অশান্ত সাগর – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২০৪
অশান্ত সাগর – বইটির এক ঝলকঃ
থামলো মাইক স্যাণ্ডার্স। ছোট ছোট দুটো চুমুক দিলো ক্যানে। রিচার্ড ওয়াকার, জেসি দুজনেই অপলক চেয়ে আছে লোকটার দিকে ।
‘দিন তারিখ খেয়াল নেই। ওয়েদার বেশ খারাপ ছিলো সেদিন। তখন দুপুর হবে প্রায়, এমনি এক নামহীন দ্বীপের কাছে ছিলাম আমরা। একটা ছোট্ট ক্যানো এসে ভিড়লো আমাদের জাহাজের গায়ে। এক পলিনেশিয়ান যুবক ছিলো ওতে, জাহাজে উঠে নেটিভ ভাষায় কি সব যেন বললো সে আমার পার্টনারকে। ওই অঞ্চলের প্রত্যেকটা নেটিভ ভাষা জানে আমার পার্ট…মানে, প্যাটেল। যুবক বললো, কাছের একটা দ্বীপে, পম পম গ্যালিতে নাকি এক হোয়াইট ম্যান আছে। খুবই অসুস্থ সে।’
‘ডেভিড?’ নামটা উচ্চারণ করতে গিয়ে গলা ধরে এলো জেসির ।
ঘুরে চাইলো স্যাণ্ডার্স। মাথা দোলালো, ‘সরি, মাই ওয়ার্ড, ইয়েস। জাহাজ ঘুরিয়ে সাথে সাথে ছুটলাম আমরা। গিয়ে দেখি সত্যি, একটুও বাড়িয়ে বলেনি ছেলেটা।’
আগ্রহের আতিশয্যে টেবিলে দুই কনুই রেখে ঝুঁকে এলেন বিজ্ঞানী। ‘কি দেখলেন?’
“দেখি পেট চেপে ধরে সমানে চ্যাচাচ্ছে আর গড়াগড়ি খাচ্ছে ডেভিড ওয়াকার। তলপেটের ডানদিকটায় ব্যথা। শুনে আমার পার্টনার বললো, ওটা নাকি…
বলে বসলো রানা, ‘অ্যাপেণ্ডিসাইটিসের পেইন। ‘
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ,’ মাথা দোলালো স্যাণ্ডার্স দ্রুত, “ঠিকই বলেছেন। অ্যাপেন… কি?’ ‘বাদ দিন,’ বললো রানা। লক্ষ্য করেছে, মুহূর্তে গম্ভীর হয়ে গেছেন রিচার্ড ওয়াকার। দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর।
‘তাড়াতাড়ি ডাক্তার নিয়ে এলো আমার পার্টনার।’
‘পম পম গ্যালিতে ডাক্তার আছে?’ জিজ্ঞেস করলো রানা ।
‘না না, ওখানে ডাক্তার আসবে কোত্থেকে? কাছের আরেকটা বড় দ্বীপ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসে প্যাটেল, আমি যাইনি। আমি ছিলাম ডেভিডের পাশেই। কি যেন নাম দ্বীপটার…’ চিন্তা করতে লাগলো অস্ট্রেলিয়ান, কিন্তু মনে করতে না পারায় চটে উঠলো নিজের ওপরই। জিভ দিয়ে বিরক্তিসূচক একটা শব্দ করে বললো, ‘যাকগে। ওই ফাঁকে কথায় কথায় জানলাম, আপনার ভাই বিজ্ঞানী। কি এক গবেষণার কাজ করছিলো ওই এলাকায়।’
‘হ্যাঁ, ওশেনোলজিস্ট।’
“তাই হবে। ডেভিডকে রেখে ওর পার্টনার কাছেপিঠেই কোথাও গিয়েছিল।’ ‘পার্টনার?’ রিচার্ড ওয়াকারের দিকে ফিরলো মাসুদ রানা।
‘হ্যাঁ, আরেক ওশেনোগ্রাফার, র্যাঙ্গার। লোকটা সুইডিশ। গত বছর দুয়েক এক সাথে কাজ করছিলো ওরা।’
‘আচ্ছা, ‘আবার আগন্তুকের দিকে ফিরলো ও, ‘ডেভিডকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে, ডাক্তার আনতে গেল কেন আপনার পার্টনার?”
‘ওর যা অবস্থা ছিলো, তাতে নিয়ে যেতে ভরসা পায়নি সে। আমাদের স্কুনারটা খুব ছোট। তাছাড়া, সেদিন আবহাওয়াও ভালো ছিলো না। খুব ঢেউ ছিলো সাগরে। ঝাঁকি সহ্য হবে না বলে ওকে সঙ্গে নিতে সাহস পায়নি প্যাটেল। এতে অবশ্য মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে অনেকটা। যা হোক, ডাক্তার নিয়ে প্যাটেল ফিরলো সেদিন গভীর রাতে। এর মধ্যে এটা-ওটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে আমার ডেভিডের সঙ্গে। ওই সময়ই ডেভিড আমাকে অনুরোধ করেছিলো, ওর যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে আমি যেন ওর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সব কথা খুলে বলি।
রানা বললো, ‘শুধু এই খবরটা দিতেই ইংল্যাণ্ডে এসেছেন আপনি দুনিয়ার আরেক প্রান্ত থেকে?
‘না, না। ব্যাপারটা ঠিক সেরকম নয়। আমি নিজেই ডেভিডকে বলেছিলাম যে আমি ইংল্যাণ্ড যাচ্ছি। আপনাদের দেশটা দেখার শখ আমার অনেকদিনের। গত কয়েক বছর ধরে টাকা জমাচ্ছিলাম এজন্যে। ভাবলাম, দুটো কাজই সারা হবে এই চান্সে। আমার পার্টনার আমাকে পানামায় ড্রপ করে ফিরে গেছে। ওখান থেকে আরেকটা জাহাজে চাকরি নিয়ে। তবে এসেছি। মাত্র গতকালই পৌঁছেছে আমার জাহাজ।’
লজ্জিত ভঙ্গিতে একটু হাসলো স্যাণ্ডার্স, ‘তবে বেশিদিন হয়তো থাকা হবে না আর। অনেক টাকা হেরে গেছি আজ জুয়োতে। বাকি যে ক’টা টাকা আছে, তাতে যতোদিন চলে, থাকবো। তারপর…’ থেমে শ্রাগ করলো সে।
‘ডাক্তার আসার পর কি হলো?’
‘ডাক্তার!’ যেন অবাক হয়েছে, এমন ভঙ্গিতে রানার দিকে চাইলো অস্ট্রেলিয়ান। পরমুহূর্তে হঠাৎ করেই যেন মনে পড়লো আলোচনার বিষয়বস্তু। তাড়াতাড়ি বললো, “ও হ্যাঁ, ডাক্তার। অবশ্য ডাক্তার না বলে লোকটাকে হেতুড়ে বলাই ঠিক হবে। ওই রাতেই ডেভিডের অপারেশন করলো সে।’
‘এবং তার পরপরই মারা গেল ও, তাই না?’ সামনে ঝুঁকে এলেন রিচার্ড।
‘না। বরং মনে হলো যেন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ভালোই ছিলো ও। তারপর, হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি হলো। ডাক্তার ব্যাটা বললো, ‘পার…পেরি… না কি…..
‘পেরিটনাইটিস,’ বললো রানা ।
‘ঠিক বলেছেন। আমার কাছে শুনতে মনে হয়েছে যেন পেরি পেরি সস। হঠাৎ করে খুব জ্বর হলো ডেভিডের। পুরো দুদিন জ্বরে ভুগে মারা গেল বেচারা । জেনে বুঝেই মিথ্যে বলছে কি না সে, ভেবে একটু দ্বিধায় পড়ে গেছেন রিচার্ড ওয়াকার। আড়চোখে রানার দিকে তাকালেন কয়েক বার স্যাণ্ডার্সের নজর বাঁচিয়ে। কিন্তু এদিকে ওর কোনো খেয়াল নেই। ডেভিডের সুটকেসটার দিকে বারবার ঘুরে ফিরে চাইছে অস্ট্রেলিয়ান, ব্যাপারটা লক্ষ্য করছে রানা ।
‘ডেড বডিটা?’ জানতে চাইলেন রিচার্ড ওয়াকার।
‘ডেভিডের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী প্যাসিফিকেই সমাহিত করা হয়েছে। ক্যানভাসের বেরিয়াল ব্যাগে পুরে….
“বুঝেছি।’
‘কতোদিন হলো মারা গেছে ও?’
“তারিখ মনে নেই। তবে মে মাসের প্রথম সপ্তায়, খুব সম্ভব।’ ‘ডাক্তার লোকটা কি নেটিভ ছিলো?’ জিজ্ঞেস করলো রানা।
“না, ডাচ । ফ্রেডারিখ প্রথম নাম, পরেরটুকু মনে করতে পারছি না।’ ‘কোন্ দ্বীপ থেকে আনা হয় তাকে?’
সরি, সঠিক জানি না। আসলে, পরিস্থিতি তখন এমন ছিলো, প্যাটেলকে ওই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করতে মনেই ছিলো না আমার।’
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন বিজ্ঞানী। ‘আচ্ছা, ডেভিডের পার্টনারের কোনো খবর জানেন?’
‘না। ডেভিড ওই প্রসঙ্গে আর কিছুই বলেনি ।’
ড্রয়ার থেকে নিজের একটা ভিজিটিং কার্ড বের করে লোকটার দিকে এগিয়ে দিলেন তিনি। ‘কতোদিন আছেন লণ্ডনে?’
‘যে ক’দিন পকেট অ্যালাউ করে।’ ওটার ওপর নজর বুলিয়ে পকেটে পুরলো মাইক স্যাণ্ডার্স ।
‘অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, মিস্টার স্যাণ্ডার্স। ভেবে ভালো লাগছে, শেষ সময় ওর পাশে আপনার মতো একজন ভালোমানুষ ছিলো।’
‘এ আর এমন কি । অন্য যে কেউ করতো এটুকু।
‘যোগাযোগ রাখবেন। কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হলে জানাতে দ্বিধা করবেন না যেন, কেমন?’
“থ্যাঙ্কিউ, স্যার। শিশুর। উঠে দাঁড়ালো অস্ট্রেলিয়ান। সুটকেসটার ওপর শেষবারের মতো নজর বুলিয়ে ঘুরে দাঁড়ালো। দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলেন তাকে বিজ্ঞানী ।
‘আশ্চর্য!’ রাগে গজ গজ করতে করতে ফিরে এলেন, “কি সুন্দর করে গাদা গাদা মিথ্যে বলে গেল হারামজাদা। ওকে পুলিসে দেয়া উচিত ছিলো, রানা ।
‘তাতে কোনো লাভ হতো না। ওকে ধরার আগে বরং ওই ডাক্তারকে ধরা উচিত। নিজের ইচ্ছেয় ওই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে সে, না কারও চাপে, জানা দরকার। সে সব পরে দেখা যাবে। আগে সুটকেসটা খুলে দেখা যাক, ভেতরে কি আছে।’
“ঠিকই বলেছো তুমি। পকেট থেকে চাবী বের করে সুটকেসটা খুললেন রিচার্ড ওয়াকার। ডালা খুলে ভেতরে উঁকি দিলো ওরা। প্রথমেই বেরুলো ওশেনোলজির ওপর লেখা দুটো বই। প্রায় নতুন, খুব একটা ব্যবহার হয়েছে বলে মনে হয় না। IGY (ইন্টারন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্যাল ইয়ার)-এর সী বেড (Sea bed) সার্ভের কয়েকটা রিপোর্ট পাওয়া গেল একটা ফাইলে। গত বছরের। এছাড়া দু’জোড়া ট্রপিক্যাল স্যুট, চারটে টাই, চারটে শার্ট, তিন জোড়া মোজা আর তিন জোড়া আণ্ডারওয়্যার রয়েছে ভেতরে।
এক এক করে বের করা হলো সব। সুটকেসের একেবারে তলায় পাওয়া গেল সুন্দর চামড়ায় বাঁধানো ছোট একটা ডায়েরী, এবং পেপারওয়েট সাইজের সাত-আটটা কালচে, গোলাকার পাথর। ওগুলোর ওপর চোখ পড়তেই ব্যস্ত হয়ে উঠলেন বৃদ্ধ ।
‘কি ওগুলো?’ জিজ্ঞেস করলো রানা, ‘সেই নডিউল নাকি?”
