সকল বই (Library)
দর্শনের ইতিকথা - উইল ডুরান্ট – উইল ডুরান্ট বইয়ের প্রচ্ছদ

দর্শনের ইতিকথা - উইল ডুরান্ট

লেখক: উইল ডুরান্ট

ডাউনলোড করুন
লেখকউইল ডুরান্ট
ক্যাটাগরিঅনুবাদ
প্রকাশনীইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
প্রকাশ সাল2014
পৃষ্ঠা468 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

সক্রেটিস ও প্লেটো থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ফ্রেডরিখ নীটশে পর্যন্ত প্রধান পশ্চিমা দার্শনিকদের জীবন ও মতবাদ পর্যালোচনা।
জটিল ও দুরূহ দার্শনিক তত্ত্বগুলোকে গল্প এবং সাবলীল গদ্যের মাধ্যমে সাধারণ পাঠকের উপযোগী করে উপস্থাপন।
প্রতিটি দার্শনিকের সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং তাদের চিন্তার প্রভাবের বিশদ বিশ্লেষণ।
বিশ্বজুড়ে বহুল পঠিত ও সমাদৃত আকর গ্রন্থ 'The Story of Philosophy'-এর মানসম্মত বাংলা অনুবাদ।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

দর্শন সাধারণত জটিল ও নিরস মনে হলেও উইল ডুরান্টের জাদুকরী লেখনীতে তা হয়ে উঠেছে এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। প্লেটো থেকে নীটশে—যাঁরা মানুষের চিন্তাজগতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তাঁদের জীবন ও দর্শনের রূপরেখা জানতে এই বইটি অপরিহার্য।

বই সম্পর্কে

উইল ডুরান্টের জগদ্বিখ্যাত মাস্টারপিস 'The Story of Philosophy'-এর অনবদ্য বাংলা রূপান্তর হলো 'দর্শনের ইতিকথা'। মানব সভ্যতার বিকাশে দার্শনিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁরা কীভাবে ভাবতেন, কেন প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন এবং সত্যের অনুসন্ধানে কী কী গভীর তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন—তার এক চমৎকার দলিল এই গ্রন্থটি।

বইটিতে প্রাচীন গ্রিসের সক্রেটিস ও প্লেটোর স্বর্ণযুগ থেকে শুরু করে অ্যারিস্টটল, বেকন, স্পিনোজা, ভলতেয়ার, কান্ট, শোপেনহাওয়ার এবং নীটশের মতো যুগান্তকারী চিন্তাবিদদের জীবন ও দর্শন অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উইল ডুরান্ট দর্শনকে কোনো জটিল ও কাঠখোট্টা তত্ত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং দার্শনিকদের নিজস্ব মানবীয় আবেগ, দ্বন্দ্ব ও জীবনযাত্রার সাথে মিলিয়ে জীবন্ত করে তুলেছেন।

যাঁরা দর্শনের জগতে নতুন প্রবেশ করতে চান বা পশ্চিমা চিন্তার বিবর্তন সহজভাবে বুঝতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য 'দর্শনের ইতিকথা' একটি অবশ্য পাঠ্য বই। অনুবাদকের সাবলীল ও গতিশীল ভাষা মূল গ্রন্থের চমৎকার আবহ পুরোপুরি বজায় রেখেছে।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

উইল ডুরান্টের 'দর্শনের ইতিকথা' কেবল একটি তত্ত্বগ্রন্থ নয়, এটি মূলত মানুষের ভাবনার বিবর্তনের এক অনন্য মহাকাব্য। দর্শন অনেকের কাছেই এক ভীতিজনক বিষয় হলেও ডুরান্টের বর্ণনাশৈলী এত প্রাঞ্জল ও গতিশীল যে পাঠক এক বসায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়ে যেতে বাধ্য হন। প্রতিটি দার্শনিকের জীবনী আলোচনা করার পাশাপাশি তাঁদের মূল বক্তব্যকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলা অনুবাদটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও ছন্দময়। দার্শনিক পরিভাষাগুলোর সঠিক ও গ্রহণযোগ্য রূপান্তর পাঠের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে। বইটি পড়ার পর পাঠক বুঝতে পারেন কীভাবে পশ্চিমা সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিজ্ঞান এই দার্শনিকদের ভাবনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

যাঁরা জীবন, জগৎ ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে ভালোবাসেন এবং দর্শনের মূল ধারাটি বুঝতে চান, তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে বইটি রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। এটি যেকোনো বিদগ্ধ ও কৌতূহলী পাঠকের চিন্তার দিগন্ত বহুলাংশে উন্মোচিত করবে।

মূল বিষয়

পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাস, দার্শনিকদের জীবনগাঁথা এবং তাদের চিন্তাধারার সহজবোধ্য পর্যালোচনা

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

প্লেটো ও সক্রেটিস: আদর্শ রাষ্ট্রচিন্তা, ন্যায়বিচার এবং সত্য অনুসন্ধানের মৌলিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী।

অ্যারিস্টটল: যুক্তিবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং অধিবিদ্যার ভিত্তিনির্মাণকারী গ্রিক দার্শনিক।

ফ্রান্সিস বেকন: আধুনিক বিজ্ঞান ও আরোহী পদ্ধতির অগ্রদূত।

বারুখ স্পিনোজা: সর্বেশ্বরবাদী ঈশ্বরতত্ত্ব এবং নীতিবিদ্যার গভীর চিন্তাবিদ।

ভলতেয়ার: ফরাসি জ্ঞানালোক যুগের অগ্রদূত, মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক।

ফ্রেডরিখ নীটশে: অতিমানব তত্ত্ব ও ঐতিহ্যগত নীতিশাস্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধকারী আধুনিক দার্শনিক।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে