজ শব্দে সমৃদ্ধ। সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক অনুভূতির এমন গভীর মেলবন্ধন বাংলা সাহিত্যে বিরল। যারা বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য 'জননী' একটি অবশ্য পাঠ্য বই।
মূল বিষয়
বাংলার গ্রামীণ সমাজের টানাপোড়েন, দারিদ্র্য ও মাতৃত্বের চিরন্তন আত্মত্যাগ
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
দরিয়া বিবি: উপন্যাসের মূল চরিত্র; এক মমতাময়ী ও সংগ্রামী গ্রামীণ মা, যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পরিবারের জন্য লড়াই করে যায়।
আজহার: দরিয়া বিবির স্বামী; দারিদ্র্যক্লিষ্ট ও বাস্তবতার চাপে পিষ্ট এক গ্রামীণ কৃষক।
ইদু: দরিয়া বিবির বড় সন্তান, যার প্রতি মায়ের অপত্য স্নেহ উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





