আলোর কাফেলা ১ম খণ্ড – ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ ডঃ আব্দুর রহমান রাফাত পাশা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯৩
আলোর কাফেলা ১ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
উপস্থিত হল এবং বাযানকে সব সংবাদ দিল। বাযান বলল, মুহাম্মদ যা বলেছে তা যদি সত্য হয় তবে সে নবী। আর যদি তা না হয় তবে তার ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করব।
এর কিছুদিন পরই বাযানের নিকট শিরাওয়াইহি এর পত্র এল। পত্রে সে লিখেছে—
সারকথা হল, আমি কিসরাকে হত্যা করেছি। জাতীয় স্বার্থের প্রতিশোধ নিতেই তাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি। সে নির্বিবাদে সম্মানিত ব্যক্তিদের হত্যা করত। তাদের অবলা নারীদের কারারুদ্ধ করত আর তাদের ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিত। সুতরাং আমার চিঠি পৌঁছার পরপরই সবার থেকে আমার অনুগত্যের অঙ্গীকার নিবে।
শিরাওয়াইহি এর পত্র পাঠ শেষ করেই বাযান তা ছুঁড়ে ফেলে দিল এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা ঘোষণা করল। আর ইয়ামেনে যেসব পারসিক লোকেরা ছিল তারাও তার সাথে মুসলমান হয়ে গেল। ইতিহাসের মুক্তকণ্ঠে পারস্য সম্রাট কিসরার সাথে আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ)-এর সাক্ষাতের কাহিনী বিবৃত হল। কিন্তু রোম সম্রাট কাইসারের সাথে তাঁর সাক্ষাতের কাহিনীটি কী ?
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে তাঁর কাইসারের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তাঁর সাথে এক চমৎকার ঘটনাও ঘটেছিল।
হিজরী ১৯ সালের কথা। হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একটি মুজাহিদ বাহিনী পাঠালেন। এ বাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ)। রোম সম্রাট কাইসার দীর্ঘদিন যাবৎ মুসলিম বাহিনীর ঈমানের সত্যতা, বিশ্বাসের নিষ্কম্পতা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টিতে জীবনকে বিলিয়ে দেয়ার বহু অবিশ্বাস্য কাহিনী শুনে আসছে।
তাই এবার নির্দেশ দিল, কোন মুসলিম সৈন্য বন্দী হলে তাকে হত্যা না করে অবশ্যই আমার দরবারে পাঠিয়ে দিবে। আল্লাহর লীলা বুঝা দায়। এ যুদ্ধে খোদ আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বন্দী হলেন। তারপর তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় সম্রাটের নিকট নিয়ে গেল। বলল, ইনি মুহাম্মদের প্রথম সারির সাহাবী। আমাদের হাতে বন্দী হয়েছে। তাই তাকে আপনার নিকট নিয়ে এলাম রোম সম্রাট দীর্ঘক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ)এর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, আমি তোমার নিকট একটি প্রস্তাব পেশ করছি।
আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বললেন, কি প্রস্তাব ?
