সকল বই (Library)
আদর্শ হিন্দু হোটেল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বইয়ের প্রচ্ছদ

আদর্শ হিন্দু হোটেল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাউনলোড করুন
লেখকবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীমিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
প্রকাশ সাল1940
পৃষ্ঠা184 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

রানাঘাট স্টেশনের পেছনের এক হোটেলের রাঁধুনি হাজারী ঠাকুরের জীবনের চড়াই-উতরাই।
নিত্যদিনের অপমান, বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার মধ্যেও সততা ও রন্ধনশিল্পের প্রতি পরম নিষ্ঠা।
কুসুমের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আর্থিক সহায়তায় নিজের হোটেল গড়ে তোলার স্বপ্নযাত্রা।
অধ্যবসায় ও আন্তরিক পরিশ্রমে ভাগ্য বদলের এক চিরন্তন অনুপ্রেরণাদায়ী আখ্যান।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

প্রতিদিনের লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার শিকার হয়েও রন্ধনশিল্পকে সাধনা বানিয়ে একজন সাধারণ রাঁধুনি কীভাবে নিজের স্বপ্নের 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' প্রতিষ্ঠা করেন—তারই মানবিক ও অনুপ্রেরণামূলক দলিল এই উপন্যাস।

বই সম্পর্কে

কালজয়ী সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত সামাজিক উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হাজারী ঠাকুর রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশনের পাশের একটি সাধারণ ভাতের হোটেলের সামান্য রাঁধুনি। সামান্য বেতনে কাজ করা হাজারী প্রতিনিয়ত হোটেলের কর্তা বেচু চক্কোত্তি ও বিশেষ করে পদ্ম ঝিয়ের তীব্র কটূক্তি, বঞ্চনা ও অপমানে জর্জরিত হতো। কিন্তু রান্নার প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ। মনে মনে সে সবসময় লালন করত নিজের একটি আদর্শ ভাতের হোটেল খোলার স্বপ্ন।

কুসুমের মতো কিছু স্নেহপরায়ণ মানুষের নিঃস্বার্থ সমর্থন এবং নিজের অদম্য অধ্যবসায়ের ওপর ভর করে হাজারী ঠাকুর শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের হোটেল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। তার সুস্বাদু রান্নার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে এবং রানাঘাট স্টেশনের রেলওয়ে ক্যাটারিংয়ের দায়িত্বও সে পায়। তবে অভাবনীয় সাফল্য এবং প্রাচুর্য আসার পরেও হাজারী ঠাকুরের মানবিকতা ও বিনয় অমলিন থেকে যায়।

উপন্যাসটিতে তৎকালীন গ্রামীণ ও মফস্বল বাংলার বাস্তব জীবনচিত্র, সাধারণ মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রন্ধন সংস্কৃতির এক চমৎকার বর্ণনা ফুটে উঠেছে। সৎ ইচ্ছা ও নিষ্ঠা থাকলে মানুষ যে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছাতে পারে, এই উপন্যাস তার জীবন্ত প্রমাণ।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

'আদর্শ হিন্দু হোটেল' বাংলা সাহিত্যের এমন একটি উপন্যাস যা যেকোনো বয়সের পাঠককে ইতিবাচক প্রেরণা জোগায়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সহজ-সরল ও সাবলীল ভাষায় মানুষের সহজাত আবেগ, দুঃখ-কষ্ট ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। খাবারের বর্ণনা এবং রন্ধনপ্রক্রিয়ার প্রতি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাসটিকে একটি ভিন্ন স্বাদে ভরিয়ে তোলে।

হাজারী ঠাকুরের চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিখুঁত ও জীবন্ত সৃষ্টি। অপমানের বদলে প্রতিশোধ নয়, বরং নিজের মেধা ও সততা দিয়ে সবার মন জয় করার যে বার্তা লেখক এখানে দিয়েছেন, তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। বিভূতিভূষণের স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি ও মমত্ববোধ পুরো বই জুড়ে চমৎকারভাবে প্রবহমান। যারা ক্লাসিক বাংলা সাহিত্য ভালোবাসেন এবং ইতিবাচক জীবনের গল্প পড়তে চান, তাদের জন্য এই বইটি অবশ্য পাঠ্য।

মূল বিষয়

নিষ্ঠা, সততা, রন্ধনশিল্প এবং এক সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণের জীবনসংগ্রাম

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

হাজারী দেবশর্মা (হাজারী ঠাকুর): উপন্যাসের মূল চরিত্র; অত্যন্ত দক্ষ, শান্ত ও নিষ্ঠাবান রাঁধুনি।

বেচু চক্কোত্তি: হাজারী ঠাকুরের পূর্বের হোটেলের মালিক; কড়া ও স্বার্থপর প্রকৃতির মানুষ।

পদ্ম ঝি: বেচু চক্কোত্তির হোটেলের পরিচালক ও কর্তৃত্বপরায়ণ কাজের মহিলা, যে হাজারীকে প্রতিনিয়ত হেনস্তা করত।

কুসুম: হাজারী ঠাকুরের প্রতি স্নেহান্ধ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাহায্যকারী নারী।

অতসী: হাজারী ঠাকুরের আদরের কন্যা।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে

সম্পর্কিত আরও বই

সব দেখুন →