আরেক গডফাদার – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১০৭
আরেক গডফাদার – বইটির এক ঝলকঃ
করে হুইস্কি ঢেলে একটা গ্লাস ডি’ মোনাকে সাধল রানা। গ্লাসটা নিল সে, তবে চুমুক দিল রানার পরে। আমার জন্যে, ড্রি’ মোনা, শুধু আমার জন্যে।’
‘আচ্ছা?’ এক লাখ ডলার মূল্যের কলিং কার্ডের কথা ভাবছে ডি’ মোনা। বড় চালান? জানতে পারি, কত বড় চালানের কথা বলছ তুমি?’
*সে অনেক, মিস্টার ডি’ মোনা। একশো কেজি আফিম থেকে যতটা হেরোইন তৈরি হয়। হিসেবটা নিশ্চয়ই তুমি জানো। মনে মনে লোকটার প্রশংসা করতে বাধ্য হলো রানা। তার গ্লাস থেকে এক ফোঁটা হুইস্কিও ছলকায়নি। শুধু চোখ দুটোর পাতা কয়েক সেন্টিমিটার চওড়া হলো ।
‘এ-একশো কেজি আফিম থেকে?’
‘ভুল শোনোনি, মিস্টার। এটা প্রথম শিপমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করবে।’
‘প্রথম শিপমেন্ট?’ ‘গ্লাসে তাড়াহুড়ো করে একটা চুমুক দিল ডি’ মোনা। তারপর নরম শব্দে একটু হাসল। ‘তুমি খুব বড় বড় বোলচাল মারছ, মিস্টার আরসালান। কিছু যদি মনে না করো, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না তোমাকে বিশ্বাস করা যায় কি না। আজ আমি এখানে-সেখানে বেশ কয়েকজনকে ফোন করলাম। কেউ তোমার নামই শোনেনি।’
‘শুনবে না তো, তোমার রেগুলার সাপ্লাইয়াররা কেউই শুনবে না।’
‘ঠিক তাই।’
‘গুড,’ বলল রানা। ‘ব্যাপারটাকে এভাবেই থাকতে দাও।’
‘সম্ভব নয়,’ ডি’ মোনা যেন গুলি ছুঁড়ল। ‘কারও সঙ্গে কোন কাজ করার আগে প্রথমেই আমরা রেফারেন্স দাবি করি।’
‘কলিং কার্ডটাই আমার রেফারেন্স।’
‘আরও বলি,’ বলে চলেছে ডি’ মোনা, ‘একবারের ডেলিভারিতে ওই পরিমাণ হেরোইন বহন করা অসম্ভব। কেউ কোনদিন পারেনি।’
‘আমি পারব। দ্বিতীয় শিপমেন্ট হয়তো প্রথমটার দ্বিগুণ হবে।’
কথা না বলে রানাকে আরও ভাল করে দেখছে ডি’ মোনা।
নীরবতা – ভেঙে রানাই আবার কথা বলল, ‘ব্যাপারটা তোমাকে আরও পরিষ্কার করে বলি, যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না থাকে। তোমার দৃষ্টিতে কী সম্ভব আর কী অসম্ভব, এর কোন গুরুত্ব নেই-চালানটা নিউ ইয়র্কে আমি নিয়ে যাচ্ছি। কেনার সুযোগটা সবার আগে তুমিই পাচ্ছ। তোমার যদি আগ্রহ না থাকে, নিউ ইয়র্কে পৌঁছে আমি সেফ আরেক পরিবারের কাছে যাব।’ ‘কে বলল আমি আগ্রহী নই! অবশ্যই আমি আগ্রহী।’
“কিন্তু তুমি ভাবছ-এত ভাল ভাল নয়, ঠিক? ভাবছ, এই তুরকি ব্যাটার প্রস্তাব সত্যি হলে সূর্যও কাল পশ্চিমে উঠবে। আমি বরং তোমাকে আসল ব্যাপারটা খুলে বলি।
