
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
'বেগম মেরী বিশ্বাস' প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিমল মিত্রের এক অনন্য ঐতিহাসিক সামাজিক উপন্যাস, যেখানে উনিশ শতকের সমাজ ও এক তেজস্বী নারীর জীবনদ্বন্দ্ব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
বই সম্পর্কে
কথাশিল্পী বিমল মিত্রের 'বেগম মেরী বিশ্বাস' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহাকাব্যিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রাথমিক পর্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। দেশীয় আভিজাত্যের পতন এবং বিদেশি শাসনের সাথে যুক্ত নতুন শ্রেণীর উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে মেরী বিশ্বাসের মতো একটি তেজস্বী চরিত্রের আত্মপ্রকাশ উপন্যাসটিকে বিশিষ্টতা দান করেছে।
কাহিনীতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মূল্যবোধের সংঘাত, ধর্মান্তর, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ক্ষমতা কাঠামোর জটিলতা জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বিমল মিত্র তাঁর স্বভাবসুলভ সাবলীল ভাষা ও গভীর পর্যবেক্ষণ দিয়ে তৎকালীন সমাজবাস্তবতাকে পাঠকের সামনে উন্মোচিত করেছেন। ইতিহাস এবং কল্পনার মেলবন্ধনে রচিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
বিমল মিত্রের উপন্যাস মানেই বিশাল প্রেক্ষাপট, সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং সমাজবীক্ষণ। 'বেগম মেরী বিশ্বাস' উপন্যাসেও তার পূর্ণ প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় ১৮-১৯ শতকের কলকাতার আভিজাত্য, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম চমৎকারভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
লেখকের ভাষার প্রাঞ্জলতা এবং চরিত্র নির্মাণের দক্ষতা উপন্যাসটিকে গতিশীল রেখেছে। দীর্ঘ কলেবরের এই উপন্যাসটি পাঠককে সেই সময়ের সামাজিক ঘূর্ণাবর্তের মাঝে টেনে নিয়ে যায়। ধ্রুপদী বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী পাঠকদের জন্য এটি অত্যন্ত সুপারিশকৃত একটি বই।
মূল বিষয়
ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ-ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক ভাঙাগড়া এবং এক ব্যতিক্রমী নারীর জীবনের আখ্যান
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
মেরী বিশ্বাস: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, দৃঢ়চেতা ও বহুমুখী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক নারী
হরনাথ বিশ্বাস: মেরীর স্বামী এবং তৎকালীন অভিজাত পরিবারের প্রতিনিধি
মিস্টার জনসন: ইংরেজ বণিক ও কোম্পানির প্রভাবশালী ব্যক্তি
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





