জীবন্ত পাহাড়ের সন্তান ২য় খণ্ড – তারেক ইসমাঈল – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

জীবন্ত পাহাড়ের সন্তান ২য় খণ্ড – তারেক ইসমাঈল – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ শেখ নাঈম রেজওয়ান

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৭৫

জীবন্ত পাহাড়ের সন্তান ১ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ

গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। অধিবেশনে খোস্ত গ্যারিসনের সমস্ত জুনিয়র, সিনিয়র অফিসারকে ডাকা হয়েছে। অধিবেশনে তাদেরকে এই এলাকার অবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিং দেওয়া হয়। তাদেরকে অবহিত করা হয় যে, আফগান সরকারী বাহিনী ও মুজাহিদরা কে কোথায় নিজ নিজ নিরাপত্তার খাতিরে সতর্কতা হিসেবে মাইন পেতে রেখেছে। সাথে সাথে নিরাপদ পথগুলোও মিটিংয়ে চিহ্নিত করা হয় ।
এই অধিবেশন ডাকার প্রধান কারণ ছিল, কিছুদিনের ভিতর মুজাহিদীনের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও প্রধান ঘাঁটি ঝাওয়ার এর উপর একটা বড় ধরনের আক্রমণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ব্রিফিং দেয়া ।
যখন একজন রুশ কর্নেল দেয়ালে টানানো একটি বিশাল মানচিত্রের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে অধিবেশনে অংশ গ্রহণকারী সামরিক অফিসারদেরকে মাইন-পুঁতা রাস্তাগুলো চিহ্নিত করছিলেন, তখন ফয়জানের মনটা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল। সে ভাবেনি যে, আল্লাহ পাক এত তাড়াতাড়ি তার দোয়া কবুল করবে না । সে মনে মনে মহান রাব্বুল আলামীনের অনেক শুকরিয়া আদায় করল এবং একই সাথে তার স্বাধীনতার স্পৃহাও অনেকগুণ বেড়ে গেল।
তার অনেক বড় একটা সমস্যা আল্লাহ তায়ালা অতি সহজে সমাধা করে দিলেন। এখন দুনিয়ার কোন শক্তি তাকে জেহাদের ময়দানের দিকে পা বাড়াতে বাঁধার সৃষ্টি করতে পারবে না ।
আজকের রাত বাস্তবিক পক্ষেই তার বন্দী জীবনের শেষ রাত । কাল সকালে সে মুক্ত হয়ে যাবে ভেবে তার মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল ।
এই কনফারেন্স থেকে একটা গুরুতর ব্যাপারও সে জেনে ফেলল যে, যেমনভাবে আফগান সরকারী সেনাদের মধ্যে মুজাহিদীনের সহযোগী ও চর রয়েছে, যারা প্রতিটি মুহুর্তে মুজাহিদদের কাছে সরকারের পরিকল্পনার খবর পৌঁছে দেয়, ঠিক তেমনি মুজাহিদদের ভিতরও সরকারী চর রয়েছে, যারা মুজাহিদদের পরিকল্পনা সম্পর্কে রুশ ও সরকারী সেনাদেরকে সংবাদ পৌঁছে দিয়ে থাকে। এ ব্যাপারে সে আগে থেকে জানত, সরকার ও মুজাহিদ গ্রুপ একে অপরের আকস্মিক হামলা থেকে নিজেদের রক্ষার খাতিরে নিজ নিজ পজিশনের আশেপাশে মাইন বিছিয়ে রেখেছে। কিন্তু কোন্ কোন্ পয়েন্টে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে সে কিছুই জানত না । এজন্য তার মনে আশংকা ছিল, এসব মাইন থেকে উদ্ধার পেয়ে সে নিজের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারবে কিনা । এখন কুদরত স্বয়ং তাকে পালাতে সহযোগিতা করছে। সে জেনে ফেলল, কোন্ পথ দিয়ে সরকারী সেনারা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে হামলা করতে যাচ্ছে। সেই পথটিই ছিল নিরাপদ। ফয়জানও সিদ্ধান্ত নিল সেই পথ দিয়েই সে পালাবে ।
৷৷ ২ ৷৷
