বিপর্যয় – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৮
বিপর্যয় – বইটির এক ঝলকঃ
সাথে সেঁটে আছে, খুলির সাথে জোড়া লাগানো বলে সন্দেহ হয়। সবুজ একটা ওভারঅল পরে আছে, তাতে অ্যান্টিসেপটিক ওষুধের গন্ধ ।
‘আরও ব্র্যান্ডি দাও, কার্ল।
‘ইয়েস, স্যার।’
‘খবর শুনেছ?’ ডেস্কের ওপর দুম করে একটা ঘুসি বসিয়ে দিল ম্যাক্স মরলক। ‘জিলার আর তার স্পেশাল সেল কাজটা লেজেগোবরে করে ছেড়েছে। সম্ভবত সেন্ট গ্যালেনে পৌঁছে গেছে মাসুদ রানা। গড়—।’
“তা পৌঁছুক, শান্তভাবে বলল কুঁজো কার্ল। প্রভুকে মনে করিয়ে দিল, ‘এর আগেও এক বাঙালকে আমরা সামলেছি, তাই না, হুজুর? *
ম্যাক্স মরলকের বয়স ষাট, মাথায় মেহদি রঙের চুল। মুখে বয়সের ভাঁজগুলো এমন কদর্যভাবে ফুটে আছে, দেখে মনে হয় লম্পট। ঘন, হিটলারি গোঁফ, মাথার চুলের সাথে মেলানো রঙ। ঝাড়া ছয় ফিট লম্বা, শক্ত-সমর্থ গড়ন, শরীরে এক ছটাক বাড়তি চর্বি নেই। লন্ডনে তৈরি লেদার জ্যাকেট পরে আছে সে। ট্রাউজারের নিচের অংশ রাইডিং বুটের ভেতর গোঁজা। যুদ্ধ পরবর্তী জার্মানীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন সে, অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পপতি।
ইলেকট্রনিক্স সবে যখন বাজারে আসতে শুরু করেছে তখন থেকে এই ব্যবসার সাথে জড়িত মরলক। দূরদৃষ্টির সাহায্যে সে বুঝতে পেরেছিল, দিনে দিনে এই ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠবে। তার হেডকোয়ার্টার স্টুটগার্টে, তার দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স রয়েছে ফীনিক্স, আরিজোনায়। সদ্য ভরা গ্লাসে চুমুক দিল সে, তাকিয়ে থাকল কার্লের পলকহীন চোখের দিকে।
‘হ্যাঁ,’ বলল মরলক, ‘এই লোকটাকেও আমরা উচিত শিক্ষা দেব। লোকজন নিয়ে সেন্ট গ্যালেনে যাচ্ছে জিলার। রাত শেষ হবার আগেই লাশ হয়ে যাবে ব্যাটা। জুলি ডায়ানা—সুইস ডাইনীটাকে আগেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার কণ্ঠস্বর চড়ল, লাল টকটকে হয়ে উঠল চেহারা। ‘অপারেশন ক্রাউনের সামনে কোন বাধা থাকা চলবে না! জুনের তিন তারিখটা ভারি গুরুত্বপূর্ণ সেদিন সামিট এক্সপ্রেস জার্মানী পেরোবে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ চার তারিখটা। কেন?’ ‘রাজ্য নির্বাচন।’
‘ক্ষমতায় বসবে ডেল্টা…।’ আশায়, উত্তেজনায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল ধনকুবের ম্যাক্স মরলকের চেহারা।
রাতের ট্রেন থেকে সেন্ট গ্যালেনে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে নামল রানা, কেউ ওকে অনুসরণ করেনি। জুরিখে ট্রেন ছাড়ার আগের মুহূর্তে কমপার্টমেন্টে উঠেছিল ও উঠে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে নিয়েছিল আর কেউ ওঠেনি। গোটা ট্রেন প্রায় খালিই ছিল, প্যাসেজ ধরে ফার্স্ট ক্লাস কমপার্টমেন্টে যাবার সময় দু’পাশের দরজা খুলে একবার করে উঁকি দিয়ে নিয়েছিল। সন্দেহজনক কাউকে নজরে পড়েনি। পরম স্বস্তির সাথে সেন্ট গ্যালেনে পৌঁছুল ও ।
সেন্ট গ্যালেনে থামল ট্রেন, কিন্তু সাথে সাথে নামল না রানা। প্রায় ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে সবার শেষে নামল ও। রাত তখন গভীর। সুটকেস হাতে স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে এল ও। জুলি ডায়ানা যেমন বলেছিল, হোটেল এমব্যাসী স্টেশনের দিকে মুখ করে আছে।
নিজের পরিচয় দিতেই রিজার্ভেশন সম্পর্কে ওকে নিশ্চিত করল নাইট পোর্টার। রুমের ভাড়া জেনে নিয়ে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করল রানা, মোটা বকশিশ দিল। দু’রাতের ভাড়া দিলাম, বাকিটা তোমার। আমি এত ক্লান্ত যে দাঁড়াবার শক্তি নেই। ফর্ম পূরণ করব সকালে। আমার জন্যে কোন মেসেজ আছে কিনা, জানো?
