হিমু সমগ্র ২য় খন্ড – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ হুমায়ূন আহমেদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪৯৮
হিমু সমগ্র ২য় খন্ড – বইটির এক ঝলকঃ
‘দু’জনের চেহারার সঙ্গে খুব মিল একজন হচ্ছে আরব্য রজনীর বুড়োটা। যে ঘাড়ে চেপে থাকে, ঘাড় থেকে নামে না ।’
‘ঠিক বলেছতো।’
‘আবার উনি যখন বই পড়া বন্ধ করে মাথা তুলে তাকান তখন তাঁকে খানিকটা টেকো মাথা আইনস্টাইনের মতো লাগে।’
বাদল বলল, “হিমুদা, দু’দিন যদি তোমার সঙ্গে থাকি তাহলে কোনো সমস্যা আছে? ইউনিভার্সিটি বন্ধ। বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে না। অনেকদিন তোমার সঙ্গে দেখাও হয় না। থাকব দু’দিন?’
থাক।’
‘রাতে ঘুমাব কোথায়?’
‘মেঝেতে ঘুমাবি। চাকর-বাকরের আত্মীয়-স্বজন এলে কোথায় ঘুমায়? মেঝেতে ঘুমায়। চাকরের আত্মীয় হিসেবে দু’দিন থাক—ভালো লাগতে পারে।’
বাদল চোখ-মুখ উজ্জ্বল করে বলল, ভদ্রলোক কী পড়ছেন?
‘এখন একটা উপন্যাস পড়তে CONTA
উপন্যাসের পাতা ব্লেড দিয়ে
ইন্টারেস্টিং আইডিয়া ।
পৃষ্ঠার উপন্যাস। আমি সেই
সত্তর পৃষ্ঠা করে দিয়েছি। একটা পাতার পরেই তারপরের পাতা মিসিং। দেখতে চাচ্ছি উনি ব্যাপারটা ধরতে পারেন কিনা ।
*ধরতে পারছেন?’
‘না। উনি খুব আগ্রহ নিয়ে উপন্যাসটা পড়ছেন। প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।’
বাদল মুগ্ধ গলায় বলল, ‘দস্তয়েভস্কির উপন্যাস থেকে উঠে আসা ক্যারেক্টর। হিমুদা, আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও।
আমি পরিচয় করিয়ে দিলাম। হাত কচলাতে কচলাতে বললাম, ‘স্যার এর নাম বাদল, আমার খালাতো ভাই। দু’দিন আমার সঙ্গে থাকবে, খাবে । তবে বিনিময়ে কাজ করে দেবে। ফ্লোর মুছবে। কাপড় ধুয়ে দিবে। লকারটা খোলার ব্যাপারেও কাজ করবে। এর অংকের মাথা ভালো।’
পল্টু স্যার বললেন, ‘গুড! ভেরি গুড!’
বাদল বলল, ‘স্যার, যে বইটা পড়ছেন সেটা পড়তে কেমন লাগছে?’
পল্টু স্যার বললেন, ‘পড়তে খুবই ভালো লাগছে। তবে বইয়ের অনেকগুলো পাতা নেই। কেউ একজন ইভেন নাম্বার দিয়ে শুরু প্রতিটি পাতা কেটে রেখেছে । তাতে আমার অসুবিধা হচ্ছে না, বরং সুবিধা হচ্ছে।’ বাদল আগ্রহ নিয়ে বলল, ‘কী সুবিধা, স্যার?
‘মিসিং পাতাগুলোতে কী আছে কল্পনা করে খুবই আনন্দ পাচ্ছি। আমি ঠিক করেছি, এরপর যে বই-ই পড়ব তার odd কিংবা even নাম্বারের পাতাগুলো কেটে রাখব।’
বাদল বলল, ‘স্যার, আপনিতো মহাপুরুষ পর্যায়ের মানুষ। দয়া করে একটা বাণী দিন।’
‘কী বাণী দেব?’
বাদল বলল, ‘আপনার মতো মানুষ যা বলবেন সেটাই বাণী। একটা গালি যদি দেন, সেটাও হবে বাণী। দয়া করে আমাকে একটা গালি দিন । ‘সত্যি গালি দেব?’
‘জি স্যার।’
‘এই মুহূর্তে তেমন কোনো গালি ‘জি আচ্ছা স্যার।’
MOM । একটু পরে দেই?”
