অ্যামবুশ – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

অ্যামবুশ – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৮৭

অ্যামবুশ – বইটির এক ঝলকঃ

মুখরোচক একটা সংবাদ দিয়ে চুপ করে গেলেন ডাক্তার। যাত্রীদের হজম করার সময় দিলেন। তারপর বললেন, ‘আমাদের পরিচয় জানলেন। এবার আপনাদের কথা শোনা যাক।’
‘আমার নাম জন ওয়াকার,’ পরিচয় দিল কপালে- হাতে আঘাত পাওয়া লোকটা। ‘গ্যান্ডার যাচ্ছিলাম। ওখান থেকে প্লেন বদলে বদলে নিউ ইয়র্ক। ‘
‘কেন?’ জানতে চাইলেন ডাক্তার। ‘বেড়াতে?’
‘না।’ জনের কথার সঙ্গে বাঁকা হাসিটা কেমন যেন বেমানান মনে হলো রানার কাছে। জন বলল, ‘গ্লাসগোর একটা প্রতিষ্ঠান, মরিসন ট্রাক্টর কোম্পানির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছিলাম। কোম্পানিটার নাম শুনেছেন?’
“শুনিনি। তবে ট্রাক্টর কোম্পানির লোক শুনে আনন্দ হচ্ছে। বাইরে একটা মান্ধাতা আমলের ট্রাক্টর আছে আমাদের। হাতুড়ি আর স্প্যানারের বাড়ি না খেলে চলতে চায় না।’
‘তাই নাকি!’ ট্রাক্টরের কথা শুনে একটু যেন চমকে গেল লোকটা। ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ নিশ্চয় চেষ্টা করব।’
‘আমার কি মনে হয় জানেন, মিস্টার ওয়াকার?’ বাঁকা চোখে লোকটার দিকে তাকালেন সুসান, ‘জীবনে ট্রাক্টর নামক কোন বস্তুর গায়ে হাত ছোঁয়াননি আপনি।’ ‘তাহলে এবারে ছোঁয়াবার সুযোগ পেয়ে যাবেন, হাসন রানা।
‘আসলে কি জানেন,’ হাসল জনও। ট্রাক্টর কোম্পানির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি, অথচ ট্রাক্টর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না, বলতে লজ্জাই হচ্ছে। কিন্তু সবাই তো আর ইঞ্জিনিয়ার নয়। তাছাড়া চীফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের ইঞ্জিনিয়ার হবার দরকারও পড়ে না।’
‘তা বটে,’ মাথা দোলালেন সুসান ।
রেভারেন্ডের দিকে তাকালেন ডাক্তার ব্রাউন। চোখে জিজ্ঞাসা।
‘আমি নিউবোল্ড,’ গালে হাত ঘষছে গলাবন্ধ-কোট। ‘রেভারেন্ড স্টিফেনস নিউবোল্ড। লন্ডনের ইউনিটেরিয়ান অ্যান্ড ফ্রী ইউনাইটেড চার্চে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে আমি নিউ ইয়র্ক থেকে ডেলিগেট হিসেবে গিয়েছিলাম। বিরাট অধিবেশন হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে এত বড় অধিবেশন আর হয়নি, জানেন বোধহয়?”
‘জানি না,’ এদিক ওদিক মাথা নাড়লেন ডাক্তার। ‘খবরের কাগজ তো আর পাই না আমরা এখানে।’ ডোরাকাটা কোটের দিকে ফিরলেন ব্রাউন, ‘আপনি?’
“টম মার্টিন। নিউ ইয়র্কের অধিবাসী,’ অযথা কথা বাড়াতে চায় না ডোরাকাটা। পাশে বসা কোঁকড়াচুল যুবকের কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘মাই সন, ডেরি।
“কি বললেন? আপনার ছেলে?’
‘ওর কথা শুনবেন না,’ নাক-মুখ পাকিয়ে বলল যুবক। ‘আমার নাম ঠিকই বলেছে, ডেরি, মানে ডেরেক ক্লেটন। কিন্তু আমি ওর ছেলে নই। ও-ই আমার ম্যানেজার।’ মিংককোটের দিকে একবার তাকাল ডেরেক। মনে মনে কি হিসেব করে নিল। আবার ডাক্তারের দিকে ফিরে বলল, ‘আমি আসলে সাধারণ এক মুষ্টিযোদ্ধা।’ টমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওদের সব বলো, ম্যানেজার।
“ওর কথা বিশ্বাস করবেন না,’ দুই হাত ওপরে তুলেছে মার্টিন! ‘সাধারণ ও মোটেই নয়, অসাধারণ। ভবিষ্যৎ হেভী ওয়েট চ্যাম্পিয়ন। ইউরোপিয়ানদের একমাত্র আশা ভরসা। ইউরোপের ঘরে ঘরে ফেরে ওর নাম ।
“কিন্তু ডাক্তার ব্রাউন আমার নাম শুনেছেন কিনা জিজ্ঞেস করে দেখো আগে,’ বলল ক্লেটন।
হেসে ফেললেন ডাক্তার, ‘নাম না শুনলেই বা কি? তবে চেহারা দেখে কিন্তু আপনাকে ফাইটার বলে মনে হচ্ছে না, মিস্টার ক্লেটন। বরং যে কেউ দেখলে বলবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ছুটি কাটাতে চলেছেন কোথাও।’
‘কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কি মুষ্টিযোদ্ধা হতে পারে না? লেখাপড়ার সঙ্গে তো এই পেশার কোন বিরোধ আছে বলে জানি না।’
‘ঠিক,’ জোর দিয়ে বলল মার্টিন। ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছিল রোল্যান্ড লা স্টারজা; তখন কি করত ও, কলেজের ছাত্র ছিল না? মুষ্টিযুদ্ধের ইতিহাসে…
‘থামো, টম,’ মার্টিনকে থামিয়ে দিল ক্লেটন। এখানে কোন সাংবাদিক নেই। কাজেই লেকচার না দিলেও চলবে।’
ক্লেটনের পাশের মেয়েটির দিকে তাকালেন ডাক্তার। ‘আপনি, মিস?’ “মিসেস। ভারনন ডুলানী। হয়তো নাম শুনে থাকবেন।
‘উঁহু,’ যেন মনে করার চেষ্টা করছেন, এমনি ভাবে ভুরু কোঁচকালেন ডাক্তার, ‘নাহ, শুনিনি।’ আসলে কিন্তু ঠিকই শুনেছেন তিনি। লন্ডনের এক কোটিপতি হেনরী ভুলানীর বিধবা স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর নাম করার জন্যে দাতব্য প্রতিষ্ঠান খুলেছে কয়েকটা। তবে যতদূর শুনেছেন ডাক্তার, ওই খোলা পর্যন্তই। এরপরে আর ওগুলোর দিকে তেমন নজর দেয়া হয়নি। আসলে এই মহিলা হয়তো চেয়েছিল, খবরের কাগজে ফলাও করে তার নাম ছাপা হোক। কত বিচিত্র চরিত্রের বাস এই পৃথিবীতে।
ডাক্তার ‘শুনিনি’ বলাতেও কিন্তু কিছু এসে গেল না ভুলানীর। মিষ্টি করে হাসল, ‘আশ্চর্যের কিছু নেই। সমাজ আর লোকজন থেকে অনেক দূরে বাস করেন আপনি।’ কলার-বোন ভাঙা মেয়েটার দিকে আঙুল তুলল এবার মহিলা। ‘হফম্যান।’
‘হফম্যান?’