*শুধু একটা এনভেলাপ —।’
মোটা বকশিশে কাজ হয়েছে. ফর্ম পূরণের জন্যে জেদ ধরল না নাইট পোর্টার। সুইস সরকারের কড়া নির্দেশ, হোটেলে কেউ উঠতে চাইলে প্রথমেই তার নাম রেজিস্ট্রি করতে হবে। মোট তিনটে ফর্ম থাকে, কয়েক ঘণ্টা পর পর পুলিসের লোকেরা এসে নিজেদের কপিটা নিয়ে যায়। ফর্ম পূরণ না করে সেন্ট গ্যালেনে নিজের উপস্থিতি অন্তত চব্বিশ ঘণ্টার জন্যে গোপন রাখল রানা।
নিজের রূমে ঢুকে দরজা বন্ধ করল ও, তারপর এনভেলাপটা খুলল। একটা কাগজে ঝরঝরে মেয়েলি হস্তাক্ষরে লেখা রয়েছে- রূম থারটিন। আনলাকি থারটিন?
পাশের রুমটাই তেরো নম্বর। দরজা খুলে প্যাসেজে বেরিয়ে এল রানা। কেউ কোথাও নেই। পাশের কামরার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মৃদু নক করল। বোধহয় দরজার কাছে অপেক্ষা করছিল মেয়েটা, সাথে সাথে খুলে গেল কবাট। ভেতরে ঢুকল রানা, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিল মেয়েটা। তার ডান হাতে একটা তোয়ালে ঝুলছে।
‘আমাদের বন্ধুর নাম?’
এডগার হোফার, এত কিছুর পরও।
‘বিরক্ত হচ্ছ কেন?’ জিজ্ঞেস করল মেয়েটা। ‘চেক করতে দোষ কি? তোমাকে অবশ্য আমি জানালা দিয়ে আসতে দেখেছি—।
‘দুঃখিত,’ বলল রানা। ‘খুব ক্লান্ত কিনা, মেজাজের অবস্থা ভাল না। খিদেও পেয়েছে, প্লেনে থাকতে সেই দুপুরবেলা খেয়েছি…।
“ক্লান্ত সে তো দেখতেই পাচ্ছি,’ বলল মেয়েটা। ইঙ্গিতে বিছানাটা দেখাল রানাকে। ‘কাপড় খোলার দরকার নেই, শুয়ে পড়ো তুমি।’ ডাবল বেডের কিনারায় বসল সে, তোয়ালেটা চেয়ারের পিঠে রাখল। হাতে দেখা গেল একটা নাইন এম এম পিস্তল, এতক্ষণ তোয়ালের আড়ালে লুকানো ছিল। দুটো বালিশের একটার তলায় পিস্তলটা রেখে দিল সে।
অপর বালিশটা নিয়ে জানালা আর মেয়েটার উল্টো দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ল রানা ।
“তোমাকে কি খেতে দিই বলো তো? ঠাণ্ডা পানি ছাড়া কিছুই নেই ঘরে :: ‘তাই দাও এক বোতল।’ সরাসরি বোতল থেকে পানি খাবার সময় মেয়েটাকে ভাল করে দেখল রানা। জুলি ডায়ানা?
