ভারত অভিযান ২য় খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ শহীদুল ইসলাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৩৭
ভারত অভিযান ২য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
নগরকোট ছিলো হিন্দুস্তানের এক বিখ্যাত দুর্গ। সেই যুগ ছিল দুর্গ শাসনের। নগরকোট দুর্গের ভগ্নস্তূপ এখনও বিদ্যমান। তৎকালীন হিন্দুস্তানের দুর্গগুলো একটির চেয়ে আরেকটি ছিলো নানা কারণে বৈশিষ্ট্যের দাবীদার। বিখ্যাত নগরকোট দুর্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো এর শক্ত কাঠামো, বিশাল বিস্তৃতি। মধ্যে অবস্থিত বিশাল মন্দিরটি ছিলো নগরকোট দুর্গের প্রধান আকর্ষণ। মন্দিরটিই ছিলো দুর্গের ভেতরে আরেক দুর্গসম। মন্দিরের মধ্যে অসংখ্য কক্ষ ছিলো। ভেতরে ঢুকলে অচেনা মানুষ হারিয়ে যেতো। মন্দিরের ভেতরে ছিলো গোপন কক্ষ, সুড়ঙ্গ পথ। নগরকোট মন্দিরের মধ্যে ঘোড়া হাতি হারিয়ে গেলেও খুঁজে পাওয়া ছিলো দুষ্কর। বিশাল এই মন্দিরের নিরাপত্তার জন্যে এটিকে ঘিরে তৈরি হয় বিশাল দুর্গ। যা তৎকালীন মহাভারতের দুর্গগুলোর মধ্যে ছিলো অন্যতম।
এই দুর্গ ছিলো মহাভারতের বিখ্যাত শহর কাংরার নিকটবর্তী একটি পাহাড়ের উপর। পাহাড়ের উপর থাকার কারণে এটি ছিলো সুরক্ষিত। এই দুর্গে আক্রমণ করতে হলে পাহাড়ের উপর উঠতে হতো। দুর্গে অবস্থানরত নিরাপত্তা রক্ষীরা পাহাড়ের উপর থেকে তীর ছুঁড়ে এবং বড় বড় পাথর গড়িয়ে দিয়ে যে কোনো হামলাকারীকেই পরাস্ত করে দিতো। যার ফলে কারো পক্ষে এই দুর্গ দখল করা ছিলো দুষ্কর।
সুলতান মাহমুদ গজনবী যখন পেশোয়ার, বেড়া ও মুলতান দখল করে নিলেন তখন মহাভারতের হিন্দু রাজা-মহারাজাদের টনক নড়ে। তাদের কাছে মনে হলো, বিজয়ী সুলতান মাহমূদ মূর্তিপূজারী ভারতের বুকে খঞ্জর বিদ্ধ করেছেন। সুরক্ষিত হওয়ার ফলে নগরকোট মন্দিরের গুরুত্ব আরো বেড়ে গেলো । মন্দির যেমন ছিলো গুরুত্বপূর্ণ তদ্রূপ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণও ছিলো হিন্দুদের কাছে পূজনীয়। নগরকোট মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধাকৃষ্ণ কট্টর ব্রাহ্মণ ।
রাজা-মহারাজারা শাসন করতো নিম্নবর্ণের হিন্দুদের, আর পুরোহিত রাধাকৃষ্ণ শাসন করতো রাজা-মহারাজাদের। অবতারের মতোই সকল বর্ণের হিন্দু রাধাকৃষ্ণকে সম্মান করতো, তার পায়ে মাথা ঠুকে প্রণাম জানাতো। সাধারণত মন্দিরে যেসব ঘটনা ঘটে থাকে, নগরকোট মন্দিরে সেসব কখনো ঘটতো না। পুরোহিত রাধাকৃষ্ণ নগরকোট মন্দিরে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলো যে, সেখানে হিন্দু পূজারীরা পূজা-পার্বন ছাড়া অন্যকিছু ভাবতেও পারতো না। নগরকোট মন্দিরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর পূজারীদের যাতায়াত ছিলো বটে, কিন্তু কোনো নারীর পক্ষে কোনো পণ্ডিতের সংস্পর্শে আসার অনুমতি ছিলো না এবং নারী-পুরুষ একত্রে পূজায় শরীকও হতে পারতো
न।