সেদিন সন্ধ্যার পর ফয়জানকে একটি সেকশন সঙ্গে নিয়ে “রেকী” করার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হল । এই সেকশনে তার সাথে একজন হাবিলদার ও একজন আসকারী ছিল। হাবিলদারটি ছিল মধ্য বয়সী। স্থানীয় হওয়ার কারণে এ এলাকা সম্পর্কে তার ছিল যথেষ্ট জ্ঞান ৷
যুদ্ধের নীতি অনুযায়ী তারা শত্রুর এলাকা পর্যবেক্ষণ করে অবস্থা নির্ণয় করবে। এই পর্যবেক্ষণ টীমের রিপোর্টকে ভিত্তি করে তবেই আক্রমণের বিশদ প্লান গ্রহণ করা হবে।
এই ডিউটিকে জুনিয়র অফিসার ফয়জান “আল্লাহর মহান দান” মনে করে সানন্দে গ্রহণ করল ।
সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুই সহযোগীর সাথে সে তার মিশনে বেরিয়ে পড়লো। ফয়জান জেনে-শুনে নিজের একজন সঙ্গীকে এল, এম, জি আর অন্যজনকে রকেট লাঞ্চার সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। তার অভিপ্রায় ছিল, এভাবে তার মাধ্যমে মুজাহিদদের হাতে কিছু আধুনিক অস্ত্র পৌঁছবে। তার দুজন সহযোগী সৈনিক বিনা বাক্যে তার নির্দেশ পালন করছে। এ
‘, কাজটি ফয়জান এত তড়িৎগতি এবং সতর্কতার সাথে করছে যে, তাদের খোস্ত দূর্গ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণাক্ষরেও উপরের অফিসাররা জানতে পারল না, পর্যবেক্ষণ টীম কী ধরনের অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে।
ফয়জান এমনিই ছিল কোম্পানী কমান্ডার। কোম্পানীর সীমানা পর্যন্ত বেশ কিছু ব্যাপারে তার ছিল স্বাধীনতা ।
খোস্ত বাজারের বাইরে দিয়ে চক্কর কেটে তারা “বাড়ীর” দিকে রওয়ানা হয়ে গেল । এই “বাড়ী” নামক জায়গাতে তাদেরকে রেকী ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তার সহযোগী সেই দুজন আফগান সৈনিক তার আগে চলছে। আর ক্লাশিনকোভ হাতে নিয়ে ফয়জান তাদের পিছনে পিছনে আসছে ।
হাবিলদার ছিল খুবই সতর্ক। সে এই অঞ্চলের প্রতিটি উঁচুনিচু সম্পর্কে খুব ভাল মত জানত। এক জায়গায় পৌঁছে সে থেমে গেল । এ পর্যন্ত এলাকাই রেকী করার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছিল । এখান থেকে তারা পুণরায় খোস্ত গ্যারিসনে চলে যাবে।
“থেমো না; সামনে চলতে থাক।” সৈনিক দুটি যেইমাত্র পিছনে ঘুরতে চাইল কমান্ডার ফয়জান তাদের এই নির্দেশ শুনাল । উভয়ে ঘাড় ফিরিয়ে ফয়জানকে দেখল । ফয়জান উগলু ক্লাশিনকোভ তাদের দিকে তাক করে রেখেছিল। ফয়জান মিশনে বের হওয়ার সময় সতর্কতা হিসেবে ক্লাশিনকোভের লক খুলে রেখেছিল, যেন যেকোন উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায়।
“দেখো তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন দুর্ভিসন্ধি নেই । আমি কাফের, মুরতাদ ও নাস্তিক সরকারের চাকুরীর উপর হাজার বার লানত করছি। আমি মুজাহিদদের সঙ্গে মিলে পরচম, খালকী ও রুশ হানাদারদের বিরুদ্ধে জেহাদ করব। আমি তোমাদেরকে বাধ্য করবো না আমার সঙ্গ দিতে। তবে তোমাদের কাছে যে সব অস্ত্র আছে, আমি এগুলো পুনরায় কাফেরদের হাতে যেতে দেবো না। তোমাদেরকে এসব হাতিয়ার বহন করে আমার সাথে চলতে হবে । যখন আমি বুঝতে পারবো যে, এসব অস্ত্র এখন অনায়াসে মুজাহিদদের হাতে পৌছে যাবে, ঠিক তখনি তোমাদেরকে ফিরে যেতে দিতে পারি। এর আগে নয়। এজন্য আমি দুঃখিত।”
“হে আল্লাহ ! তোমার হাজার শোকর।” ফয়জান উগলুর কথা শেষ হতেই হাবিলদারটি বলে ওঠল।
“আমিও আপনার সঙ্গী” দ্বিতীয় সৈনিকটি বলল ।
মাটির উপর অস্ত্র রেখে তিনজনই একে অপরকে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করল । তাঁরা সবাই আনন্দে আত্মহারা, জমিনের উপর যেন তাদের পাগুলো পরছিল না। খানিক পরেই তারা গন্তব্যের দিকে রওনা হয়ে গেল ।
