আলোর মিছিল ৫ম খণ্ড – ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৯৭
আলোর মিছিল ৫ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাতাসের গতিতে সমগ্র জাযিরাতুল আরবে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল।
তাই শয়তান আসওয়াদ আনাসীকে ঈমান পরিত্যাগ করে পুনরায় কুফরে ফিরে আসার জন্য প্ররোচনা দিতে শুরু করল, এবং আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ইয়ামানে তার কওমের কাছে নবুওয়তের দাবী করার জন্য কুমন্ত্রণা দিতে লাগল ।
আসওয়াদ আনাসী ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। সুগঠিত দেহের অধিকারী। হৃদয়টা ছিল তার কুলষিত। দুষ্কর্ম ও অনিষ্টতা ছড়াতে ছিল পারঙ্গম ।
জাহেলী যুগে জ্যোর্তিবিদ্যায় সে পারদর্শিতা অর্জন করেছিল। এবং ভেল্কিবাজিতেও সে দক্ষতা অর্জন করেছিল…
সাথে সাথে সে ছিল সুদক্ষ বাগ্মী। আকর্ষণীয় বক্তৃতার অধিকারী। অসাধারণ মেধাবী। এবং তার আজগুবি কাজ কর্ম ও কথাবার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আকল বুদ্ধি নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় ছিল সে সিদ্ধহস্ত। নিজের টাকা পয়সা এবং উপঢৌকনের মাধ্যমে বিশিষ্টজনদের ভালবাসা লাভ করায় ও তার জুড়ি ছিল না।
সাধারণত সে জনসমক্ষে বের হত না। কিন্তু যখন বের হত তখন গোপনীয়তা ও গাম্ভীর্য দিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখার জন্য কালো চাদর পরিবৃত অবস্থায় বের হত । শুকনো পাতায় আগুন যেমন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে ঠিক তেমনিভাবে আসওয়াদ আনাসীর নবুওয়াতের দাওয়াতও সমগ্র ইয়ামানে ছড়িয়ে পড়ল। এক্ষেত্রে তার গোত্র তাকে সার্বিক সাহায্য সাহযোগিতা করল। তার গোত্র ছিল “বনী মাজহাজ” এর শাখা ।
সেকালে বনী মাজহাজের ছিল সবচেয়ে বেশী শাখা। তারা ছিল সব চেয়ে বেশী শক্তিশালী ও সব চেয়ে বেশী প্রতাপশালী। এমনিভাবে তার মিথ্যার উদ্ভাবন শক্তি তার মেধাবী অনুসারী তাকে যথেষ্ঠ সাহায্য- সহযোগীতা করেছে ।
সে নিজের দাবীর সত্যতায় মানুষকে বিশ্বাসী বানাবার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিল।
এ জন্য সে চতুর্দিকে তার গুপ্তচরদের ছড়িয়ে দিয়েছিল। তারা মানুষের বিভিন্ন অবস্থা, সমস্যা ও তাদের গোপন বিষয়গুলি জেনে নিত।
তারা তাদের অন্তরের গোপন আশা-আকাংঙ্খা ব্যথা-বেদনা জানার চেষ্টা করত ।
সাথে সাথে তারা লোকজনকে আসওয়াদ আনাসীর শরণাপন্ন হতে এবং তার কাছ থেকে সাহায্য চাইতেও পরামর্শ দিত ।
যখনই লোকজন তার কাছে আসত তখনই সে প্রথমেই তাদের প্রয়োজনের কথা বলে দিত এবং প্রত্যেকেরই সমস্যাদি কথা জানিয়ে দিত ।
মানুষকে বুঝাত, তাদের গোপন বিষয় সম্পর্কেও সে জ্ঞাত। এমনকি তাদের অন্তরে লুকায়িত বিষয়গুলি সম্পর্কেও সে অবগত ।
এছাড়াও তাদের সামনে এমন আজগুবি বিষয় পেশ করত, যা মানুষের বুদ্ধি-বিবেক ও চিন্তা-চেতনাকে পেরেশান করে দিত
ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার ব্যাপারটি ব্যাপক আকার ধারণ করল। তার প্রসিদ্ধি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল
তাই তাদের কে নিয়ে সে ইয়ামানের রাজধানী ‘সনআয়’ আক্রমণ করল এবং তা জয় করে নিল। তারপর সনআ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করতে লাগল
ফলে হাযরামাউত ও তায়েফের মধ্যবর্তী সমস্ত অঞ্চল তার অনুগত হল।
বাহরাইন ও এডেনের মধ্যবর্তী অঞ্চল তার পদানত হল ।
আসওয়াদ আনাসীর দাওয়াত যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল এবং দেশ ও দেশবাসী তার অনুগত হল
তখন সে তার প্রতিপক্ষদের খুজঁতে লাগল। যাদের কে আল্লাহ তা’আলা মজবুত ঈমানের দৌলত দান করেছেন
এবং তাঁর নবীর প্রতি দান করেছেন সূদৃঢ় একীন
আর যাদের দান করেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য