‘হফম্যান। আমার পার্সোনাল মেইড।’
‘আপনার পার্সোনাল মেইড,’ মেয়েটার প্রতি ডুলানীর অবজ্ঞা দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে ডাক্তারের। রাগ দমিয়ে বললেন, ‘আপনার পার্সোনাল মেইড? হাড় ভেঙে গেছে মেয়েটার, আর আপনি ওকে একবার জিজ্ঞেসও করলেন না, কেমন আছে। সেবা করা তো দূরে থাক।’
“মিস গিলবার্টই তো করছেন,’ শান্ত কণ্ঠস্বর ডুলানীর। ‘আমার দরকার কি? ‘ঠিক, মিস গিলবার্টই তো করছেন, আপনার দরকার কি!’ বলে উঠল ক্লেটন, *আপনার হাতে হয়তো ময়লা লাগত ।
ভদ্রতার খোলস ঝরে পড়ল ভুলানীর মুখ থেকে। কঠিন হয়ে গেছে মুখ, রক্ত জমেছে দুই গালে। কিন্তু কোন উত্তর জোগাল না তার মুখে। তাছাড়া উত্তর দেবার আছেইবা কি? সত্যি কথাটা সহজ ভাবেই বলে ফেলেছে ক্লেটন।
‘আপনারা দুজন,’ তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ বদলালেন ডাক্তার। পাকাচুলো আর খোঁচা খোঁচা দাড়ি বৃদ্ধ লোকটির পরিচয় জানতে চাইলেন তিনি।
পকেট থেকে খাপসুদ্ধ চশমা বের করলেন খোঁচা দাড়ি। খাপের ভেতর একটা ভারী পাওয়ারের রিমলেস চশমা। চোখে লাগালেন। ব্রাউনের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আমি মুস্তাফা শরাফী। ফিলিস্তিনী। ইহুদীরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল আমাকে। তখন লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এমন জিনিস আছে আমার কাছে, সর্বনাশ করে ছাড়ব ব্যাটাদের। রবা… শরাফীকে চেনে না।’ ভুরু কুঁচকে লোকটার দিকে তাকাল রানা। শরাফীর কথায়, চেহারায় কোথায় যেন কি একটা গোলমাল আছে, ঠিক ধরতে পারল না ।
“কি এমন জিনিস আছে আপনার কাছে, মিস্টার শরাফী?’ জানতে চাইলেন ডাক্তার।
“আছে—না, মানে এখন নেই, তবে থাকবে…’
‘ও, শরাফী মাথা খারাপদের দলে শিগগিরই যোগ দেবে, মনে মনে ধারণা করে নিয়ে পাকাচুলোর দিকে তাকালেন ডাক্তার। চোখে জিজ্ঞাসা।
‘ম্যাক্সওয়েল।’ থামল পাকাচুলো। ‘সিনেটর ওয়াল্টার ম্যাক্সওয়েল। সিনেটর কথাটার ওপর বিশেষ জোর দিল। ‘কোন সাহায্য করতে পারলে আনন্দিত হব, ডাক্তার কার্টার ব্রাউন।’
‘ধন্যবাদ সিনেটর,’ মুচকে হাসলেন ডাক্তার। সিনেটরের নিজেকে প্রচার করার বহর দেখে অবাকই হয়েছেন তিনি। মানুষ এত বেহায়া হতে পারে!
“ইয়োরোপ ভ্রমণে এসেছিলেন বুঝি?
‘সে-রকমই বলতে পারেন,’ গর্বের সঙ্গে বলল সিনেটর। ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে তো আমাকে…দেশে দেশে ঘুরে তাই…’
হাওয়া খাচ্ছিলেন,’ হালকা গলায় বলে বসল ক্লেটন। ‘স্ত্রী আর সেক্রেটারিরা কোথায়, জনাব? আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন? দেশটাকে আর কত ডোবাবেন? রক্ত পানি করা পয়সায় ট্যাক্স দিচ্ছে লোকে, আর আপনারা সেগুলো দু’হাতে ওড়াচ্ছেন। মৌজ করছেন।
