আবার ষড়যন্ত্র – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

আবার ষড়যন্ত্র – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৮৯

আবার ষড়যন্ত্র – বইটির এক ঝলকঃ

কে-কে ভবন, বনানী। কয়েকদিন পরের কথা।
দশতলায় ওয়েলফার্নিশড় বিরাট, আলিশান অফিসরূমে পুরু গদিমোড়া সুইভেল চেয়ারে বসে আছে আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ কেরামতুল্লাহ্। চিন্তায় মগ্ন। মানুষটা মাঝারি উচ্চতার, ষাটের মত হবে বয়স। কিন্তু দেখলে অত মনে হয় না। কিছু মানুষের বেলায় এমনটা ঘটে থাকে, মনে হয় না তাদের বয়স বাড়ে। মনে হয় যেন এক জায়গায় থেমে আছে ওটা, নড়তে চড়তে ভুলে গেছে। সমসাময়িকরা তাদের দেখে গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, ঈর্ষায় ভোগে।
কেরামতুল্লাহ্র ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে, চুয়াল্লিশ-পঁয়তাল্লিশের বেশি বয়স হয়েছে মনেই হয় না। চৌকো মুখ। থুতনিতে এক মুঠো কাঁচাপাকা দাড়ি, জুলফির মত আরও কিছু আছে দু’গালে, তবে পুনিরগুলোর সাথে সম্পর্কবিহীন। চোখ দুটো একটু ছোট। মণির রং না কালো, না বাদামী। সাপের মত ঠাণ্ডা চাউনি তার, দেখলে যে-কারও বুক কেঁপে উঠবে। মানুষের চাউনি যে এত ভয়ঙ্কররকম শীতল হতে পারে, ভাবাই যায় না। এরকম নজির পৃথিবীতে আর আছে কিনা, বলা কঠিন ।
দেহের মাঝখানটা একটু ঠেলে বেরিয়ে আছে তার, ওটা ভুঁড়ি, ইদানীং গজিয়েছে। এছাড়া এমনিতে হাল্‌কা-পাতলা গড়নের মানুষ সে। প্রাণশক্তিতে ভরপুর। হ্যাঁ, এই জিনিসের অভাব তার কোনকালেই ছিল না, আজও নেই। এছাড়া আরেকটা গুণ আছে তার। সেটা হলো সুযোগ খুঁজে বের করা। সব পরিবেশ, সব পরিস্থিতিতেই নিজের জন্যে সুযোগ খুঁজে বের করতে মহা ওস্তাদ লোক এই কেরামতুল্লাহ ।
এ ক্ষমতা তার জন্মসূত্রে পাওয়া। অনেকে আছে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু কেরামতুল্লাহ মানুষটা অন্য ধাতের সুযোগ সে তৈরি করে নেয়। সব সময় ঝোপ বুঝে মারে কোপ ।
‘৭১-এ যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো, সুযোগটা চিনতে ভুল করেনি সে। ছিল গ্রামের এক মসজিদের মৌলবি, ছোট ভাইকে নিয়ে ‘দেশরক্ষা’র লড়াইয়ে যোগ দিল পাকিস্তানের কিছু দালালের সহযোগিতায়। কুখ্যাত এক বাহিনীর সদস্য হয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করল, তারপর গা ঢাকা দিল দু’জন মিলে। ‘দেশরক্ষা’র কথা ভুলে স্রেফ ডাকাতি শুরু করে দিল আশপাশের এলাকায়, কুষ্টিয়ার মেহেরপুর
অঞ্চলে।
ভুঁড়িতে হাত বোলাল কেরামতুল্লাহ। সামনের নক্সা করা রুপোর ট্রে থেকে এক খিলি খশবুদার পান মুখে পুরে আয়েস করে চিবুতে লাগল। সে বহু বছর আগের কথা। তারপর গড়াই নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে, ইতিহাস হয়ে গেছে সব। পলি পড়ে পড়ে কয়েক হাত নিচে চাপা পড়ে গেছে সেদিনের
‘কেরামইত্যা’র কথা। ভুলে গেছে সবাই।