চেহারার বর্ণনার সাথে কোথাও কোন অমিল নেই। লম্বায় মেলে, ওজনও সম্ভবত মিলবে। ঘন কালো চুল, কাঁধ পর্যন্ত লম্বা। বেডসাইড ল্যাম্পের মৃদু আভায় চোখ দুটো নীল বলেই মনে হলো। ‘আমার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নাও…।’ বলে পকেট থেকে পাসপোর্টটা বের করে ছুঁড়ে দিল রানা মেয়েটার দিকে। বোতলটা খালি করে হাত বাড়িয়ে রাখল নিচু তেপয়ে। নিজের অজান্তেই বুজে এল চোখ। ভীষণ ক্লান্তি লাগছে।
ঘুমে বাধা দিল মেয়েটা। রানাকে সে তার আইডেনটিটি কার্ড দেখাতে চাইছে। একটা অলস হাত নেড়ে কার্ডটা সরিয়ে দিল রানা। কি এসে যায়! ডেল্টা নকল একজনকে পাঠিয়েছিল জুরিখে—রিয়া বেকারকে। আরেকটা মেয়েকে উদ্ধার করেছে রানা, জুলি ডায়ানার চেহারার বর্ণনার সাথে তার চেহারারও হুবহু মিল ছিল। মাথার ভেতর আবার সব তালগোল পাকিয়ে গেল ।
তবে এই মেয়েটা, মন বলছে, নকল নয়। ঘুমিয়ে পড়ার আগে এটাই ছিল রানার শেষ চিন্তা।
সতর্ক একটা অনুভূতি নিয়ে জেগে উঠল রানা। চারদিকে গভীর অন্ধকার, দম বন্ধ করা পরিবেশ। ঠিক কোথায় রয়েছে ধারণা করতে পারল না ও। অল্প সময়ের ভেতর অনেক কিছু ঘটে গেছে, হিসেব মেলানো কঠিন। একটা বিছানায় শুয়ে রয়েছে ও। তারপরই সব মনে পড়ে গেল ।
পেশীতে ঢিল পড়ছে, এই সময় আবার সচকিত হয়ে উঠল রানা। কে যেন তার টাই খুলে নিয়েছে । আগের মতই নিয়মিত নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল, আশপাশে কেউ থাকলে তাকে সতর্ক করতে চায় না। একটা হাত দিয়ে গলা স্পর্শ করল রানা। কে যেন তার শার্টের বোতাম খুলে ফেলেছে, জুতো জোড়াও নেই পায়ে। ঘামতে শুরু করল ও। বাঁ দিকের বগলের তলাটা হালকা হয়ে গেছে, হোলস্টারটা আছে কিন্তু কোল্টটা নেই। ধীরে ধীরে মাথা ঘোরাল ও, কোন শব্দ করল না। ডান হাতটা বাড়াল। নরম কার যেন একটা হাত, আঙুলে আঙুল ঠেকল। হাতটা সরিয়ে নেবে, এই সময় ওর কজি চেপে ধরল কেউ। বৈডসাইড ল্যাম্পটা জ্বলে ওঠার আগে ফিসফিস করে কথা বলল মেয়েটা।
‘অস্থির হয়ো না। সেন্ট গ্যালেনের হোটেল এমব্যাসীতে রয়েছ তুমি। আমি জুলি ডায়ানা। ভোর চারটে, মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমিয়েছ তুমি।’
‘ধন্যবাদ।’ রানা এখন সম্পূর্ণ সজাগ। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে ওর। উঠে বসল ও, পিঠে একটা বালিশ দিল। মান ধূসর রঙের টু-পীস স্যুটটা এখনও পরে রয়েছে জুলি ডায়ানা । ওর উল্টো দিকে, ওরই মত পিঠে বালিশ দিয়ে বসে রয়েছে বিছানায়। আলোর মৃদু আভায় রানা লক্ষ করল, চুলে চিরুনি বুলিয়েছে মেয়েটা, চোখ-মুখে তাজা একটা ভাব।
‘তোমার কোল্টটা তেপয়ে, পাশেই, রানাকে বলল সে। ‘শুতে কষ্ট হচ্ছিল দেখে বের করে রেখেছি ওখানে। দরজায় দুটো তালা দেয়া আছে। সাবধানের মার নেই, হাতলের তলায় একটা চেয়ার ঠেকিয়ে রেখেছি—।’
“বডিগার্ডের চাকরি চাও?’
জুলি ডায়ানা হাসল। ‘বড় একঘেয়ে কাজ। প্রাইভেট সেক্রেটারির পদটা খালি
আছে কিনা বলো। মেয়েটাকে খুঁটিয়ে দেখল রানা। জুরিখের সেন্ট্রালহফ অ্যাপার্টমেন্ট কাবার্ডের ভেতর থেকে যে মেয়েটাকে উদ্ধার করেছিল ও, হুবহু তারই মত দেখতে সে। কিন্তু সে তো কিডন্যাপ হয়ে গেছে…।
‘কি ভাবছ?’ জিজ্ঞেস করল ডায়ানা ।
‘বলো তো, এটা কি জিনিস? পকেট থেকে ডেল্টা ব্যাজটা বের করে মেয়েটার দিকে ছুঁড়ে দিল রানা।
সাপ দেখার মত আঁতকে উঠে ব্যাজটার কাছ থেকে সরে গেল ডায়ানা । চোখ দুটো আতঙ্কে বিস্ফারিত হয়ে উঠল। “এটা তুমি কোত্থেকে পেলে?’ বেসুরো গলায় জানতে চাইল সে। বালিশের তলা থেকে বেরিয়ে এল তার একটা হাত, নাইন এম এম পিস্তলটা সরাসরি রানার পেট লক্ষ্য করে ধরল।
“কি হলো! ব্যাজটা দেখে ভয় পেলে নাকি?’
‘এখন তোমাকে আমার ভয় করছে। সাবধান, কোন রকম চালাকি কোরো না।’
হাত দুটো সাবধানে ভাজ করে কোলের ওপর, মেয়েটার চোখের সামনে রাখল রানা। তেপয়ের ওপর কোল্টটা রয়েছে, সেদিকে একবার তাকাল না পর্যন্ত । মেয়েটার চেহারা দেখেই বুঝে নিয়েছে, গুলি করতে ইতস্তত করবে না।
‘কাল রাতে ব্যানহফস্ট্রাসে এক লোককে গুলি করি আমি, শান্ত সুরে বলল রানা। ‘তার কোটের সামনে পিন দিয়ে আটকানো ছিল ব্যাজটা। ওরা আমাদের জন্যে ট্রাম স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিল—ডেল্টা। মুখোশ পরা গুণ্ডাপাণ্ডা নয়, বিজনেস স্যুট পরা ভদ্রলোক। রক্তে ভেসে গেল রাস্তা আর ফুটপাথ, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে জায়গাটা আর চিনতে পারলাম না। জুরিখ ট্যুরিস্টদের শহর, তারা যাতে কিছু টের না পায় সেজন্যে তাড়াহুড়ো করে…।’
রানাকে বাধা দিয়ে মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, ‘ওরা তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিল মানে? রক্তে ভেসে গেল মানে?’
‘আমার সাথে আরেক জুলি ডায়ানা ছিল,’ বলল রানা। তারপর পাল্টা প্রশ্ন করল ও, সেন্ট্রালহফে তোমার সাথে আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল, কিন্তু তুমি ছিলে না—কেন?’
‘বাবুল আখতার মারা যাবার পর আমার বস্ জোসেফ হুগি ডেল্টা ইনভেস্টিগেশন থেকে আমাকে সরিয়ে নিতে চাইছিলেন, তাই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাই আমি। কথা ছিল পলিন তোমাকে এখানে আমার কাছে নিয়ে আসবে।’ ‘পলিন?’
‘পলিন ইউরোপা… ‘
‘পলিন কি জোসেফ হুগিকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে?’
‘না, আমার বসের সাথে তার পরিচয় নেই। কেন?”