এবং দান করেছেন প্রকাশ্যে সত্যপ্রকাশের ক্ষমতা ও বাতিলের মুকাবিলায় দৃঢ় প্রত্যয়
তাদের কে খুঁজে বের করে নির্দয়ভাবে তাদের উপর চড়াও হল এবং তাদেরকে অবর্ণনীয় কঠোর শাস্তি দিল।
এমন মহান ব্যক্তিদের শীর্ষে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ছাওর। যার উপনাম ছিল আবূ মুসলিম আল খাওলানী
আবূ মুসলিম আল খাওলানী ছিলেন দীনের উপর অটল অবিচল এক প্রত্যয়ী ব্যক্তি
সুদৃঢ় ঈমানের অধিকারী সত্য প্রকাশে নির্ভিক
একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাই তিনি পার্থিব জগত ও তার চাকচিক্য থেকে নিজেকে সম্পুর্ণরূপে গুটিয়ে নিয়েছেন, পার্থিব জগতের ভোগ্য সামগ্রী ও আরাম আয়েশের প্রতি তিনি ছিলেন একেবারেই নির্মোহ …
আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষকে আল্লাহর প্রতি ডাকার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন
চিরস্থায়ী জীবনের মুকাবিলায় ক্ষণস্থায়ী জীবন কে তিনি বিক্রী করে দিয়েছেন
ফলে মানুষ তাঁকে তাদের হৃদয় সিংহাসনের সর্বোচ্চ আসনে সমাসিন করল।
কারণ তারা আবু মসলিমের মধ্যে দেখতে পেয়েছিল একটি পবিত্র আত্মা। আর দেখেছিল যে, আল্লাহ তাঁর দু’আ কবুল করেন।
আসওয়াদ আনাসী ইচ্ছা করল, আবু মুসলিমকে কঠোর শাস্তি দিতে। যাতে করে যারা গোপনে ও প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করছে তাদের অন্তরে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদেরকে তার ধর্মে ফিরিয়ে আনে।
তাই সে সনআর কোন এক প্রশস্ত মাঠে শুকনো কাঠ জমা করে তাতে অগ্নিপ্রজ্বলিত করার নিদের্শ দিল
লোকজনকে ইয়ামানের ফকীহ ও আবেদ আবু মুসলিম খাওলানীর তাওবা ও তার নবুওয়াত স্বীকারোক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান করল ।
নির্ধারিত সময়ে আসওয়াদ আনাসী সেই মাঠের দিকে এগিয়ে এলো, যা মানুষে মানুষে ভরে একেবারে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
তাকে ঘিরে রেখেছিল আসওয়াদ আনাসির চেলাচামুন্ড তার শীর্ষস্থানীয় অনুসারীরা।
তাকে বেষ্টন করে ছিল তার দেহরক্ষী ও সেনা বাহিনীরা। অগ্নিকুন্ডের সামনে রাখা বিশালাকৃতির কুরসীতে সে উপবেশন করল । এমন সময় জন সমক্ষে আবু মুসলিম খাওলানীকে বন্দী করে নিয়ে আসা হল
যখন তাঁকে আসওয়াদ আনাসীর সামনে আনা হল তখন সেই দুরাচার মিথ্যাবাদী দম্ভভরে তার দিকে তাকাল
তারপর অত্যন্ত নির্দয় দৃষ্টি নিয়ে তার সামনে প্রজ্বলিত অগ্নিকুন্ডের দিকে তাকাল
এরপর আবু মুসলিমের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি এমর্মে সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল ?
আবু মুসলিম বললেন, হ্যাঁ আমি সাক্ষ দিচ্ছি যে, নিশ্চয় তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল ।
তিনি সমস্ত রাসূলের সরদার ও সর্বশেষ নবী
এবার আসওয়াদ আনাসী ভ্রুকুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করল : তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
আবু মুসলিম তখন বললেন, আমি তোমার কথা শুনতে পারছিনা….. আসওয়াদ আনাসী তখন বলল : তাহলে মনে রেখো আমি তোমাকে এই আগুনে নিক্ষেপ করব।
আবু মুসলিম তখন বললেন, তুমি যদি তা-ই কর তাহলে তোমার যে আগুনের ইন্ধন হল কাঠ তার মাধ্যমে আমি ঐ আগুন থেকে আত্নরক্ষা করব যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে পাষান হৃদয় এবং কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। তারা কখনও আল্লাহর নির্দেশের অন্যথা করেনা। তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয় তারা তাই সম্পাদন করে।
আসওয়াদ আনাসী তখন বলল, এক্ষনি তোমাকে আগুনে ফেলব না। আমি তোমাকে সুযোগ দিচ্ছি। তুমি তোমার বিবেকের সাথে বুঝাপড়া করে দেখ।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!