‘আফিম কেনা আমার জন্যে কোন সমস্যাঁ নয়-তুরস্কের পাহাড়ী এলাকা চেন থাকলে যে-কেউ তা কিনতে পারবে। যে-সব সাপ্লাইয়ারকে ফোন করেছ তারা আমাকে চেনে না? আরে, আমার প্ল্যান প্রতিদ্বন্দ্বীদের জানিয়ে দেয়াটা কী বুদ্ধিমানের কাজ?’ হাসল রানা। মাথা নাড়ল। ‘না। আসল কথা হলো আমার কাছে ডেলিভারি দেয়ার কোন সিস্টেম আদৌ আছে কি নেই। স্বীকার করছি, আমার মুখের কথা বিশ্বাস করাটা তোমার জন্যে বোকামি হয়ে যাবে। আবার, পাগল না হওয়া পর্যন্ত আমার সিস্টেমটা আগেভাগে তোমাকে আমি জানাব না। তবে নিজস্ব একটা সিস্টেম সত্যিই আমার আছে। ফুলপ্রুফ।
দু’টোকে খালি করে গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রাখল ‘ডি’ মোনা। ‘সিস্টেম সবারই একটা থাকে, আরসালান।’ সোফা ছেড়ে ইঙ্গিতে দরজার দিকটা দেখাল দেহরক্ষীদের। ‘তো, যেমন বললাম, তুমি আমাকে আগ্রহী করতে পেরেছ। যদি কখনও নিউ ইয়র্কে পৌঁছাতে পারো, দেখা কোরো আমার সঙ্গে।’
“না, তা বোধহয় করব না।’ তার সঙ্গে দরজা পর্যন্ত হেঁটে এল রানা। কারণ ততক্ষণে তোমার প্রতি আমার কোন আগ্রহ থাকবে না। গুড নাইট।’
রানা একা হয়ে গেল ।
ওর হুমকিটা স্রেফ বাগাড়ম্বর নয়, ডি’ মোনা তা জানেও, কারণ মাফিয়া পরিবারের প্রধান হিসাবে তার কাজই হলো প্রতিদ্বন্দ্বীর গুরুত্ব অনুধাবন করা। ড্রাগের টাকা যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল স্রোতের আকার নিলে সেটা মার্কিন মাফিয়া জগতে ভূমিকম্প হয়ে দেখা দেবে।
পুরানো অনেক প্রভাবশালী পরিবার ড্রাগের ব্যবসায় হাত দিতে না চাওয়ার কারণে হারিয়ে গেছে। অনেক ছোট পরিবার, ড্রাগ ব্যবসার লাভ থেকে সৈন্য’ কিনে, বড় পরিবার হয়ে উঠেছে। কোন পরিবার যদি একবারে নিশ্চিতভাবে প্রচুর হেরোইন আমদানি করতে পারে, গোটা যুক্তরাষ্ট্রের মাফিয়া জগতে রাতারাতি তার প্রভাব আর মর্যাদা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।
এরকম. একটা সুযোগ ডি’ মোনা হাতছাড়া করতে পারবে না, হোক তা অচেনা এক আগন্তুকের মুখের কথা।
আবার এমনও হতে পারে, গোটা ব্যাপারটা দুর্বোধ্য আর অস্বস্তিকর লাগছে তার। হিসাবটা সে কোনভাবেই মেলাতে পারছে না ।
বেডরুমে ফিরে এসে এক গাদা কাপড়চোপড় দিয়ে বিছানার মাঝখানে মানুষের একটা আকৃতি তৈরি করল রানা-যেন চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে কেউ ।
বেরেটা খালি করে বুলেটগুলো নিয়ে গেছে দৈত্যাকার দেহরক্ষী। ওয়াল সেফ খুলে প্রিয় পিস্তল ওয়ালথারটা বের করল রানা। তোয়ালে দিয়ে জড়াল ওটা। তারপর আলো নিভিয়ে একটা চেয়ারে বসে অপেক্ষায় থাকল ।
দু’ঘণ্টা পর ক্লিক করে একটা শব্দের সঙ্গে দরজা খুলে গেল। রান্না জানে, ডি’ মোনা চাইলে বিখ্যাত হোটেল হিলটনের ‘নিরাপদ’ স্যুইটের অতিরিক্ত চাবিও যোগাড় করতে পারে । সিটিংরুম থেকে বড়সড় একটা ছায়ামূর্তি ঢুকল বেডরুমে। হাতে পিস্তল।
বিছানার কাছে এসে থামল সে, পিস্তলটা কোমরে গুঁজল, তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বিছানায়, রানা মনে করে কাপড়চোপড়ের স্তূপটাকে জড়িয়ে ধরেছে দু’হাতে। পরমুহূর্তে এক লাফে সিধে হলো লোকটা, যেন ইলেকট্রিক শক খেয়েছে, হাত পৌঁছে গেছে কোমরে গোঁজা পিস্তলের বাঁটে। ইতিমধ্যে নিঃশব্দ পায়ে লোকটার পিছনে চলে এসেছে রানা। তোয়ালে মোড়া ওয়ালথারের বাঁট দিয়ে তার ঘাড়ের উপর প্রচণ্ড একটা বাড়ি মারল ও। কোঁৎ করে আওয়াজ বেরুল মুখ থেকে, পরমুহূর্তে জ্ঞান হারাল লোকটা।
দৈত্যাকার দেহরক্ষীকে নীচে পড়তে না দিয়ে মাঝ পথেই ধরে ফেলল রানা, তারপর নিঃশব্দে মেঝেতে শোয়াল। পিস্তলটা পাজামার সঙ্গে কোমরে গুঁজল ও, তোয়ালেটাকে মুচড়ে রশি বানাল, তারপর দরজার পাশে সরে এসে আবার অপেক্ষায় থাকল ।
সিটিংরুমে অস্পষ্ট পায়ের শব্দ ।
বেডরুমে কেউ ঢুকছে। ‘তাড়াতাড়ি, মাইকেল!’ ফিসফিস করল দ্বিতীয় দেহরক্ষী। গলাটা সামনে বাড়াতেই রানার তোয়ালে ফাঁসের মত প্যাচ খেয়ে গেল তার গলায়। আঁতকে উঠল লোকটা কিন্তু সামান্য আওয়াজও বের করতে পারল না মুখ দিয়ে ।
“হ্যাঁচকা টানে লোকটাকে কাত করল রানা, তারপর হাঁটু দিয়ে মারল ওর উপর-পেটে, সোলার প্লেক্সাসে। •
মেঝেতে শুয়ে পড়ে দু’একবার হাত-পা নেড়েই স্থির হয়ে গেল লোকটা। মাপা মার, শুধু জ্ঞান হারিয়েছে, মরবে না ।
ওদের পিস্তল দুটো থেকে গুলি বের করে নিল রানা। ওর অচেতন দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য চাকা লাগানো বড় একটা লন্ড্রি ট্রলি নিয়ে এসেছে ডি’ মোনার দেহরক্ষীরা, দরজা খুলে করিডর থেকে সেটাকে সিটিংরুমে ঢোকাল ও। হাত চালিয়ে কাপড়চোপড় পরে নিল, জ্যাকেটের পকেটে চালান করে দিল লোকগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্র আর চাবি। লন্ড্রি ট্রলিটা এত বড়, লোক দু’জনকে তুলবার পরও গর্তটা পুরোপুরি ভরল না। ময়লা একটা চাদর দিয়ে তাদেরকে ঢেকে রাখল রানা ।
‘ডি’ মোনা উঠেছে বাইশতলায়, টপ ফ্লোর স্যুইটে। করিডর ফাঁকা পেয়ে সোজা সার্ভিস এলিভেটরে এসে চড়ল রানা ।
এলিভেটর টপ ফ্লোরে উঠছে, পিস্তলটা হাতে নিয়ে চেক করল রানা। ওয়ালথার খুব কাজের জিনিস, পঁচিশ গজের মধ্যে যে-কোন টার্গেটে লাগাতে পারবে ও। কোন হোটেলরুমই অত বড় হয় না ।
চার.
‘আমি মাইকেল,’ ডি’ মোনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বলল রানা ।
কবাট সামান্য একটু খুলেছে কি খোলেনি, ট্রলিটা খুব জোরে ঠেলে দিল রানা। দরজার পাল্লা উড়ে গিয়ে বাড়ি খেল ডি’ মোনার চোয়ালে । ট্রলি সবেগে ছুটে চলেছে—একটা কফি টেবিলকে উল্টে দিল, তারপর নিজেও কাত হয়ে উগরে দিল নোংরা কাপড়চোপড় আর দুই আততায়ীকে। রানার একটা হাত ড়ি’ মোনার গলা চেপে ধরেছে, অপর হাতের পিস্তলের নল ডুবে আছে নাভিতে। ঠেলে তাকে একটা চেয়ারের উপর নিয়ে এল রানা।
আমাকে ধরে আনার জন্যে পিস্তলবাজ পাঠিয়েছিলে? ভেবেছিলে আমাকে কোণঠাসা করে ব্যবসার গুমোরটা জেনে নেবে? অনেক হয়েছে ডি’ মোনা এসো এবার আমরা সিরিয়াস হই।’
“নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখেছ, এই আচরণ কার সঙ্গে করছ তুমি, আরসালান? আমি একজন ডন! মাফিয়া তোমাকে পিঁপড়ের মত টিপে মেরে ফেলবে।’
‘আর আমি?’ ঠোঁটে নিষ্ঠুর এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করল রানা । ‘তুমি জানো, আমি কী হতে যাচ্ছি? তোমার মত কত মাফিয়া ডন আমার গুডবুকে থাকার জন্যে পাগল হয়ে উঠবে, সে খেয়াল আছে?’
ঢোক গিলল ডি’ মোনা । কী চাও তুমি, আরসালান?’
“সিরিয়াস হতে বলছি। সিরিয়াস মানে তুমি আমার কাছে দশ লাখ ডলার জমা রাখবে, আমার সার্ভিস পাওয়ার আশায়। তুমি যে ভুল করেছ, এই জামানত তার হালকা শাস্তিও বলতে পারো।’
‘দশ লাখ ডলার? কিন্তু বিনিময়ে আমি কিছু পাব না?’ নার্ভ শক্ত করে জানতে চাইল ডি’ মোনা।
*তুমি আমার কলিং কার্ড নিচ্ছ।’ হেরোইন ভর্তি ব্যাগটা তার পকেটে গুঁজে দিল রানা। ‘তা ছাড়াও, তোমাকে আমি তিনটে নতুন জীবন দিচ্ছি। বোকার মত কিছু করতে যেয়ো না, শুধু ঘাড় বাঁকা করে চারদিকে একবার চোখ বুলাও আর গোনো।’
‘ভেবো না তুমি পালাতে পারবে।’
‘পালাতে চাইলে কী এখানে আমি আসতাম? মন দিয়ে শোনো। আমি এখান থেকে চলে যাবার পর, চাইব তুমি আমাকে খুঁজে পাও। আসলে, ঠিক কোথায় আমাকে পাওয়া যাবে, এটা আমিই তোমাকে জানাব, তুমি যাতে একজন প্রতিনিধিকে পাঠাতে পারো।
‘প্রতিনিধি লোকটাকে তোমার অত্যন্ত বিশ্বস্ত হতে হবে। তার কাজ কী? তার কাজ হবে আমি কীভাবে চালানটা নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাচ্ছি সেটা দেখা ।
‘কিন্তু তুমি যদি আমাকে মারার জন্যে কাউকে পাঠাও, আমার হাতে খুন হয়ে যাবে সে। তোমার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।’ লোকটার গলা ছেড়ে দিল রানা, পিস্তলটাও তলপেট থেকে সরিয়ে নিল ।
‘তোমার আসলে পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল, আরসালান।’
‘তুরকিদের তুমি চেনো না? আমরা মান-সম্মানকে খুব বড় করে ‘দেখি । আমাদেরকে কর্সিকানদের সঙ্গে এক কাতারে ফেলো না। তুরস্কের আফিম বেচে সমস্ত লাভ এতদিন একা শুধু ওরাই পেয়েছে। কিন্তু দিন এখন বদলাবে।
