সকল বই (Library)
অনিল বাগচীর একদিন - হুমায়ূন আহমেদ – হুমায়ূন আহমেদ বইয়ের প্রচ্ছদ

অনিল বাগচীর একদিন - হুমায়ূন আহমেদ

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

ডাউনলোড করুন
লেখকহুমায়ূন আহমেদ
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীসময় প্রকাশন
প্রকাশ সাল1992
পৃষ্ঠা78 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন এক রুদ্ধশ্বাস ও অনিশ্চিত দিনের প্রেক্ষাপট।
সাধারণ ও ভীরু স্বভাবের যুবক অনিল বাগচীর বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
যাত্রাপথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চেকপোস্টে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার টানটান উত্তেজনা।
আইয়ুব আলীর মতো সহযাত্রীর মানবিকতা ও অনিলকে বাঁচানোর নিঃস্বার্থ চেষ্টা।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সত্যের প্রতি অনিলের অবিচল ও সাহসী অবস্থান।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ একজন অফিস কর্মী অনিল বাগচী বাবার মৃত্যুর চিঠি পেয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুরো যাত্রাপথে মৃত্যুভয় এবং একপর্যায়ে মিলিটারি ক্যাম্পের সামনে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে অনিলের সাধারণ জীবন অসাধারণ আত্মত্যাগে রূপ নেয়।

বই সম্পর্কে

'অনিল বাগচীর একদিন' প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনন্য সাধারণ উপন্যাসগুলোর একটি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে একটি মাত্র দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র যুদ্ধকালীন অস্থিরতা, আতঙ্ক ও মানবিক মূল্যবোধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান চরিত্র অনিল বাগচী অত্যন্ত শান্ত, ভীতু ও সাধারণ একজন মানুষ, যে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। হঠাৎ বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে সে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসে যাত্রাপথে চারপাশের পরিবেশ, মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্ক এবং পাক বাহিনীর তাণ্ডব অনিলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।

উপন্যাসটির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হলো যাত্রাপথে সাধারণ মানুষের আচরণ ও মানসিকতা। আইয়ুব আলী নামের একজন সাধারণ সহযাত্রী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিলকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তে পাকিস্তানি ক্যাম্পের নিষ্ঠুর জিজ্ঞাসাবাদে দাঁড়িয়ে অনিল মিথ্যা বলে নিজের পরিচয় আড়াল করতে অস্বীকৃতি জানায়। তার এই একটি সত্য কথা যেন এক ভীরু মানুষকে পরিণত করে এক অনন্য সাহসী ব্যক্তিত্বরূপে। হুমায়ূন আহমেদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিন্তু তীব্র সংবেদনশীল ভাষায় পুরো গল্পটি ফুটিয়ে তুলেছেন।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। মুক্তিযুদ্ধ কেবল রণাঙ্গনের সম্মুখ সমর নয়, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রকাশও যে যুদ্ধের বড় অংশ—তা এই উপন্যাসে অত্যন্ত আবেগময় ও শিল্পসম্মতভাবে চিত্রিত হয়েছে। লেখক অনিল চরিত্রটিকে কোনো প্রচলিত 'নায়ক' হিসেবে গড়ে তোলেননি; বরং তার দুর্বলতা, ভয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলে শেষপর্যন্ত তাকে সত্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল এবং গতিশীল। বাসের যাত্রার দৃশ্যগুলো পাঠককে সরাসরি ১৯৭১ সালের এক সন্ত্রস্ত বিকেলে নিয়ে দাঁড় করায়। আইয়ুব আলী চরিত্রের গভীর মানবিকতা বাঙালি সমাজের অসাম্প্রদায়িক চেতনার জীবন্ত রূপ। বইটি পড়তে গিয়ে পাঠকের মনে একদিকে যেমন মৃত্যুভয়ের শিহরণ জাগে, তেমনি শেষ দৃশ্যে অনিলের সততা ও নির্ভীকতা চোখের কোণে জল এনে দেয়। ছোট কলেবরের এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনার এক অবিনাশী সম্পদ।

মূল বিষয়

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, অস্তিত্বের সংকট এবং এক নিরীহ যুবকের নৈতিক ও মানবিক রূপান্তর

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

অনিল বাগচী: উপন্যাসের মূল চরিত্র; শান্ত, নিরীহ ও ভীরু স্বভাবের এক হিন্দু যুবক যার জীবনের শেষ মুহূর্তে ঘটে যায় বিশাল রূপান্তর।

আইয়ুব আলী: বাসের এক সহানুভূতিশীল মুসলিম সহযাত্রী, যিনি অনিলকে বাঁচানোর জন্য নিজের ভাগ্নে পরিচয় দেন।

সুরেশ বাবু: অনিলের বাবা, শান্তিনিকেতনের স্নাতক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক, যিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান।

অসীমা: অনিলের বোন, যার নিরাপত্তার কথা ভেবে অনিল মানসিকভাবে শঙ্কিত ছিল।

ক্যাপ্টেন সরফরাজ: পাকিস্তানি মিলিটারি ক্যাম্পের নিষ্ঠুর সেনা কর্মকর্তা।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে