অরক্ষিত জলসীমা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৭
অরক্ষিত জলসীমা – বইটির এক ঝলকঃ
“দিদিমণি, ম্যাডাম?’ বেসুরো গলায় জানতে চাইল ফালান, ক্ষতবিক্ষত মুখটা চিনতে পেরে অবিশ্বাসে বিহ্বল হয়ে পড়েছে। ‘আমাদের শারমিন দিদিমণি?’ শোকে ও দুঃখে কাতর হয়ে পড়ল সে । শেষ শব্দটি উচ্চারণ করতে গিয়ে ভেঙে গেল গলাটা ।
মাথা ঝাঁকালেন বৃদ্ধা । সমস্ত ভাবাবেগ চেপে রেখে প্র্যাকটিকাল হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি । ‘বাড়ির কাছাকাছি কারা কাজ করছিল? কে আসতে দেখেছে বোরকা পরা শারমিনকে ?
তাঁর খেতে-খামারে যারা কাজ করে তাদের সবাইকেই বিশ্বাস করতে চান ইরাবতি, তবে তাদের মধ্যে দু’একজন জেনারেল উ নিমুচির চর থাকাটা বিচিত্ৰ নয় ।
মাথা নাড়ল ফালান, হাঁটু গেড়ে বসে আছে রক্তাক্ত লাশের পাশে । ‘কেউ দেখেনি, ম্যাডাম। আমাদের সব লোক উত্তরের মাঠে কাজ করছে । তা ছাড়া, কারও চোখে পড়লে দিদিমণির সঙ্গে আসত সে। পেশল হাত দিয়ে পোড়া ও থেঁতলানো মৃতদেহটা নরম হাতে ধরল সে, নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করে সিধে হলো। ‘দিদিমণিকে খুন করা হয়েছে, ম্যাডাম। প্রথমে, জিজ্ঞেসাবাদ করার সময়, তাঁর ওপর টরচার করা হয় । তারপর স্ট্যাব করা হয়েছে ছোরা দিয়ে। তাঁর কাছ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা আদায় করতে চেয়েছিল তারা।’
মাথা ঝাঁকালেন ইরাবতি । মুঠো খুলে কাগজটা দেখালেন ফালানকে । লেখাটায় একবার চোখ বুলিয়েই ফতুয়ার পকেট থেকে দেশলাই বের করে কাগজটা পুড়িয়ে ফেলল সে।
‘ফালান,’ মৃদু, অথচ দৃঢ়কণ্ঠে ডাকলেন ইরাবতি । ‘জী, ম্যাডাম,’ পুরোপুরি সজাগ ও স্থির হয়ে গেল ফালান । ‘কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই শারমিনকে আমরা কবর দেব, ’ ধীরে ধীরে বললেন বৃদ্ধা । ‘কারণ তার শত্রু আমাদেরও শত্রু । তারা যেন জানতে না পারে এখানে এসেছিল ও। আল্লাহ মাফ করবেন, আমার শারমিন মায়ের জানাজাও হবে না।’
ভারী হাত দুটো বুকে ভাঁজ করল থোন ফালান । ‘আপনার কথামতই কাজ হবে, ম্যাডাম । লাশ লুকাবার জন্যে খেতের চেয়ে ভাল জায়গা আর হয় না।’
“হ্যাঁ, ঠিক আছে, কিন্তু সেটা পরে । শারমিনকে এখন বাড়ির ভেতরে নিয়ে যেতে হবে। ওকে আমরা কবর দেব সন্ধ্যার পর, অন্ধকারে । এই কাজটার দায়িত্ব পুরোটাই তোমার ওপর ছেড়ে দিতে হবে আমাকে । তবে এখন অন্য একটা জরুরি কাজ আছে।’
“জী, ম্যাডাম, হুকুম করুন ।
‘পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স-এ কাজ করত শারমিন । নির্যাতন যা-ই হয়ে থাকুক, ওখানে হয়েছে-আমি বলতে চাইছি, পেন ড্রাইভটা সম্ভবত ওখান থেকেই পেয়েছে শারমিন ।
*জী, আমারও তাই ধারণা ।’
