ভারত যখন ভাঙলো – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ভারত যখন ভাঙলো – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ নসীম হেজাযী

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৮৪

ভারত যখন ভাঙলো – বইটির এক ঝলকঃ

চল্লিশ কোটি ভারতবাসীর মধ্যে দশ কোটি মুসলমানের অস্তিত্ব ইংরেজ পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেনি। ভারতমাতার আদরের দুলালকে নিশ্চিন্ত করার জন্য দশ কোটি মুসলমানের ওপর বৃটিশ সৈন্যের পাহারা বসাবার মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি তারা। ইংরেজের ব্যাপারে কংগ্রেস তার পলিসিতে কয়েকটা পরিবর্তন এনেছে। গান্ধীজীর আত্মা কয়েকবার খোলস পালটেছে। কিন্তু মুসলমানদের ব্যাপারে তাঁর কর্মনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তবুও আজাদীর শ্লোগানের মধ্যে এমন একটা আকর্ষণ ছিল যার ফলে মুসলিম জনতার জোশ ও জবা এখনো পর্যন্ত কংগ্রেসের সাথেই ছিল।
মুসলমানদের চোখ তখন খুললো যখন অবস্থা একথা প্রমাণ করে দিল যে, কংগ্রেস যাকে আজাদী বলছে তা আসলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের হুকুমতের দ্বিতীয় নাম। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর প্রথমবার হিন্দুস্তানের সাতটা প্রদেশে কংগ্রেসের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো। হিন্দু রাজনীতিবিদরা মুসলমানদেরকে নিজেদের ফাঁদে ফেলার জন্য যেমন নিশ্চিন্ততা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিল ঠিক তেমনি ফাঁদে পড়া শিকারকে পদানত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে গেলো। ওয়ার্ধা আশ্রমের মহাত্মার বিষ মাখানো ক্ষুর এবার আস্তিনের বাইরে বের হয়ে এসেছিল। রাম রাজত্বের বরকত এবার ওয়ার্থা বা বিদ্যা মন্দির ইত্যাদির মতো নাপাক স্কীমের আকারে অবতীর্ণ হতে লাগলো। কাবার রবের সামনে সিজদাবনতকারী জাতির শিশু সন্তানদেরকে শিক্ষায়তনগুলিতে গান্ধীর মূর্তির সামনে হাতজোড় করে দাঁড়াবার সবক দেয়া হচ্ছিল। মুহাম্মদে আরাবীর নাত পাঠকারীদেরকে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত শেখানো হচ্ছিল। তওহীদের আকিদায় বিশ্বাসী কন্যাদের পাঠক্রমে মন্দিরের দেবদাসীদের নৃত্যকলা অন্তরভুক্ত করা হচ্ছিল। মুসলমানদের গলায় এ বিষ ঢেলে দেবার জন্য এই পরিকল্পনাবিদরা এমন সব লোকদের হাত বেছে নিল যাদের আঙুলে কুরআন মজীদের তাফসীর লেখায় ব্যবহৃত কলমের কালির দাগ এখনো শুকিয়ে যায়নি।
রাম রাজত্বের স্থায়িত্বের জন্য মুসলমানদের সংস্কৃতি ছাড়াও তাদের ভাষা বদলাবারও প্রয়োজন অনুভব করা হলো। কাজেই উর্দুর স্থলে হিন্দী ব্যবহারের প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম জোরেশোরে শুরু হয়ে গেলো।