।। ৩ ।।
দুজন সহযোগী সৈনিক এজন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে যে, তাদের মনের আশা পূরণ হচ্ছে। আর ফয়জান আনন্দিত। কারণ তার সহযোগীরা তার জন্য কোন সমস্যা সৃষ্টি
করছে না।
ফায়জান এখন নিজে তাদের পথ প্রদর্শক হয়ে আগে আগে চলছে। সেদিনকার অধিবেশনে যে মানচিত্র ধরে তাদেরকে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিল সেই ম্যাপটি তার চোখে ভাসছে। ফয়জান তার স্মৃতি শক্তির উপর নির্ভর করে সামনে অগ্রসর হচ্ছে।
রাতের অন্ধকারে সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য সে বার বার পিছন ফিরে বৃদ্ধ হাবিলদারের দিকে তাকাচ্ছে। কারণ এই এলাকার প্রতিটি উঁচু-নীচু সম্পর্কে এ বৃদ্ধ ওয়াকিফহাল। সমস্ত রাত তারা পাহাড়ের মধ্যখান দিয়ে সফর করল। পূর্ব আকাশে প্রভাতের আলো ছড়িয়ে পড়লে তারা পাহাড়ের একটি গুহায় চুপ করে বসে যাচাই করতে লাগল, তারা কোথায় এসেছে। তারা বুঝে কুলিয়ে ওঠতে পারল না, তারা কোথায় এসেছে। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হল যে, তারা মুজাহিদ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৌঁছে গেছে। “কাবুল মারকাজ” থেকে কাসেম ঈশানজাদা ও মোল্লা মীরদাদ খান গতকালই এখানে পৌঁছে গিয়েছেন । হাজী আমানুল্লাহ রাজধানী কাবুলের আশেপাশে হামলা জোরদার করার জন্য সেখানকার কমান্ডারদের একটি বিশেষ মিটিং ডাকেন ।
“বাড়ী মারকাজে” কাসেম ঈশানজাদা ফজরের নামায পড়ে মর্নিং ওয়াক করার জন্য হাঁটতে হাঁটতে একদিকে বেরিয়ে পড়ল । কাঁধে তার ক্লাশিনকোভ ঝুলছে। হাতে দূরবীন । দূরবীনটি গতকালই হাজী আমানুল্লাহ তাকে দিয়েছেন।
কাসেম ঈশানজাদা পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দূরবীনটি চোখে লাগালেন। দূরবীনটি “তুরগার” থেকে যে সড়কটি এসেছে, সে দিকে ঘুরিয়ে দিলেন। দূরবীন উত্তর-দক্ষিণে ঘুরাতে লাগলেন। হঠাৎ তিনি থমকে গেলেন। তিনজন আফগান সেনাকে চুপে চুপে এদিকে আসতে দেখা গেল। কাসেম ঈশানজাদার প্রথম ধারণা হল, এরা হয়ত শত্রুদের টহল পার্টি, যারা রাস্তা ভুলে গিয়ে এদিকে এসে পড়েছে। ক্ষণিকের জন্য তিনি কিছু ভাবলেন। তারপর মারকাজের দিকে দৌড়ে ফিরে গেলেন ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মোল্লা মীরদাদ খান তার তিনজন মুজাহিদ সহচর নিয়ে সে দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। দূরবীনের সাহায্যে তারা আগন্তুকদের পথ ও দিক নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন । তিন মুজাহিদ বিড়ালের মত নিঃশব্দে পার্বত্যে অরণ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তারা আগন্তুকদের পিছু নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। মীরদাদ খান তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, যদি অন্য পক্ষ ভুল কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে তাহলে তাদের উপর যেন গুলী না চালানো হয়।
মীরদাদ খান কাসেম ঈশানজাদার সঙ্গে একটি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে বসে গেলেন, যেখান থেকে পুরো অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায় । তিনি দূরবীন চোখে লাগালেন। তিনি আবার চোখ থেকে সেটা

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top