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর পূজারী পুরোহিত রাধাকৃষ্ণের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে চাইতো, কিন্তু পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ কোনো নারীকে শরীর স্পর্শ করতে দিতো না। নারী, শিশু, কিশোরী, যুবতী আর বৃদ্ধ যাই হোক না কেনো, কারো পক্ষেই প্রধান পুরোহিত রাধাকৃষ্ণের কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিলো না। সে নারী সংস্পর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখাকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বলে বিশ্বাস করতো।
মন্দিরে বড় পুরোহিত রাধাকৃষ্ণের আরো কয়েকজন সহকারী পুরোহিত ছিলো। নারীর সংস্পর্শ থেকে তাদেরকে রাধাকৃষ্ণ দূরে থাকার জন্যে নির্দেশ দিতো। কঠোরভাবে তাদেরকে নারী সঙ্গ থেকে দূরে রাখতো। রাধাকৃষ্ণ মনে করতো, নারীই পৃথিবীতে সকল অনিষ্টের মূল। পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ বিশ্বাস করতো, নারীর মধ্যে এমন জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে, সে জাদু যদি কোনো পুরুষকে পেয়ে বসে তাহলে সেই পুরুষ আর কোনো ভালো কাজ করতে পারে না। সে পাপ ছাড়া ভালো কিছুর কথা ভাবতেও পারে না ।
এই বিশ্বাস থেকে রাধাকৃষ্ণ যৌবনে সংসার ত্যাগ করে হিমালয় পাহাড়ের কোলে হিন্দুদের পবিত্র গঙ্গা নদীর উৎসস্থলে চলে গিয়েছিলো। দীর্ঘ পনের বছর রাধাকৃষ্ণ বিজন প্রান্তরে দেব-দেবীর পূজা করে কাটিয়েছে। ততোদিনে তার রিপু তাড়না মরে যায়। তার মনে কোন কামনা-বাসনা আর বাকি থাকেনি। দীর্ঘ সাধনার পর গঙ্গা প্রবাহের পথ ধরে লোকালয়ে এগুতে থাকে রাধাকৃষ্ণ । নগরকোটে পৌঁছে পাহাড়ের উপর এ বিশাল মন্দির দেখে স্থানটি তার কাছে খুবই ভালো লাগে। মন্দিরের সেবায় লেগে যায়। এক পর্যায়ে কঠোর সাধনাবলে নিজেকে উন্নীত করে প্রধান পুরোহিতের মসনদে।
প্রধান পুরোহিত রাধাকৃষ্ণের বয়স এখন ষাটের কাছাকাছি। এতোগুলো বছর পাড়ি দিয়ে এলেও তার চেহারা-শরীরে বয়সের ছাপ পড়েনি। শরীরের শক্ত বাঁধনের ফলে চেহারার কোথাও বলিরেখা দখল পায়নি। নিরামিশভোজী রাধাকৃষ্ণ কোনো জীবজন্তুর গোশত ভুলেও আহার করে না। পূজা-পার্বন আর সেই ভোরবেলায় গঙ্গাজলে স্নান শীত-বর্ষা-হেমন্ত কোনো ঋতুতেই বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে চলার কারণেই নগর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হিসেবে সবাই তাকে বরণ করেছে। সাধারণ হিন্দুদের কাছে সে শুধু মন্দিরের পুরোহিতই নয়, এক জ্যান্ত দেবমূর্তিও।
তার হাঁটা-চলা, চাহনী, বলায় রয়েছে দারুণ সম্মোহনী শক্তি। রাজা-মহারাজাদের চেয়েও তার চলন-বলনে রয়েছে ঐশ্বর্যের বহিঃপ্রকাশ। সে গর্বভরে সবাইকে বলতো, দুনিয়ার খেল-তামাশা, আমোদ-প্রমোদ, নারীর স্পর্শ থেকে আমার দেহ-মন পবিত্র। তাই শত বছর পর্যন্ত আমার শরীর এমনই থাকবে। সে গর্ব করে বলতো, যে তার দেহ-মনকে পবিত্র করে নিতে পারে, তার শরীর সবসময় থাকে তরতাজা। জগতের রোগ-শোক জড়া তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
মহাভারতের হিন্দু ধর্মীয় অঙ্গনে সে ছিলো একটা স্তম্ভ। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ ও মহাভারত ছিলো তার কণ্ঠস্থ। তার ভাষায় ছিলো জাদুকরী ক্ষমতা । মানুষ তাকে বাস্তব অবতার বলে পূজা করতো। ভাবতো, নগরকোট মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সনাতন ধর্মের বাস্তব নতুনা। রাজা-মহারাজাদেরকে সে দাপটের সাথে শাসন করতো। যেসব রাজা-মহারাজাকে সাধারণ প্রজারা পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতো, সেসব রাজা-মহারাজা তার পায়ে মাথা ঠুকে প্রণাম জানাতো। তারা এই পণ্ডিতের সান্নিধ্যে এলে নিজেদের ক্ষমতা ও দাপট তার পদমূলে সঁপে দিতো ।
নগরকোট মন্দির ছিলো সোনাদানা, মণিমুক্তা, হীরা-জহরতের ভাণ্ডার। সারা ভারতের রাজা-মহারাজারা প্রাণ খুলে নগরকোট মন্দিরে নিয়মিত নজরানা পাঠাতো। মণিমুক্তা, হীরা-জহরত, সোনাদানা পাঠাতে পারাকে তারা সৌভাগ্যের পরিচায়ক ভাবতো । নগরকোট অঞ্চলের সকল কৃষক, জমিদার নিয়মিত মন্দিরে খাজনা দিতো। কারণ, এ অঞ্চলের সব জমির মূল মালিকানার অধিকারী ছিলো মন্দির। বিশাল এই সম্পদ পুরোহিত রাধাকৃষ্ণ না নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করতো, না সম্পদে কোন পুরোহিতকে হাত দিতে দিতো। এসব সম্পদের ব্যাপারে সে বলতো, এ সম্পদের মালিক ভগবান। ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানেই খরচ হবে এ সম্পদ। মন্দিরের বিশাল আয়ের একটি অংশ প্রধান পুরোহিত রাধাকৃষ্ণ অতি দরিদ্র হিন্দু প্রজাদের মাঝে ব্যয় করতো, আর কিছু বরাদ্দ থাকতো গরীব হিন্দুদের শিক্ষা-দীক্ষায়। বাকি সম্পদের ব্যাপারে তার কথা ছিলো, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্রতা রক্ষায় ব্যয় হবে মন্দিরের সব ধন-রত্ন।
১০০৭ খৃস্টাব্দ মোতাবেক ৩৯৮ হিজরী সনের ঘটনা। সুলতান মাহমূদ বর্তমান আটকাবাদে তৎকালীন লাহোরের প্রতাপশালী রাজা আনন্দ পালকে সম্মুখ সমরে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। লজ্জাজনকভাবে তৃতীয়বারের মতো পরাজিত হয়ে রাজা আনন্দপাল কাশ্মীরের দিকে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত রাজা আনন্দ পাল আর নিজের রাজধানীতে ফিরে আসেনি। এরপর সুলতান মাহমূদ বেরায় রাজা বিজি রায়কে চরমভাবে পর্যুদস্ত করেন। বিজি রায়কে পরাজিত করার পরই মুলতানে হামলা করে হিন্দু ও খৃস্টানদের ক্রীড়নক কারামতিদের দুর্ভেদ্য দুর্গ চিরতরে ধ্বংস করে দেন। সেই সাথে মুলতানকে গজনী সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। বেরার অপর যুদ্ধে আনন্দ পালের ছেলে শুকপাল পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কিন্তু সুলতানের অনুপস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে ধোঁকা দিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত করায় সুলতান মাহমুদ নিজে গজনী থেকে ফিরে এসে শুকপালের চক্রান্ত ভণ্ডুল করে দিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ১০০৭ খৃস্টাব্দে মহাভারতের বুকে ইসলামের ঝাণ্ডা নতুন করে উড্ডীন হওয়ার ফলে নগরকোট মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সুলতান মাহমূদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রাভিযান এবং বেরা, পেশোয়ার ও লাহোর যুদ্ধে হিন্দু রাজাদের শোচনীয় পরাজয়বরণের সংবাদ নিয়মিত পাচ্ছিলো। এ কথাও তার অজানা ছিলো না যে, রাজা আনন্দ পাল পরাজিত হওয়ার পর রাজধানীতে না ফিরে কাশ্মীরের দিকে পালিয়ে গেছে। এ সংবাদ শুনে নগরকোটের প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ হিন্দুস্তানের সকল রাজা-মহারাজাকে নগরকোটে ডেকে পাঠায়। পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণের ডাকে উজান, কাশ্মীর, কনৌজ, গোয়ালিয়ার, আজমীরের রাজাসহ সকল রাজা-মহারাজা উপস্থিত হয় ।
“তোমরা কি আরাম-আয়েশ আর বিলাস-ব্যসনের ফল এখনো পাওনি? না এখনো আরো পাওয়ার বাকি আছে?” নগরকোট মন্দিরের রুদ্ধদ্বার কক্ষে বসে রাজা-মহারাজাদের উদ্দেশ্যে বললো পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ। তোমাদের এই লজ্জাজনক পরাজয়ের কারণ তোমরা তোমাদের রাজপ্রাসাদগুলোকে স্বর্গে পরিণত করেছো । তোমরা ঘুমোতে যাও তো নারী সেবিকারা তোমাদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়। তোমাদের ঘুম থেকে জাগানোর সময় হলে নারী সেবিকারাই তাদের নরম হাতের স্পর্শে তোমাদের ঘুম ভাঙ্গায়। তোমাদের স্নানের প্রয়োজন হয়, তাও নারী সেবিকারাই সারিয়ে দেয়। নারীর স্পর্শ আর নারীর সহযোগিতা ছাড়া তোমরা এক কদম চলতে পারো না। সেবিকাও তো এমন যারা সুন্দরী রূপসী । তোমাদের তৃষ্ণা পেলে তো মিষ্টি শরাব দিয়েও তৃষ্ণা মেটাতে পারো।
“আনন্দ পাল বলেই না পরাজিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এই ম্লেচ্ছোর বাচ্চা আসুক না…।”
‘আনন্দ পাল নয়, ভারতের প্রত্যেক রাজার জন্যই এটি পরাজয়।” গর্জে উঠলো পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ। “বলছো কি? তোমরা কি হিন্দু নও! এই পরাজয় কি তোমাদের মোটেও স্পর্শ করেনি? গজনীর এক মুসলিম যোদ্ধা তোমাদের এক জাতি ভাইকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার অর্থ হলো, গোটা হিন্দু ধর্মের পরাজয়। আনন্দ পালের পরাজয় তোমাদের পরাজয় । আমার পরাজয়। বেরা, মুলতান, লাহোরের মন্দিরগুলো কি তোমাদের বিবেচনায় পবিত্র নয়।”
মুসলমানরা দেব-দেবীর মূর্তিগুলোকে মন্দির থেকে বাইরে ফেলে এগুলোর উপর দিয়ে ঘোড়া দাবড়িয়ে পায়ে পিষে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এগুলোর সাথে কি তোমাদের ধর্মের কোনোই সম্পর্ক নেই। যেখানে শঙ্খধ্বনি বাজতো, যেখানে বাজতো ঘণ্টা, যেখানকার তরুলতা আকাশ-বাতাস মন্দিরের গুণকীর্তন শুনতো, সংস্কৃতি ও ধর্মের শ্লোক ধ্বনিত হতো; সেখানে আজ ধ্বনিত হয় ‘আযান’!”
পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণের শ্লেষাত্মক কথায় রাজা-মহারাজাদের সমাবেশে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। পণ্ডিত রাধাকৃষ্ণ বলছেন, “ওখানকার মুয়াজ্জিনের আযান এতোটা দূরে বসেও আমার কানে বিদ্ধ হয়। কষ্টে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। হরেকৃষ্ণ ও হরেরামের পরিবর্তে আমার কানে বাজে আযানের ধ্বনি। আমি এখন মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাই। দেব-দেবীদের চোখে-মুখে ক্ষোভ দেখছি। আমার মনে হয়, এ মন্দির, এ দুর্গ, এ পাহাড় সবই যেনো ক্ষোভে কাঁপছে। তোমরা কি চাও যে মুসলমানরা এখানে এসে আমাদের এই দেব-দেবীগুলোকেও গুঁড়িয়ে দিক। এ মন্দিরেও ধ্বনিত হোক ওদের ‘আযান’ ।”
“এমনটি হতে দেয়া হবে না মহারাজ!” সমবেত সকল রাজা-মহারাজার কণ্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হলো। “আমরা আমাদের সবকিছু উৎসর্গ করে দেবো।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!