সন্দেহ নেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে পূর্ণ আগ্রাসন চালাবার জন্য গান্ধীজী সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন। সে সুযোগ এখনো আসেনি। কিন্তু হিন্দু জনতা আর দেরি করতে পারছিল না। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালাবার জন্য তারা নিজেদের কয়েকটা মন্দির অদ্ভুতদের দ্বারা অপবিত্র হওয়াটাও বরদাশত করে নিয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের মনের অভ্যন্তরের হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষের আবেগ অনুভূতিকে আর লুকিয়ে রাখতে পারলো না। এরি ভিত্তিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের মহল তৈরি করা হয়েছিল। কাজেই মধ্য ভারতীয় প্রদেশগুলিতে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়ে গেলো। যে শহরে বা গ্রামে হিন্দু মুসলমানের ওপর আক্রমণ করতো সেখানেই হিন্দু সরকারের পুলিশ শালিসের বেশ ধারণ করে পৌঁছে যেতো এবং মুসলমানদেরকে হিন্দুদের সাথে আপোশ করার জন্য লাঞ্ছনাকর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতো।
মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে আপোশ ও সহযোগিতা করার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তা প্রত্যাখ্যান করা হলো। জওহর লাল নেহরুর এ ঘোষণা এখনো বাতাসে গুঞ্জরিত হচ্ছিলঃ হিন্দুস্তানে কেবলমাত্র দুটি দল আছে, একটি ইংরেজ এবং দ্বিতীয়টি কংগ্রেস।
রামরাজত্বের এ যুগ স্বল্পকালীন হলেও চিন্তাশীল মুসলমানদের মনে এ অনুভূতি সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট ছিল যে, যদি তারা চোখ না খোলে তাহলে হিন্দুস্তানে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে স্পেনের ইতিহাসের। কাজেই ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে মুসলমানদের প্রতিরক্ষা চেতনা বাস্তবে রূপায়িত হলো পাকিস্তান প্রস্তাবের মাধ্যমে।
পাকিস্তানের দাবী ছিল পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। মুসলমান হিন্দু ফ্যাসিবাদের আসন্ন সয়লাবের মুখে একটি প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল উঠাতে চাচ্ছিল। তারা হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিতে হিন্দুদেরকে স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দিয়ে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিতে নিজেদের জন্য স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার চেয়েছিল। তারা হিন্দুস্তানের তিন চতুর্থাংশ এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর অধিকার মেনে নিয়েছিল এবং নিজেদের জন্য যে এলাকা চেয়েছিল তা তাদের মোট জনসংখ্যার আনুপাতিক হারের তুলনায়ও কম ছিল। কিন্তু হিন্দু একটি কেন্দ্রের আওতায় খাইবার পাস থেকে বংগোপসাগর পর্যন্ত বিশাল ভূখণ্ডে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিরস্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। ওয়ার্নার মূর্তি মন্দিরগুলিতে এমন সব পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল যার মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মুসলমানদেরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে এতিমে পরিণত করা যেতে পারে।
মুসলমানদের পাকিস্তান দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখে ভারতের সুপুত্ররা অনুভব করলো, শিকার হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। হারেমের প্রাণ প্রবাহে উজ্জীবিত মুমিনরা একজাতীয়তার প্রতারণা ফাঁদ চিনে ফেলেছে, যাকে বাহ্যত নির্বিধ বানাবার জন্য অহিংসার চুল্লীতে পুড়িয়ে রঙীন করা হয়েছিল। শিকার ধরার জন্য যে শিকারীরা জাল বিছিয়ে আশায় আশায় দিন গুণছিল তারা বিক্ষিপ্ত উড়ে বেড়ানো পাখিগুলিকে অন্য কোনো দিকে উড়ে যেতে দেখে যার যার গুপ্ত স্থান থেকে বের হয়ে এলো। হতবিহ্বল অবস্থায় তারা মুসলমানদের ধোকা দেবার জন্য নিজেদের চেহারায় যে মুখোশ পরে রেখেছিল তা টেনে খুলে ফেললো। মুসলমানরা দেখলো মুক্ত চিন্তার জয়গানকারী হিন্দু, সংকীর্ণমনা হিন্দু, দেবতা পূজারী হিন্দু, দেবতাদের প্রতি বিতৃষ্ণ হিন্দু, অদ্ভুতের সাথে গলাগলিকারী হিন্দু, অদ্ভুতকে ঘৃণ্যতম সৃষ্টি বিবেচনাকারী হিন্দু, ইংরেজের তোশামোদ ও পদলেহনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধাভোগী হিন্দু এবং নিছক পাটনাই ছাগলের দুধ ও ফলের রসের সাহায্যে ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণ করে ইংরেজকে অনশন করার হুমকিদানকারী হিন্দু সবাই একমন একপ্রাণ হয়ে গেছে। কুফর তার তীরাধারের সবকটি তীর বের করে ফেলেছিল। কিন্তু মুসলমানরা এখনো বিক্ষিপ্ত তীর ও ভেঙে যাওয়া ধনুকগুলি গণনা করছিল।
মুসলমানরা যদি দশ বছর আগে পাকিস্তানের দাবী উঠাতো তাহলে অহিংসার দেবতাগণ ও তার পূজারীবৃন্দ তখনো নিজেদের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করতো। ফলে মুসলমানরা তাদের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নেবার সময় পেতো। কিন্তু তারা এমন এক সময় নিজেদের ভাঙা ঘরের দেয়াল ও ছাদ মেরামত করার কথা ভাবলো যখন আকাশের চারদিক কালো মেঘে ছেয়ে যাচ্ছিল। হিন্দু তার আগ্রাসনকে পরিপূর্ণ রূপ দেবার জন্য যে নিশ্চিত প্রত্যয়ের সাথে এগিয়ে যাচ্ছিল তার ছিটেফোটাও মুসলমানের মধ্যে ছিল না। আধো ঘুম আধো জাগরণের মধ্যে ওয়ার্নার প্রতারণার ফাঁদ দেখার পর মুসলমান ঘুম ঢুলু ঢুলু চোখে কম্পিত পদবিক্ষেপে পাকিস্তানের মনজিলে মকসুদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
বিগত পনের বিশ বছরে হিন্দু যেখানে তার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে ফেলেছে সেখানে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃংখলা ও অনৈকের কয়েকটা বীজও বপন করেছে। যদি এক জাতীয়তাবাদ, অহিংসা ও স্বদেশিকতাবাদের ঘুমপাড়ানি গান মুসলমানদেরকে মৃত্যু ঘুমে আচ্ছন্ন করতে না পারে এবং নিজেদের শাহরগের কাছে তার বিষাক্ত খঞ্জর দেখে তারা আঁতকে ওঠে তাহলে তাদের মুখে ঘুমের বড়ি ফুঁসে দেবার জন্য এমন সব বুজুর্গানে দীনকেও তারা তৈরি করে ফেলেছিল, যাদের জোব্বা ও পাগড়ী একথা প্রমাণ করে যে জান্নাতের পথ একমাত্র তারাই দেখাতে পারে।
অভিজ্ঞ শিকারী যখন দেখতে পায় পাখিরা তার জাল চিনে ফেলেছে, তারা জালের ধারে কাছে ঘেঁসছে না তখন সে একই জাতের পোষা শিকারী পাখিকে খাঁচায় ভরে জালের আশেপাশে ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখে দেয়। পোষা পাখির আওয়াজ ও ধ্বনিতে বিভ্রান্ত হয়ে আশপাশের ঘুরে বেড়ানো পাখিরা ধোকায় পড়ে জালে আটকে যায়। এ পাদ্ধতিতে সাধারণভাবে ভিতির ও বুটের শিকার করা হয়। এভাবে যেসব শেখানো পড়ানো পোষা ভিতির ও বুটের অন্য পাখিদেরকে জালে আটক করে শিকারীদের পরিভাষায় তাদেরকে বলা হয় ‘ডাকপাখি।’
আবার তিলির পাখি শিকারের সময় এ পদ্ধতি বদলাতে হয়। খাঁচায় বন্দী তিলির পাখিকে হাজার খাতির তোয়াজ করলেও তার নিজের জাতির পাখিদেরকে কখনো জালের দিকে টেনে আনার জন্য সে ডাক দেবে না। তাই তাকে ধোকা দেবার জন্য ঘুঘুকে ব্যবহার করতে হয়। তিলিরের সাথে ঘুঘুর সাপে নেউলে সম্পর্ক। শিকরী একটা ঘুঘু ধরে জালের কাছাকাছি বেঁধে রাখে। তিলির পাখির দল বাঁধা ঘুঘু দেখতেই জালের পরোয়া না করেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ওয়ার্নার পুরানো ঝানু শিকারী যখন দেখলেন মুসলমানরা হিন্দু সাম্রাজ্যবাদের প্রতারণা জালে আতংকগ্রস্ত হয়ে পাকিস্তানের মনজিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন তিনি বিভ্রান্ত উলামায়ে দীনের একটি গ্রুপকে সামনে এগিয়ে দিলেন যারা আল্লাহর হুকুম পালনের দায়িত্ব পেছনে সরিয়ে দিয়ে দেশপূজায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যারা মুহাম্মদ আরাবীর (স) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নেংটি পরা মহাত্মার সাথে সম্পর্ক জুড়েছিলেন। শিকারী ডাকপাখির সাহায্যে যে কাজ নেয় তাদেরকেও সেই কাজে নিয়োজিত করা হয়।
একদিকে এই ডাকপাখিরা হিন্দু সাম্রাজ্যবাদের সমর্থনে জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের গ্রুপ তৈরি করছিল আবার অন্যদিকে হিন্দু প্রেস ঘুঘুর সাহায্যে তিলির পাখিদেরকে জালে আটকাবার কাজে ব্যপৃত ছিল। মুসলমানদের পাকিস্তান দাবীর পূর্বে হিন্দুরা যখনই অনুভব করেছে যে মুসলমানদের মধ্যে নিরাপত্তার দাবী জোরদার হচ্ছে তখন তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে কয়েকটা শ্লোগান দিয়ে দেয়। ফলে তিলির যেমন ঘুঘুকে দেখে শিকারী ও তার জাল থেকে বেপরোয়া হয়ে যায় ঠিক তেমনি হিন্দুদের ব্যাপারে মুসলমানদের সকল প্রকার সন্দেহ সংশয় ইংরেজ বৈরিতার আবেগের নিচে চাপা পড়ে যায়। স্বাধীনতা প্রিয় মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে মিলে কারাগারে চলে যায়। তারপর গান্ধী অনশন করে বা অন্য কোনো বাহানায় কারাগারের বাইরে চলে আসেন এবং ইংরেজ সরকারের সাথে আপোশের আলোচনা চালাতে থাকেন। হিন্দুরা কিছু সুযোগ সুবিধা লাভ করে অথবা লাভ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু মুসলমানদের প্রতিরক্ষা আন্দোলন অতীত দিনের কাহিনীতে পরিণত হয়।
ওদিকে ইটালী, জার্মানী ও জাপানের বিরুদ্ধে লাখো মুসলমান সিপাহী ইংরেজের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছিল। আর হিন্দুদের কেবলমাত্র সহযোগিতার আশ্বাসে ইংরেজ এইসব মুসলমানের অনুভূতিকে আহত করতে চাচ্ছিল না। কংগ্রেস কখনো তোশামোদ আবার কখনো হুমকি দিয়ে চলছিল। ইংরেজ এখনি এদেশ ছেড়ে চলে যাক এ ব্যাপারে তাদের কোনো তাড়াহুড়া ছিল না। বরং তারা কেবল এ ব্যাপারে গ্যারান্টি চাচ্ছিল যে, এ দেশের ভাগ্যের ফায়সালা করার সময় ইংরেজ যেন সংখ্যালঘিষ্ঠদের প্রতি কোনো প্রকার দৃষ্টি না দেয়।
১৯৪২ সালে ইউরোপে চলছিল হিটলারের জয়জয়কার। ইউরোপের বিভিন্ন রাজ্যকে নেস্তনাবুদ করার পর এবার জার্মান সেনাদল রাশিয়া আক্রমণ করছিল। মনে হচ্ছিল এই দুর্বার তরংগের সামনে আর কোনো পাহাড়ও দাঁড়াতে পারবে না, দুনিয়ার কোনো শক্তিরই এর সামনে প্রতিরোধ দাঁড় করাবার ক্ষমতা নেই। জার্মানীর সাবমেরিনগুলি আমেরিকার সমুদ্রোপকূলে টহল দিচ্ছিল। লণ্ডনে বোমা পড়ছিল। কখনো কখনো এসব ঘটনায় গান্ধীজীর আত্মা দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়তো এবং তিনি উভয় পক্ষকে অহিংসার বাণী শুনাতেন। কিন্তু যখন জাপান যুদ্ধক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়লো তখন অহিংসার ললিত বাণী বিতরণকারী ইংরেজের পরাজয়ের ব্যাপারে আশান্বিত হয়ে হিন্দু সাম্রাজ্য পুনরুজ্জীবনের সকল প্রকার প্রত্যাশা জাপানের সাথে সংযুক্ত করে দিলেন। কাজেই তিনি ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরু করলেন। কংগ্রেসের মহাত্মা কখনো একথাও বলেছিলেন যে, দেশের পূর্ণ আজাদী বলতে আমি বুঝি বাইরের কর্তৃত্ব থাকবে ইংরেজের হাতে এবং দেশের অভ্যন্তরের কর্তৃত্ব থাকবে আমাদের হাতে। এখন পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য ইংরেজের পরিবর্তে জাপানের জন্য বাইরের কর্তৃত্বের পথ খোলসা করা হচ্ছিল। হিন্দুদের বিশ্বাস ছিল এই সংকটকালে তারা নিজেদেরকে ইংরেজের দুশমন জাহির করে এ দেশের নতুন বিজেতা অর্থাৎ জাপানীদের কাছে পুরস্কার লাভের অধিকারী হবে। কমপক্ষে জাপানীরা মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কিত তাদের দৃষ্টিভংগীর প্রতি সমর্থন দেবে অবশ্যই। কিন্তু সম্ভবত মুসলমানদের সৌভাগ্য ছিল, যার ফলে জাপানীদের সয়লাব স্রোত বর্মার এ দিকে আর আসতে পারেনি। আর অহিংস দেবতার পূজারীরা মাত্র কয়েকটি পুল ভেঙে, কয়েকটি টেলিফোনের তার কেটে ও ডাকঘর পুড়িয়ে দিয়ে, কয়েকজন কেরানীকে ধূলো কাদায় মাখিয়ে, কয়েকজন পিয়ন চাপরাশির জামা কাপড় ছিড়ে এবং কয়েকটি সরকারী দালান থেকে ইংরেজের ঝাণ্ডা নামিয়ে তার জায়গায় কংগ্রেসের ঝাণ্ডা উড়িয়ে দিয়েই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কংগ্রেসী দেশভক্তদের চিন্তা অনুযায়ী ভারত মাতার প্রাচীন গৌরবকে নতুন করে সঞ্জীবিত করতে পূর্ব দেশের যে নতুন দেবতার আগমন ঘটতে যাচ্ছিল সে আসামের মনিপুর পার হয়ে আর এগিয়ে আসতে পারলো না।
একজন সাহিত্যিক হিসাবে সেলিম তার হোস্টেলের ছাত্রদের হিরো হয়ে গিয়েছিল। তার কবিতায় ছিল বর্ষার নদীর দুর্বার গতিবেগ, পাখির সংগীত লহরী এবং পুষ্পের ঔজ্জ্বল্য। তার গল্প ও প্রবন্ধে গ্রামীণ জীবনের হাসিকান্না বিধৃত হয়েছিল। আখতার ইতিপূর্বে শুরুতে তাকে বিপুল উৎসাহ প্রদান করলেও এখন তার সাহিত্যিক প্রবণতা ও রচনা ধারায় পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। সে বলতো, সেলিম! তুমি খুব ভালো লেখো, খুবই ভালো কথা বলো কিন্তু এ উদ্দেশ্যহীন সাহিত্য এ জাতির কোনো কজে লাগবে না, যার চারদিকে কেবল বিপদ-মুসিবতের ধূলি ঝড় তার স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করে দেবারও উপক্রম করেছে। সন্দেহ নেই তোমার গ্রামের কবুতরের বাকবাকুম বড়ই হৃদয়স্পর্শী, তোমাদের বাগানের ফুলের সুগন্ধও মন ভরিয়ে দেয় এবং তোমার গল্পের গ্রামীণ চরিত্র খুবই হৃদয়গ্রাহী কিন্তু তুমি তুফান ও ঘূর্ণিঝড়কে এড়িয়ে যাচ্ছো, যা কোনোদিন তোমাদের সমস্ত হাসি উল্লাসকে কান্নায়

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top