থাবা দিয়ে একটা পাথর তুলে নিলেন রিচার্ড ওয়াকার, নাকের সামনে এনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলেন। হঠাৎ সিধে হলেন, ‘হ্যাঁ, রানা। এ সেই পাথর, ম্যাঙ্গানিজ নডিউল । এগুলোই খুঁজে বেড়াচ্ছিলো ডেভিড়।’
ওটা রেখে ডায়েরীটা তুলে নিলেন এবার। পরম আগ্রহের সাথে পাতার পর পাতা উল্টে চললেন। সেই সঙ্গে তাঁর ভুরুর কুঞ্চনও বেড়ে চলেছে। এক সময় থামলেন বৃদ্ধ। ‘কী এসব! কিছুই বুঝতে পারছি না।’
“দেখি।’ ডায়েরীটা নিলো মাসুদ রানা। প্রায় প্রতিটি পাতায় একটা করে ম্যাপ জাতীয় কিছু আঁকা। মনে হয় যেন নিতান্ত অবহেলার সাথে যেন-তেন ভাবে পেন্সিলের আঁচড় টেনে আঁকা হয়েছে ওগুলো। প্রতিটি ম্যাপের ওপরে, বাঁ দিকে একটা করে ম্যাঙ্গানিজ নডিউল, এবং ডানে কোনও না কোনও প্রাণীর স্কেচ দেখা যাচ্ছে। দু’একটায় মানুষের স্কেচও আছে, বিভিন্ন ভঙ্গিমার। সেই সাথে কাগজের নিচের দিকে শর্টহ্যাণ্ডের মতো, অত্যন্ত দুর্বোধ্য আঁকজোক।
‘শর্টহ্যাণ্ড নাকি?’
‘কিছুই বুঝলাম না।’ মাথা দুলিয়ে হতাশাসূচক ভঙ্গি করলেন রিচার্ড ওয়াকার।
ঠিক আছে। এখন থাক। কাল বসা যাবে এটা নিয়ে ।
‘ওকে।’
দুই
কানিংহ্যাম রোডের এক রেস্তোরায় ডিনার সারলো ওরা। ওখান থেকে বেরিয়ে ফিরে এলো আবার জোনস টাওয়ারে। বৃষ্টির বেগ কমে গেছে অনেক আগেই, কিন্তু পুরোপুরি থামেনি। টিপ্ টিপ্ করে ঝরছে এখনও। জোনস টাওয়ারের সামনের খোলা চতুরে গাড়ি পার্ক করলো জেসি ওয়াকার। ওভার-কোটটা টেনেটুনে ঠিক করে নেমে এলেন রিচার্ড। পিছনে রানা।
“ইশশ! কি ঠাণ্ডা!’ আপনমনে বললেন বিজ্ঞানী। মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকালেন, ‘এই হতচ্ছাড়া বৃষ্টি…’ আচমকা থেমে গেলেন। হাঁ করে চেয়ে আছেন ওপরদিকে। হঠাৎ যেন সংবিৎ ফিরলো তাঁর, থাবা দিয়ে রানার কোটের আস্তিন চেপে ধরলেন, ‘রানা! ওই দেখো, আমার অফিসে… কিসের আলো!’
ঝট্ করে মুখ তুলে চাইলো রানা। ছয় তলার ডানদিকের অন্ধকার জানালায় সামান্য আলোর আভাস চোখে পড়লো। পলকের জন্যে স্থির থেকে সরে গেল আলোটা, পরমুহূর্তে ফিরে এলো আবার ।
‘টর্চ লাইট!’
