সুবাক দুর্গে আক্রমণ – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬১
সুবাক দুর্গে আক্রমণ – বইটির এক ঝলকঃ
ওরা নিজের মেয়েদেরও এ কাজের জন্য ব্যবহার করে। খ্রীষ্টানদের কাছে নৈতিকতা বা ইজ্জত-আব্রুর কোন বালাই নেই। ফিলিস্তিন দখল করে ওরা নতুন বিপ্লব এনেছে, সে বিপ্লব হল নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, লুটপাট, মুসলিম-শিশুদের অপহরণ । যুবতীদের ইজ্জত বিকাতে বাধ্য করা। সুন্দরী যুবতীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মুসলিম আমীর ওমরাদের হারেমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। এমনকি মুসলিম শিশুদের গলায় ওরা ক্রুশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে।
মুসলিম দেশ সমূহে আশ্রয়প্রার্থী অসংখ্য কাফেলাকে পথিমধ্যে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। ইজ্জত হরণ করেছে আমাদের বোনদের, আমাদের মেয়েদের। আমাদের ভায়েরা বাধা দেয়নি।
খ্রীষ্টানরা চায় পৃথিবীতে নামমাত্র মুসলমান থাকুক। মুসলিম মেয়েদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসুক ক্রুশধারী খ্রীষ্টান। আমরা ভুলে গেছি সে সব নির্যাতীত বোনদের। ওরা আমাদের অভিশাপ দিচ্ছে। বলছে, খ্রীষ্টান বর্বরতার শিকার শহীদদের কথা আমাদের মনে নেই। কোন নির্দেশ দেয়ার পূর্বে আমার প্রশ্ন, বলুন এখন আপনারা কি করবেন? আপনাদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ সেনা কমান্ডার, যোগাতর প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সম্মানিত আমীর!’
আয়ুবী থামলে একজন কমান্ডার বললেন, ‘প্রতিবেশী মুসলমান নির্যাতীত হলে তাদের সহযোগিতা করা ফরজ। এ হচ্ছে খোদার হুকুম। এ ফরজ আদায় করা থেকে আপনি আমাদের বিরত রাখতে পারেন না। অনতিবিলম্বে মজলুম ভাইদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া জরুরী। আমার মনে হয়, মুহূর্তমাত্র কালবিলম্ব না করে আমাদের ফিলিস্তিন আক্রমণ করা উচিত।’
এবার উঠে দাঁড়ালেন একজন সহকারী সেনাপ্রধান। আবেগ ভরা কন্ঠে তিনি বললেন, ‘অমুসলিমদেরকে আক্রমণ করার পূর্বে আমাদের উচিত গাদ্দার মুসলিম শাসকদেরকে আক্রমণ করা। সবচে’ লজ্জাস্কর কথা হল, আমাদের মধ্যেও বিশ্বাসঘাতক রয়েছে। ফয়জুল ফাতেমির মত লোক গাদ্দারী করলে কাকে আর বিশ্বাস করবো আমরা? একজন মুসলিম যুবতীর ইজ্জতের জন্য সমগ্র জাতিকে যেখানে মোকাবেলায় দাঁড় করিয়ে দেয়ার কথা সেখানে অসংখ্য নারীর ইজ্জত নষ্ট করা হচ্ছে, আর আমরা ভাবছি কি করব?
খ্রীষ্টানরা আমাদের মেয়েদের অশ্লীল কাজের ট্রেনিং দিয়েছে আর আমরা আমাদেরই মেয়েদের সাথে অশ্লীল কাজ করে যাচ্ছি। সম্মানিত আমীর! আমার কথাগুলোকে উদ্বেলিত ভাবাবেগ না ভাবলে বলব, এ মুহূর্তেই আমাদের ফিলিস্তিন দখল করা উচিৎ। আমাদের প্রথম কিবলা ওরা কুকর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ‘
আরও একজন উঠে দাঁড়ালেন। হাতের ইশারায় তাকে বসিয়ে দিলেন সুলতান। বললেন, ‘আপনাদের মুখে এ কথাই আমি শুনতে চেয়েছি। যারা আমার কাছে থাকেন নিশ্চয়ই জানেন আমার প্রথম লক্ষ্য ফিলিস্তিন। মিসরের দায়িত্ব নেয়ার পরই আমি ফিলিস্তিন আক্রমণ করতে চেয়েছিলাম। দু’বছর চলে গেছে।’ বেঈমানদের অপতৎপরতায় আমি সময়ের চোরাবালিতে আটকে গেছি।
গত দু’বছরের ঘটনাবলী স্মরণ করুন। আপনারা খ্রীষ্টান গুপ্তচর আর গাদ্দারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আমাদের লোকেরাই সুদানীদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। সুদানের কাফ্রীদের দিয়ে মিসর আক্রমণ করিয়েছে আমাদের সেনাপতি এবং কমান্ডাররাই। এরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন গ্রহণ করে। দেশের মানুষ আল্লাহর নামে এ টাকা কোষাগারে জমা দেয়।
বেঈমানদের নিশ্চিহ্ন করে আমি ফিলিস্তিন আক্রমণ করব এ আশায় আমি দু’বছর কাটিয়েছি। কিন্তু এখন বুঝেছি, খ্রীষ্টানদের গোয়েন্দা তৎপরতা কখনও শেষ হবে না। এ জন্য আমি এর মূলে আঘাত হানতে চাই। আমাদের মধ্যে গাদ্দার তৈরী করার জন্য আমরাই খ্রীষ্টানদের সুযোগ দিচ্ছি।
