বৈরী বসতি – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৭৮
বৈরী বসতি – বইটির এক ঝলকঃ
দেখলেন, তার চর আর দালালদের প্রচণ্ড তৎপরতা সত্ত্বেও মুজাহিদ দল নিয়ে সাইয়ীদ আহমদ সাহেব দাঁড়াবার স্থান পেয়ে গেলেন, তখন আর রণজিৎ সিং নিষ্ক্রীয় হয়ে থাকলেন না। সাইয়ীদ আহমদ সাহেবের অবস্থান অংকুরেই বিনাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি তার সেনাপতি বুধ সিংয়ের অধীনে দশ হাজার সুশিক্ষিত শিখ সৈন্য প্রেরণ করলেন। শিখ বাহিনী এসে ‘আকোরা’ নামক এক স্থানে ছাউনি ফেলে বসলো ।
খবর পেয়ে সাইয়ীদ আহমদ সাহেবও সতর্ক হয়ে গেলেন। তিনি জানতেন, শিখ বাহিনী বৃটিশ সমরবিদদের দ্বারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বাহিনী। এও জানতেন, এই পয়লা লড়াইয়ের ফলাফলের উপরই অনেকখানি নির্ভর করছে তার এই অভিযান ও আন্দোলনের ভবিষত সাফল্য ও ব্যর্থতা। এদের সাথে লড়াই করার জন্যেই তিনি এ জিহাদে বেরিয়েছেন। কাজেই, শিখ বাহিনীর আগমন সংবাদ পেয়ে তিনি সতর্ক হয়ে গেলেন, কিছুমাত্র ভীত বা শংকিত হলেন না। তার বিশিষ্ট অনুসারীদের নিয়ে তিনি তখনই আলোচনায় বসলেন এবং শিখবাহিনীর উপর অতর্কিতে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। আল্লাহ বকা খান নামক এক বাহাদুর মুজাহিদ এই অতর্কিত হামলা পরিচালনা করার জন্যে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করলে, নয়শত বাছাই করা মুজাহিদ সহ তাকে এই অতর্কিত হামলার প্রেরণ করা হলো।
অতর্কিত হামলার এই পরিকল্পনা আশাতীতভাবে সফলকাম হলো। আল্লাহ বকশ খানের অতর্কিত হামলায় শিখ বাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে গেল। সাতশত শিখ সৈন্য ময়দানেই নিহত হলো। আহত হলো তার দুই গুণেরও অধিক। এ পক্ষের হতাহতের সংখ্যা মোট বিরাশী জন ।
সাইয়ীদ আহমদ সাহেব ঠিকই চিন্তা করেছিলেন। এই পয়লা যুদ্ধের সাফল্যের জন্যে তার অবস্থান আরো অধিক মজবুত হয়ে গেল। এ বিপুল সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলো। সীমান্তের উপজাতির যে সমস্ত লোক ও নেতা দোটানায় ভুগছিলেন, তারা ছুটে এসে সাইয়ীদ আহমদের সাথে যোগ দিলেন। যোগদানকারী উপজাতীয় নেতাদের মধ্যে হণ্ডের শাসনকর্তা খাদেখান, জাইদার আশরাফ খান ও ‘পাঞ্জতর’ শাসনকর্তা ফতে খানের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এদের সাথে বিপুল সংখ্যক উপজাতীয় লোক দলে দলে এসে মুজাহিদ দলে ভর্তি হওয়ার ফলে মুজাহিদ বাহিনী বিশাল আকার ধারণ করলো।
কিন্তু মুজাহিদ বাহিনীর এই বিশাল আকার নিরবচ্ছিন্নভাবে আনন্দের ব্যাপার ছিল না। এটা জটিলতাও সৃষ্টি করলো। সেরেফ জটিলতাই নয়, সাফল্যের অনেকখানি অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো। কারণ, এই বিপুল সংখ্যক উপজাতীয় মুজাহিদেরা সকলেই সাইয়ীদ আহমদের হিন্দুস্তানী মুজাহিদদের মাতো জিহাদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসে মুজাহিদ দলে যোগদান করলো না। অধিকাংশেরাই যোগ দিলো লড়াই অস্তে লুটতরাজের মওকা নেয়ার জন্যে। বিষয়টি অতি শীঘ্রই উলঙ্গভাবে ধরা পড়লো।
