ইউসুফ বিন তাশফিন – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ইউসুফ বিন তাশফিন – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আব্দুল হক

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৬৯

ইউসুফ বিন তাশফিন – বইটির এক ঝলকঃ

এশার নামাজের পর। সাদকে শাহী দরবার পর্যন্ত পৌঁছে দিল মেহমানখানার এক পেয়াদা। চকচকে শ্বেত পাথরের পথ মাড়িয়ে শাহী প্রাসাদে প্রবেশ করল সাদ। পেয়াদা আদবের সাথে তাকে দরবার কক্ষের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিল। রাতের শাহী মহল উৎসব উপলক্ষে বিশেষভাবে আলোকসজ্জিত। ভেতরে ফুরফুরে হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে মেশক ও আম্বরের মৌ মৌ সুঘ্রাণ। সিঁড়ির নীচে রাস্তায় বিছানো সবুজ রঙের গালিচা। মহলের সিঁড়ি বারান্দা থেকে শুরু করে সুলতানের সিংহাসন পর্যন্ত বিছানো গালিচার রঙ লাল।
দরজায় পৌঁছেই ভেতরের দিকে নজর ছুটে গেল সাদের। মুতামিদের সভাসদ ও কবিদের ধুপদুরস্ত পোশাক ও সেই পোশাকের ওপর হীরা-মানিক্যের চমক দেখে তার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। সবার মাথায় মর্যাদা অনুযায়ী বাহারী মুকুট, গলায় মালা আর চেহারায় চর্চিত প্রসাধন দেখে নিজের পোশাক নিয়ে বেশ বিব্রতবোধ করল সান। কর্ডোভার এক কবির কাছ থেকে সে একটি মুকুট ধার করে এনেছে। তার সে মুকুটটি যেমন ছোট তেমনি জামাটিও বেশ খাটো। সাদের মনে হলো, তাকে দেখেই দরবারের লোকেরা উচ্চস্বরে হেসে উঠবে।
এ পোষাকে সাজিয়ে দেয়ার দরুণ মনে মনে সে বন্ধুদের তিরস্কার করছিল। কিন্তু আসরে পৌঁছেই তার ধারনা পাল্টে গেল। তারা পোষাকের দিকে মোটেই তাকাল না, বরং আরামপ্রিয় নাদুস নুদুস চেহারার কবি ও আমলারা এক মোজাহিদের পৌরুষদীপ্ত চেহারা দেখে অপলক চোখে সে দিকে তাকিয়ে রইল। আয়োজকদের একজন সামনে এগিয়ে এসে তাকে অভ্যর্থনা করল। সাদর করমর্দনের পর পরিচয় নিয়ে কবিদের সারিতে তার আসন দেখিয়ে দিল।
সুলতান ও রাণী তখনো পৌঁছেননি। উপস্থিত সকলেই খোশগল্প করে সময় কাটাচ্ছে। কেউ বা তন্ময় হয়ে শুনছে পর্দার আড়াল থেকে ভেসে আসা সংগীতের সুর মুর্ছনা ।
ইবনে আম্মার দরবারে প্রবেশ করল। সকলে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানাল। ইবনে আমার শাহী মসনদের বা পাশে রাখা তার নিজ আসনে গিয়ে বসল। আসরের লোকজনও আবার আসন গ্রহণ করল। হঠাৎ মসনদের পেছন থেকে ভেসে এল নকীবের আওয়াজ, ‘হুশিয়ার! মহামান্য সুলতান ও রাণী মাতা দরবারে আগমন করছেন।’
মাহফিলের সবাই আবার উঠে দাঁড়াল। মুতামিদ ও রাণী রেমিকা মূল্যবান মনিমুক্তা খচিত ঝলমলে পোষাকে সজ্জিত হয়ে দরবারে পৌঁছলেন এবং মসনদে আসন গ্রহণ করলেন। তাদের ডানে বাঁয়ে ও পেছনে শাহী খান্দানের অন্যান্য সদস্য ও আমন্ত্রিত অভিজাত মহিলারা আসন গ্রহণ করল। রাণী রেমিকার পোষাকে শত শত হীরা-জহরত ঝকমক করছিল। প্রসাধনীর ভারী প্রলেপ দিয়ে সে বার্ধক্যের ছাপ মুছতে চাচ্ছিল। চোখের চাহনি দিয়ে বলতে চাচ্ছিল, ‘তোমরা আমাকে দেখো। আমার প্রশংসা করো। আমার উপস্থিতিতে অন্য কোন দিকে তাকানো আমি মোটেই পছন্দ করি না। এ আসর শুধু আমার আনন্দের জন্যই ডাকা হয়েছে।’
