সকল বই (Library)
আমার ছেলেবেলা - ম্যাক্সিম গোর্কি – ম্যাক্সিম গোর্কি বইয়ের প্রচ্ছদ

আমার ছেলেবেলা - ম্যাক্সিম গোর্কি

লেখক: ম্যাক্সিম গোর্কি

ডাউনলোড করুন
লেখকম্যাক্সিম গোর্কি
ক্যাটাগরিজীবনী / আত্মজীবনী
প্রকাশনীপ্রগতি প্রকাশন
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

বিশ্ববিখ্যাত রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কির তিন খণ্ডের আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড।
উনিশ শতকের শেষভাগে রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদের নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নির্মম বাস্তবতার চিত্র।
পিতার মৃত্যুর পর মাতামহের কঠোর ও পারিবারিক কলহে পূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোর আলিয়োশার অভিজ্ঞতা।
মাতামহীর অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং রূপকথার গল্পের মধ্য দিয়ে বালকের মনে মানবিক অনুভূতির স্ফুরণ।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

পিতার অকালমৃত্যুর পর বালক আলিয়োশা মায়ের সঙ্গে নিঝনি নভগোরোদে তার মাতামহের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে সে প্রবেশ করে এক রূঢ়, হিংসাপূর্ণ ও বৈরী পারিবারিক পরিবেশে, যেখানে বেঁচে থাকার একমাত্র আলো ছিল তার দাদিমার অপরিসীম ভালোবাসা।

বই সম্পর্কে

'আমার ছেলেবেলা' (Childhood) বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য আত্মজীবনীমূলক মাস্টারপিস, যা রচনা করেছেন মহান রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি। গোর্কির আত্মজীবনীমূলক ত্রয়ীর প্রথম অংশ এটি। এই গ্রন্থে তিনি অত্যন্ত নির্মোহ ও শৈল্পিক ভাষায় তুলে ধরেছেন নিজের শৈশবের তীব্র দারিদ্র্য, বেদনা ও বেঁচে থাকার সংঘাতের দিনলিপি। পিতা হারানোর পর অবুঝ বালক আলিয়োশা তার মাতামহের বাড়িতে যে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, কলহপূর্ণ ও কঠোর পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছিল, তা পাঠকের হৃদয়কে নাড়া দেয়।

বইটিতে রাশিয়ার তৎকালীন নিম্নবর্গীয় মানুষের সমাজবাস্তবতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। চারপাশের চরম হিংসা, নিষ্ঠুরতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের ভিড়েও বালক গোর্কি কীভাবে ভেতরের মানবিক সত্তা টিকিয়ে রেখেছিলেন, তার এক অসামান্য দলিল এই রচনা। মাতামহীর অফুরন্ত ভালোবাসা, লোকগাথা এবং সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গি গোর্কিকে অন্ধকার জগতের মাঝেও মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছিল। রুশ সাহিত্যের অন্যতম সেরা বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে এই কালজয়ী সৃষ্টিটি বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

ম্যাক্সিম গোর্কির 'আমার ছেলেবেলা' কেবল একটি স্মৃতিকথা নয়, এটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক জীবন্ত উপাখ্যান। বইটির সবচেয়ে মুগ্ধকর দিক হলো লেখকের নির্মম সততা। শৈশবের বীভৎস অভিজ্ঞতাগুলোকে তিনি কোনো প্রকার রঙ না চড়িয়ে অত্যন্ত নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেছেন, যা পড়তে গিয়ে পাঠককে এক অদ্ভুত মানসিক আলোড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

বিশেষ করে মাতামহীর চরিত্রটি সাহিত্যে বিরল এক সৃষ্টি। যে পরিবেশে মানুষ পশুর মতো আচরণ করে, সেখানে এই নারী ছিলেন এক স্বর্গীয় করুণার প্রতীক। তাঁর মুখে বলা লোককথা এবং আলিয়োশার প্রতি অগাধ স্নেহ পুরো অন্ধকার উপন্যাসে আলোকবর্তিকার কাজ করে। যেকোনো সাহিত্যপ্রেমী পাঠকের জন্য গোর্কির আত্মজীবনীমূলক এই বইটি পাঠ করা একটি অপরিহার্য অভিজ্ঞতা।

মূল বিষয়

দারিদ্র্য, পারিবারিক সংঘাত এবং প্রতিকূল পরিবেশে এক বালকের আত্মবিকাশের লড়াই

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

আলিয়োশা (ম্যাক্সিম গোর্কি): কেন্দ্রীয় চরিত্র, যার শৈশবের নির্মম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কাহিনি বিকশিত হয়।

মাতামহী (আকুলিনা ইভানোভনা): আলিয়োশার স্নেহময়ী নানি, যিনি তাকে ভালোবাসা, ধৈর্য ও নৈতিক মূল্যবোধ শিখিয়েছেন।

মাতামহ (ভাসিলি কাশিরিন): রং কারখানার মালিক, রূঢ়, কঠোর ও পারিবারিক কলহের উৎস।

ইভান (সিগানিওক): কাশিরিন পরিবারের বিশ্বস্ত ও স্নেহপরায়ণ শিক্ষানবিস কারিগর।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে