আলোর রাজপথ – আবুল হাসান আলী নদভী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

আলোর রাজপথ – আবুল হাসান আলী নদভী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Downloadএই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুহাম্মাদ রওশন আলী

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৯৮

 আলোর রাজপথ – বইটির এক ঝলকঃ

হযরত খুবাইব বদরের দিন যুদ্ধে হারিস ইবনে আমেরকে হত্যা করেছিলেন; সুতরাং যখন হারিসের ছেলেরা শুনলো তাদের পিতার হত্যাকারী খুবাইব বনু লেহইয়ানদের নিকট বন্দী হয়ে
আছে; তারা তাদের কাছে চলে আসল এবং তাদের বাপের বদলায় তাকে হত্যা করার জন্য কিনে নিল।
খুবাইব (রা) বনু হারিসদের নিকট বন্দী হয়ে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু জানতে পারছিলেন না তাঁকে কখন হত্যা করা হবে। তবে তাঁর জন্য হত্যা অবধারিত হয়ে গিয়েছিল।
সুতরাং তিনি আপন রবের সাথে সাক্ষাতের জন্য পাকছাফ হওয়ার ইচ্ছা করলেন। তিনি একটি ক্ষুর চেয়ে নিলেন
হারেসের কোন এক মেয়ের একটি বাচ্চা শিশু তার অসাবধানতায় হাটতে হাটতে খুবাইরের নিকট চলে গেল। কিন্তু বাচ্চা শিশুরা তো জানেনা তাদের কে শত্রু কে মিত্র? আর হযরত খুবাইব তো হারেসের ছেলে-মেয়ে এবং বাচ্চা শিশুদের ব্যাপারে অঙ্গীকার মুক্ত ছিল। তবে হযরত খুবাইব ছিলেন কোমল হৃদয়ের একজন দয়ালু ব্যক্তি। আর মুমিন ব্যক্তি হয়ে থাকেন সৎ এবং মহানুভব ব্যক্তি; তিনি দুর্বলদের প্রতি হন দয়ালু। ছোটদের উপর তিনি স্নেহশীল হন; তিনি কারুর সাথে না গাদ্দারী করেন আর না পাষাণ প্রাণ হন ৷
আর আমাদের নবীজী (স)ও ছিলেন নরম হৃদয়ের বন্ধুজন; তিনি ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ভালবাসতেন- তাদেরকে চুমো দিতেন। হযরত খুবাইব (রা) বাচ্চাটিকে পেয়ে আনন্দিত হলেন; তিনি তাকে উঠিয়ে নিজের উরুর উপর বসালেন। এখন তাঁর হাতে শাণিত ক্ষুর। বাচ্চাটির মা তাকিয়ে দেখল সে খুবাইয়েবের উরুর উপর বসা; সুতরাং সে আতংকিত হয়ে পড়ল আর ভাবল হায় ! হায়! কি ভয়ংকর দৃশ্য। বাচ্চা শত্রুর উরুর উপর; সে তো আগামীকাল নিহত হচ্ছে! তার হাতে শাণিত ক্ষুর। শত্রুর জন্য এতো সুবর্ণ সুযোগ! সে বাচ্চা শিশুটিকে জবাই করে নিজ প্রাণের দুঃখের উপশম করবেই।
হায় অভাগিনী কাফের নারী! তুমি মুমিন মানুষের পরিচয় জান না। তার অঙ্গীকার পালন করার কোন অভিজ্ঞতাই তোমার নেই। তুমি জাননা তার মহানুভবতা ও উদারতা। তুমি জান না যে, মুমিন ব্যক্তির মহত্ত্ব এবং তার ধর্ম কি। যদি যুদ্ধের ময়দানে শিশু- কিশোর এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকাকে হত্যা করতে অথবা বৃদ্ধ এবং নারীদের উপর হামলা করতে ধর্ম নিষেধ করে থাকে তাহলে গৃহ ও বাড়ীর মধ্যে ছোট শিশুকে হত্যা করা কেমন করে