আকোরার বিজয়ের অল্পদিন পরেই মুজাহিদ বাহিনী শিখদের বাণিজ্যকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হাজু আক্রমণ করলো। অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়ে মুজাহিদ বাহিনী হাজুতেও শিখবাহিনীকে পরাজিত করলো। শিখবাহিনী পিছু হটে গেল। কিন্তু বদনসীৰ। বিজয়টা সুসংহত করার আগেই উপজাতীয় মুজাহিদেরা উন্মুক্তভাবে লুটতরাজে লিপ্ত হয়ে গেল। মুজাহিদ বাহিনীর সালারগণ প্রাণপণ করেও উপজাতীয় মুজাহিদদের লুটতরাজ বন্ধ করতে পারলেন না এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেন না। মুজাহিদ বাহিনীর শৃঙ্খলা ও প্রতিরোধ শক্তি একেবারেই ভেঙ্গে পড়লো।
আর যায় কোথায়? পরাজিত হয়ে পিছু হটে গেলেও শিখ সৈন্যেরা অদূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিল। মওকা বুঝে আবার তারা সংঘবদ্ধ হলো এবং মার মার রবে ফিরে এসে বিশৃঙ্খল মুজাহিদ বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়লো ।
চোখের পলকে মহাবিপর্যয় ঘটে গেল। মুজাহিদ বাহিনীর কিছু মাত্র প্রতিরোধ শক্তি না থাকায় মুজাহিদেরা মুষিকের মতো নিহত হতে লাগলো। বাহিনীটা গোটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো, কিন্তু সাইয়ীদ আহমদ সাহেবের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের বদৌলতে পরিস্থিতিটা অধিক করুণ হলো না।
বিলায়েত আলী, ইনায়েত আলী, সাইদ মুহম্মদ আলী, শাহ ইসমাইল, শাহ আবদুল হাই, ইমাম উদ্দীন ও উপজাতীয় অন্যান্য বিশিষ্ট শিষ্য সাগরিদ নিয়ে যুদ্ধের ফলাফলের অপেক্ষায় সাইয়ীদ আহমদ সাহেব উদগ্রীব হয়ে ছিলেন। এ সময় এক দূত এসে উপজাতীয় মুজাহিদদের লুটতরাজের কথা ও তার ফলে লড়াইয়ের ঐ করুণ অবস্থার কথা পেশ করলে, সাইয়ীদ আহমদ সঙ্গে সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। বিচলিত না হয়ে তিনি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখলেন, এ বিপর্যয় উৎরানোর একমাত্র উপায় নিবেদিত প্রাণ হিন্দুস্থানী মুজাহিদদের অবিলম্বে রণস্থলে প্রেরণ করা।
যুদ্ধের অবস্থার কথা শুনে তার সাগরিসদের মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল। সাইয়ীদ আহমদ তখনই বিলায়েত আলী, শাহ ইসমাইল প্রভৃতি সাগরিদদের উদ্দেশ করে বললেন – ভেঙ্গে পড়ার অবকাশ নেই ভাই সাহেবেরা । এই মুহূর্তেই আপনাৱা আমাদের হিন্দুস্তানী মুজাহিদদের একটি তুখোড় দল হাজুতে প্রেরণ করুণ। আল্লাহ চাহে তো একমাত্র তারাই এ বিপর্যয় ঠেকিয়ে দিতে পারবে।