মনে মনে প্রমাদ গুনল রানা, এক্ষুণি একটা যাচ্ছেতাই রকমের কেলেঙ্কারি কাণ্ড না হয়ে যায়! কিন্তু না, পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ ম্যাক্সওয়েল, কিংবা কে জানে ঘুসি খাবার ভয়েই হয়তো, চটল না। শান্তকণ্ঠে বলল, ‘দেখো ছোকরা, গায়ে পড়ে অপমানের চেষ্টা করছ কিন্তু।
‘আরে না না, অপমান আর কোথায়। ওসব গায়ে মাখেন নাকি আপনারা ? চামড়া যে মোটা…
*এক্কেবারে বাচ্চা ছেলে! অবুঝ! পাগল!’ দিলদরিয়া মেজাজে বলল সিন্টের। বিচিত্র, সত্যিই বিচিত্র একদল মানুষ, ভাবছে রানা। এদের একজন ব্যবসায়ী, একজন গায়িকা-অভিনেত্রী, এক রেভারেন্ড, লন্ডনের এক সমাজ বিলাসিনী আর তার জার্মান পরিচারিকা, এক মার্কিন সিনেটর, আজব এক ফিলিস্তিনী, হিস্টিরিয়াগ্রস্ত এক এয়ার হোস্টেস, সহজ-সরল অথচ বদরাগী এক বিজ্ঞানী, বিশালদেহী হাসিখুশি এক আইস স্পেশালিস্ট এস্কিমো, স্বল্পভাষী এক রেডিওম্যান আর মুমূর্ষু এক পাইলট কাম-ওয়্যারলেস অপারেটর। ঘটনাচক্রে এই বিচিত্র দলটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে সে। তিনজন ছাড়া অন্যদের বিপদ থেকে রক্ষার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছে সে নিজের কাঁধে। প্রথমে মনে করেছিল, একটা স্বাভাবিক প্লেন দুর্ঘটনা, কিন্তু এখন জানে, অন্য ব্যাপারও রয়েছে এর ভেতর। ফলে অনেক বেশি ঘোরাল হয়ে উঠেছে গোটা পরিস্থিতি…।
‘আচ্ছা ডাক্তার ব্রাউন,’ জন ওয়াকারের কথায় ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এল রানা। “আপনাদের গবেষণার বিষয়বস্তু একটু ভেঙে বলবেন কি?’
‘কতদূর বুঝবেন, জানি না,’ সত্যি কথাই বললেন ডাক্তার। তবে মূল ব্যাপার যতটা সম্ভব সহজ করে বলছি, শুনুন।’ কেশে গলা পরিষ্কার করে নিলেন ব্রাউন। ‘গত প্রায় এক বছর ধরে সৌরকলঙ্কের তীব্র সক্রিয়তা টের পাচ্ছি আমরা। জানেন বোধহয়, সৌরকলঙ্ক কিংবা এর থেকে সৌরকণার বিকিরণই অরোরা বোরিয়ালিস আর চৌম্বক ঝড়ের প্রধান কারণ। আয়োনোস্ফিয়ারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যেও সৌরকলঙ্ক আর সৌরকণাই দায়ী। এই বিশৃঙ্খলা জোরাল হয়ে উঠলে বেতার যোগাযোগে বাধার সৃষ্টি করে, ক্ষণিক পরিবর্তন ঘটায় ভূ-চুম্বকত্বে সাময়িকভাবে বেকার করে দেয় চুম্বক কম্পাস। আমাদের দুর্ভাগ্য, জোরাল বিশৃঙ্খলা চলছে এখন আয়োনোস্ফিয়ারে…’
‘অর্থাৎ, রেডিও এবং কম্পাস – কোনটারই সাহায্য পাচ্ছি না আমরা, এই তো বলবেন?’ জানতে চাইল রানা ।
‘ঠিকই ধরেছেন,’ রানার দিকে তাকালেন ব্রাউন। ‘আমার কি মনে হয় জানেন? প্লেনের কম্পাসও খারাপ হয়ে গেছে এই বিশৃঙ্খলার জন্যেই। পথ হারিয়ে ফেলেছেন পাইলট…’
‘না,’ জোর দিয়ে বলল রানা। ‘প্লেনে আজকাল আর সাধারণ কম্পাস থাকে না, জাইরো কম্পাস ব্যবহার করা হয়। আর এই জাইরো কম্পাসের কোন ক্ষতিই করতে পারে না আয়োনোস্ফিয়ারের বিশৃঙ্খলা কিংবা ভূ-চুম্বকত্বের ক্ষণিক পরিবর্তন।’
আরও আধ ঘণ্টা পর। আহত জেস ওয়েন্সের ক্ষত ধুয়ে কাটাছেঁড়াগুলো সেলাই করে ওষুধ লাগানো শেষ করেছেন ডাক্তার ব্রাউন। তাঁকে সাধ্যমত সাহায্য করেছে স্টুয়ার্ডেস।
