সকল বই (Library)
অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বইয়ের প্রচ্ছদ

অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাউনলোড করুন
লেখকবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীমিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
প্রকাশ সাল1959
পৃষ্ঠা120 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

১৯৪৩ সালের 'পঞ্চাশের মন্বন্তর' এর মর্মান্তিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
যুদ্ধের দূরবর্তী প্রভাব কীভাবে শান্ত পল্লীগ্রামের দরিদ্র মানুষের জীবন চূর্ণবিচূর্ণ করে তা চিত্রিত হয়েছে।
গ্রামীণ সামাজিক শ্রেণিভেদ, কুসংস্কার এবং দুর্ভিক্ষের মুখে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের বাস্তব বিবরণ।
বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে একই নামে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসে দূর আকাশে, কিন্তু তার নির্মম আঘাত আছড়ে পড়ে বাংলার শান্ত শ্যামল গ্রামে। শুরু হয় খাদ্যাভাব, মানবিক বিপর্যয় আর বেঁচে থাকার চরম লড়াই।

বই সম্পর্কে

'অশনি সংকেত' বাংলা সাহিত্যের অমর কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ব্যতিক্রমী সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কুখ্যাত 'পঞ্চাশের মন্বন্তর'। যুদ্ধ বাংলা থেকে হাজার মাইল দূরে হলেও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি এবং মুনাফাখোরদের কারসাজিতে শান্ত পল্লিবাংলায় খাদ্য সংকট কীভাবে হাহাকার সৃষ্টি করেছিল, লেখক তা অত্যন্ত দরদ দিয়ে তুলে ধরেছেন।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গাচরণ ও তার স্ত্রী অনঙ্গ বউ। ব্রাহ্মণ পণ্ডিত হিসেবে গ্রামে স্থান পাওয়া গঙ্গাচরণ প্রথমদিকে চালের সংকটকে সাধারণ ঘটনা মনে করলেও সময়ের সাথে সাথে দুর্ভিক্ষের আগ্রাসী রূপ দেখে হতবাক হয়ে যায়। মানুষের ক্ষুধা কীভাবে নৈতিকতা, জাতপাত এবং আত্মসম্মানবোধকে ধূলিসাৎ করে দেয়, তা বিভূতিভূষণ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

উপন্যাসটি অসমাপ্ত থাকলেও এটি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার পাশাপাশি মানুষের তীব্র ক্ষুধা ও সামাজিক ভাঙনের এমন মর্মস্পর্শী চিত্র বাংলা কথাসাহিত্যে বিরল। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'গোল্ডেন বিয়ার' পুরস্কার লাভ করেন।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কথা বললেও 'অশনি সংকেত'-এ তিনি মানুষের বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি আর ক্ষুধাজনিত ধ্বংসলীলাকে অত্যন্ত গভীরভাবে উন্মোচন করেছেন। এই বইটিতে কোনো রাজনৈতিক ভাষণ নেই, বরং অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় গ্রামীণ মানুষের ওপর যুদ্ধ ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের অভিশাপ কীভাবে নেমে এসেছে তা দেখানো হয়েছে।

অনঙ্গ বউ চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক মাতৃত্ব ও মানবিক ভালোবাসার যে রূপ এঁকেছেন, তা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গঙ্গাচরণের চরিত্রটির মধ্য দিয়ে চিরাচরিত সুবিধাভোগী শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে।

বইটি পড়লে ঔপনিবেশিক শাসনের সেই অন্ধকার অধ্যায় এবং দুর্ভিক্ষে নিঃস্ব হওয়া মানুষের করুণ হাহাকার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যেকোনো সচেতন সাহিত্যপ্রেমীর জন্য 'অশনি সংকেত' একটি অবশ্য পাঠ্য ক্লাসিক গ্রন্থ।

মূল বিষয়

১৯৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে বাংলার গ্রামীন সমাজে নেমে আসা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

গঙ্গাচরণ চক্রবর্তী: গ্রামের শিক্ষক ও পুরোহিত, যিনি দুর্ভিক্ষের শুরুতে সুবিধা পেলেও ধীরে ধীরে সংকটের মুখোমুখি হন।

অনঙ্গ বউ: গঙ্গাচরণের স্নেহময়ী, সংবেদনশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন স্ত্রী।

কপিলী: গ্রামের এক দরিদ্র নারী যে দুর্ভিক্ষের নিষ্ঠুর পরিণতি ভোগ করে।

বিশ্বাস মশাই: গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে

সম্পর্কিত আরও বই

সব দেখুন →