মুতামিদের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর চেহারার খেলা করছে জীবন খাতার ছিন্ন পাতা, যেখানে লেখা আছে যৌবনের পতন কাহিনী। তাঁর প্রশস্ত ললাট ও বিশাল বুকের উদারতা হারিয়ে গেছে অতিরিক্ত মদ পানের ফলে ঢুলুঢুলু চোখের কালি ও ঝুলে পড়া মাংশের আড়ালে।
সেভিলে এসে সাদ লোক মুখে শুনেছিল, মুতামিদ এক মহান ব্যক্তি। ইবনে আম্মারের মত লোকের খপ্পরে না পড়লে সে একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হতে পারতো। সুলতান ও রাণী আসন গ্রহণ করার সাথে সাথে থেমে গেল অদৃশ্য যন্ত্র সংগীতের সুর। শুরু হলো কবিতা পাঠের আসর। দরবারী কবিরা মুতামিদের শৌর্য-বীর্য, রেমিকার রূপ-যৌবন ও ইবনে আম্মারের দুরদর্শিতার প্রশংসা করে কবিতা আবৃত্তি শুরু করল। প্রশংসার তোড়ে আসমান জমিন একাকার করে দিচ্ছে প্রত্যেক কবি। কবিতা আবৃত্তির পর খুশি হয়ে সুলতান কবিদের হাতে তুলে দিচ্ছে এনাম। কোন ভাগ্যবান কবির আবৃত্তি রাণীর প্রশংসা অর্জন করতে পারলে তাকে দেয়া হতো মোটা অংকের পুরস্কার।
ঘোষক ইবনে জায়দুন একের পর এক কবিদের নাম ঘোষণা করছিল। এভাবে দশজন কবির কবিতা আবৃত্তি শেষ হল। ইবনে জায়দুন এবার ঘোষণা করল, ‘এখন সুলতানুল মুয়াজ্জমের অনুমতি ক্রমে আপনাদের সামনে কবিতা আবৃত্তি করতে আসছেন গ্রানাডার এক তরুণ কবি। আমি গ্রানাডা থেকে আগত তরুণ কবি সাদ ইবনে আবদুল মুনীমকে তার কবিতা পেশ করার আহবান জানাচ্ছি।’
নাম ঘোষণা হলে প্রত্যেক কবি মসনদের কাছে গিয়ে সুলতান মুতামিদ ও রাণী রেমিকার সামনে নত হয়ে কুর্ণিশ করতো। তারপর পাশের ডায়াসে এসে কবিতা আবৃত্তি শুরু করত। কিন্তু সাদ বাহাদুর বীরের মত এগিয়ে গিয়ে সোজা ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। দরবারীরা সাদের এই দুঃসাহস দেখে হতবাক হয়ে গেল ।
কবিতা আবৃত্তি বাদ দিয়ে সাদ বক্তৃতা শুরু করল। বলল, সুলতান মুতামিদ, রাণী রেমিকা ও মাহফিলে হাজির আমীর ওমরা ও রাজ কবিগণ। জানি, আমি কবি নই এ কথা শুনলে আপনারা হতাশ হবেন। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি একজন সৈনিক এবং একজন সৈনিককে নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে দেশ রক্ষার যে মহান দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেই দায়িত্বানুভুতিই আমাকে এ মাহফিলে আসতে বাধ্য করেছে। আমি জানি, যে কথা আমি বলতে চাই সে কথা বলার উপযুক্ত জায়গা এ মাহফিল নয়। কিন্তু একান্ত অপারগ হয়েই আমি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমি এখন যে মুকুট ও আচকান পরে আছি, এমন পোশাক পরা সেই জাতির লোকদের শোভা পায় না যাদের শাসনকর্তা ভিন্ন জাতির অনুকম্পার ভিখারী।