‘জোসেফ হুগির চেহারার বর্ণনা কি এরকম?’ ভদ্রলোকের চেহারার বর্ণনা দিল রানা ।
দ্রুত, ঘন ঘন মাথা নাড়ল জুলি ডায়ানা। ‘মোটেও না।’
‘তাহলে আমার সন্দেহই ঠিক,’ বলল রানা। ‘তার পরিচয় নিয়ে ভুয়া এক লোক অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিল। পলিনকেও আমার সন্দেহ হয়, কারণ তোমার বসের ফোন নম্বর জানতে চাইলে নোটবুক খুলতে হয় তাকে। ভুয়া জোসেফ হুগি নিশ্চয়ই আমি আসার আগে ফোন করেছিল পলিনকে, এবং সম্ভবত কোন অজুহাত দেখিয়ে বলেছিল দরকার হলে বিশেষ একটা নম্বরে ফোন করতে হবে, নম্বরটা পলিন নোটবুকে টুকে রাখে।’ একটু থেমে সাবধানে জানতে চাইল ও, ‘মেয়েটা কে, এই পলিন ইউরোপা?’
‘ওর বিয়ের আগে আমরা দু’জনেই এডগার হোফারের আন্ডারে পুলিস ইন্টেলিজেন্সে কাজ করতাম। একটা ঘটনা বলি তাহলে বুঝবে দু’জনের চেহারার মিল কি রকম। একবার একই পোশাক পরে মি. হোফারের অফিসে যাই আমরা, খানিক পর পর। মি. হোফার ধরতে পারেননি। আমরা বলার পর তিনি রেগে আগুন হয়ে যান। তুমিও যে বোকা বনেছ তাতে আর আশ্চর্য কি?’ হাসতে হাসতে পিস্তলটা আবার বালিশের তলায় রেখে দিল ডায়ানা ।
চিন্তিতভাবে একটা সিগারেট ধরাল রানা।
সামনের দিকে ঝুঁকে ডায়ানা বলল, ‘এবার বলো, কোথায় পলিন? সে এখান থেকে আবার জুরিখে ফিরে গেছে?’
“আগে বলো সে তোমার কে?
হাসতে লাগল ডায়ানা। ‘না, তুমি যা ভাবছ তা নয়। পলিন আর আমি যমজ নই। ও আমার ছোট।’
‘তোমার ছোট… কি?’
‘চেহারার মিল দেখেও বুঝছ না? পলিন আমার ছোট বোন!
রানা এজেন্সির লন্ডন শাখার অফিসে বসে একটা ফাইল দেখছেন মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান, এই সময় ভীতিকর খবরটা নিয়ে ভেতরে ঢুকল সোহানা চৌধুরী।
লন্ডন শাখায় এর আগে কখনও কাজ নিয়ে বসেননি রাহাত খান, কাজেই ফাইল-পত্র কোথায় কি রাখা হয় তা তিনি জানেন না, সেজন্যেই সোহানাকে জরুরী খবর পাঠিয়ে মিশর থেকে আনিয়ে নিয়েছেন তিনি, তাঁর প্রাইভেট সেক্রেটারি ইসেবে দায়িত্ব পালন করবে সে।
দরজা খোলার আওয়াজ হলো, পায়ের শব্দও শুনলেন রাহাত খান, কিন্তু মুখ তুলে তাকালেন না।
‘স্যার, ব্যারিউথ থেকে এইমাত্র এল এটা…।’
মুখ তুলে সোহানার হাতে একটা কাগজ দেখলেন রাহাত খান। হাত বাড়িয়ে নলেন সেটা, চোখ বুলালেন। সোহানা ফিরে যাচ্ছে দেখে ডাকলেন, ‘বসো।’
ব্যারিউথ! জায়গাটার নাম পড়েই কাঁচাপাকা ভুরু কুঁচকে উঠল রাহাত গানের। মনের ভেতর বেজে উঠল সতর্ক সঙ্কেত। দেরাজের তালা খুলে কোড- [কটা বের করলেন তিনি। কাগজের লেখাগুলো দুর্বোধ্য কিছু নয়, যে-কেউ পড়তে ধীরবে- বিশেষ একটা কার্গো। জাহাজে তোলার ব্যাপারে ব্যবসায়িক নির্দেশ াওয়া হয়েছে।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!