সম্ভব?
হযরত খুবাইব (রা) মহিলার হৃদয়ের আতংক বুঝতে পারলেন। তিনি বললেন – বাচ্চাকে আমি হত্যা করব বলে তুমি ভয় পাচ্ছ? না! না। আমি কখনও এ কাজ করব না ।
খুবাইব বনু হারিসেদের নিকট বন্দী ছিলেন- তিনি বন্দী ছিলেন তার শত্রুদের নিকট। তিনি বিগত দিনে তাদের এক পিতাকে হত্যা করেছেন, সুতরাং তারাও তাকে আগামী কাল হত্যা করতে যাচ্ছে ।
খুবাইব (রা)কে তেমন কোন খাদ্য দেয়া হত না কেবল এতটুকু দেয়া হত যাতে সে মারা না যায়। কেননা যদি সে না খেতে পেয়ে মারা যায় তাহলে তারা তাকে কেমন করে হত্যা করবে? আর কেমন করে তারা তাদের অন্তরের যে জ্বালা আছে তার উপশম ঘটাবে? কিন্তু হযরত খুবাইব ছিলেন তাঁর রবের মেহমান। তিনি কি তাঁর ঘরবাড়ী, পরিবার-পরিজন, তার অন্ন, জল, তার রবের রাহে ত্যাগ করে আসেন নাই? নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।
হযরত খুবাইব (রা) ইন্দ্রিয় ও বস্তু জগতের গণ্ডি থেকে আত্মা এবং অদৃশ্য জগতের চিন্তায় বিভোর তিনি তাঁর রবের সাক্ষাৎ লাভের প্রতীক্ষায় আছেন। প্রতি মুহূর্তে শাহাদাতের অপেক্ষা করছেন। জীবনের সকল আশা-ভরসা ছিন্ন করেছেন; দুনিয়ার রাজ্য থেকে তিনি বেরিয়ে এসেছেন। তাই তাঁর কাছে জান্নাত থেকে আসতো উপহার উপঢৌকন। দয়ালু প্রভুর কাছ থেকে আসতো মেহমানদারীর সামগ্রী।
তাঁর কাহিনী হযরত মারইয়ামের (আঃ) কাহিনীর মত । “কুল্লামা দাখালা আলাইহা যাকারিইয়াল মিহরাবা ওয়াজাদা ইন্দাহা রিযকান্, কালা ইয়া মারয়ামু আন্না লাকি হাযা কালাত হুয়া মিন ইনদিল্লাহ; ইন্নাল্লাহহায়রযুকু মাইইয়াশাও বি গাইরি হিসাব।” অর্থাৎ যখন মেহরাবের মধ্যে তার কাছে হযরত যাকারিয়া ঢুকে তাঁর কাছে আহার সামগ্রী দেখতে পেতেন তখন বলতেন ও মরিয়াম! এ সব তোমার জন্য কোথা থেকে আসলো? মরিয়ম বলতেন, এ তো আল্লাহর কাছ থেকে আসে। আল্লাহ যাকে চান তাকে, বেহিসাব রেযেকের ব্যবস্থা করে থাকেন ।
লোহার শিকলে বাঁধা বন্দী হযরত খুবাইবের নিকট গর মউসুমের নানা ফল-ফলারী আসতো; অথচ কেউ জানতো না এই ফলমূল তাঁর কাছে কোথা থেকে আসছে।
হারিসের মেয়ে বলল- কসম আল্লাহর খুবাইবের চেয়ে কোন উত্তম বন্দীকে আমি দেখি নাই। আল্লাহর কসম। আমি একদিন তাঁকে আঙুরের ছড়া খেতে দেখেছি। অথচ সে তো লোহার জিঞ্জিরে বাঁধা থাকতো; আর তখন মক্কায় কোন ফল পাওয়া যেতনা। সে বলতো অবশ্যই তা এমন রিযিক যা আল্লাহ খুবাইবকে খাওয়াতেন। বনু হারিসরা যা দেখেছিল তা ছিল হযরত খুবাইবের সৌজন্যে এবং আল্লাহর কাছে তাঁর কারামত এবং সম্মানের জন্য। কিন্তু এত সব কিছুও বনু হারিসদের হত্যা করা থেকে এতটুকু বাধা দিতে পারে
নাই ৷
