অনন্ত যাত্রা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩০৯
অনন্ত যাত্রা – বইটির এক ঝলকঃ
মধ্যেই নামটা জানাবে বায়ার। তখন বসিয়ে দেব।’
“আমাকে দিয়ে সই করিয়ে নিতে খুব ব্যগ্র আপনি,” আনমনে মন্তব্য করল ও।
‘স্বাভাবিক। আপনি আমার মক্কেল। তাই আমি অবশ্যই চাইব দু’পয়সা লাভ হোক আপনার। সময় নষ্ট হওয়ার ফলে সে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে ভেবেই আমি ব্যগ্র, দ্যাট’স অল।’
ঝুঁকে আধপোড়া চুরুটটা অ্যাশট্রে থেকে তুলে নিল অ্যাচেনসন, দীর্ঘ চুমুক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল গল গল করে। ‘আপনাকে ঠিক বুঝতে পারছি না আমি। চার মাস আগেই প্রজেক্টের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছি আমি আপনাকে ফদারগিলের মাধ্যমে। জমি বিক্রির প্রস্তাবের সাথে ব্যক্তিগত একটা চিঠিও দিয়েছি তখন আপনাকে। যাতে সব কিছু খুব স্পষ্ট করে লিখেছি আমি। আপনার স্বার্থের কথা ভেবেই কিংডম বিক্রি করে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু আপনি কান দেননি, এতদিন পর ছুটে এসেছেন ক্যালগারি পর্যন্ত। অনর্থক পয়সা, সময় এবং এনার্জি নষ্ট করেছেন।’
উঠে দাঁড়াল অ্যাচেনসন। চুরুট দাঁতে কামড়ে ধরে দু’হাত ট্রাউজারের পকেটে ভরে তাকিয়ে থাকল মাসুদ রানার দিকে। ‘একটা ব্যাপার আপনার জানা প্রয়োজন, মিস্টার রানা, শুধুমাত্র আমার একার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এমন এক বায়ার পেয়েছেন আপনি। প্রথম থেকেই আলবেরি সাউলের সলিসিটর হিসেবে কাজ করে আসছি আমি, বিনিময় কোনদিন একটা নিকেলও পাইনি। সে জন্যে দুঃখ নেই আমার এখন অনেক কষ্টে এই খদ্দের জোগাড় করেছি। যদি কিংডম বিক্রি করেন, আপনি কিছু পাবেন, বুড়ো রজার ফেরগাসও তার টাকাগুলো ফেরত পাবেন। আপনি জানেন কত টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি আলবেরি সাউলকে? চল্লিশ হাজার! অন্যদের কথা আর নাই বললাম । সমস্ত দেনা পরিশোধ করার এ এক চমৎকার সুযোগ । আপনি চান না এরা সবাই উদ্ধার পাক? আমি মনে করি চান। তাহলে কেন অনর্থক সময় নষ্ট করছেন?’ ওর চোখে চোখ রেখে বসল আবার সলিসিটর। ‘কোথায় উঠেছেন আপনি?’
‘হোটেল প্যালিসার।
‘ঠিক আছে। হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম করুন। আর ভাবুন বিষয়টা নিয়ে। আজ সন্ধে পর্যন্ত সময় আছে ডীডে সই করার। যখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন, ফোন করবেন আমাকে । আপনাকে নিয়ে আসার জন্যে গাড়ি পাঠাব আমি। ওকে? সার্ভে রিপোর্ট, সেল ডীড, সব নিয়ে খান, পড়ে দেখবেন ভাল করে।
ঝুঁকে হাত বাড়াল সে হ্যান্ডশেকের জন্যে। দেখেও দেখল না মাসুদ রানা, বেরিয়ে এল কাগজগুলো নিয়ে। বাইরের ল্যান্ডিঙে এসে দাঁড়াল ও, অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে তাকাল রজার ফেরগাস অয়েল কোম্পানির বন্ধ দরজার দিকে। হঠাৎ কি ভেবে সেদিকে এগোল রানা, সরজা খুলে ঢুকে পড়ল ভেতরে। ওকে দেখে এগিয়ে এল অল্পবয়সী এক মেয়ে, সেক্রেটারি হবে নিশ্চয়ই। ‘কি সাহায্য করতে পারি আপনাকে?’
‘মিস্টার ফেরগাসের সাথে দেখা করতে চাই আমি,’ বলল মাসুদ রানা।
‘ওল্ড ফেরগাস?’ ওকে ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা দোলাতে দেখে বলল সে, ‘কিন্তু উনি তো অসুস্থ। অনেকদিন থেকে আসেন না অফিসে। বাসায় পাবেন তাঁকে।’
‘তাই নাকি?’
