শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা ২য় খণ্ড – রফিক আহমদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ রফিক আহমদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৪৬
শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা ২য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
সকলেই শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যায় । বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের সে একজন। এই লোমহর্ষক কাহিনীর বিবরণ দিতে গিয়ে অশ্রুতে ভরে যায় তার দুটি আঁখি। তথাপিও সে বলতে থাকে, আপনি হয়তো বা বিশ্বাস করবেন না যে আমরা কেমন দুঃসাহসিকতার সাথে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। ভারতের বাংকার ওয়াদী পাহাড়ের চূড়ায় এবং উঁচু টিলায় নির্মিত ছিল। তাদেরকে পরাস্ত করার মত কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এদিকে গোলা বৃষ্টির মুখে পড়ে আমাদের এডভান্স গ্রুপ থেমে গেছে। আর ভারত যে কোন মুহূর্তে সাহায্য প্রাপ্ত হতে পারে । এমনই এক কঠিন মুহূর্তে বিজয়মালা ছিনিয়ে আনতে আমাদের কোম্পানীর কতিপয় জানবাজ নওজোয়ান ভারতীয় বাংকার পদানত করতে জীবন মরণের ঝুঁকি নেয় এবং গ্রেনেড নিয়ে পাহাড়ী দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদ এক স্থান দিয়ে সন্তর্পণে ক্রলিং করে সেই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যায় যেখানে ভারতীয় বাংকার নির্মিত ছিল। তাদের বহনকৃত গ্রেনেড পিন খোলার ৬ সেকেন্ড পর ফাটল। যার ফলে তাদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড ভারতীয় বাংকারের অনেক নিচে গিয়ে পতিত হল। আর এ কারণে ভারতীয় বাংকারের উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষতি সাধিত হয়নি। অথচ ভারতীয় বাংকারে হেভী মিশিনগান ছাড়াও মর্টার গোলা বারুদ ও সশস্ত্র সেনাদল ছিল এমতাবস্থায় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারতীয় সেনা দল আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারে। তাই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে এবং চূড়ান্তভাবে আক্রমণ করতে সাথীরা পরস্পর পরামর্শ করে নেয় যে, তাদের থেকে ভারতীয় বাংকারের দূরত্ব পরিমাপ করে গ্রেনেড পিন খোলে লিওয়ার থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি হটিয়ে গ্রেনেড দু’চার সেকেন্ড হাতেই রাখবে, অতঃপর ভারতীয় বাংকার লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারবে। এই প্রসেস কালে নির্দিষ্ট সময়ের ভুল বুঝাবুঝির কারণে আমাদের এক লড়াকুর হাতেই গ্রেনেড ফেটে যায়। যার ফলে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে শহীদ হয়ে যায়। বাকী পাঁচ সাথী নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারল এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে আঘাত হানে। গ্রেনেডের কারণে ভারতীয় বাহিনীর যদিও তেমন কোন ক্ষতি হয়নি কিন্তু বাংকারে রক্ষিত গোলা বারুদ ফাটার কারণে ভারতীয় বাংকারে কিয়ামত ঘটে যায়। গোলা বারুদের বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল পাহাড়-পর্বত। খসে পড়ে পাহাড়ের উপরিভাগ। জমিন থেকে দশ গজ উপরে লাফিয়ে উঠে ভারতীয় সেনাদের জ্বলন্ত লাশ । গোলা
1 বারুদের কুণ্ডুলি পাকানো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় ধরার ধূলি। এমনি মুহূর্তে আমাদের এক জওয়ান ভারতীয় জ্বলন্ত লাশের চাপায় পড়ে হারাল তার প্রিয় বাহু। আর সকাল বেলায় ওয়াদী লেপপা ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পত পত করে উড়ল চাঁদ তারা খচিত পাকিস্তানী পতাকা। এ অতর্কিত আক্রমণে বিবেকশূন্য হয়ে ভারত অকল্পনীয় ক্ষতির পাহাড় মাথায় নিয়ে পালিয়ে যায়। আর ভারত এতে এত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে, স্মৃতিপট থেকে ওয়াদী লেপপার নাম নিশানা পর্যন্ত মুছে যায়। যার ফলে পরবর্তীতে তারা ওয়াদী লেপপা উদ্ধারকল্পে কোন অভিযান চালায়নি। আমি ক্যাপ্টেনের আবেগ উচ্ছ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে মেস থেকে বেরিয়ে আসি বটে, কিন্তু ঐতিহাসিক ওয়াদী লেপপার শহীদদের স্মরণে নসীম বেগমের মাধুরী মিশ্রিত আকর্ষণীয় কণ্ঠে গাওয়া-
খোদার পথের শহীদ
সরলতা ও প্রতিরক্ষার মূর্তপ্রতীক
জন্মভূমির মুক্ত বাতাস তোমাদের
জানায় হাজার সালাম ।
আমার কর্ণকুহরে বহুদিন পর্যন্ত অনুরণিত হল ।
কথা চলছিল জেনারেলদের ডায়েরি সম্পর্কে। ডায়েরির প্রতিটি পৃষ্ঠা কাঙ্ক্ষিত তথ্যে পরিপূর্ণ। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভারতের পাকিস্তান আক্রমণের নিখুঁত প্ল্যান এবং ভারত সীমান্তে ভারতীয় সেনা বাহিনীর পজিশন। ভিন্ন ভিন্ন চার জায়গাতে একই সময়ে একযোগে আক্রমণ করার arrow আকারে প্রতিচিহ্ন, আক্রমণকারী সৈনিকদের তোপখানার কোর, ইনফেন্ট্রি ডিভিশনে পূর্ব নির্ধারিত ট্যাংক রেজিমেন্টের সংখ্যা, পরিপূর্ণ একটি ডিভিশন নিয়ে শিয়ালকোট ও লাহোর সেক্টরে একযোগে আক্রমণ ও সম্ভাব্য পাকিস্তানী আক্রমণ প্রতিরোধের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মানচিত্রে এবং এ সংক্রান্ত দলিল দস্তাবেজের বিস্তারিত বিবরণ দেখে আমি অনুধাবন করি যে, আমরা এখন ভারত কমান্ডের OPERATION ROOM -এ আছি। যেখানে যুদ্ধের সময় যাবতীয় রিপোর্ট থাকে। দলিল- দস্তাবেজের বর্ণনানুসারে ভারতের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী উভয়েই করাচীকে তাদের গোলা বর্ষণের টার্গেট বানিয়েছে এবং সিন্ধু প্রদেশের সাথে পাকিস্তানের রাজপথ ও রেলপথের যোগাযোগ ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছে। আর ভারতের IBORDERSE, BSF CURITY FORCE নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনীর সাথে মিলেমিশে হায়দারাবাদ ও করাচীকে দখল করার প্রতিজ্ঞা করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পত্রযোগে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হয়েছে যে, যদি প্ল্যান অনুযায়ী আক্রমণ করা হয় তবে বিজয় ৮০% নিশ্চিত। যুদ্ধ জয়ের পর বিজিত এলাকায় সৈনিক গভর্নর নির্ধারণ করার জন্যে কয়েকজন জেনারেলের নামও উল্লেখ করা হয়। ডাকের মোড়কে নিয়মানুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পত্রের সিল লাগানো হয়। আমি তখনই সাথীদেরকে এ সকল চিত্রের কপি তৈরিতে লাগিয়ে দেই এবং নকশারও কয়েক কপি প্রস্তুত করি বটে। কিন্তু প্রশান্তি অনুভব করতে পারছিলাম