আজ আপনাদের সামনে আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করছি, সহসাই আমরা ফিলিস্তিন আক্রমণ করতে যাচ্ছি। সেনা প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করুন। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার এবং অবরোধ করার মত নিং দিয়ে প্রস্তুত করুন তাদের।
তুর্কী এবং সিরীয় বন্ধুদের আমি বিশ্বাস করি। মিসরী এবং অনুগত সুদানী সৈন্যদের মাঝে জেহাদের জযবা সৃষ্টি করতে হবে। শত্রুর বিরুদ্ধে ওদের অনুভূতি শানিয়ে তুলুন। ওদের বলুন, তোমাদের মা-বোন খ্রীষ্টান পশুদের হাতে নির্যাতীত। তোমাদের মেয়েদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ওরা। ওদের বিবেকের দুয়ারে আঘাত করে ওদের জাগিয়ে তুলুন।
এ সময় প্রশাসন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক। ইমাম সাহেবদেরকে প্রতিটি মসজিদে জিহাদের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে বলুন। যুবকদের সামরিক ট্রেনিং নেয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইমাম সাহেবদেরকে ওয়াজ করতে বলবেন। কোন ইমাম ইসলামী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কোন কথা বললে তাদের ইমামতি থেকে সরিয়ে দেবেন। আমাদের নৈতিক মনোবল দৃঢ় হলে কেউ আমাদের অনিষ্ট করতে পারবে না। খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন অলস বসে থাকতে না পারে। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। ওখানে শত্রু তাড়াতাড়ি বাসা বাঁধতে পারবে। কবে এবং কখন ফৌজ রওয়ানা করবে পরে বলা হবে। আল্লাহ আপনাদের সাহায্য করুন।
সাতদিন পর গোয়েন্দা ডিউক এবং মেয়ে দুটোকে সুলতান আয়ুবীর সামনে হাজির করা হল। ওদের হাতে বেড়ি, পায়ে শিকল। সুলতানের নির্দেশে পাশের কক্ষে রাখা হল ওদের। সুলতানের খাস কামরা আর ওদের কক্ষের মাঝে একটি দরজা। দরজার পাল্লা দুটো আলতো করে ভো। মাঝখানের সামান্য ফাঁক ভাল করে খেয়াল না করলে কারো নজরে পড়ার কথা নয়। সুলতান কক্ষে পায়চারী করছিলেন। বললেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্রাক আক্রমণ করব।’
ক্রাক ফিলিস্তিনের একটি জিলা, আরেক বিখ্যাত জিলা সুবাক। সুবাকে রয়েছে খ্রীষ্টানদের সুদৃঢ় কেল্লা, যাকে কেন্দ্র করে খ্রীষ্টানরা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সেনানায়ক এবং সম্রাটগণ এখানেই মিলিত হন। এখানেই গোয়েন্দা সংস্থার হেড কোয়ার্টার, ওদের ট্রেনিংও হয় এখানেই।
সেনানায়ক এবং প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, সুলতান প্রথম সুবাক আক্রমণ করবেন। খ্রীষ্টানদের কেন্দ্র পরাভূত করতে পারলে ওদের কোমর ভেংগে যাবে। কিন্তু প্রথম কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি কেন আক্রমণ করতে চাইছেন তিনি তা কারো বুঝে আসছিল না।
একজন লেফট্যানেন্ট জেনারেল বললেন, ‘সম্মানিত আমীর। আপনার নির্দেশ আমরা নির্দ্বিধায় পালন করব। তবে
আমার মনে হয় আগে সুবাক দখল করলে ভাল হয়। দুশমনের কেন্দ্রশক্তি প্রথম ধ্বংস করা উচিৎ। সুবাক হাতে এলে ক্রাক দখল করা আমাদের জন্য পানির মত সহজ হয়ে যাবে। ক্রাকে আমাদের শক্তি ক্ষয় হলে সুবাক দখল করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
দরজার ফাঁক দিয়ে পাশের কক্ষের সবকিছুই শোনা যাচ্ছিল। সুলতানের কন্ঠ ছিল পরিষ্কার। গোয়েন্দা ডিউক উৎকর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল দরজার কাছে। সুলতান বললেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হব। সুবাকের চাইতে ক্রাক দখল করা সহজ হবে। তখন ওখানেই আমরা আমাদের কেন্দ্র করতে পারব। এরপর সামরিক শক্তি সঞ্চয় করে পূর্ণ শক্তিতে সুবাক আক্রমণ করব। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী সুবাকের প্রতিরক্ষা, ব্যবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। সুবাক আক্রমণ করলে আমাদের হয়ত
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!