
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
মানুষের কর্মের পরিণতি কখনও মিথ্যা হয় না। সৎ কিংবা অসৎ—প্রতিটি পদক্ষেপের হিসেব প্রকৃতি নিজের নিয়মে ফিরিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কর্মফল' সেই অনিবার্য সত্যের এক অনন্য সাহিত্যিক দলিল।
বই সম্পর্কে
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম মনস্তাত্ত্বিক ও নীতিধর্মী রচনা 'কর্মফল'। গল্পটিতে মানবজীবনের একটি অত্যন্ত গভীর সত্যকে উন্মোচন করা হয়েছে—মানুষ যা বপন করে, ফলস্বরূপ তাকে ঠিক তাই কাটতে হয়। কর্ম ও ভাগ্যের জটিল সম্পর্কের দোলাচলে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের জীবনসংগ্রাম এবং ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের অনিবার্য পরিণতি এ রচনার কেন্দ্রবিন্দু।
গল্পের নায়ক সতীশ বিলাসী জীবন এবং আত্মকেন্দ্রিক ভাবনায় মগ্ন থেকে নিজের জীবনকে কোন পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়, তা রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে চিত্রিত করেছেন। পারিবারিক স্নেহ, বন্ধুদের প্রভাব এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মাঝে নৈতিক স্খলন কীভাবে মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়, তা এই বইটির মূল উপজীব্য। পরবর্তী সময়ে এই গল্পটির রূপান্তরের মাধ্যমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত হাস্যকৌতুক নাটক 'শোধবোধ' রচনা করেছিলেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
'কর্মফল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন একটি সৃষ্টি যা কেবল বিনোদনের খোরাক জোগায় না, বরং পাঠককে গভীরভাবে আত্মোপলব্ধি করতে বাধ্য করে। লেখকের লেখনী অত্যন্ত প্রাঞ্জল, তীক্ষ্ণ এবং সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। প্রতিটি চরিত্রের মানসিক টানাপোড়েন এবং ভুল সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো তিনি সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
উপন্যাসোপম এই কাহিনীতে নাট্যরস এবং উপদেশের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে, যা যেকোনো বয়সী পাঠকের মনকে স্পর্শ করতে সক্ষম। যারা রবীন্দ্রসাহিত্যের গভীর মানবিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো অনুসন্ধান করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য 'কর্মফল' একটি অবশ্য পাঠ্য বই।
মূল বিষয়
মানুষের কৃতকর্মের অনিবার্যতা, চারিত্রিক পদস্খলন এবং সামাজিক বাস্তবতা ও প্রায়শ্চিত্ত।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
সতীশ: গল্পের মূল চরিত্র, বিলাসী জীবনযাপন ও ভুলের মধ্য দিয়ে যে জীবনের কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়।
শশাঙ্কশেখর: সতীশের পরিচিত এবং নীতিবান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
নলিনী: নারী চরিত্র, যার উপস্থিতি গল্পের মানসিক দ্বন্দ্বগুলোকে স্পষ্ট করে তোলে।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