সেভিলের কবি ও শাসকরা! আপনাদের সাক্ষী রেখে আমি বলতে চাই! এই দেশ ও জাতি যখন প্রলয়ংকরী ঝড়ের কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, আপনারা যখন এ ব্যাপারে উদাসীন ও গভীর নিদ্রামগ্ন, তখন এই দরবারে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি আপনাদের জাগানোর চেষ্টা করেছিল।’
রাণী রেমিকা অবাক হয়ে মুতামিদের দিকে এবং মুতামিদ পেরেশান ও হতবিহবল হয়ে মাহফিলের দিকে তাকাতে লাগল। ইবনে আম্মার নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল। সাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সে হাতের ইশারায় কয়েকজন প্রহরীকে কাছে ডাকল। কিন্তু মুতামিদ হাত উঠিয়ে তাদের থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘সব বোকামীই শান্তি যোগ্য নয় । আমি এ নওজোয়ানকে তার বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দিচ্ছি।’
সাদ নির্ভীকভাবে দরবারের লোকদের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে মুতামিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুনরায় তার বক্তৃতা শুরু করল।
‘মাননীয় সুলতান! ব্যাক্তিগত লাভের আশায় আমি এ দরবারে আসিনি। আর আমি আমার এ নগন্য জীবনেরও কোন পরোয়া করি না। এমন অনেক সময় আসে যখন সত্য প্রকাশ করলে জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। যদি আজ সত্য কথা বলার দরুণ আমার জীবনে কোন কঠিন শাস্তি নেমে আসে, আমি তা হাসি মুখেই বরণ করে নেবো। আপনার কাছে আমার একটাই অনুরোধ, শুধু একবার আমাকে মন খুলে আপনার সামনে কথা বলার সুযোগ দিন।
মাননীয় সুলতান। সেভিলের দুশমনকে জাতির দুশমন মনে করে যে শত শত যুবক আপনার পতাকাতলে সমবেত হওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে ছুটে এসেছিল, আমি তাদেরই একজন । আমার বিশ্বাস, মুসলমান ও খৃষ্টানদের মধ্যে তলোয়ারের ঝংকার শুরু হলে স্পেনের লাখো মুসলিম এ লড়াইকে ইসলাম ও কুফরের লড়াই গণ্য করে দলে দলে এসে আপনার পতাকাতলে সমবেত হয়ে যেতো। জনসাধারণের এ জাগ্রত চেতনা অন্যান্য খণ্ড রাজ্যের শাসকদেরকেও আপনার সাথে হাত মিলাতে বাধ্য করতো। আর সমগ্র জাতি এভাবে একাত্ম হয়ে গেলে বিজয় এসে আমাদের পদচুম্বন করতো।
কিন্তু হায়! এখন আমরা বুঝতে পারছি, এক অলীক স্বপ্নের জগতে বাস করছিলাম আমরা। মিল্লাতের ঐক্য ও সংহতির স্বপ্ন ছিল এক মায়ামরীচিকা। আমরা জানতাম না, এমন নড়বড়ে এক দেয়ালের আড়ালে বসে আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যে গেঁয়াল যে কোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে আমাদেরই ঘাড়ের ওপর। যে বীর মুজাহিদরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দেহের তাজা রক্ত ঢেলে আজাদীর হেফাজত করতে এসেছিল, সীমাহীন আফসোস ও অনুশোচনা নিয়ে ধিক্কার দিতে দিতে ফিরে গেছে তারা।
উত্তর থেকে ধেয়ে আসা সয়লাব তারা রুখতে চেয়েছিল লাশের প্রাচীর খাড়া করে, কিন্তু তাদের আশার গুড়ে বালি দিয়েছে এক মতলববাজ সেনাপতি। যে সম্পদ রক্ষার জন্য ছুটে এসেছিল এই সব নওজোয়ান, সে সম্পদেরই এক অংশ বিনা যুদ্ধে ঘুষ আর উপহার দিয়ে যুদ্ধ জয় করলেন তিনি। শত্রুর সামনে সৈন্য দাঁড় না করিয়ে তিনি এই সর্বগ্রাসী বন্যার সামনে দাবার গুটি খাড়া করে দেয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন।
রাগে কাঁপতে কাঁপতে ইবনে আম্মার উঠে দাঁড়াল এবং বক্তৃতা বন্ধের নির্দেশের আশায় সুলতানের দিকে তাকাল। মাহফিল জুড়ে প্রতিবাদের গুঞ্জন ধ্বনি উচ্চকিত হলো।
মুতামিদ হাতের ইশারায় সবাইকে শান্ত হতে বলে সাদের দিকে ফিরে বলল, ‘যুবক, আমি তোমাকে এ মহান দরবারে কথা বলার অনুমতি দিয়েছি । তার মানে এ নয় যে, তুমি যা ইচ্ছে তা-ই বলবে। তুমি দরবারের আদব নষ্ট করছো। তোমার ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবানের জন্য চিরতরে তোমার মুখ বন্ধ করে দিতে আমাকে তুমি বাধ্য করো না। তোমার যা বলার সংযত জবানে বলো।’
সাদ মুতামিদের কথার বেই ধরে বলতে শুরু করল, ‘আপনি এই দরবারে আমার মুখ বন্ধ করে দিতে পারবেন, কিন্তু দরবারের বাইরে জাতির তামাম লোক যখন চিৎকার করে আমার কথার প্রতিধ্বনি করতে থাকবে তখন সে আওয়াজ বন্ধ করার সাধ্য আপনার হবে না। এ প্রমোদভবনের দেয়ালের বাইরে এমন হাজার হাজার যুবক রয়েছে যারা আমারই মত ভাবে, আমারই মত চিন্তা করে। পার্থক্য শুধু এই, আমি তাদের পক্ষ থেকে এ আর্তনাদ নিয়ে আপনার দরবারে হাজির হওয়ার দুঃসাহস করেছি। আমার এ আওয়াজ আজকে আপনাদের কাছে এক পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে, মনে হতে পারে এ আওয়াজ খুবই ক্ষীণ, কিন্তু সেদিন বেশী দুরে নয়, যেদিন গোটা জাতির বস্ত্র চিৎকার এ লৌহপ্রাচীর ভেদ করে আপনার কানে এসে আঘাত হানবে। যে শহীদদের কবরের ওপর এ প্রমোদভবনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, সেই হুংকারে এ ভবন সেদিন থরথর করে কেঁপে উঠবে।
সুলতানুল মুয়াজ্জম! আপনি এবং আপনার কওমের মধ্যে যে অদৃশ্য দেয়াল তৈরী হয়ে আছে তা দুর করার জন্যই আমি জীবন বাজি রেখে এখানে এসেছি। কারণ আলীশান এ মহলে আপনার কাছে আপনার প্রজাদের আর্তনাদ পৌঁছার কোন সুযোগ নেই । আপনার আমীর-ওমরারা সেই সব সাধারণ মানুষের আওয়াজকে নাচ-গান, পান-ভোজন ও রঙ্গ রসের দেয়াল তুলে আটকে রেখেছে, আপনার সালতানাতের হেফাজতের জন্য যারা বুকের শেষ রক্ত বিন্দু ঢেলে দিতে প্রস্তুত। এ আহবান আমার একার কথা নয়, আমার এ আহবান সমগ্র জাতির।
মহামান্য সুলতান। দুশমনের তরবারি যে জাতির গর্দান স্পর্শ করে আছে আপনি সে জাতির বাদশাহ । গাফলতির ঘুম আপনাকে মানায় না। আপনার দুর্ভাগ্য, যেসব চিন্তাবিদ, কবি ও সাহিত্যিককে আপনি এনাম দিয়ে ধন্য করেন, ঘুমন্ত বাদশাহকে জাগিয়ে তোলার পরিবর্তে তাঁর পিঠ চাপড়ে তাঁকে আরও গভীর ঘুমে ডুবিয়ে দিতে তারা বেকার। কওমের সৈনিকদের মনে তারা এ ধারনা দিতে তৎপর, জাতির ভাগ্য নির্ধারণের জন্য তলোয়ারের দরকার নেই, দাবা খেলার গুটি চালতে পারাই যথেষ্ট।’