না। আমি চাচ্ছিলাম যে, হুবহু এ নকশার কপি করতে। আর হুবহু নকশা কিভাবে করতে হয় এ ব্যাপারে আমিও কিছু জানি না। আমার সাথীরাও না। আমি গভীরভাবে ভেবেচিন্তে পরিশেষে আল্লাহর নাম নিয়ে শহরের বইয়ের এবং নকশার দোকানে চলে যাই। সেখানে সকল স্থানের নকশা ছিল। তাদের কাছে আমি কাহিল সাগরের এক অপরিচিত দ্বীপ পাপানিউর নকশা চাই। যা অনেক খুঁজাখুঁজি করে বহু কষ্টে সেলসম্যান আমাকে দেয়। আমি তাকে বলি যে, আমার এর মত আরো ছয়টি নকশা দরকার। সেলসম্যান অপারগতা প্রকাশ করে বলে যে, আমাদের কাছে শুধুমাত্র এ একটি নকশাই ছিল। তারপর আমি তাকে বলি যে, তবে এ নকশা কপি করতে হলে যে কাগজের প্রয়োজন সে কাগজ আমি চাই। সম্ভবত সে ঐ কাগজের নাম TRACING PAPER বলেছিল। আমি ১২/১৪ ইঞ্চি মোটা এক রিম কাগজ খরিদ করি এবং বিভিন্ন প্রকারের পেন্সিল ও বিভিন্ন কালারের HILITER ও একটি বোর্ড এবং নকশা বোর্ডে লাগানোর জন্যে পিন খরিদ করে সাথীদের বাসায় ফিরে আসি ।
কপি করার কাগজের রোল ছিল একদম পরিস্কার। ফলে তা নকশার উপরে আঁটসাট করে লাগানোর পর নকশা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। আমি মেট্রিক পর্যন্ত জ্যামিতি পড়েছি। আর সেই প্রাথমিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই আমি নকশার দুই কপি প্রস্তুত করার দুঃসাহস করি। বিশ্বাস করুন, এটাই হলো আমার জীবনে নকশা তৈরির প্রথম প্রয়াস ।
আমি কাঠের বোর্ডে প্রথম নকশা রাখি, তার উপর TRACING PAPER পিনের সাহায্যে খুব ভালভাবে ফিট করি। তারপর নকশায় আঁকা পাকিস্তান ও ভারতের কন্ট্রোল লাইন আল্লাহর নাম নিয়ে আঁকতে শুরু করি এবং কয়েক ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এমন নিখুঁতভাবে নকশা TRACING PAPER-এ হুবহু নকল করতে সক্ষম হই যে এখন আর ধরার উপায় নেই, কোনটা আসল আর কোনটা নকল। কাগজে কালারে এবং লেখায় চমৎকার একটি নকশা ফুটে উঠে। কয়েক মিনিট বিরতির পর TRACING PAPER-এর সাহায্যে নকশার আরেকটি কপি প্রস্তুত করতে শুরু করি। এ আশাতীত সফলতায় আমরা ক্ষুধা তৃষ্ণা ও ক্লান্তির কথা একদম বেমালুম ভুলে যাই। আমাদের এক সাথী প্রতি ঘণ্টা অন্তর আমাদেরকে চা বিস্কুট দিত। ফলে আমরা ক্লান্তি দূর করে সতেজ হয়ে যেতাম। আমার দুই নম্বর সাথী আমাদের জানাল যে, ছোট ক্যামেরার ফিল্ম সমাপ্তির পথে। আমি পুরাতন ফিল্মের রোলের লেখা ও কোম্পানীর নাম পড়ে দুই নম্বর সাথীকে বলি যে ক্লাট সারকাসে কোডক এজেন্সি এবং শোরুম আছে। সেখানে গিয়ে দেখ, হয়তো এই ফিল্ম সেখানে পেতে পার। আমি তাকে ফিল্মে লাগানো সিলও সাথে আনতে বলি। এক ঘণ্টার মধ্যেই আমার সাথী হাসতে হাসতে ফিরে আসে। সে শোরুমে এ সাইজের ৩২টি ফিল্মের সবকটি ফিল্ম খরিদ করে নেয়। তার সাথে ক্যামেরার জন্যে অতিরিক্ত ফিল্ম নিয়ে আসে।
আমরা সকলেই কাজে মগ্ন। কেউ বা শ্লেট দিয়ে একের পর এক কপি বানাচ্ছে, আর কেউ বা ক্যামেরা দিয়ে প্রতি পৃষ্ঠার দুটি করে ফটো তুলছে, আর আমি নকশার দ্বিতীয় কপি প্রস্তুত করছিলাম। যখন আমরা কাজ শেষ করি তখন রাতের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। এখন আমাদের কাছে ডায়েরির প্রতি পৃষ্ঠার দুই কপি এবং ক্যামেরার সাহায্যে তোলা দুই কপি ফটোষ্ট্যাট । তাছাড়া তারাপুর ফাইলেরও দুই কপি এবং দুই কপি ফটোষ্ট্যাট