
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
পাথরে খোদাই করা প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের অপরূপ রূপকথা নিয়ে নারায়ণ সান্যালের এক অনন্য শিল্প-সফর 'কারুতীর্থ কলিঙ্গ' পাঠকদের মুগ্ধ করে চলেছে দশকের পর দশক।
বই সম্পর্কে
নারায়ণ সান্যালের শিল্প ও স্থাপত্য বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থমালার মধ্যে 'কারুতীর্থ কলিঙ্গ' একটি অনন্য মাইলফলক। প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান স্থাপত্যরীতির কেন্দ্রভূমি কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা)-র শিল্পচেতনা, মন্দিরের কারুকার্য এবং ভাস্কর্যের বিস্তারিত রূপ তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থে। লেখক একজন পেশাদার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় স্থাপত্যকলার কারিগরি কাঠামো যেমন তাঁর চোখে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে, তেমনি একজন সাহিত্যিক হিসেবে তিনি প্রতিটি পাথরের মূর্তির ভেতরে জীবন ও ভাবাবেগকে আবিষ্কার করেছেন।
বইটিতে ভুবনেশ্বরের পরশুরামেশ্বর, মুক্তেশ্বর, লিঙ্গরাজ মন্দির থেকে শুরু করে পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং বিশ্ববিখ্যাত কোণার্কের সূর্য মন্দিরের বিস্ময়কর গঠনশৈলী অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয়েছে। মন্দির তৈরির পেছনের পৌরাণিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং মধ্যযুগীয় ভারতীয় সমাজের নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় পাঠককে উপহার দিয়েছেন লেখক। শিল্পের ইতিহাস এবং স্থাপত্যের জটিল কলাকৌশলকে এত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় পরিবেশন করা বাংলা সাহিত্যে সত্যিই বিরল।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
নারায়ণ সান্যালের 'কারুতীর্থ কলিঙ্গ' কেবল একটি ভ্রমণকাহিনি বা নীরস ইতিহাস গ্রন্থ নয়, বরং এটি ভারতীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার এক গভীর অনুসন্ধান। বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি লেখকের দ্বৈত পরিচয়—তিনি একই সঙ্গে পুরকৌশলী এবং সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। ফলে কোনো প্রাচীন সৌধ দেখে তিনি শুধু ভাবাবেগে আপ্লুত হননি, বরং সেটির ভিত্তিপ্রস্তর, ভারসাম্য এবং স্থাপত্যশৈলীর নিখুঁত নকশাও পাঠকের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কোণার্কের মন্দিরগাত্রের ভাস্কর্য ও বিখ্যাত মিথুনমূর্তিগুলোর শিল্পমূল্য ও তাৎপর্য তিনি যেভাবে উদার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনা করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বইটির বর্ণনাভঙ্গি পাঠককে কল্পনায় প্রাচীন ওড়িশার মন্দিরের চত্বরে নিয়ে যায়। ভারতীয় শিল্পরীতি, স্থাপত্য ও ইতিহাসপ্রেমী যে কোনো পাঠকের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য একটি মাস্টারপিস।
মূল বিষয়
প্রাচীন কলিঙ্গ তথা ওড়িশার মন্দির শিল্প, স্থাপত্যকলা ও ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
লেখক / পরিব্রাজক: নারায়ণ সান্যাল নিজেই যিনি একজন স্থপতি ও অনুসন্ধিৎসু গবেষক হিসেবে প্রাচীন ভাস্কর্য পর্যবেক্ষণ করেছেন
কলিঙ্গের প্রাচীন শিল্পী ও স্থপতিগণ: যাঁদের মেধা ও সাধনায় ভুবনেশ্বর, পুরী এবং কোণার্কের সূর্য মন্দির সৃষ্টি হয়েছিল
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