‘কাজেই আমাকে এখন ইয়াংগনে গিয়ে প্রথমে পেন ড্রাইভটা সংগ্রহ করতে হবে । তারপর ব্যাপারটা নিয়ে পরামর্শ করার জন্যে আমি আমার ফুফাতো ভাই সিতওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব । রানা এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারি। ওখানে এমন কাউকে পাওয়া যেতে পারে যিনি তোমার মনিবকে চিনতেন ।’
‘না, ম্যাডাম।’ কথার মাঝখানে ইরাবতিকে বাধা দেওয়া ফালানের স্বভাব নয় । তার মুখের এই কঠিন ভাবও আগে কখনও দেখা যায়নি ।
‘না? কী বলতে চাও তুমি?’ ইরাবতি বিস্মিত । ‘আরমান বেঁচে থাকলে ঠিক এই কাজই করত । পেন ড্রাইভটা সংগ্রহ করে রানা এজেন্সির ইয়াংগন শাখায় পৌছে দিত ।’
‘রানা এজেন্সির লোকজন আপনাকে চেনেন না, আপনিও তাঁদেরকে চেনেন না,’ বলল ফালান। ‘তার মানে কাজটা খুব জটিল । তবে এটা মূল সমস্যা নয় ।’
‘তা হলে কোন্টা?’
‘ম্যাডাম, আমি আপনাকে কোনও অবস্থাতেই ইয়াংগনে যেতে দিতে পারি না,’ সমীহ ও বিনয়ের সঙ্গে কথা বলছে ফালান, অথচ শুনে মনে হচ্ছে কঠিন রায় ঘোষণা করছেন কোনও বিচারক । ‘আমি আপনার খাস নওকর, কাজেই আপনার নিরাপত্তার দিকটা আমাকেই দেখতে হবে। জেনারেল উ নিমুচি যতদিন বেঁচে আছে…’
“আরে, রাখো তোমার জেনারেল নিমুচি! আস্ত একটা শুয়োর ওটা, কোনদিন দেখবে কারও হাতে জবাই হয়ে গেছে । জোর করে ধান নিয়ে যেতে পারবে সে, কারণ বাধা দিলে মিথ্যে কেস দিয়ে আমার লেবারদের জেলে ভরে রাখবে। কিন্তু আমি যদি সত্যি ইয়াংগনে যেতে চাই, সে আমাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারবে না । তুমি এতই যখন ভয় পাচ্ছ, বেশ, আমাকে না হয় কিছু দূর পৌঁছে দিয়ে এস।’
‘না, ম্যাডাম ।’ ইরাবতির সামনে পাথরের মত অনড় দাঁড়িয়ে আছে ফালান । ‘আপনি যাচ্ছেন না । কাউকে যদি যেতেই হয়, তা হলে আমাকে যেতে হবে। বহু বছর আগে মনিব আমাকে কিছু হুকুম দিয়েছিলেন, সেগুলো আজও বহাল আছে । আপনাকে আমি বিপদের ঝুঁকি নিতে দিতে পারব না। শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আপনাকে কোথাও যেতে দেয়া হবে না ।’
খুব রাগ হচ্ছে ইরাবতির, কারণ যেতে তাঁকে হবেই । অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “তর্ক করতে চাইলে পরে কোরো, তার আগে শারমিনকে সরানো দরকার।’ আড়ষ্ট ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে কাজে হাত লাগাল ফালান । কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাচীন খামারবাড়ির বিশাল গুহা আকারের ওয়াইন সেলার-এ লাশটাকে রেখে এল সে। সিঁড়ির ধাপ ও টেরেসের মেঝে থেকে সমস্ত রক্তও মুছে ফেলল ।
তারপর আবার তর্কটা শুরু হলো। ফালানকে এরকম জিদ ধরতে আগে কখনও দেখেননি ইরাবতি । অবাক হয়ে উপলব্ধি করলেন তিনি, প্রয়োজনে যে-কোনও কৌশল, এমনকী জোর খাটিয়ে হলেও তাঁকে যেতে বাধা দেবে ফালান । অগত্যা তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, পরীক্ষিত একজন মানুষের কথা শোনা দরকার