অবশ্য দুশমনী এবং শত্রুতা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে ফেলে। নিশ্চয় কাফেররা অন্ধ ও বধির হয়ে যায়। বনু হারিসরা খুবাইবকে হত্যা করার জন্য হেরেম থেকে বের করে হিল্লের মধ্যে এনেছিল। আচ্ছা! হিল্লের মধ্যে এমন কি কেউ আছে যাকে লোকেরা ভয় করে অথবা হিল্লের মধ্যে এমন কি কেউ আছে যে লোকদেরকে দেখে। আচ্ছা। হিল্লের মধ্যে জুলুম নির্যাতন করা কি বৈধ আর হেরেমের মধ্যে অবৈধ?
আসলে কিন্তু কুফরী মানুষকে অন্ধ ও বধির করে তোলে। শয়তানই মানুষকে অন্ধ ও বধির করে তোলে। হযরত খুবাইব (রা) যখন মৃত্যু সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেলেন তখন বললেন- তোমরা আমাকে দু’ রাকা’আত নামায আদায়ের জন্য ছেড়ে দাওনা? তারা তাকে ছেড়ে দিল; অতঃপর তিনি দু’ রাকা’আত নামায আদায় করলেন।
অতঃপর যখন তিনি নামায শেষ করলেন তখন বললেন আমি চেয়েছিলাম আরো বেশী করে নামায আদায় করে নেই । আমি চেয়েছিলাম আমার রবের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়াই কিন্তু আমার শংকা হচ্ছিল তোমরা বলে না বসো যে খুবাইব মৃত্যু দেরী করার ইচ্ছায় নামাজ লম্বা করছে- খুবাইব হত্যার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে। ওগো তোমরা দেখ! আমি তো সেই ব্যক্তি যে তোমাদের
সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এখন তোমাদের যা ইচ্ছা তাই কর। অতঃপর তিনি বললেন- “হে আল্লাহ! তুমি এদেরকে গুণে গুণে হিসাবে রেখো; নির্মমভাবে হত্যা করো, আর এদের কাউকে বাকী রেখো না।” এরপর তিনি আবৃত্তি করলেন-“লাস্তু উবালী হীনাউতালু মুলিমা। আলা আইয়ি জানবিন্ কানা লিল্লাহি মাসরায়ী ‘
নাই পরোয়া মুসলিম হয়ে হত হবো যবে,
যে পাশে মোর আল্লাহর লাগি ফেলায়ে দেওয়া হবে।
তারা খুবাইবকে ফাঁসির কাষ্ঠের উপর উঠিয়ে তাঁকে তীর মারার জন্য চারিপাশে দাঁড়িয়ে গেল, আর আনন্দ করতে থাকল ।
আহা! কতই না সুন্দর কাষ্ঠের উপর আরোহণকারী ব্যক্তি। আর কতই না কুৎসিত আনন্দকারীরা। আহা! তারা কি এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে যিনি নিজের জীবনকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছেন। যিনি পরোয়া করেন নাই মৃত্যু তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক অথবা মৃত্যুর উপর তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ।
মিথ্যা
আহা! তারা কি এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন যিনি গাদ্দারী করেন নাই, বিশ্বাস ভঙ্গ করেন নাই, বলেন নাই, যুলুম করেন নাই; আর একটি বারও তাদের কাছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান নাই ।
আহা! তারা এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে স্ফূর্তি করতে চলেছে যিনি তাদের উপর আস্থা রেখেছিলেন; কিন্তু তারাই তাঁর সাথে

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top