কাজ শেষ করে ওয়েন্সকে একটা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন ডাক্তার।
‘কেমন মনে হচ্ছে, ডাক্তার ব্রাউন?’ জানতে চাইল স্টুয়ার্ডেস।
‘বলা শক্ত। ব্রেন স্পেশালিস্ট ছাড়া আসল ব্যাপারটা জানা যাবে না। তবে আমি ব্রেন হেমোরেজ আশঙ্কা করছি,’ ডাক্তার গম্ভীর ।
যদি ব্রেন হেমোরেজ না হয়, আঘাতটা যত ভাবছেন তত খারাপ না হয় আকুল কণ্ঠ স্টুয়ার্ডেসের।
“তাহলে হয়তো আশা আছে। ওর জীবনীশক্তি দেখে অবাকই লাগছে। গর খাবার, ভাল হাসপাতাল আর সেবাযত্ন পেলে হয়তো সেরেই যেত।’
‘ধন্যবাদ…’ স্থির দৃষ্টিতে মেয়েটার মুখের দিকে তাকালেন ডাক্তার। চোখের কোে কালিমা। ভারী পোশাক পরেও থরথর করে কাঁপছে। একেবারে ভেঙে পড়েৎে মেয়েটা ।
‘শুতে যান,’ এই প্রথম মেয়েটার জন্যে করুণা অনুভব করলেন ডাক্তার। ‘ফু আর উত্তাপ দরকার এখন আপনার। আর হ্যাঁ, ভাল কথা, আপনার নামটাই জানি না এখনও।’
“শ্যারিন… শ্যারিন ক্যাম্পবেল।’
‘স্কচ?’ পাশেই একটা প্যাকিং বাক্সের ওপর বসে ডাক্তারের কাজ দেখছিল রানা, জিজ্ঞেস করল।
চোখ তুলে রানার দিকে তাকাল মেয়েটা। ‘আইরিশ।’
হাসল রানা, ভরসা দিতে চাইছে যেন। ‘আচ্ছা মিস…মিসই তো?’ মেয়েট মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলে বলল, ‘মিস ক্যাম্পবেল, একটা জিনিস বুঝতে পারছি না এত বড় একটা প্লেন এত কম যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল কেন?’
‘এটা এক্সট্রা প্লেন। প্যাসেঞ্জারের ওভারফ্লো হয়ে গিয়েছিল গ্যান্ডা এয়ারপোর্টে। তাই এই বাড়তি প্লেনটার বন্দোবস্ত করতে হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে আগেই ছেড়েছে। ওই ফ্লাইটের জন্যে যে ক’টা টিকিট বিক্রি হয়েছিল, সব কজন প্যাসেঞ্জারকে টেলিফোন করা হয়েছে। কে কে আগেই যেতে চায় জিজ্ঞেস কে মোট দশজনকে পাওয়া গেছে।’
*ও। আচ্ছা, ট্র্যান্স-আটলান্টিক ফ্লাইট—বিরাট বিমান, অথচ আপনি একজ মাত্র স্টুয়ার্ডেস…একটু অস্বাভাবিক না?”
‘ঠিকই বলেছেন,’ বাঁ হাতে গাল চুলকাল শ্যারিন। ল্যাম্পের আলোয় ঝিকিে উঠল অনামিকায় পরা আঙটির পাথর। ‘আসলে মোট তিনজন থাকার নিয়ম একজন স্টুয়ার্ড এবং দু’জন স্টুয়ার্ডেস, কিংবা একজন স্টুয়ার্ডেস এবং দু’জন স্টুয়ার্ড কিন্তু মাত্র দশজন যাত্রীর জন্যে তো আর এটা সম্ভব নয়।
“হুঁ, দশজনের জন্যে একজনই যথেষ্ট, হালকা গলায় বলল রানা। এরপরেও ঘুমোনোর সময় পাওয়া যায়। কম যাত্রী হলে লাভ আছে।’
‘প্লীজ, আমাকে লজ্জা দেবেন না আর। এর আগেও কম যাত্রীদের সঙ্গে উড়েছি, প্রচুর সময়ও পেয়েছি, কিন্তু কক্ষনো এবারের মত হয়নি আমার!’
‘সরি, মিস ক্যাম্পরেল, আপনাকে খোঁচা দিয়ে কিছু বলতে চাইনি।’
‘আসলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না আমি, পানি চিকচিক করছে শ্যারিনের আয়ত বাদামী চোখে। ‘ঘুমিয়ে না পড়লে যাত্রীদের হুঁশিয়ার করে দিতে

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top