খুব কম লোকই জানে সেদিমের সেই কেরামইত্যাই আজ সম্রাজের খুব উঁচু স্তরের মানুষ, আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ কেরামতুল্লাহ। টাকা-পয়সার কোন অভাব নেই তার। একাত্তরে দু’ভাই নিজেদের অমুক ‘দেশরক্ষা’ বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করে প্রচুর টাকা, সোনাদানা হাতিয়েছিল। তাদের অত্যাচারের শিকার হয় বাঙালী পরিবারগুলো, বিশেষ করে ‘মালাউন’রা।
দেশ তথাকথিত ‘স্বাধীন’ হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল তাদেরকে। না গিয়ে উপায় ছিল না। মেহেরপুর সহ আশেপাশের সবখানে তাদের নামে পোস্টার বের হয়েছিল। তথাকথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’রা ছাপিয়েছিল সেই পোস্টার। লেখা ছিল: এই দুই দালাল ডাকাতকে ধরিয়ে দিন।
ডাকাত! ঘৃণার সাথে ভাবল কেরামতুল্লাহ্, বাঁ হাতে পায়ের কাছ থেকে ওগোলদানটা (পিদানী) তুলে পিচিক করে পানের রস ফেলল। সে তো বড়জোর শ’খানেক বেঈমান, কওম ও ওয়াতানের শত্রুকে খতম করেছে। তা-ও আবার বেশিরভাগই বিধর্মী, কাফের। অথচ তাদেরকে যারা ডাকাত বলে প্রচার করত, তারা কি করেছে? মুক্তিযুদ্ধের নামে, স্বাধীনতার নামে নিজেদের হালুয়া রুটির ভাগ পোক্ত করেনি তারা? আলবৎ করেছে।
কেউ অস্বীকার করতে পারবে? যুদ্ধের নামে গ্রামে গ্রামে গিয়ে এর-ওর বাড়িতে থেকেছে তারা, অক্ষমদেরকেও বাধ্য করেছে তাদের জন্যে ভাল-ভাল খানার ব্যবস্থা করতে। কোনও বাড়িতে সুন্দরী যুবতী দেখলে তখনই না হোক, দেশ ‘তথাকথিত স্বাধীন হওয়ার পর ফিরে এসে তাকে দখল করে খায়েশ মিটিয়েছে। ডাকাতি করেছে, বহু হিন্দুর সম্পত্তি গ্রাস করেছে, তাদের মেয়েদের সর্বনাশ করেছে। গ্রাম্য দলাদলির সুযোগ নিয়ে একপক্ষের টাকা খেয়ে অন্য পক্ষকে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে পৈশাচিক উপায়ে খুন করেছে। ধন- সম্পদের পাহাড় গড়েছে।
এরকম ভূরি ভূরি ঘটনার কথা জানা আছে কেরামতুল্লাহ্। সেই সমস্ত ‘মহান মুক্তিযোদ্ধারা’ আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, টাকার জোর আছে বলে সবার কাছে খাতির-যত্ন পায়। তাদের বিচার কে করবে? কেউ নেই সেরকম। থাকবেও না, কারণ সবাই তেলা মাথায় তেল দিতেই অভ্যস্ত ।
কি অদ্ভুত কাণ্ড! ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে শুকনোর সময় এ দেশকে মরুভূমি করে ছাড়ে প্রতিবেশী দাদারা, প্রতিবাদ নেই। বর্ষাকালে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে চুবিয়ে মারে, তবু ‘হেঁ-হেঁ’ করে সরকার, ‘সব ঠিক আছে’ বলে সাফাই গায় নির্লজ্জের মত। কেউ যদি এসব নিয়ে হক কথা বলতে যায়, অমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীর সীল মেরে দেয়া হয় তার গায়ে। আর যে তেল মারে, চোখ বুজে সমস্ত অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করে, সে হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত স্বপক্ষের শক্তি-কী অদ্ভুত যুক্তি!
