সকল বই (Library)
বৌ-ঠাকুরাণীর হাট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইয়ের প্রচ্ছদ

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ডাউনলোড করুন
লেখকরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীবিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ
প্রকাশ সাল1883
পৃষ্ঠা164 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস
যশোরের বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতাপশালী রাজা প্রতাপাদিত্যের ইতিহাসভিত্তিক আখ্যান
ক্ষমতার মোহ বনাম হৃদয়ের স্নেহ ও নৈতিকতার টানাপোড়েন
উদয়াদিত্য ও বিভার আত্মত্যাগ ও মর্মস্পর্শী পারিবারিক পরিণতি
পরবর্তীকালে এই উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

রাজা প্রতাপাদিত্যের রক্তক্ষয়ী ক্ষমতা এবং উদয়াদিত্য ও বিভার কোমল ভালোবাসার নিদারুণ সংঘাত নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক উপন্যাস 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট'।

বই সম্পর্কে

'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৮৮৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এই উপন্যাসটির পটভূমি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগের ঐতিহাসিক বাংলা, বিশেষ করে যশোরের বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্য ও তাঁর সমসাময়িক রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবন। রবীন্দ্রনাথ ঐতিহাসিক বাস্তবতার কাঠামোয় মানব মনের গভীর স্নেহ, ঈর্ষা, ক্ষমতার অহংকার এবং অনুতাপের এক অসাধারণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

উপন্যাসের মূল সংঘাত আবর্তিত হয়েছে ক্ষমতালোভী ও অহংকারী প্রতাপাদিত্য এবং তাঁর শান্তিকামী পুত্র উদয়াদিত্যের মানসিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে। প্রতাপাদিত্যের হিংস্র রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বলি হয় পরম স্নেহময় পিতৃব্য বসন্ত রায় এবং তাঁর নিজ কন্যা বিভার বৈবাহিক সুখ ও পারিবারিক শান্তি। ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক রাজার পারিবারিক পতনের ট্র্যাজেডি এই উপন্যাসে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় রূপায়িত হয়েছে।

তরুণ রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক প্রতিভার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সৃষ্টি। যদিও পরবর্তী জীবনে রবীন্দ্রনাথ নিজেই এই উপন্যাসের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, তবুও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পর্বের সার্থক ও অনুভূতিপ্রবণ ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট'-এর গুরুত্ব অপরিসীম।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তরুণ বয়সের রচনা হলেও 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' বাংলা উপন্যাসের ধারায় একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংযোজন। উপন্যাসের ভাষা মার্জিত, চরিত্রচিত্রণ জীবন্ত এবং নাট্যগুণে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে বসন্ত রায়ের সহজ-সরল বাৎসল্য রস এবং উদয়াদিত্যের মানসিক দোলাচল পাঠকের মনে গভীর অনুভূতির সঞ্চার করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে লেখা হলেও রবীন্দ্রনাথ এখানে কেবল ইতিহাসের তথ্য উপস্থাপন করেননি, বরং ইতিহাসের আড়ালে মানবীয় অনুভূতির সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে প্রধান করে তুলেছেন। রাজনৈতিক উচ্চাশা কিভাবে মানুষের সাধারণ পারিবারিক সম্পর্ক ও ভালোবাসাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে পারে, তা প্রতাপাদিত্য ও বিভার জীবন দিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাংলা ধ্রুপদী সাহিত্যের যেকোনো অনুরাগীর জন্য উপন্যাসটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি পাঠের অভিজ্ঞতা দেয়। সাহিত্যপ্রেমীদের রবীন্দ্রনাথের প্রারম্ভিক গদ্যরীতির বিবর্তন বোঝার জন্য এই বইটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মতো।

মূল বিষয়

ক্ষমতার লিপ্সা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক ট্র্যাজেডির সংঘাত

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

প্রতাপাদিত্য: যশোরের প্রতাপশালী, উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতাপ্রিয় মহারাজা

বসন্ত রায়: প্রতাপাদিত্যের স্নেহশীল, সাধক ও সংগীতপ্রেমী বৃদ্ধ পিতৃব্য

উদয়াদিত্য: প্রতাপাদিত্যের ভাবুক, কোমলহৃদয় ও নৈতিকতাবোধসম্পন্ন যুবরাজ

বিভা: উদয়াদিত্যের স্নেহময়ী ভগিনী, চন্দ্রদ্বীপের রাজার স্ত্রী ও মূল ট্র্যাজিক চরিত্র

রামচন্দ্র রায়: চন্দ্রদ্বীপের উদ্ধত ও অভিমানী তরুণ রাজা, বিভার স্বামী

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে