আন্দালুসিয়ার সমুদ্রসৈকতে – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

আন্দালুসিয়ার সমুদ্রসৈকতে – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৮৬

আন্দালুসিয়ার সমুদ্রসৈকতে – বইটির এক ঝলকঃ

এটা ছিল অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ আক্রমণ। সাধারণত এভাবে দুর্গ আক্রমণ করা হয় না। কারণ, কোন সেনাপতিই তার অধীনস্থ যোদ্ধাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিতে চান না। কিন্তু তারিক বিন যিয়াদের ধরনই ছিল ভিন্ন। তাঁর নীতি হল, তুমি নিজেই যদি শত্রুর জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে যাও তাহলে সকল বিপদাশঙ্কাই বিদূরীত হয়ে যাবে।
তারিক বিন যিয়াদের শক্তির উৎস ছিল তাঁর অন্তর। যে অন্তরে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাম নিয়ে কাফেরদের মোকাবেলায় জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পবিত্র নাম তাঁর হৃদয়ের গভীরে স্বমহিমায় প্রথিত ছিল। স্বপ্নে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বিজয়ের সুসংবাদ ছিল তাঁর শক্তির আরেক উৎস।
মূলত স্বপ্নের এই সুসংবাদ আল্লাহ তাআলার নির্দেশেরই পুনরাবৃত্তি ছিল। তিনি পবিত্র কালামে ইরশাদ করেছেন, “যদি তোমাদের মধ্যে বিশজন দৃঢ়পদ থাকে তাহলে তারা দুইশ কাফেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে দুইশ জন দৃঢ়পদ থাকে তাহলে তারা এক হাজার কাফেরকে পরাজিত করতে পারবে।” (সূরা আনফাল : ৬৫, ৬৬)
তারিক বিন যিয়াদ এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর অন্তরে পবিত্র কুরআনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে কেবল রাসূলুল্লাহর সুসংবাদবাণীই তাঁর শক্তির উৎস ছিল না; বরং পবিত্র কুরআনের উল্লেখিত অমোঘ বাণীও তাঁর প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
মুসলিম বাহিনীর প্রবল আক্রমণের সামনে কার্টিজার সৈন্যরা টিকতে পারল না। সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই কাটিজার দুর্গ মুসলিম বাহিনীর করতলগত হল। অল্প সময়ের মধ্যে তারা একটি ফটক ভেঙ্গে ফেলল। তারপর বাধাপ্রাপ্ত পানির ঢলের ন্যায় মুসলিম বাহিনী ভাঙ্গা ফটক দিয়ে দুর্গে প্রবেশ করল। দুর্গের সিপাহীরা সামান্য সময়ের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলল, কিন্তু তাদের প্রতিরোধযুদ্ধে বিজয়ের জন্য কোন আকাঙ্ক্ষা ছিল না। তারা শুধু দুর্গপতির নির্দেশক্রমে যুদ্ধ করছিল। দুর্গপতি নিজ সৈনিকদের মনোভাব বুঝতে পারল। বিপুল পরিমাণ সৈনিকের জীবন ধ্বংস হওয়ার পূর্বেই সে অস্ত্র সমর্পণ করল।
আন্দালুসিয়ার বাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর সর্বপ্রথম এই ঘোষণা প্রচার করা হল যে, ‘কোন লোক যেন পালিয়ে না যায়। তাদের জান-মাল ও ইজ্জত-আবরুর পূর্ণ হেফাযত করা হবে।’
লোকজনের মাঝে ভাগ-দৌড় শুরু হয়ে গেল। মা-বাবারা যুবতী মেয়েদের লুকিয়ে রাখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল। যাদের ঘরে ধন-দৌলত ছিল তারা সেই ধন-দৌলত একত্রিত করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সন্ধান করতে লাগল। তারিকের নির্দেশে পলায়নের সকল পথ বন্ধ করে দেওয়া হল।
তারিক বিন যিয়াদের দ্বিতীয় নির্দেশ ছিল, ‘সকল সৈন্য যেন অস্ত্র সমর্পণ করে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।’ তিনি এই নির্দেশও জারি করেন যে, ‘নগরবাসীদেরকে এই মর্মে সতর্ক করা হচ্ছে, তারা যেন কোন সিপাহীকে তাদের ঘরে আত্মগোপন করার সুযোগ না দেয়। কেউ যদি এই ভুল করে তাহলে তার ঘরের সকল সদস্যকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে গ্রেফতার করা হবে, আর যাবতীয় সহায়-সম্পদকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বিবেচনা করা হবে।’
এমনিভাবে কার্টিজার মজবুত দুর্গ খুব অনায়াসে মুসলিম বাহিনীর করতলগত হল। সকল যুদ্ধবন্দীকে কার্টিজার দুর্গেই বন্দী করে রাখা হল । কার্টিজার দুর্গ মুসলিম বাহিনীর করতলগত হওয়ার কারণে আশপাশের বিশাল-বিস্তৃত উপত্যকা তারিক বিন যিয়াদের দখলে এসে গেল। এই উপত্যকার নাম রাখা হল, ‘লাকা’। সবুজ-শ্যামল দৃষ্টিনন্দন এই উপত্যকার সীমানা কয়েক মাইল দূরবর্তী এক নদীর সাথে গিয়ে মিশেছে। নদীর নাম গোরাডিলেট।
তারিক বিন যিয়াদ দুর্গে আবস্থান না করে নদীর তীরে তাঁবু স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। সেই সাথে মুসলিম বাহিনীকে সদা সতর্ক ও চৌকস থাকতেও বললেন। বিজিত দুর্গ থেকে এতো বিপুল পরিমাণ ঢাল-তলোয়ার, আর তীর-বর্শা হস্তগত হল যে, সেগুলো অনেক বড় ও দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট ছিল। সবচেয়ে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল দুই হাজার ঘোড়া। তারিক বিন যিয়াদ এ সকল ঘোড়া এমন সব বাহাদুর সিপাহীদের মাঝে বণ্টন করে দেন, যারা প্রকৃত শাহসওয়ার ও যুদ্ধবাজ ছিল। তাদের প্রত্যেককে তারিক বিন যিয়াদ কমান্ডো যুদ্ধের বিশেষ প্রশীক্ষণও প্রদান করেন।
তারিক বিন যিয়াদ প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাচ্ছিলেন। তিনি চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য নিজ বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতেন। তাঁর হাতে ছিল মাত্র বার হাজার সদস্যের এক সাধারণ বাহিনী। এই বাহিনীর মাধ্যমেই তাঁকে এক লাখ সদস্যের এক বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়মাল্য ছিনিয়ে আনতে হবে। ইতিপূর্বের দু’টি যুদ্ধে তিনি ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছেন যে, আন্দালুসিয়ার বাহিনীর নিকট যে অস্ত্র-সস্ত্র আছে, তা অত্যন্ত উন্নত। তাদের প্রত্যেকের দেহে আছে লৌহবর্ম, আর মাথায় শিরস্ত্রাণ। এক লাখ সৈন্যের সংখ্যাটা এতো বেশি যে, মাত্র বার হাজার সৈন্যের মুসলিম বাহিনীকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলা তাদের জন্য একেবারেই সহজ। এই বিশাল বাহিনীকে একমাত্র রণকৌশলের মাধ্যমেই পরাজিত করা সম্ভব। তারিক বিন যিয়াদের একমাত্র চিন্তা ছিল, তিনি কী এই বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হবেন?
‘ইবনে যিয়াদ!’ তারিক বিন যিয়াদের চেহারায় দুশ্চিন্তার চিহ্ন দেখে জুলিয়ান একদিন তাঁকে বললেন। ‘আপনার রাসূল তো আপনাকে বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েই দিয়েছেন। তারপরও আন্দালুসিয়ার অধিবাসীদের থেকে যে দুআ আপনি পাচ্ছেন, তাও আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। আশা করি, এ কথা আপনি বলবেন না যে, যারা মুসলমান নয়; আল্লাহ তাদের প্রার্থনা কবুল করেন না। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নির্যাতিত বান্দার আহাজারি শুনেন; তাদের দুআ কবুল করেন।
আপনি যুদ্ধবন্দীদের সাথে উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধবন্দীদের চেয়েও শহরবাসীদের সাথে আরও বেশি উত্তম আচররণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি বলেছেন, মুসলিম বাহিনীকে এই আস্থা অর্জন করতে হবে যে, তারা শহরবাসীদের ইজ্জত-আবরুর রক্ষক; ভক্ষক নয়। মানুষ হিসেবে সব ধরনের অধিকার তারা প্রাপ্ত হবে। তারা যা উপাৰ্জন করবে, তা তাদের নিজস্ব সম্পদ বলে বিবেচিত হবে। তবে সামর্থ অনুযায়ী সকলকে নিরাপত্তাকর আদায় করতে হবে।
আপনি তো জানেন, রডারিকের রাজত্বে সাধারণ মানুষকে কীট-পতঙ্গের মতো মনে করা হয়। এখানে সেই ব্যক্তিই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, যার কোন সরকারী পদ বা পদবী আছে। কিংবা আছে বিশাল ভিত্ত-বৈভব। যার রূপসী কন্যা সন্তান আছে সে তার কন্যা সন্তানকে এই ভয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয় যে, বাদশাহ বা কোন সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা যদি তার কন্যার রূপ-লাবণ্য সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে তার কন্যার সতীত্ব রক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। সামিরিক বাহিনীর লোকেরা সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেগার খাটতে বাধ্য করে।
ইবনে যিয়াদ। এই কার্টিজা ও তার আশ-পাশের যে সকল এলাকা আপনার করতলগত হয়েছে, সে সকল এলাকার লোকজন হানাদার বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেসব এলাকা মানবশূন্য হয়ে পড়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, হানাদার বাহিনীর প্রধান হয়তো কোন রাজ্যের বাদশাহ হবে এবং রডারিকের মতোই জালিম হবে। তার বাহিনী বিজিত এলাকায় লুটতরাজ ও হত্যাযজ্ঞ চালাবে। যুবতী মেয়েদের ইজ্জত-আবরু নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদেরকে দাসী বান্দি বানাবে । জবরদস্তী গৃহপালিত পশু নিয়ে যাবে। তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছেলে-মেয়ে ও গৃহপালিত পশু নিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেছিল। পরে যখন জানতে পারল যে, হানাদার বাহিনী তাদের ঘরবাড়ির দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না তখন তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে এলো। ইবনে যিয়াদ। এ সকল নির্যাতিত, নিপীড়িত সাধারণ মানুষও আপনার সাথে আছে। তারা সকলেই আপনার বিজয়ের জন্য আপন প্রভুর নিকট প্রার্থনা করছে। তারা সুবিশাল আকাশের দিকে হাত প্রসারিত করে ফরিয়াদ করছে, রডারিকের বাদশাহী যেন ধ্বংস হয়ে যায়, তার সালতানাত যেন বরবাদ হয়ে যায়।
‘বিজিত এলাকার লোকদের সাথে মানবোচিত আচরণ করার নির্দেশ, আমার মনগড়া কোন নির্দেশ নয়।’ তারিক বিন যিয়াদ বললেন। ‘এই নির্দেশ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ। আন্দালুসিয়ার বাদশাহ রডারিক একলাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে ঝড়ের গতীতে এগিয়ে আসছিল। রডারিক রাজধানী টলেডোতে অবস্থান না করে সামনে এগিয়ে চলছিল। সে পূর্বেই পয়গাম পাঠিয়ে ছিল যে, সে টলেডোর শাহীমহলে অবস্থান করবে না। শহরের বাহিরে সামান্য সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি করবে। সে টলেডোর উপকণ্ঠে এসে পৌঁছার পূর্বেই সেখানে সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা, পারিষদবর্গ ও খোশামদীদের এক বিরাট অংশ তার আগমনের অপেক্ষা করছিল। তাদের মাঝে পরাজিত জেনারেল থিয়োভূমিরও উপস্থিত ছিল। এক লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে রডারিক সেখানে এসে উপস্থিত হল। থিয়োভূমির আগত লোকদের সম্মুখভাগে দাঁড়ানো ছিল। তার প্রতি দৃষ্টি পড়তেই রারিক বলে উঠল,
‘তুমি কি নিজেকে এর উপযুক্ত মনে কর যে, আমি তোমার চেহারা দেখব? নিজ বাহিনীর চেয়েও অর্ধেক সংখ্যক বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়ে আমাকে এখন স্বাগত জানাতে এসেছ? ধিক তোমাকে
‘সম্মানিত শাহানশা, যুদ্ধের ময়দানে থিয়োডুমির রডারিকের গোসা বরদাশত করে ২ পূর্বে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে আসিনি। সেখানে বেঘোরে মরার জন্য বা যুদ্ধবন্দী হওয়
এ পতি একা লড়াই করে না।’ র বলল। ‘আমি আমার বাহিনীর
কসুর শুধু এতটুকুই যে, আমি জন, দাঁড়িয়ে থাকিনি।’
রডারিক আরও বেশি রাগান্বিত হয়ে তাকে ধ্ব তিরস্কার করল। থিয়োডুমিরও কোন সাধারণ জেনারেল ছিল না। রডারিক নিজেও তার শক্তি-সাহস, অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করত। থিয়োভূমিরও রডারিকের দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত ছিল। সে আহত সিংহের ন্যায় গর্জে উঠে বলল,
‘আন্দালুসিয়ার মহামান্য শাহানশা। আপনি শাহীমহলে গিয়ে আরাম করুন, আর এই এক লাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনীর দায়িত্বভার আমার হাতে ন্যস্ত করুন। আমি এই হানাদার বাহিনীকে একদিনে পদপিষ্ট করে সমুদ্রতীর পর্যন্ত পৌঁছে যাব, তারপর হানাদার বাহিনী যে রাজ্য থেকে এসেছে সেই রাজ্যে আপনার বিজয়ঝাণ্ডা উড্ডীন করে তবে ক্ষান্ত হব। আমাকে তিরস্কার করার পূর্বে মহামান্য শাহানশা সে সংখ্যক সৈন্য নিয়ে যান, যে সংখ্যক সৈন্য আমার সাথে ছিল। আমার সাথে ছিল মাত্র পনের হাজার সৈন্যের এক ক্ষুদ্র বাহিনী। এক লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে তো যে কোন অযোগ্য ও কাপুরুষ জেনারেলও বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে।’
কোন এক গোপন রহস্যের কারণে রডারিক থিয়োডুমিরের প্রতি কিছুটা দুর্বল ছিল। অন্যথায় রডারিকের মতো জালিম ও নিষ্ঠুর বাদশাহ থিয়োডুমিরকে এই গোস্তাখির জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তি প্রদান করত। কিন্তু সে থিয়োডুমিরের কথার কোন উত্তর না দিয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল । রডারিকের দৃষ্টি মেরিনার উপর এসে স্থির হল। মেরিনা শাহীমহলের ভিতর রডারিকের মনোরঞ্জনের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। রডারিক মেরিনার প্রতি দৃষ্টিপাত করার সাথে সাথে মেরিনা সসম্মানে তাকে কুর্নিশ করে নিবেদন করল, ‘আমার প্রতি জাঁহাপনার কি কোন নির্দেশ আছে?’ ‘তোমার জন্য কি নির্দেশ — তুমি কি তা জান না? তোমার পুষ্পকাননে নতুন কোন ফুলের আগমন ঘটেছে কি?’
‘জী, জাঁহাপনা,’ মেরিনা বলল। ‘অর্ধপ্রস্ফুটিত অপরূপ রূপসী এক গোলাপের আগমন ঘটেছে। জাঁহাপনা আমিও কি আপনার সাথে আসব?
‘ঐ গোলাপকে সাথে নিয়ে তুমিও চলে এসো।’ রডারিক বলল। ‘সে ছাড়া আরও কোন গোলাপ থাকলে তাদেরকেও নিয়ে এসো। মেয়েদের ঘোড়াগাড়ি পিছনে রয়েছে।’
মেরিনা রডারিকের প্রতি গভীরভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, তারপর সম্মান প্রদর্শন করে সেখান থেকে চলে গেল।
রডারিকের আগমনের পূর্বেই সেখানে তাঁবু স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁবুর উপর মহামূল্যবান শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। তাঁবুর ভিতর মখমলের গালিচা বিছিয়ে তার উপর ময়ূর সিংহাসনের ন্যায় শাহীকুরসী রাখা হয়েছে। এই তাঁবুকেই রডারিকের দরবার কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। রডারিক ঘোড়া থেকে নেমে জাঁকজমকপূর্ণ সেই দরবারকক্ষে উপস্থিত হল। দরবারকক্ষে প্রবেশ করার সময় রডারিক তার সাথে আগত এক ব্যক্তির কানে কানে কি যেন বলল । ‘সে এখানেই উপস্থিত আছে, জাঁহাপনা!’

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top