সঙ্গে সঙ্গে কথাটা মনে ধরলো বিলায়েত আলী ও শাহ ইসমাইল সাহেবদের। তারা পৌড়ের উপর উঠে গেলেন এবং পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সহ হিন্দুস্তানী মুজাহিদদের উদ্দেশ্যে হাক দিলেন। হাক শুনেই “নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর” হুংকার তুলে ময়দানের দিকে ছুটতে লাগলেন বাংলা, বিহার ও দিল্লী থেকে আগত একদল লড়াকু মুজাহিদ। বলা বাহুল্য, এই দলে বাংলার মুজাহিদেরাই সংখ্যায় ছিলেন অধিক আর অগ্রভাগে ছিল নূরউদ্দীন, সোহরাব হোসেন, আতাহার আলী, জান মুহম্মদ প্রমুখ ডানপিটে জোয়ানরা। সৈন্যপত্যেও ছিলেন হিন্দুস্তানের কয়েকজন দক্ষ মুজাহিদ।
ঠেকে গেল বিপর্যয় এই হিন্দুস্তানী বাহিনী গিয়ে প্রাণপণে লড়ে শিখ বাহিনীকে আবার বিধ্বস্ত করে দিলো। অনেক সৈন্য ডালি দিয়ে অবশিষ্ট শিখেরা ফের পড়িমরি পালিয়ে গিয়ে বাঁচলো।
এতে করে জিহাদ আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফলে, দলে দলে লোক এসে প্রতিদিন মুজাহিদ বাহিনী ফাঁপিয়ে তোলার কারণে এবং সর্বোপরি জিহাদ সঠিকভাবে পরিচালনা করার প্রয়োজনে, রাষ্ট্রভিত্তিক একটি সুসংহত শাসন কাঠামো অপরিহার্য হয়ে পড়লো। এই লক্ষ্যে ঈসায়ী ১৮২৭ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে (জমাদি ১১, ১২৪২ হিজরী) এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো । এ সমাবেশে যোগদিলেন উপজাতীয় প্রধানগণ, উপজাতীয় জনগণ ও সাইয়ীদ আহমদ সাহেবের ব্যক্তিগত লোকেরা। এ সভায় সাইয়ীদ আহমদ (সৈয়দ আহমদ বেরেলভী) সর্বসম্মতিক্রমে সম্মিলিত উপজাতীয়দের ও তাদের ভূ-খণ্ডের খলিফা এবং ইমাম নির্বাচিত হলেন ।
এই সমাবেশেই একবাক্যে সাব্যস্ত হলো, সামরিক বাহিনী ও জিহাদ পরিচালনা খলিফার হাতে থাকবে। উপজাতীয় নরপতিগণ তাদের নিজ নিজ ভূ-খণ্ড শাসন করবেন এবং তাঁদের ভূ-খণ্ড এই খিলাফতের এক একটি অংশ (ইউনিট) রূপে বিবেচিত হবে। প্রত্যেকটি ইউনিট জিহাদ পরিচালনার জন্যে নির্ধারিত অর্থ ও লোক খলিফাকে যোগান দেবে। পেশোয়ারে এই নতুন রাষ্ট্র ও খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলো । এই নতুন খিলাফতের খলিফার নামে শুক্রবারে খোতবা পঠিত হলো।
সাইয়ীদ আহমদ এবার খলিফা হিসেবে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ভারতের মুসলিম শাসকদের কাছে পত্র প্রেরণ করলেন। অত্যাচারী শিখ ও আগ্রাসী ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদে যোগদান করার জন্যে তাঁদের আহ্বান জানালেন। কিন্তু এতে তিনি সাড়া তেমন পেলেন না । তবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ খুবই ফলপ্রসু হলো। জিহাদের মতবাদ প্রচারে এবং জিহাদের জন্যে অর্থ ও মুজাহিদ সংগ্রহের লক্ষ্যে খলিফা তাঁর সুযোগ্য শিষ্যদের হিন্দুস্তানের নানা এলাকায় প্রেরণ করলেন। বিলায়েত আলী গেলেন সিন্ধুর হায়দ্রাবাদে, ইনায়েত আলী গেলেন বিহারে ও বাংলায় এবং সাইদ মুহম্মদ আলী গেলেন উত্তর ভারতে। অন্যান্য নেতৃবৃন্দের