তাঁর ।
“ঠিক আছে, তোমার জিদই বজায় থাকল,’ বললেন ইরাবতি । ‘এবার এসো, কাজের কথা শুরু করি ।’
ফালানের চেহারায় কোনও ভাবই দেখা গেল না, তবে সরু চোখে ফুটে ওঠা স্বস্তির ছাপটুকু গোপন করতে পারল না সে। *হুকুম করুন, ম্যাডাম।’
‘অত্যন্ত সাবধানে ইয়াংগনে ঢুকবে তুমি। শারমিনের বাগানবাড়ি তো চেনোই, প্রথম কাজ কারও চোখে ধরা না পড়ে ওখান থেকে পেন ড্রাইভটটা সংগ্রহ করা । বেল্টটা কোমরে পরে শার্ট চাপা দিয়ে নিয়ে আসবে। বাড়ির ওপর হয়তো নজর রাখা হচ্ছে, কাজেই কাজটা করার সময় চোখ-কান খোলা রাখবে । এরপর মায়ানমার টাইমস-এ একটা বিজ্ঞাপন ছাপতে দেবে, কারণ ওই কাগজটাই সবচেয়ে বেশি চলে । ভাষা যাই হোক, অর্থটা হবে এরকম: “কবর থেকে উঠে হক মাওলা পুরানো বন্ধুদের খুঁজছে ।”
‘হক মাওলা, ম্যাডাম ?’
‘তোমার মনিবের ছদ্মনাম ছিল এটা,’ বললেন ইরাবতি । ‘যাও, রওনা হবার প্রস্তুতি নাও ।’ মাথা নোয়াল থোন ফালান, তারপর ঘুরে চলে গেল । সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই অকাল বর্ষণ শুরু হলো। বৃষ্টির মধ্যে লাশটাকে গোপনে মাটি চাপা দেওয়া বরং সহজ হয়ে উঠল । যা করবার একা থোন ফালানই করল, ইরাবতি শুধু বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একধারে পাথুরে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকলেন । বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরটা রেইনকোটের ভিতর আরও যেন ছোট ও ভঙ্গুর লাগল ফালানের দৃষ্টিতে ।
ইতোমধ্যে রাজধানীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে ফালান । বার্মিজ লুঙ্গি ছেড়ে জিনসের লম্বা প্যান্ট ও সুতি শার্ট পরেছে সে, শার্টের উপর কাপড়ের জ্যাকেট । বৃষ্টি ছাড়লে স্বচ্ছ রেইনকোট খুলে মাথায় পরবে কুলি হ্যাট ।
লাইসেন্স করা পিস্তল ফালানেরও আছে, সঙ্গে করে সেটা নিয়ে যাচ্ছে সে । বিদায় দেওয়ার আগে তাকে কিছু টাকা দিলেন ইরাবতি, সেই সঙ্গে নতুন কিছু নির্দেশ। ‘আমাদের প্ল্যান একটু বদলেছে, ফালান । রাজধানীতে একবার নয়, দু’বার যেতে হবে তোমাকে । ভেবে দেখলাম পেন ড্রাইভটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কাজেই সবার আগে ওটার নিরাপত্তা দরকার । শারমিনের বাড়ি থেকে সরাসরি আমার কাছে নিয়ে আসবে তুমি বেল্টটা । তারপর বিজ্ঞাপন ছাপতে দেয়ার জন্যে আবার ইয়াংগনে যাবে।’
‘জো হুকুম, ম্যাডাম ।’
‘বেল্টটা আমরা জীবন দিয়ে রক্ষা করব,’ দৃঢ়কণ্ঠে বললেন ইরাবতি । ‘আমাদের ভুললে চলবে না যে ওটার জন্যেই খুন করা হয়েছে শারমিনকে ।’
সশ্রদ্ধচিত্তে মাথা নোয়াল ফালান । তবে আমি চাই, ম্যাডাম, সমস্ত সাহস ও বুদ্ধি দিয়ে আপনি নিজের জীবনটাকে রক্ষা করবেন। কারণ আমার অনুপস্থিতিতে আপনার কিছু হলে, আমাকে না আত্মহত্যা করতে হয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!