*আপনার কি তাঁকেই প্রয়োজন? না হলে তাঁর ছেলে, হেনরি ফেরগাস…’
‘তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। জাস্ট আ সোশ্যাল কল। লন্ডন থেকে এসেছি, ভাবলাম একবার দেখা করে যাই। কি হয়েছে ওঁর?’ ‘প্যারালাইসিস । ডানদিক অবশ হয়ে গেছে।’
“ওহ্-হো! দেখা করা যাবে না তাহলে?” ‘তা, ইয়ে…মানে, আপনি যখন…একটু অপেক্ষা করুন, স্যার। আমি বাসায় একটা ফোন করে দেখি। আপনার নাম, স্যার?’
‘মাসুদ রানা। আরও বলবেন, আমি আলবেরি সাউলের উত্তরাধিকারী।’
থমকে গেল মেয়েটি। উজ্জ্বল হয়ে উঠল দু’চোখ। ‘রিয়েলি! ওহ্, হাউ নাইস টু মিট ইউ, স্যার। মিস্টার সাউলের সাথে পরিচয় ছিল আমার। চমৎকার মানুষ ছিলেন। যদিও তাঁর মৃত্যুর পর অনেকে অনেক কথা বলেছে তাঁর কার্যকলাপ নিয়ে, তবে আমি বিশ্বাস করিনি। সে যাক, আপনি বসুন, স্যার। আমি ফোন করছি।’
এক মিনিট পর হাসি মুখে ওয়েটিং রুমে ফিরে এল মেয়েটি। ‘অনুমতি পাওয়া গেছে। তবে নার্স অনুরোধ করেছে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় না নিতে। মিস্টার ফেরগাসের বাড়ি যাবেন বললে যে কোন ট্যাক্সি ড্রাইভার পৌঁছে দেবে আপনাকে।’
মেয়েটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এল মাসুদ রানা। ট্যাক্সি চেপে রওনা হয়ে গেল রজার ফেরগাসের বাড়ির উদ্দেশে। বাড়িটা শহর কেন্দ্র থেকে বেশ দূরে, নদীর পাড়ে। একটা র্যাঞ্চ হাউস, দাঁড়িয়ে আছে ” বিশাল এলাকা নিয়ে। এক মাঝবয়সী হাউস কীপারকে অনুসরণ করে ভেতরের বিশাল লাউঞ্জে পৌঁছল মাসুদ রানা। এখানে এক কমবয়েসী, সুন্দরী নার্স ওর দায়িত্ব নিল, পথ দেখিয়ে নিয়ে এল বইয়ে ঠাসা এক স্টাডি রূমে। বৈদ্যুতিক ফায়ারপ্লেসের আগুন রেশ গরম রেখেছে রমটাকে ।
ঘরের চার দেয়ালে ঝুলছে বড় বড় ছবি, সব অয়েল রিগ, ড্রিলিং ক্রু, বরফমোড়া পাহাড়ের চূড়া, ঘোড়া, চাক ওয়াগন রেস ইত্যাদির। রূমের এক কোণে প্রকাণ্ড এক সেক্রেটারিয়েট টেবিল। যার ওপর সাজানো আছে ডজনখানেক ট্রফি এবং আরও কী সব যেন। পুরো দেখার সুযোগ হলো না রানার, তার আগেই এক বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রিত হুইল চেয়ারে চড়ে রূমে ঢুকলেন বৃদ্ধ রজার ফেরগাস ।
প্রকাণ্ড দেহের অধিকারী মানুষটি। চওড়া কাঁধ ৷ মাথাভর্তি চুল, সব ধপধপে সাদা। ঘন, চওড়া ভুরু। কাঁচাপাকা। গায়ের চামড়া শুকনো, কোঁচকানো পার্চমেন্টের মত। চোখ কুঁচকে মাসুদ রানাকে দেখলেন ভদ্রলোক সময় নিয়ে। ‘আপনিই তাহলে আলবেরি সাউলের – উত্তরাধিকারী?’ মুখের এক কোণ দিয়ে জড়িত কণ্ঠে বললেন রজার ফেরগাস। আরেক কোণের ঠোঁট প্রায় মাঝ পর্যন্ত সেঁটে আছে, নড়ে না। ‘প্লীজ, সিট ডাউন। আপনার কথা শুনেছি আমি।’
বসল রানা একটা আর্ম চেয়ারে। সুইচ টিপে হুইল চেয়ারটা ডেস্কের বিপরীতে নিয়ে এলেন ফেরগাস। ‘ড্রিঙ্ক?’ বলে ডেস্কের নিচের দিকের এক ড্রয়ার খুলে স্কচ বের করলেন। ও জানে না এটার কথা, চোখ ঘুরিয়ে নার্স মেয়েটির গমন পথ ইঙ্গিত করলেন বৃদ্ধ। ‘জানলে ঠিক কেড়ে নেবে। ডাক্তারের নিষেধ। আমার ছেলে হেনরি গোপনে আমাকে সরবরাহ করে এসব।’ দুই গ্লাসে অল্প করে পানীয় ঢাললেন ফেরগাস, একটা গ্লাস এগিয়ে দিলেন মাসুদ রানার দিকে । “কারা হেনরি জানে এ জিনিস যত গিলব ততই তাড়াতাড়ি মরব আমি। ও আমার সবকিছুর মালিক হয়ে যাবে।’
নিজের গ্লাস ওপরে তুললেন রজার ফেরগাস। “ইওর হেলথ, ইয়াং ফেলা!