রাগে লাল হয়ে উঠল মুতামিদের চেহারা। রাণীর চেহারার মিষ্ট হাসি ক্ষোভে, দুঃখে বিবর্ণ হয়ে গেল। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে রেমিকা চিৎকার করে উঠল, ‘আত্মহত্যা করার জন্য তোমার এখানে আসার কোন দরকার ছিল না। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে থাকলে গোয়াদেল কুইভারের পানিতে ডুবে মরলেই পারতে।’
রাণীর তিরস্কারে সাদেরও মেজাজ বিগড়ে গেল। সেও সমান তেজে বলে উঠল, ‘জাতির জীবন যেখানে বিপন্ন সেখানে আমার ব্যক্তিগত জীবনের মূল্য আমি বড় করে দেখি না। আর দেখি না বলেই আমি এখানে এসেছি। আমার জাতির ভাগ্য তরী শরাবের নদীতে ডুবে যাবে আর আমি তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো, এতটা নাদান এখনো হইনি । তোমাদের আহাম্মকী বরদাশত করতে পারিনি বলেই ছুটে এসেছি এ শাহী দরবারে। তোমরা যাকে বিজয় বলছো এ তোমাদের শোচনীয় পরাজয় ছাড়া আর কিছু নয়। দাবার গুটি দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। ঘুষ আর ভেট দিয়ে লোভীর লোভ বাড়ানো ছাড়া তোমরা কমাতে পারবে না। এই ঘুম আর ভেট দিতে দিতে যেদিন তোমরা নিঃস্ব হয়ে যাবে সেদিন তোমাদের বুকের রক্ত পান করা ছাড়া সেভিলে দুশমন আর কিছুই খুঁজে পাবে না।
আমি তোমাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই, তোমাদের দেয়া অর্থে আলফানসো এখন তার তরবারিতে ধার দিচ্ছে। প্রথমে সেভিল এবং তারপর সমগ্র স্পেনের মুসলমানদের ওপর মরণ আঘাত হানার জন্য তৈরী হচ্ছে সে। এখন আর আত্মপ্রবঞ্চনার সময় নেই। তোমরা যদি মনে করে থাকো আগামীতে এবারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী খাজনা দিয়ে তোমরা তার বন্ধুত্ব কিনতে পারবে, তাহলে ভুল করবে। দুশমন দুশমনই, আগামী বছর সে আরও বেশী খাজনা দাবী করবে এবং তার পরের প্রতিটি বছরে তার দাবী ক্রমে বাড়তেই থাকবে। সে দাবী পূরণ করতে গিয়ে তোমরা সেভিলের রাজকোষে শূন্য করবে, জনসাধারণের ওপর অবৈধ করের বোঝা চাপাবে। নিজেরা ফতুর হওয়ার পর জনগণকে ফকির বানাবে। এক টুকরো রুটির অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় ছট্‌ফট্ করে মরবে তারা। তখন আলফানসু বলবে, শূন্য ভাগ বয়ে নিয়ে কষ্ট করবে কেন, সেভিলের সিংহাসন আমাদের হাতে তুলে দিয়ে এবার তোমরা আরাম করো ।
তার এ দাবী মানতে অস্বীকার করলে আক্রান্ত হবে তোমরা। তোমাদের দেয়া খাজনার অর্থে কেনা ঘোড়া আর তরবারি নিয়ে তারা চড়াও হবে সেভিলবাসীর ওপর। দাবা খেলায় নিপুন সেনাপতি সেদিন ওদের প্রতিরোধ করতে যাবে না। তোমাদের লাশে ভরে যাবে গোয়াদেশ কুইভারের বিশাল বুক। লাশ ছাড়া সেদিন নদীতে একফোটা পানিও দেখা যাবে না।’
‘খামোশ। চুপ করো বেতমিজ। নিকৃষ্ট শান্তির জন্য তৈরী হও।’ মুতামিদ অসহিষ্ণু কন্ঠে গর্জে উঠল। রাগে আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেল সুলতান ও রেমিকা।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top