এভাবে কতদিন চলতে পারে একটা দেশ? ত্রিশ বছর তো হয়ে গেল, আর কত ? অনন্তকাল নয় নিশ্চয়ই? সবকিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত। নইলে চলে না। কেরামতুল্লাহ্ এখন সেই সীমারেখা টানতে যাচ্ছে। অনেক হয়েছে, আর না। নতুন করে দেশসেবার ব্রত নিয়েছে সে। পাকিস্তানী ছিল, পাকিস্তানী আছে, এবং পাকিস্তানীই থাকবে সে। এদেশের আর সব ইসলাম-ভক্তদের মত কোনদিন মেনে নিতে পারবে না সে স্বাধীন বাংলাদেশ। ওদের মত মোনাফেকি করতে পারবে না সে পাকিস্তানের সঙ্গে। ক্ষমতার ভাগ পাওয়ার জন্য ওরা এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পশ্চিম থেকে পূবে। এমন কি মেনে নিয়েছে নারী নেতৃত্বও, ক্ষমতার লোভে জলাঞ্জলী দিয়েছে ইসলামকেও।
দাঁড়াও! খুব শীঘ্রি নতুন একটা কিছু ঘটাতে চলেছে সে। এদের কারও সাহায্য লাগবে না তার: কয়েক হাজার খাদেম সে জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, আরও হচ্ছে কয়েক হাজার। শেষের দলটা প্রস্তুত হলেই শুরু হয়ে যাৰে খেলা। এই লোকগুলোকে সংগ্রহ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে তাকে। দিকে দিকে একান্ত বিশ্বস্ত এজেন্ট পাঠিয়ে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মভীরু, আপোশহীন মুসলিম খুঁজে বের করতে হয়েছে প্রথমে, তারপর আরেকদল এজেন্ট পাঠিয়ে তাদের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ-খবর নিতে হয়েছে।
তারপর বাছাই। বিশেষ করে যারা বেশি অভাবী, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পুরোপুরি হতাশ, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে মাওলানা কেরামতুল্লাহ্। এরমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে ছোটখাট ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে, তাদেরকে তো আরও ।
নগদ টাকার টোপ ফেলা হয়েছে উপযুক্ত ‘খাদেম’ সংগ্রহের খাতিরে। রাজি হলেই যেখানে বৈষয়িক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত, সেখানে গররাজি হবে কোন মূর্খ ? তারওপর “ইসলামের খেদমত’ করা, ও দেশে আবার পাকিস্তানের সুশাসন কায়েমে সহায়তা করা, এবং সবচেয়ে বড় কথা ভবিষ্যতে ক্ষমতা ও প্রভাব- প্রতিপত্তির অধিকারী হতে পারার মত এমন সুবর্ণ সুযোগ, এতসব একসঙ্গে ক’জনের ভাগ্যে জোটে? কাজেই খাদেমের অভাব হয়নি। নতুন একটা দল গড়েছে সে। সমভাবাপন্ন কিছু লোক নিয়ে শুরু করে এখন দাঁড়িয়ে গেছে রীতিমত শক্তিশালী একটা রাজনৈতিক দল।
এসবে টাকা গেছে স্রোতের মত, কিন্তু তাতে কি? টাকা কোন সমস্যা নয় কেরামতুল্লাহ্র। ড্রাগসের কল্যাণে টাকার কোন অভাব তার নেই। তাই দরাজ- দিলে খরচ করেছে। কারণ প্রকল্পটা তার, ফসলও সে নিজের গোলাতেই তুলবে। কোন সমস্যা নেই।
কোনও এক সময় যে কেরামতুল্লাহ্ ও তার ভাই রাজধানী থেকে বহুদূরের কোনও এলাকায় ডাকাতি করেছে, আজ কেউ তা জানে না। সে সব ত্রিশ বছরের পুরানো কথা। প্রায় আড়াই যুগ আগের কাহিনী। মাটি চাপা পড়েছে সব।
এর মধ্যে ক্রমাগত পলি জমে গড়াই নদী যেমন দিনে দিনে শীর্ণ হয়েছে, মানুষের মনে তেমনি তাদের সম্পর্কে জমে থাকা স্মৃতির ওপরও বিস্মৃতির প্রলেপ পড়ে সব হেজেমজে গেছে। অনেক হাত মাটির তলায় চাপা পড়ে গেছে সে ইতিহাস ।
নিজের ‘আদর্শে’ চলে সে। নিজেই নিজের নেতা, সংগঠনের নীতি-নির্ধারক। যদিও বেশ কিছু পুঁটো জগন্নাথ বসিয়ে রেখেছে সে দলের শীর্ষ পদে, গলা ধাক্কা দিলেই যখন-তখন তাদের বের করে দেয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কাফের’দের টাকা-পয়শা, অলঙ্কার ইত্যাদি বেশ ভালই জমা হয়েছিল তার ভাণ্ডারে। ‘৭১-এর ডিসেম্বরে অলঙ্কার সব মাটির নিচে পুঁতে রেখে টাকাগুলো নিয়ে পালিয়ে সোজা লন্ডনে গিয়ে উঠেছিল সে ভাইকে নিয়ে। সেখানে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে নিজেদের চেহারা আমূল বদলে ফেলে, এরপর পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ফিরে আসে দেশে। সোনাদানা সব বিক্রি করে শুরু করে চিনি ও গুঁড়ো দুধ আমদানীর ব্যবসা। দুটোরই তখন চড়া বাজার, ফলে আশির দশকের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায় দু’ভাই। তারপর হাত দেয় ড্রাগসের লোভনীয় কারবারে। এখন সত্যিকার অর্থেই তার কাছে ‘মানি ইজ নো প্রব্লেম!’