‘অ্যান্ড ইওরস, স্যার,’ বলল রানা ।
‘আপনি দেখছি বিপদে ফেলবেন হেনরিকে,’ হাসির ভঙ্গি করলেন বৃদ্ধ। ‘ও অপেক্ষায় আছে আমার মৃত্যুর আর আপনি কি না আমার স্বাস্থ্য পান করছেন! এই-ই হয়। যদি কখনও সৌভাগ্য খোঁজ পায় আপনার, তখন বুঝবেন। সে যাক, এতদূর ছুটে এলেন কি মনে করে? নতুন করে ড্রিলিং শুরু করতে চান কিংডমে?’
*তাতে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না,’ বলল মাসুদ রানা। ‘শেষ সার্ভের রিপোর্টটা দেখেছি আমি অ্যাচেনসনের অফিসে।’
‘হ্যাঁ,’ মাথা দোলালেন ফেরগাস। দুর্ভাগ্যজনক। তবে বয় রাডেন খুব আগ্রহী ছিল, ভেবেছিল…। খুব ভাল ছেলে ব্লাডেন, ভাল পাইলট । কিন্তু সার্ভেয়র হিসেবে যাকে বলে থার্ড ক্লাস। হাফ ইন্ডিয়ান, বুঝলেন! হঠাৎ করে গলা খাদে নেমে গেল তাঁর, প্রায় ফিসফিস করে বললেন, ‘ওয়েল, নাউ । কেন দেখা করতে এসেছেন, বলুন ।
‘আপনি আলবেরি সাউলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, তাই পরিচিত হতে এসেছি ।
‘ভাল।’ চোখ কুঁচকে একে দেখলেন বৃদ্ধ। ‘কোন ফিনান্সিয়াল প্রোপোজিশন দিতে চান?”
“না । তেমন কোন চিন্তা নেই ।
‘দ্যাট’স গুড। আসলে আমার টাকা আছে তো, তাই ধারেকাছে নতুন, অচেনা কাউকে দেখলে ভয় হয় না জানি কোন মতলবে এসেছে ভেবে। এবার, মিস্টার রানা, আপনার ব্যাপারে বলুন। কোন্ সূত্রে আলবেরি সাউলের উত্তরাধিকারী হলেন আপনি?’
বলল ও। চোখ বুজে শুনে গেলেন রজার ফেগাস। রানার বক্তব্য শেষ হতে ডাকালেন। তাঁর চাউনি, হাসি ইত্যাদি দেখে রানার মনে হলো ছেলেমানুষী ভাব আছে ভদ্রলোকের মধ্যে। ভাল লাগল ওর, খুব আপন মনে হলো বৃদ্ধকে। ‘তাহলে কিংডম ডুবিয়ে দেয়ার আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে সবাই মিলে? আর আপনি এসেছেন তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে?’ বলেই অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন ভদ্রলোক ৷ ‘কৈ জানে, হয়তো সেটাই ভাল হবে। বেচারা সাউল, অনেক ভুগেছে কিংডম নিয়ে। তা, অ্যাচেনসন কি কি বলল?’
বলল, আমি কিংডম বেচতে রাজি হলে বায়ার অন্যদের সাথে আপনার পাওনা টাকা-পয়সা সব শোধ করে দেবে।’
দীর্ঘক্ষণ রানার দিকে তাকিয়ে থাকলেন রজার ফেরগাস। তারপর প্রায় খেঁকিয়ে উঠলেন, ‘কে বলেছে ওকে আমার টাকার জন্যে মাথা ঘামাতে। টু হেল উইথ দা মানি, ম্যান! আমি টাকা দিয়েছি আমার বন্ধুকে, আমার নিজের টাকা! তাতে অন্যের এত মাথাব্যথা কেন?
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!