আছে। আর নকশার হুবহু কপিও TRACING PAPER-এর সাহায্যে প্রস্তুত হয়েছে। কাজ শেষ হয়েছে, এখন চিন্তামুক্ত। তাই এবার আমরা ক্ষুধা ও ক্লান্তির কথা প্রচণ্ডভাবে অনুভব করি। এহেন মুহূর্তে একজন বলে উঠে, ঘণ্টা ঘরের কাছেই মাঝারি সাইজের একটি রেস্টুরেন্ট সারারাত খোলা থাকে। আমি একজনকে খাবার আনতে বলি এবং অপরজনকে প্রথমজনের কোর দিতে বলি। এই ফাঁকে তাদের খাবার নিয়ে আসার পূর্বেই যশোবন্তে র কাছে রিটার্ন পাঠানো সকল ফাইল নকশা এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র ডায়েরি এবং ডাক পৃথক করে একটি থলেতে ভরে রাখি, আর পাকিস্তানে প্রেরণকারী ডাক নকশা ও ডায়েরির কপি এবং ফিল্ম রোল পৃথক করে সব এক প্যাকেটে ভর্তি করি। আর আমার কাছে রাখার কপি ও নকশা পৃথক আরেক প্যাকেটে ভর্তি করি। যখন আমরা ভোজন পর্ব শেষ করি ততক্ষণে রাত গভীর হয়ে গেছে। যার ফলে আমি সাথীদের সাথেই রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তাছাড়া যশোবন্তের কাছে ডাক ফেরত পাঠানোর সময়ও শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি একটি চিরকুটে তাকে আগামীদিন অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় চাউরি বাজার রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করতে বলি। আর সাথীদেরকে বলি যে, তোমরা ভোর বেলা ডাকের থলে এবং আমার চিরকুট এশুনাতের বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবে।
পরদিন সকাল বেলা যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে তখন আটটা বাজে। ততক্ষণে আমার দুর্ধর্ষ সাথীরা যশোবন্তের ডাকের প্যাকেট যশোবন্তের কাছে পৌঁছে দিয়ে চলে আসে। আর আমি নাস্তা সেরেই হেটেলে ফিরে আসব এ মুহূর্তে আকস্মিকভাবেই একটি কথা স্মৃতির ক্যানভাসে ভেসে উঠে যে, ‘দশটা বাজতেই তো আমাকে ওয়ারলেসযোগে পাকিস্তানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে’। যেই ভাবা সেই কাজ। তাই ওয়ারলেস অপারেটরকে বলি, যোগাযোগকালে MESSAGE RECEIVED ALL OK লেখা ছাড়াও কোড মারফত JACK POT SEND MOST RELIABLE TO COLLECT ও ট্রান্সমিট করতে এ সংবাদ পাঠিয়েই আমি সোজা হোটেলে চলে আসি এবং লম্বা সটান হয়ে শুয়ে পড়ি। কারণ সন্ধ্যা বেলায়ই তো যশোবন্তের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে এবং যশোবন্তের স্বপ্ন পূরণ করে আমার মাথার বোঝা হালকা করতে হবে।
আমি সন্ধ্যা বেলা হোটেল লকের থেকে টাকা নিয়ে ঠিক সাতটায় চাউরী বাজার রেস্টুরেন্টে পৌঁছে যাই। যশোবন্ত পূর্ব থেকেই সেখানে আমার অপেক্ষায় বসা ছিল। আজ তাকে খুব হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের আনন্দ এবং এ আনন্দ ভোগ করতে গিয়ে সে যে অপরাধ করেছে তার ভয়ভীতি চেহারায় স্পষ্ট ফুটে উঠা সত্ত্বেও সে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছে। আমি তার অভূতপূর্ব সফলতায় মোবারকবাদ জানাই। এতেই সে বলতে শুরু করে, “স্যার! জেনারেল সাহেব যেদিন ছুটি কাটিয়ে অফিসে আসে সেদিনই সে তার চিঠি পড়ে আমাকে তা টাইপিং করতে ডাক দেয় । আমি জেনারেল সাহেবের কাঙ্ক্ষিত ফাইল বের করার জন্যে আলমারি খুলি । তখন আলমারির চাবি তালায় ঝুলিয়ে না রেখে আমার পকেটে রেখে
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!