আলোর মিছিল ৩য় খণ্ড – ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৯০
আলোর মিছিল ৩য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
আমি তখন তাকিয়ে দেখলাম, সে সোজা দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি তখন তার দিকে তাকিয়ে বললেন : হে মেয়ে! আল্লাহর নাম নিয়ে তুমি তোমার স্বামীর ঘরে প্রবেশ কর।
সে যখন অগ্রসর হতে চাইল লজ্জায় কাপড়ের সাথে আটকে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হল।
আর আমি তখন হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কি বলব কিছুই জানি না।
তারপর আমি তাকে পশ্চাতে ফেলে রুটি আর তেল রাখা পাত্রটির দিকে এগিয়ে গেলাম । প্রদীপের আলো থেকে তা দূরে সরিয়ে রাখলাম যেন সে তা দেখতে না পায় ।
তারপর আমি বাড়ির ছাদে উঠলাম এবং প্রতিবেশীদের ডাকলাম। তারা এসে বলল : কি হয়েছে ?
আমি বললাম : আজ মসজিদে নববীতে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন
হঠাৎ এখন তিনি তাকে নিয়ে আমার নিকট এসেছেন।
তাই তোমরা এসো, তাকে একটু শান্ত্বনা দাও। আমি আমার মাকে ডেকে আনছি। তিনি কিছুটা দূরে আছেন।
তাদের মধ্য থেকে এক বয়স্কা নারী বলল : চুপ কর। তুমি কি জান কি বলছো ?
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব বুঝি তাঁর মেয়েকে তোমার নিকট বিয়ে দিয়েছেন!
আর তিনিই তাঁর মেয়েকে তোমার বাড়িতে নিয়ে এসেছেন ?
অথচ তিনি ওলীদ ইবনে আব্দুল মালেকের সাথে তাঁর মেয়েকে বিয়ে দেননি!!
আমি বললাম: হ্যাঁ, দিয়েছেন।
এই তো সে আমার ঘরে। তোমরা এসো, তাকে দেখ। প্রতিবেশীরা আমার বাড়িতে এল। অথচ তারা আমার কথা বিশ্বাস
করতে পারছে না।
তারা এসে তাকে স্বাগতম জানাল এবং একাকীত্বে তাকে সঙ্গ দিল । কিছুক্ষণ পরই আমার মা এলেন। তিনি তাকে দেখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন : বাসর যাপনের উপযুক্ত করে দেয়ার যদি আমাকে সুযোগ না দিস, তাহলে তোর সাথে আমার আর দেখা হবে না ।
আমি বললাম : আপনার আশা বাস্তবায়িত হোক ।
তারপর তিনি তাকে তিন দিন তাঁর নিকট নিয়ে রাখলেন তারপর আমার নিকট পাঠালেন
আমি চেয়ে দেখলাম : মদীনার মেয়েদের মাঝে সে সৌন্দর্যে সেরা
আল্লাহর কিতাব কুরআন তার কণ্ঠস্থ ….
আর প্রচুর হাদীস তার মুখস্ত ….
স্বামীর হক্ব সম্পর্কেও সে অধিক জ্ঞাত ।
আমি কয়েকদিন তার সাথে কাটালাম। তার পিতা বা তার পরিবারের কেউ দেখতে এল না ।
তারপর আমি মসজিদে নববীতে তাঁর দরস- মজলিসে এসে উপস্থিত হলাম। তাকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন। আমার সাথে আর কোন কথা বললেন না।
মজলিস ভেঙ্গে গেলে যখন আমি ছাড়া আর কেউ রইল না তখন তিনি বললেন : হে আৰু ওদায়াহ্। তোমার স্ত্রীর খবর কি ?