অধীনে অনুরূপ আরো দল গেল বোম্বাই, দাক্ষিণাত্য ও মধ্যভারতে। খান হৃদয়ের টানে এই খিলাফতে যোগদান করলেন না। পরিস্থিতির চাপে পড়েই তাঁরা খিলাফতে যোগ দিলেন। খিলাফতের প্রতি তাঁরা কখনো আন্তরিক ছিলেন না। বরং খিলাফতকে তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত প্রভুত্বের উপর চরম এক আঘাত বলে মনে করতে লাগলেন। ফলে, খিলাফত প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই তাঁরা খিলাফতের ধ্বংসের মানসে তৎপর হয়ে গেলেন। বাইরে থেকে যোগ দিলেন খিলাফতের সাথে, কিন্তু ভেতর থেকে খিলাফত উৎখাত করার উদ্দেশ্যে তাঁরা শিখদের সাথে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে লাগলেন। মূলত কুমন্ত্রণা দিয়ে এবং টোপ লোভ দেখিয়ে শিখেরাই তাদের এ ব্যাপারে উন্মত্ত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে রাখলো।
এসব স্বার্থপর আর গাদ্দার শাসনকর্তাদের সন্দেহজনক চালচলন ও গতিবিধি অচিরেই অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। শিখদের চর হিসেবে সন্দেহভাজন এমনকি চিহ্নিত চরদের সাথেও এদের ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করে অনেকেই বিস্মিত হতে লাগলেন। সর্বোপরি, এঁদের বাসভবনে শিখ নরপতি রণজিৎ সিংয়ের কিছু সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের গোপন যাতায়াতও কারো কারো নজরে পড়ে গেল। বিষয়টি উপজাতীয় মুজাহিদের মোটা মগজে তেমন একটা না ঢুকলেও বা তাদের নজর এতটা অনুসন্ধানী না হলেও, হিন্দুস্তানী মুজাহিদেরা এদের এই বিপজ্জনক আচরণ গভীরভাবে লক্ষ্য করলেন এবং এ নিয়ে গুঞ্জরণ শুরু করলেন।
নূরউদ্দিন ও সোহরাব হোসেন এই প্রসঙ্গে কথা বলার কালে তাদের সামনে এলেন বাংলার জিহাদ নেতা মৌঃ ইমামউদ্দিন। তিনি এসে তাদের সামনে দাঁড়াতেই নূরউদ্দীন প্রশ্ন করলো – আচ্ছা জনাব, একটা বিষয়ে বড় হুজুরসহ আপনাদের এতটা উদাসীন দেখা যাচ্ছে কেন ?
বুঝতে না পেরে ইমামউদ্দিন সাহেবও প্রশ্ন করলেন – কোন্ ব্যাপারে
: এই যে কিছু বারাকজাই নেতারা, বিশেষ করে ইয়ার মুহম্মদ খান আর সুলতান মুহম্মদ খানদের মতো কিছু নেতারা যে এই খিলাফতের প্রতি মোটেই বিশ্বস্ত নয়, আপনারা তা এখনও অনুভব করতে পারছেন না কেন.?
মৃদু প্রতিবাদের সুরে ইমামউদ্দিন সাহেব জবাব দিলেন – কে বললে আমরা তা অনুভব করতে পারছিনে। কম বেশি সবাই তা অনুমান করতে পেরেছি। বড় হুজুরও পেরেছেন।
সোহরাব হোসেন একথা শুনে বিস্থিত কণ্ঠে বললো – পেরেছেন ? তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন। খিলাফত থেকে এখনও তাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে না কেন ?
ঃ তাতে ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই। এখন তারা গোপনে আর ভয়ে ভয়ে চলছে। এদের গায়ে হাত দিলে এরা প্রকাশ্যে আর সামনা সামনি দুশমনী শুরু করবে।
: হুজুর!
