ব্ল্যাক ক্রসের মুখোমুখি – আবুল আসাদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আবুল আসাদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৮০
ব্ল্যাক ক্রসের মুখোমুখি – বইটির এক ঝলকঃ
লোকটির কথায় আহমদ মুসার চিন্তায় ছেদ পড়ল। মুখ তুলল আহমদ মুসা। গাড়ির ইনসাইড লাইট তখনও জ্বলে আছে।
চোখ তুলতে গিয়ে সামনের দুই সিটের মাঝখানের জায়গায় কাগজের মোড়কের ওপর হঠাৎ আহমদ মুসার চোখ আটকে গেল।
কাগজের বড় ইনভেলাপ। বেশ পেট ফোলা। তার মধ্যে কাপড় কিংবা বই জাতীয় কিছু আছে। কিন্তু সেদিকটা আহমদ মুসার আগ্রহের বিষয় নয়। তার দু’টি চোখ নিবন্ধ ইনভেলাপটির ওপরের লেখার ওপর। ফরাসী ভাষায় হস্তাক্ষরে লেখা। পড়ল আহমদ মুসা, রলফ এইচ ফ্রিকে, ২১১, ‘রো আনাতল ডেলা ফৰ্গ’, প্যারিস ১৯।”
পড়ে চমকে উঠল আহমদ মুসা। এটা ব্ল্যাক ক্রসের কোন ঠিকানা? কাগজের এই কভারে করে সেখানে কোন কিছু এসেছিল? অথবা ব্ল্যাক ক্রসের ঘাঁটি থেকে কেউ এই কভারে করে কোন কিছু ঐ ঠিকানায় পাঠাচ্ছে? কোনটি ঠিক? এই প্রশ্নের সমাধানের একটা উপায় চিন্তা করল আহমদ মুসা।
লোকটির কথার জবাব দিতে সে বলল, ‘ধন্যবাদ। ঘটনা যাই হোক। একজন ভদ্রলোকের সাথে ভালো আচরণ করতে পারতেন আপনারা।’
‘আমরা খুব খারাপ কিছু করেছি?’ বলল সেই সর্দার গোছের সেই লোকটি।
‘গাড়ি সম্পর্কে আপনারা অশোভন আচরণ করেছেন। আমি ওদিক দিয়ে ‘রো আনাতল ডেলা ফর্গে” যেতে পারতাম। উল্টো আমাকে এখানে আবার ফিরে আসতে হবে।’
কথাটা বলে মনে মনে খুব খুশি হলো আহমদ মুসা। ওদেরকে তাদের ঠিকানা সম্পর্কে কথা বলতেই হবে এবার ।
কথা বললও তারা ।
আহমদ মুসা কথাটা বলার সাথে সাথে চমকে উঠে সেই সর্দার গোছের লোকটা আহমদ মুসার দিকে ফিরে বলল, ‘আপনি রো আনাতল ডেলা ফর্গে থাকেন?’ গাড়ি তখন সার্ভিস সেন্টার থেকে বেরিয়ে অনেক দূর এগিয়ে এসেছিল। দ্রুত চলছিল গাড়ি।
‘হ্যাঁ। চেনেন ওদিকটা?”
‘চিনব না কেন? আমরা তো ঐ রোডেই থাকি।
‘আপনারা সবাই?” যেন খুশি হয়ে-আহমদ মুসা বিস্তারিত জানার লক্ষ্যে প্রশ্ন করল।
‘সবাই বলতে পারেন।
“ওখানে আপনাদের অফিস, না বাসা?”
“অফিস। বাসাও আছে।’
আহমদ মুসা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। নিশ্চিত হলো সে, ২১১ রো আনাতল ওদের একটা ঘাঁটির ঠিকানা।
দ্রুত চিন্তা করছিল আহমদ মুসা। ভুয়া ঠিকানাটা নির্মানাধীন একটা সরকারি ভবনের। ওখানে পৌঁছলে তাকেই অসুবিধায় পড়তে হবে। সুতরাং অবিলম্বে এদের আটকাতে হবে এবং তাকে ওদের রো আনাতল-এর ঘাঁটিতে পৌঁছতে হবে।
গাড়ি তখন ‘লিটল ইল ডেলা সাইট’ নামক বিখ্যাত পার্কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
সেদিকে একবার তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘পার্কে একটু গাড়ি দাঁড় করান, আমাকে একটু টয়লেট করতে হবে।
সর্দার গোছের লোকটি আহমদ মুসাকে কি যেন বলতে শুরু করেও থেমে গিয়ে ড্রাইভ যে করছিল তার দিকে ফিরে বলল, “ঠিক আছে দাঁড় করাও। ’ গাড়ি পার্কে প্রবেশ করল।
বিশাল পার্ক। দিনের অফিস চলাকালীন এ সময়ে পার্কে লোক থাকে না বললেই চলে।
পার্কে কিছু পাবলিক টয়লেট আছে। টয়লেটগুলো একটা করে যেন সবুজ দ্বীপ। টয়লেট ঘিরে সবুজ ঝোপ সৃষ্টি করা হয়েছে। মাঝখানে টয়লেট বিল্ডিং। টয়লেটগুলো আসলে বিশ্রাম কেন্দ্রও। একটা টয়লেটের মাঝে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করানো হলো। আহমদ মুসা গাড়ি থেকে নেমে টয়লেটে প্রবেশ করল।
আহমদ মুসা নেমে যেতেই সর্দার গোছের সেই লোকটি অন্যদের বলল, ‘তোমরা ভেতরে যাও। সাবধানের মার নেই। ‘
ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটিসহ ওরা তিনজন গাড়ি থেকে নেমে আহমদ মুসার পিছু পিছু টয়লেটে ঢুকে গেল।
আহমদ মুসা টয়লেটে ঢুকে দাঁড়িয়েছিল। টয়লেটের বারান্দায় ওদের তিনজনকে উঠে আসতে দেখে আহমদ মুসা দরজার আড়ালে দাঁড়াল।
ওদের চারজনকেই আহমদ মুসা টয়লেটে আশা করছিল। তার হিসেব মেলেনি। সর্দারটাই আসেনি। এর অর্থ তার ওপর সর্দার লোকটির সন্দেহটা খুব পাকাপোক্ত নয়।
ওরা তিনজন হুড়মুড় করে টয়লেটে প্রবেশ করল।
সংগে সংগেই আহমদ মুসা পেছন থেকে দরজা বন্ধ করে রিভলবার বের করে হাতে নিল।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে ওরা তিনজনই ঘুরে দাঁড়াল।
উদ্ধত রিভলবার হাতে আহমদ মুসাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওরা ভূত দেখার মত আঁৎকে উঠল।
আহমদ মুসা বলল, “তিনটা গুলী ছুঁড়তে এক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না। রিভলবারে সাইলেন্সার আছে। আপনারা খুন হলে কেউ জানতে পারবে না। ত
বলে আহমদ মুসা বাম হাত দিয়ে পকেট থেকে পেস্টিং টেপের একটা রোল সামনের লোকটার হাতে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, “তুমি ঐ দু’জনকে পিছমোড়া করে হাত-পা বেঁধে ফেল।
ইতস্তত করছিল লোকটা।
আহমদ মুসা ট্রিগার টিপল রিভলবারের। নিঃশব্দে একটা গুলী লোকটার মাথার হ্যাট উড়িয়ে নিয়ে গেল। বলল আহমদ মুসা, ‘দ্বিতীয় গুলী তোমার কপাল ফুটো করে দেবে।’সংগে সংগেই লোকটা কাজে লেগে গেল। বেঁধে ফেলল দু’জনকে। পরে আহমদ মুসা অবশিষ্ট লোকটাকে বেঁধে দরজা লক করে বেরিয়ে এল।
আহমদ মুসা টয়লেট বুশ থেকে বেরুতে বেরুতে দেখল সেই সর্দার লোকটা গাড়ি থেকে বেরিয়ে বুশের দিকে এগিয়ে আসছে।
আহমদ মুসার দিকে এক পলক তাকিয়েই জিজ্ঞেস করল, “ওরা কোথায়?”
‘কেন টয়লেটে?”
‘তিনজন টয়লেটে কি করছে?’ তার চোখে-মুখে সন্দেহ।
“যে জন্যে ওরা গেছে টয়…। ‘
আহমদ মুসা কথা শেষ করার আগেই সর্দার সেই লোকটা তার পকেটে রাখা হাতটা বের করে আনল। হাতে রিভলবার। আহমদ মুসা কথা শেষ না করেই লোকটার পকেট থেকে বেরিয়ে আসা রিভলবার ধরা হাতটির ওপর এক লাথি ছুঁড়ে মারল।
লোকটা প্রস্তুত ছিল না এর জন্যে। আচমকা লাথি খেয়ে হাত থেকে রিভলবার ছিটকে পড়ে গেল।
মুহূর্তের জন্যে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল লোকটা। কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল আহমদ মুসার ওপর।
প্রায় সাড়ে ছয়ফুট লম্বা বিশাল বপু লোকটা আছড়ে পড়ল মাটিতে আহমদ মুসাকে নিয়ে। লোকটা দু’হাতে গলা চেপে ধরেছিল আহমদ মুসার।
দু’পা গুটিয়ে চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিল আহমদ মুসা। পড়ে যাবার পর জোড়া দু’টি পা লোকটির কোমরে গেঁথে ছুঁড়ে দিল তার দেহের পেছনের অংশকে। লোকটার দেহ উল্টে গিয়ে ছিটকে পড়ল আহমদ মুসার মাথার ওপাশে।
তার হাতটা নেমে গেল আহমদ মুসার গলা থেকে।
লোকটার দেহ ছুঁড়ে দেবার পর আহমদ মুসা নিজের দেহকে উল্টো মুখে
ছুঁড়ে দিল একজন অতি দক্ষ এ্যাক্রোব্যাটের মত। আহমদ মুসা গিয়ে পড়ল লোকটার ওপর। লোকটা তখন মাথা তুলছিল। আহমদ মুসা গিয়ে তার ওপর পড়ায় তার মাথাটা আবার নিচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু সক্রিয় হয়ে উঠেছিল তার হাতটা। তার ডান হাতের প্রচণ্ড একটা ঘুষি ছুটে গেল আহমদ মুসার চোয়াল লক্ষ্যে।
আহমদ মুসা মাথা সরিয়ে এবং বাম হাত দিয়ে ঘুষিটা ঠেকিয়ে ডান হাত দিয়ে পাল্টা ঘুষি চালাল লোকটার কানের পাশের নরম জায়গাটায়।
পাল্টা আক্রমণ এল না লোকটার দিক থেকে। দেখল লোকটা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছে।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়িয়ে লোকটাকে টেনে বুশ টয়লেটের ভেতর নিয়ে একটা টয়লেটে ঢুকিয়ে লক করে বেরিয়ে এল।
এসে উঠল গাড়িতে।
ছুটতে শুরু করল গাড়ি ‘রো আনাতল ডেলা ফর্গে’র ব্ল্যাক ক্রসের আস্তানার দিকে।
এলাকাটা অনেক দূর।
বেশ সময় লাগল পৌঁছতে।
২০৯ নাম্বার বাড়ির সামনে একটা কার পার্কিং-এ গাড়ি দাঁড় করিয়ে আহমদ মুসা হেঁটে এগিয়ে চলল ২১১ নাম্বার বাড়ির দিকে। গাড়ি ২১১ নাম্বারে না নিয়ে যাবার কারণ ব্ল্যাক ক্রসের গাড়ি থেকে সে নামলে শুরুতেই ওরা তাকে সন্দেহ করে বসবে।
২১১ নাম্বার একটা তিনতলা বাড়ি। এলাকাটা পুরানো প্যারিসের একটা অংশ। দেয়াল ঘেরা বাড়ি। গেট পেরুলেই ছোট্ট সবুজ চত্বর। তারপর উঁচু বারান্দা। বারান্দার পরেই একটা দরজা। দরজা দিয়ে যে ঘরে প্রবেশ করা যায়, সেটা একটা বড় হলঘর বলে মনে হয়। দরজার দু’পাশে দুটি জানালা। জানালা দুটি খোলা। দরজা বন্ধ।
বন্ধ দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল আহমদ মুসা। ধীরে ধীরে চাপ দিল দরজায়। দরজা বন্ধ।
দরজায় নক করল আহমদ মুসা। হাতে তুলে নিল রিভলবার।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!