তো যা বলছিলাম- তোমাকে একটা চুক্তিতে আসার সুযোগ দিয়েছিলাম। সুযোগটা এখনও আছে।’
টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার খুঁজল ডি’ মোনা। তারপর সময় নিয়ে ধরাল একটা। সে যেন ইচ্ছে করে অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে রানাকে । *তা, দশ লাখ ডলার কীভাবে তুমি আদায় করতে চাও, আরসালান? এখানে আমাকে পিস্তলের মুখে বসিয়ে রাখবে আর ব্যাঙ্কে পাঠাবে আমার দেহরক্ষীদের? ‘দেখাচ্ছি কীভাবে।’
এখন ভোর চারটে হলেও, বৈরুতের কিছু ব্যাঙ্ক কখনোই বন্ধ হয় না। সব ক্যাসিনোতেই ব্যাঙ্কের শাখা আছে, তা ছাড়া প্রাইভেট মানি চেঞ্জার ও আছে-চুপিচুপি সোনা, না-কাটা হীরে কিংবা স্টক সার্টিফিকেট জমা নিয়ে টাকা দেয়।
ফোনের রিসিভার তুলল রানা, ডায়াল করল, কথা বলল চোস্ত আরবীতে। তারপর, চেঞ্জার নিজে লাইনে আসতে, আরবীর বদলে অনর্গল পর্তুগিজ চালাল। গোটা ব্যাপারটা তাকে বোঝাতে রানার সময় লাগল মাত্র এক মিনিট।
‘এরপর কী?’ রানা যোগাযোগ কেটে দিতে জানতে চাইল ডি’ মোনা
‘এখন আমরা পরস্পরের সান্নিধ্য সুখ উপভোগ করব। তুমি সিগারেট ধরাও, মদ খাও-তোমার যা খুশি।’
‘ধন্যবাদ। তুমি বলতে চাইছ আমরা স্রেফ অপেক্ষা করব এখানে?’
‘শোনোনি, তিনি যদি পাহাড়ের কাছে যেতে না পারেন, পাহাড় তাঁর কাছে চলে আসে? মানি চেঞ্জারের বেলায় ঠিক তাই ঘটছে। টাকার পাহাড়টা এখানে চলে আসছে।’
মানি চেঞ্জার পৌঁছাতে সময় নিল পনেরো মিনিট। ইতিমধ্যে ডি’ মোনার দেহরক্ষীরা মেঝে থেকে উঠেছে। এই মুহূর্তে একটা সোফায় পাশাপাশি বসে মুখ হাঁড়ি করে রানাকে দেখছে। ব্যথায় দু’জনেই কাতর, তবে ডি’ মোনার ভয়ে গোঙাতে বা ফোঁপাতে পারছে না ।
‘আমি কমপ্রেসো হেক্টর,’ নিজের পরিচয় দিল পর্তুগিজ মানি চেঞ্জার। লোকটা ছোটখাট, পরনে ধোপদুরস্ত কাপড়চোপড়, নামকরা কোন রেস্তোরাঁর হেড ওয়েটারের মত চটপটে।
হেক্টর তার সহকারীর সঙ্গে ওদের পরিচয় করিয়ে দিল না। সহকারী লোকটা আফ্রিকান নিগ্রো, মাথাটা কামানো, কাঁধ দুটো ঘরের দুই দেয়াল ছুঁতে চাইছে। ‘আপনারা প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?’ জানতে চাইল ‘রানা।
মাথা ঝাঁকাল প্রক্টর। ‘জী।’
‘ব্যাপার কী, কী ঘটছে এখানে?’ প্রায় ঘেউ ঘেউ করে উঠল ডি’ মোনা ।
কফি টেবিলে একটা অ্যাটাশে কেস রাখল আফ্রিকান লোকটা। সেটা খুলে গুণে গুণে মার্কিন ডলারের এগারোটা বান্ডিল বের করল, প্রতি বান্ডিলে এক হাজার ডলারের একশোটা করে নোট রয়েছে-সব মিলিয়ে এগারো লাখ ডলার।
‘তুমি বললে দশ লাখ!’ ডি’ মোনা সম্ভবত দাঁতে দাঁত পিষল।
‘দশ লাখই নিচ্ছি আমি। বাকিটা সিনর হেক্টরের কমিশন, ব্যাখ্যা করল রানা । ওয়ালথারটা আরেকটু, সোজা করে ধরল ও। ‘দেরি করছ কেন, ডি’ মোনা? চেকটা এবার লিখে ফেলো
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!