‘কিন্তু…কে…।’
‘সুটকেসটা…।’ বলেই তীরবেগে ছুটলো রানা। ‘ফলো মি’ ঠিক ওটার কথাই কেন মনে হলো, জানে না। তবে ওর ধারণায় যে ভুল নেই, সে ব্যাপারে রানা পুরোপুরি নিশ্চিত।
‘জেসি, এখানেই থাকো!’ চাপা গলায় বললেন রিচার্ড ওয়াকার। রানার পিছন পিছন দৌড়ে লিফটের সামনে এসে দাঁড়ালেন। থাবা দিয়ে ওটার ‘ঘূ’ লেখা সুইচটা টিপে দিয়েছে তখন রানা। ওপরকার ফ্লোর ইণ্ডিকেটরের পাঁচ নম্বর সংখ্যাটা জ্বলছিলো, নিভে গেল তা-নামতে শুরু করেছে লিফট।
ঠিক এক মিনিট পর উঠে যাবেন লিফট নিয়ে,’ বিজ্ঞানীকে বললো ও। ‘আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছি।’ ডানদিকের লম্বা একটা করিডর ধরে ছুটলো রানা। শেষ মাথায় গিয়ে বাঁক ঘুরতেই সিঁড়ি ঘর। একেকবারে তিন-চারটে করে ধাপ টপকে উঠতে শুরু করলো ।
প্রায় একই সাথে পা রাখলো দু’জন ছয় তলায়। রানাকে প্রায় স্বাভাবিকভাবে দম ফেলতে দেখে অবাক হলেন বিজ্ঞানী, এতোগুলো সিঁড়ি ভেঙে এসেছে ও, মনেই হয় না। বাহু ধরে লিফটের সামনে থেকে বৃদ্ধকে সরিয়ে দিলো রানা, ভেতরে ঢুকে নয় লেখা বোতামটা টিপে দিয়েই বেরিয়ে এলো আবার সাথে সাথে । পরমুহূর্তে মৃদু আওয়াজ তুলে বুজে গেল দরজা ।
“তাড়াতাড়ি নামতে হলে সিঁড়ি ছাড়া উপায় নেই কারও,’ বলে হাত বাড়ালো রানা বিজ্ঞানীর দিকে, ‘চাবিটা দিন, কুইক!’
পরখ করে দেখার জন্যে এগিয়ে গিয়ে দরজার ইয়েল লকটা ঘোরালো ও। খোলা! পিছন ফিরে হাত ইশারায় রিচার্ড ওয়াকারকে বোঝালো, লাগবে না চাবি। শোল্ডার হোলস্টার থেকে ওয়ালথারটা বের করলো রানা, বাঁ হাতে নিঃশব্দে দরজাটা সামান্য ফাঁক করে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করলো উঁকি দিয়ে। আলোটা আছে এখনও, রিচার্ড ওয়াকারের অন্ধকার অফিস রুমের মধ্যে ছোটাছুটি করছে। নিঃশব্দে ঢুকে পড়লো রানা ভেতরে। ওর পিছনে সেঁটে আছেন বৃদ্ধ
পরক্ষণেই রানার কানের কাছে, ডান দিক থেকে চেঁচিয়ে উঠলো কেউ অন্ধকারে, ‘ওজো!’
দরজার পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো লোকটা। বিদ্যুৎবেগে ঘুরলো রানা, পরমুহূর্তে টর্চ লাইটের উজ্জ্বল আলো এসে পড়লো চোখের ওপর, ঝলসে গেল চোখ। ভালো করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভারি কিছু একটা এসে আছড়ে পড়লো রানার পিস্তল ধরা করজির ওপর। মুখ দিয়ে একটা কাতর ধ্বনি বেরিয়ে এলো ওর, ছিটকে পড়ে গেল অস্ত্রটা ।
এক লাফে এগিয়ে এলো এবার লোকটা, হাতের টর্চটা ঘুরিয়ে দড়াম করে মারলো রানার বা চোয়ালে। বন করে ঘুরে উঠলো মাথা, কিন্তু ওই অবস্থায়ও সামনে ঝাঁপ দিলো রানা। আন্দাজে সর্বশক্তিতে ডান হাঁটু চালালো ওপর দিকে। ঠিক জায়গাতেই লেগেছে আঘাতটা, তীব্র যন্ত্রণায় বুনো শুয়োরের মতো ‘ঘোঁৎ’ করে একটা আওয়াজ বেরুলো লোকটার গলা দিয়ে।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!