দু’ভাই আসলে কথার কথা, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কেরামতুল্লাহ্র একার হাতেই ছিল। এখনও আছে। ভাই শুধু মাসোহারা পায় ।
এ মুহূর্তে তাদের যে টাকা-পয়সা আছে, তার পরিমাণ কেরামতুল্লাহ্ নিজেও সঠিক জানে কি না সন্দেহ। উদার হাতে টাকা খরচ করে সে, ভবিষ্যতেও করবে, তার ধ্যান-ধারণা বাস্তবায়িত করতে হলে টাকা তো লাগবেই। মোট কথা, এই দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে যা যা চাই, সবকিছুই করবে সে। শুধু তাই নয়, কাফেরদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হাত শক্ত করতে আবার পূর্ব আর পশ্চিমকে সে এক করবে। এই জন্যেই শক্তি সঞ্চয় করছে সে, ‘খাদেম’ রিক্রুট করছে দেশের সবখান থেকে। যারা ধর্মের ব্যাপারে অন্ধ, পাকিস্তানের ভক্ত, বেছে – বেছে তাদেরকেই সংগ্রহ করে সে। তাদেরকে কোরান শরীফ স্পর্শ করে শপথ করিয়ে নেয়।
L
তারপর শুরু হয় ‘সবক’ পর্ব। কে-কে ভবনের নবমতলায় এ উপলক্ষে রুদ্ধদার বৈঠক বসে, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয় তা। এদেরকে মাসে মাসে সংসার খরচ হিসেবে যৎসামান্য ‘ভাতা’ দিয়ে যাচ্ছে কেরামতুল্লাহ। ওদের বলা হয়েছে আসল প্রাপ্য পাবে ওরা মকসুদ হাসিলের পর ।
সবক’ শেষ হলে তাদের ট্রেনিঙের জন্যে পাঠিয়ে দেয়া হয় অন্যত্র। সেখানে একটি বন্ধু দেশের কয়েকজন এক্সপার্ট সব ধরনের স্মল থেকে হেভি আর্মস চালানো ও বোমা তৈরির কৌশল শেখায় তাদেরকে। গেরিলা যুদ্ধের কলা- কৌশলও। এসবের সাথে ধর্ম ও প্রতিটি সাচ্চা মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ সম্পর্কেও জ্ঞান দেয়া হয় তাদের।
এরমধ্যে প্রথম তিন ব্যাচের মোট সাড়ে সাত হাজারের মত খাদেমের ট্রেনিং শেষ, ঘাঁটি ছেড়ে বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে তারা। শেষ দলের ট্রেনিং চলছে। প্রথম তিন দলের কাজ নিজের চোখে দেখে এসেছে কেরামতুল্লাহ্। মাত্র কয়েক মাসে এতটাই বদলে গেছে তারা, এতই জেহাদী মনোভাব এসে গেছে তাদের মধ্যে যে, চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে তার। এখন ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হতে বাধা নেই মাওলানার। প্ল্যান-প্রোগ্রাম সব তৈরি, জানে, তার মঞ্জিল বেশি দূরে নেই। তবে..