আমি বললাম : বন্ধু যা চায়, আর শত্রু যা অপছন্দ করে সে ঠিক তেমনি…
তিনি বললেন : আলহামদুলিল্লাহ।
আমি বাড়ীতে ফিরে এসে দেখলাম : তিনি আমাদের নিকট প্রচুর ধন সম্পদ পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেন আমরা তা দ্বারা আমাদের অবস্থা ভাল করে নেই । তখন আব্দুল মালেকের ছেলে বলল : এ ব্যক্তির কাজ কারবারই তো বিস্ময়কর
মদীনার জনৈক ব্যক্তি তখন বলল : হে আমীর ! এতে আবার বিস্ময়ের কী আছে ?
তিনি তো এমন এক মানুষ যিনি দুনিয়াকে পরকালের বাহন বানিয়েছেন…
আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমীরুল মুমিনীনের পুত্রের সাথে তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি খারাপ কিছু ভাবেননি ….
আর তিনি তাকে তার অনুপযুক্তও মনে করেননি। তবে তিনি তার ব্যাপারে দুনিয়ার ফেনার আশঙ্কা করেছেন ।
তাঁর জনৈক সঙ্গী তাঁকে জিজ্ঞেস করে বললেন : আপনি কি আমীরুল মুমিনীনের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে আপনার মেয়েকে একজন সাধারণ মুসলমানের সাথে মেয়েকে বিয়ে দিবেন ?
তিনি বললেন : আমার মেয়ে আমার দায়িত্বে আমানত। তার জন্য কল্যাণকর যা হবে আমি তা ভেবে-চিন্তেই করেছি।
তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, তা কিভাবে ?
তিনি বললেন : তার ব্যাপারে তোমাদের কি ধারণা যখন সে বনী উমাইয়ার রাজপ্রসাদে চলে যাবে
তাদের দুর্লভ পোষাক পরিচ্ছদ আর আসবাব সামগ্রীর মাঝে চক্কর খেতে থাকবে
পরিচারিকা আর বাঁদীরা তার সামনে, তার ডানে ও তার বামে দাঁড়িয়ে থাকবে
তারপর সে নিজেকে খলীফার স্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবে
তখন তার ধর্মের অবস্থা কেমন হবে ?
শামের এক ব্যক্তি তখন বলল : মনে হচ্ছে, আপনাদের এই ব্যক্তিটি এক অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ ।
মদীনার লোকটি বলল : আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি সত্য কথাই
বলছেন
তিনি দিবসে রোযাদার রাতে নামাযে দন্ডায়মান ….
প্রায় চল্লিশ বার তিনি হজ্জ করেছেন
চল্লিশ বৎসর যাবৎ মসজিদে নববীতে তাঁর তাকবীরে উলা ছুটেনি ।
আর এ কথাও কেউ বলতে পারবে না যে, তিনি এ সময়ের মাঝে নামাযে কোন মানুষের পিঠের দিকে তাকিয়েছেন। কারণ তিনি সর্বদা প্রথম কাতারে দাঁড়াতেন ।
কুরাইশের যে কোন মেয়েকে তিনি বিয়ে করতে পারতেন কিন্তু তিনি সবার থেকে আবু হুরাইরা (রাযিঃ) এর মেয়েকে প্রাধান্য দিলেন ।
আর তা রাসূলের সাথে তার গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে….. প্রচুর হাদীস বর্ণনা করার কারণে
রাসুলের হাদীস সংগ্রহের ক্ষেত্রে অধিক আগ্রহের কারণে ।
শৈশবেই তিনি নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন।
তাই উম্মাহাতুল মুমিনীনের নিকট তিনি গমন করেছেন। তাদের সাহচর্যে প্রভাবিত হয়েছেন।
তারপর যায়েদ ইবনে ছাবেত (রাযিঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন।
হযরত উসমান (রহঃ), হযরত আলী (রহঃ), হযরত সুহাইব (রাযিঃ), আরো অনেক সাহাবী থেকে রাসূলের হাদীস সংগ্রহ করেছেন । তাঁদের আখলাক-চরিত্রে নিজেকে গঠন করেছেন।
তাঁদের আচার আচরণে নিজেকে সুসজ্জিত করেছেন।
একটি কথা তিনি প্রায়ই বলতেন। এমনকি তা তাঁর প্রতীক হয়ে গিয়েছিল।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!