বাদল আগ্রহ নিয়ে গালির
অপেক্ষা করছে। পল্টু স্যারকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে। সম্ভবত লাগসই গালি পাচ্ছেন না। না পাওয়ারই কথা । বাংলা ভাষায় গালির সম্ভার তত উন্নত না। বেশির ভাগ গালিই পশুর সঙ্গে সম্পর্কিত—কুকুরের বাচ্চা, শূয়োরের বাচ্চা, গাধার বাচ্চা… নতুন ধরনের গালি কিছু হয়েছে, যেমন—তুই রাজাকার। আরো গালি থাকা দরকার । একটা জাতির সংস্কৃতির অনেক পরিচয়ের একটি হচ্ছে গালির সম্ভার। চীন দেশে গালির অভিধান পর্যন্ত আছে। আহারে কী সভ্যতা!
স্যারের ড্রাইভার এসে দরজা দিয়ে মুখ বের করে চোখ টিপল। চোখ টেপায় এর সীমাহীন পারদর্শিতা। চোখ টিপ দিয়ে বুঝিয়ে দিল—বিরাট সমস্যা ।
আমি কাছে গিয়ে বললাম, ‘কী সমস্যা?’
ড্রাইভার হাঁসের মতো ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, ‘কিসলু ভাই আসছে। একা আসে নাই, দলেবলে আসছে।’
‘কিসলু ভাইটা কে?”সোহাগ ভাইজানের গ্রুপের লিডার। ডেনজার আদমি। আপনারে খবর দিতে বলেছে, খবর দিলাম। এখন আপনে কি করবেন, সেটা আপনার বিবেচনা।
‘আমাকে কি করতে বল?’
‘পালায় যান। জানে বাঁচেন।
‘জানে মেরে ফেলার সম্ভাবনা কি আছে?’
‘অবশ্যই। বললাম না, ডেনজার আদমি।’
‘পালাবো কোন দিক দিয়ে? এরচে বরং ডেনজার আদমির সঙ্গে কথা বলতে থাকি। সুযোগ বুঝে এক ফাঁকে ঝেড়ে দৌড়। এক দৌড়ে পগার পার।’
ড্রাইভার শুকনো মুখে বলল, ‘আমার যা বলার বলে দিয়েছি। আরেকবার বলতেছি—ডেনজার আদমি।’
ডেনজার আদমি কিসলু ভাই ড্রাইভারের ঘরের সামনের চেয়ারে বসে আছে। সে জিন্সের প্যান্টের সঙ্গে কমলা রঙের গেঞ্জি পরেছে। গেঞ্জিতে লেখা Love Bangladesh. বঙ্গ
এসেছে। আমি ডেনজার । চেহারায় ইঁদুর ভাব আছে। সব
মানুষ যে বাঁদর থেকে এসেছে
কিছু মনে হয় ইঁদুর থেকেও কাছে এগিয়ে গেলাম। ড্রাইভার অন্যদিকে তাকিয়ে সিগারেট টানছে। ডেনজার আদমির লোকজন কাউকে দেখছি না। তবে তারা আশেপাশেই যে আছে তা ডেনজার আদমির প্রশান্ত মুখভঙ্গি দেখে বুঝতে পারছি। এই ধরনের বিপজ্জনক লোক একা যখন থাকে তখন অসহায় বোধ করে। আমি ডেনজার স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, “এই তুই চাস কীরে শুয়োরের বাচ্চা?”
ড্রাইভারের মুখ থেকে জ্বলন্ত সিগারেট পড়ে গেল। সে মাথা ঘুরিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকালো। মনে হচ্ছে তার পৃথিবী উলট-পালট হয়ে গেছে। আমি বললাম, ‘এখনো চেয়ারে বসে আছিস! উঠে দাঁড়া তেলাপোকার ছানা!’ (তেলাপোকার ছানা গালিটা বের করে ভালো লাগছে । মনে হচ্ছে আরো কিছু নতুন গালি আবিষ্কার করে ফেলব।)
‘এই তেলাপোকা! তোর নাম কী?’
হতভম্ব ডেনজার আদমি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, ‘কিসলু।’
‘আমার কাছে এসেছিস কী জন্যে? তোকে কি সোহাগ পাঠিয়েছে? ঐ মাকড়সাটা এখন কোথায়? হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে?’
‘হুঁ।’
“হুঁ কিরে হারামজাদা! বল জি স্যার। তোকে আজ সহবত শিখায়ে দিব। সোহাগের রাজস্থানী চাকুটা প্যান্টের ভিতর আপনা-আপনি খুলে গেছে। ঠিক বলেছি না?’
“জি স্যার।’
‘তোর প্যান্টের পকেটেওতো পিস্তল আছে। আছে কি-না বল?’