ঃ জানোই তো, ‘সেরেফ ঐ কয়জনই নয়, এই উপজাতীয় নেতারা বেশীর ভাগই এই খিলাফতকে ভালবেসে বা জিহাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই খিলাফতে যোগ দেয়নি। যোগ দিয়েছে অগত্যা। অল্প সংখ্যক নেতা ছাড়া অন্যেরা এই খিলাফতের প্রতি অধিক আন্তরিক নয়। কাজেই, ইয়ার মুহম্মদ সুলতান মুহম্মদেরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকবে তা মোটেই বিচিত্র নয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে এদের প্রতিপন্ন করার এখনও কোন উপযুক্ত সূত্র পাওয়া যায়নি। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া সন্দেহের উপর এদের খিলাফত থেকে বহিষ্কার করলে আর না হোক, এরা অন্যান্য নেতাদের আর উপজাতীয় মুজাহিদদের ক্ষেপিয়ে তুলবে এবং খিলাফত থেকে তাদেরও সরিয়ে নেবে। চরিত্রতো সবারই এদের নড়বড়ে। মজবুত নয় ।
: জিহাদ আন্দোলন সফল করে তুলতে হলে এসব নেতাদের সমর্থন আমাদের খুবই প্রয়োজন। নইলে এই উপজাতীয় মুজাহিদেরা অধিক একান্তভাবে আমাদের পক্ষে থাকবে না। থাকবে না মানে, এই অসৎ নেতারা থাকতে তাদের দেবে না। সুতরাং, এই নেতাদের আন্তরিক সমর্থন পাওয়া না গেলেও, সরাসরি বিরোধিতা করা থেকে এদের বিরত রাখা অপরিহার্য।
কথাটা বুঝতে পেরে সোহরাব হোসেন নিস্তেজ কণ্ঠে বললো –জি, তা বটে । কিন্তু
ইমামউদ্দীন সাহেব আরো বললেন – তাছাড়া সুলতান মুহম্মদ খান – ইয়ার মুহম্মদ খানেরাও সবসময়ই সাফাই গেয়ে বেড়াচ্ছে। বলছে, পাঞ্জাবের কিছু শিখ ব্যবসা উপলক্ষে আগেও তাদের কাছে এসেছে এখনও আসছে। এরা রণজিৎ সিংয়ের লোক নয়, রাজনীতির সাথে এদের কোনই সংশ্রব নেই ।
: এদের কথা বিশ্বাস করেন হুজুর ?
ঃ করিনে। এরা যে বেঈমান তা পরিষ্কার হয়ে যেতে হয়তো অধিক সময় লাগবে না। তবু এক্ষণে কিছু করার নেই। এ অবস্থা মেনে নিয়েই এগুতে হবে আমাদের। ঃ অধিক সময় যে লাগবে না, আপনারাও তাহলে তা অনুমান করেন ? ঃ কেন করবো না ? দুরাচার শিখেরা যেভাবে এ খিলাফতের পেছনে লেগেছে আর ওদের যে হারে ব্যবহার করা শুরু করেছে –
কথার মাঝেই নূরউদ্দীন অসহিষ্ণু কণ্ঠে বলে উঠলো— শিখদের দোষ দিয়ে লাভ কি জনাব ? ওদের উপর দোষারোপ করার সংগত কারণ নেই।
একথায় ইমামউদ্দীন সাহেব বিস্মিত হলেন। বললেন – কারণ নেই! এ তুমি কি বলছো ?
: কেন থাকবে ? আমরা মূলমানেরা জাতি হিসেবে আমাদের সুবিধে দেখছি, শিখেরা, অর্থাৎ অমুসলমানেরা জাতি হিসেবে তাদের সুবিধে দেখছে। এজন্যে তাদের বড় একটা দোষ দেয়া যায় না ।
: নূরউদ্দীন।
ঃ কে কতটা ন্যায়ভাবে দেখছে আর অন্যায়ভাবে দেখছে – সে প্রসঙ্গ আলাদা। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সুবিধে দেখছে, মোদ্দাকথা এইটেই। নিজের সুবিধে সবজাতিই দেখবে – এইটেই স্বাভাবিক আর মোটেই তা যুক্তিহীন নয়। কিন্তু মুসলমান নামের যে ব্যক্তিরা অমুসলমানদের দালাল হয়ে কেবল অমুসলমানদেরই সুবিধের দিক দেখে আর নিজের জাতি, ধর্ম ও দেশের স্বার্থ অমুসলমানদের কাছে বিকিয়ে দেয়, তাদের এ আচরণের পেছনে কি যুক্তি আছে, তাতো মাথায় আমার ঢোকে না।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!