পথে একটা কাঁটা আছে বেশ শক্ত কাঁটা। পার্টির চেয়ারম্যান বা অন্যান্যদের নিয়ে কোন চিন্তা নেই, হাতের মুঠোতেই আছে ওরা। ঠিক সময়মত ব্যবস্থা নিতে অসুবিধে হবে না। কিন্তু বছর তিনেক আগে কোত্থেকে একজন কে-কে এসে চেপে বসে গেছে তার কাঁধে, সে-ও দলে আসতে চায়, তারও ক্ষমতার ভাগ চাই। পাগল আর কাকে বলে! এ যেন আল্লাহরওয়াস্তের মাল, চাইলেই পাওয়া যায়। তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উপায় ছিল না তার। পার্টি মীটিং ডেকে সবার মতামত নিয়েই অবশ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। তবে তার ঘোর সন্দেহ, শেষপর্যন্ত লোকটা ‘ভাগে’ সন্তুষ্ট হবে না। তার দৃঢ় বিশ্বাস, শেষ সময়ে আচমকা কিছু একটা ঘটিয়ে একাই সব দখল করার মতলব আছে ব্যাটার। তা থাক, মতলব তার নিজেরও আছে। তাকে সামাল দিতে সে-ও প্রস্তুত ।
কিন্তু সমস্যা হলো যে, লোকটাকে এক কথায় হাঁকিয়ে দেয়ার ক্ষমতা নেই কেরামতুল্লাহ্র, এত সন্দেহ-অবিশ্বাস সত্ত্বেও সহ্য করে যেতে হচ্ছে। দলে লোকটার প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ছে দিন দিন। ইচ্ছে থাকলেও তাকে ঘাড়ধাক্কা দিতে পারছে না সে, অন্তত এখনই নয়। টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।
এ মুহূর্তে ক্ষমতা থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে আছে সে, এরকম জটিল একটা সময়ে সেরকম কিছু করার ঝুঁকি নিতে সে রাজি নয়। অন্তর্কলহের সৃষ্টি হলে সর্বনাশ ঘটে যাবে। তীরে এসে ডুববে তরী।
যতক্ষণ না ‘তার’ নিজস্ব ‘খাদেমরা’ আসল কাজে নামছে, অন্তর্ঘাতমূলক বিভিন্ন তৎপরতার মাধ্যমে অস্থির দেশটাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারছে, চূড়ান্ত পরিণতির একেবারে কিনারায় পৌঁছে দিয়ে তাকে শেষ চাল দেয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারছে, ততক্ষণ লোকটাকে সহ্য করে যেতেই হবে। এবং তাতে যে বড় ধরনের কোন লোকসান হয়ে যাবে, তা-ও কিন্তু নয়। বরং অনেক লাভই হবে নিজের।
কারণ যে মানুষটা ক্ষমতার ভাগ দাবি করছে, সে যে-সে লোক নয়। একজন মস্তবড় বিজ্ঞানী। যদিও বিদেশে থাকে, কিন্তু বাঙালীরই সন্তান। তার পুরো নাম এখনও জানতে পারেনি কেরামতুল্লাহ্। বলে না সে কাউকে। নিজেকে শুধু ‘কে- কে’ বলে পরিচয় দিয়েছে।
প্রথমবার নামটা শুনে তো মাওলানা থ’। বিশ্বাসই হতে চায়নি। বলে কি! দুই কে-র সাথে এসে জুটেছে আরও এক কে-কে? এ কোন্ ধরনের দৈব-সংযোগ! অবাক কাণ্ড তো! এ কি আল্লাহ্ পাকেরই ইশারা?
বেশি কিছু জানতে পারেনি সে লোকটা সম্বন্ধে, জানার তেমন জোরাল চেষ্টাও করেনি। দরকারটাই বা কি? তার হচ্ছে কাজ নিয়ে কথা। ওটা হলেই হলো।
এমনই এক অত্যাধুনিক অস্ত্র আবিষ্কার করেছে কে-কে, যেটা সে কেন, পশ্চিমা অস্ত্র নির্মাতারা পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না। আবিষ্কার তো অনেক পরের কথা।
কে-কে আদর করে ওটার নাম দিয়েছে ইএমপি গান, অর্থাৎ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস গান। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও মাওলানা কেরামতুল্লাহ্ এখন জানে, বিশ্বের সর্বাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল ওটা। দেখতে প্রায় সাধারণ অ্যাসল্ট রাইফেলের মতই, তবে একটু ভারী। সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাঙস্টেনের তৈরি ওটার বুলেট, দেখতে অনেকটা নস্যির কৌটোর মত, ভোঁতা মাথা। শব্দ

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.