“জি স্যার।
‘গুলি নাই, পিস্তল নিয়ে ঘুরছিস কোন মতলবে? পিস্তলের গুলি কই?’ ডেনজার আদমি বিড়বিড় করে বলল, ‘যে গুলি আছে সেটা এই পিস্তলে ফিটিং হয় না।’
‘পিস্তল আর গুলি দেখেশুনে কিনবি না? আমার কাছে কি জন্যে এসেছিস ঝটপট বল ।
‘ভুল হয়েছে। আপনাকে চিনতে পারি নাই । ‘ ‘এখন চিনেছিস?’
ডেনজার আদমি কিসলু হতাশ এমনই হতভম্ব হয়েছে যে, মাথা আদমি জাতীয় ছেলেপুলেরা
পর্যায়ে চলে গেছে। ডেনজার
‘ওস্তাদ, বিদায় দেন, ক-ওদিক তাকালো। সে
‘কানে ধর। কানে ধরে হয়।
রাইট করতে করতে যা। তোর বন্ধুরা
সবাই যেন দেখে তুই কানে ধরে আছিস। আর শোন, পিস্তলের জন্যে ফিটিং গুলি যেদিন পাবি সেদিন এসে আমার সঙ্গে দেখা করবি। মনে থাকবে?’
‘জি ওস্তাদ।’
‘এখনো কানে ধরছিস না কেন? কানে ধর!
ডেনজার আদমি কানে ধরল। ড্রাইভারের মুখের হা এতই বড় হয়েছে যে, মুখের ভেতর দিয়ে খাদ্য নালীর খানিকটা দেখা যাচ্ছে ।
—হাঁটা শুরু কর। এক কদম যাবি, কিছুক্ষণ থামবি। আবার এক কদম যাবি, কিছুক্ষণ থামবি । মনে থাকবে?
‘মনে থাকবে, ওস্তাদ।’
ডেনজার আদমি চলে যাচ্ছে। ড্রাইভার ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঢোঁক গিলছে। আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, হামকি ধামকি করে বড় বাঁচা বেঁচে গেছি—তাই না ফজলু?’
ফজলু বিড়বিড় করে বলল, ‘জি ওস্তাদ।’
মানুষের সবদিন সমান যায় না। কোনো কোনো দিনকে বলা যায় ভেজিটেবল ডে। তাও উল্লেখযোগ্য ভেজিটেবলও না। কদু টাইপ ভেজিটেবল । আবার কিছু দিন থাকে – সংবাদপত্রের ভাষায় ঘটনাবহুল।
যেমন আজকের দিন। ডেনজার আদমি কিসলু ভাইকে বিদায় করে উপরে এসেছি। পল্টু স্যার হাতের উপন্যাস ছুড়ে ফেলে বললেন, ‘অসাধারণ উপন্যাস পড়ে শেষ করলাম। টানটান উত্তেজনা। দুপুরের খাবার দাও। দেখি নতুন বাবুর্চি ইলিশ মাছের ডিম কেমন রান্না করেছে। আমার মন বলছে, ভালো হয়েছে।’
বাবুর্চি নেই, ডিমও নেই—এই দুঃসংবাদ দেয়ার আগেই দরজার কলিংবেল বাজল। ঘরে ঢুকল রানু। হাতে টিফিন কেরিয়ারের একটা বাটি । আমি বললাম, ‘কী এনেছ, ডিমের ঝোল ?
রানু কিছু বলল না। হ্যাঁ সূচক মাথা ঘনঘটা। আমি বললাম, ‘স্যারকে খাবার
রানু বলল, পাঠিয়েছেন।’
‘আপনার। তার চোখে-মুখে আষাঢ়ের স্যারের ক্ষিধে লেগেছে।’
খালা আপনাকে একটা চিঠি
আমি বললাম, ‘চিঠিটা আমার হাতে দিয়ে তুমি কাজে লেগে পড় । বাদল তোমাকে সাহায্য করবে। তাকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে দিতে হবে। বাসাবাড়ির কাজ প্রথম করছেতো! এম্বিতে সে ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স পড়ায় ।
বাদল মেঝে ঝাট দিচ্ছিল। রানু তার দিকে তাকিয়ে রইল। রানুর ভাবভঙ্গি অধিক শোকে কংক্রিট টাইপ।
মাজেদা খালা দীর্ঘ চিঠি লিখেছেন। শুরু করেছেন একটি নিরীহ প্রাণীকে দিয়ে…..
এই গাধা,
তুই কী শুরু করেছিস। রানুকে কী বুঝিয়েছিস। মেয়েটা আমার কাছে এসে কেঁদে-টেদে অস্থির। সব সময় রহস্য করা যায় না। মানুষকে স্বাভাবিক আচরণ করতে হয়। বয়সতো কম হয় নি। এখন স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে দেখ।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!