সম্রাট বলল, তুমি যদি খৃষ্টান হও, তাহলে তোমাকে মুক্তি দিব এবং তোমাকে সম্মানজনক অবস্থায় থাকার ব্যবস্থা করব।
বন্দী হুযাফা (রাযিঃ) ঘৃণা ও দৃঢ়তার সাথে বললেন, সে তো বহু দূরের কথা। তোমার এই প্রস্তাব গ্রহণ করার চেয়ে হাজার বার মৃত্যুবরণ করা আমার জন্য অনেক শ্রেয়।
সম্রাট বলল, তোমাকে বেশ বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে। তুমি যদি আমার এ প্রস্তাবে রাজী হও, তাহলে আমি তোমাকে আমার সাম্রাজ্যের অংশীদার বানাব এবং আমার সাম্রাজ্যের অর্ধেক আমি তোমাকে দিয়ে দিব ।
শৃঙ্খলিত বন্দী আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) এর চেহারায় তখন মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি বললেন –
আল্লাহর কসম! যদি তুমি তোমার গোটা সাম্রাজ্য এবং আরবরা যেসব দেশকে পদানত করছে তাও আমাকে এ শর্তে দিয়ে দাও যে, এক পলকের জন্য আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধর্ম ত্যাগ করব, তবুও আমি তা করব না।
সম্রাট বলল, তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব।
আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বললেন, তোমার যা খুশী তাই কর। অতঃপর সম্রাটের নির্দেশে তাঁকে শূলে চড়ানো হল। সম্রাট তখন রোমান ভাষায় তীরন্দাজদেরকে নির্দেশ দিল, তারা যেন তার হাতের আশে পাশে তীর নিক্ষেপ করে। আর সম্রাট তখন তাঁকে খৃষ্টান ধর্মাবলম্বনের চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না।
তারপর সম্রাট তাঁর পায়ের আশেপাশে তীর নিক্ষেপের নির্দেশ দিল। আর নিজে তাকে ধর্মান্তরের প্রস্তাব দিতে লাগল। কিন্তু এতে কোন ফলোদয় হল না।
তখন সম্রাট তাঁকে মুক্ত করে শূলীকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে আনল। এবং একটি বড় পাতিলে তেল ঢেলে তা আগুনে বসিয়ে দিল। তেল টগবগ করে ফুটতে থাকলে দু’জন মুসলমান বন্দীকে ডেকে আনল। তাদের একজনকে ফুটন্ত তেলের পাতিলে নিক্ষেপ করা হল। মুহূর্তে গোশত গলে গলে হাড় থেকে খসে গেল আর খালি হাড়গুলো দেখা যেতে লাগল।
এরপর সম্রাট আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) এর দিকে ফিরে তাঁকে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে আহবান জানাল। আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) পূর্বের চেয়ে আরো অধিক ঘৃণার সাথে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।
নিরাশ হয়ে সম্রাট তাঁকে ঐ পাতিলে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিল। তাঁকে যখন নিয়ে যাওয়া হল তখন তাঁর চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল। রাজকর্মচারীরা তখন সম্রাটকে বলল, তিনি তো কাঁদছেন।
সম্রাট ভাবল, নিশ্চয় সে ভয় পেয়েছে তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে নিৰ্দেশ দিল।
এবার যখন সম্রাট তাকে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করার কথা বলল এবারও তিনি তা অত্যন্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন।
সম্রাট বলল, তোর ধ্বংস হোক। তাহলে তুই কাঁদলি কেন ?
আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বললেন, আমার কান্নার কারণ হল, আমি মনে মনে (নিজেকে উদ্দেশ্য করে) বললাম, তোমাকে এখন এই পাতিলে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর তুমি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অথচ আমি তামান্না করতাম, যদি আমার এই শরীরের পশমের সমপরিমাণ প্রাণ হত, আর একের পর এক সবগুলো প্রাণ আল্লাহর রাস্তায় এই পাতিলে নিক্ষেপ করা হত!! হায় তা কি সম্ভব হবে !! তখন সম্রাট বলল, তুমি কি আমার ললাটে একটি চুমু খেতে পারবে। তাহলে আমি তোমাকে মুক্তি দিব।
আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বললেন, পারব, তবে আমার সাথে মুসলমান সকল বন্দীদেরও মুক্তি দিতে হবে।
সম্রাট বলল, হাঁ, তাহলে সকল বন্দীদেরও মুক্তি দিয়ে দিব। আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন মনে মনে ভাবলাম, আল্লাহর এক শত্রুর ললাটে চুমু খাব আর সে সকল মুসলিম বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দিবে। এতে তো ক্ষতির কিছু নেই।
তারপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং তার ললাটে চুমু খেলেন। এরপর সম্রাট সকল মুসলিম বন্দীদের সমবেত করার নির্দেশ দিল এবং তাদেরকে তাঁর হাতে অর্পণ করার নির্দেশ দিল। অতঃপর তাদেরকে আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ)এর হাতে তুলে দেয়া হল।
আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে এলেন এবং তাঁকে সবকিছু খুলে বললেন। হযরত উমর (রাযিঃ) এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তারপর বন্দী মুসলমানদের দেখে বললেন, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফার কপালে চুমু খাওয়া। আর আমিই তা প্রথমে শুরু করছি। তারপর তিনি দাঁড়ালেন ও তাঁর ললাটে চুমু খেলেন।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!