শয়তানের বেহেশত ২য় খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

শয়তানের বেহেশত ২য় খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৯০

শয়তানের বেহেশত ২য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ

‘কোন দুর্ভাগা খুন হয়েছে’?-বরকিয়ারক জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করলো । ‘আমাদের এক সেনা কর্মকর্তা মুহতারাম সুলতান!’-হিজাযী বিস্তারিত জানালো । ‘তাহলে খুনিকে বের করে তার গর্দান উড়িয়ে দিন’।
“মহামান্য সুলতান! ছাটাইকৃত ফৌজেরই কেউ খুনী’-হিজাযী বললেন ।
‘সুলতানে মুহতারাম!’- আওরিজী বলে উঠলেন- ‘এটা বাতিনীদের মিথ্যা গুজব। আমাকে অনুমতি দেয়া হলে আমি বলতে পারি, এ মুহূর্তে উভয় ভাগের ফৌজের মধ্যে কেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শহরবাসীও দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।’
এতে হিজাযী আওরিজীর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করলেন। এদের তর্কবিতর্কে বরকিয়ারকের মুখে বিরক্তি ফুটে উঠলো। দু’জনের কেউ কারো কথা শুনতে চাচ্ছিলেন না ।
‘সুলতান’!-রুজিনা হঠাৎ দু’জনের ঝগড়ার মাঝখানে বলে উঠলো- এই দু’জনের কথায় আপনি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন না। একমাত্র পথ হলো, হয় খুনীকে পাকড়াও করা হোক যা প্রায় অসম্ভব অথবা ছাটাইকৃত ফৌজ থেকে দু’জনকে ধরে সমস্ত ফৌজের সামনে জল্লাদের মাধ্যমে তাদের গর্দান উড়িয়ে দেয়া হোক। আর ঘোষণা করে দেয়া হোক এ দু’জন অমুক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। তখন আর ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজের দুঃসাহস দেখাবে না ।”
‘শুনেছেন আপনারা! এই নির্দেশ পালন করুন’- সুলতান বরকিয়ারক বললো ।
‘খুব সুন্দর ফয়সালা সুলতানে মুহতারাম!’-হিজাযী বললেন- ‘আজ আমি দু’জনকে ধরে কয়েদখানায় ভরে রাখবো। কাল সকালে জল্লাদ দিয়ে ওদেরকে হত্যা করাবো।”
নায়েবে সিপাহসালার আগুরিজী কিছুই বললেন না। তার কথা শোনার মতো এখানে কেউ নেই। এরা শুধু সেলজুকি সালতানাতের কপালে ধ্বংস তিলক এঁকে দিচ্ছে।
পরদিন সিপাহসালার হিজাযী পনের ষোলজন সশস্ত্র সিপাহী নিয়ে সেনাছাউনি থেকে দু’জন নিরপরাধ সিপাহীকে ধরে নিয়ে কয়েদখানায় বন্দী করলো।
চাকরিচ্যুত সমস্ত ফৌজের কানে এ খবর যেতে সময় লাগলো না। পনের ষোল হাজার এই সাবেক ফৌজের মধ্যে যেন আগুনে ঝড় উঠলো। সেখান থেকে দু’ তিনজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওরিজীর কাছে গিয়ে এই সংবাদ দিলো। আওরিজী তখনই সিপাহসালার হিজাযীর ঘরে গিয়ে হাজির হলেন।
‘আমি জানি তুমি কেন এসেছো’-হিজাযী অলস গলায় বললেন- ‘তুমি বলবে নিরপরাধ দু’জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। কিন্তু হুকুম তো তোমার সামনেই দিয়েছেন সুলতান।
‘আপনার জায়গায় আমি হলে কখনো এই অমানবিক নির্দেশ মানতাম না । হিজাযী! আপনি কার গোলাম বনে গেলেন? কেন আপনি বুঝছেন না ক্ষমতা আপনার হাতেও আছে। সুলতানের ক্ষমতাকে আমরাও স্বীকার করি। ইসলাম বলেছে, আমীরের আনুগত্য করতে। তবে এ হুকুমও দিয়েছে যে, আমীর কোন অন্যায় হুকুম দিলে তা মানা যাবে না’- আওরিজী বললেন ।
‘আওরিজী ভাই! আল্লাহর ওয়াস্তে এটা মেনে নাও। ঐ সাধারণ দুই সৈন্যের মাথা আমরা না কাটলে আমাদের মাথা কাটা হবে।’
‘ঐ সাধারণ সিপাহীদের জন্য আমি আমার মাথা কাটতে তৈরী আছি। আমার মনে হয় আপনাকে অযথাই এসব বলছি আমি। আমাকে বলুন, সত্যিই কি ওদেরকে আপনি হত্যা করবেন?’
“তাহলে ওদেরকে বন্দী করলাম কেন? কাল সবার সামনে ওদের গর্দান কাটা হবে।’
‘আপনাকে আমি একটা পরামর্শ দিচ্ছি। এটাই আমার আপনার সঙ্গে শেষ কথা । এরপর অবস্থা কোন দিকে যাবে আমি বলতে পারবো না। আপনি এক কাজ করুন, কাল ঐ দুই সিপাহীকে কয়েদখানা থেকে গোপনে ঘরে পাঠিয়ে দিন। আপনার সঙ্গে আমি সুলতানের কাছে গিয়ে বলবো, আমাদের দু’জনের সামনে কয়েদখানায় ওদেরকে কতল করে ওখানেই দাফন করে দেয়া হয়েছে।’
‘তারপর সুলতান কি বলবেন জানো? বলবেন, আমার হুকুম মতো সমস্ত ফৌজের সামনে কেন ওদেরকে কতল করা হলো না?’
‘এর জবাব আমি দেবো। বলবো, সবার সামনে ওদেরকে কতল করা হলে দুদিকের ফৌজের মধ্যে ফ্যাসাদ বেঁধে যেতো। কারণ, সবাই জানে ওরা নিরপরাধ।’
‘ভাই আওরিজী! হুকুম সুলতানের নয়। সুলতানের বেগমের। ঐ মহিলা কয়েদখানা থেকে জেনে নেবে তার হুকুম পালন করা হয়েছে কি না। তুমি চুপ থাকো । তাহলে আমাদের দু’জনের জন্যই ভালো হবে।
আওরিজী কিছু বললেন না। মাথা নামিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন। অনেকক্ষণ পর একেবারে বদলে যাওয়া কণ্ঠে বললেন-
“কাল ওদেরকে কোথায় এবং কখন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে? আপনার সঙ্গে আমাকে থাকতে হবে। না হয় আপনি মারা পড়বেন।’
‘জিন্দাবাদ আওরিজী!’-হিজাযী খুশী হয়ে বললেন- ‘তোমার কাছে এটাই আমি আশা করছিলাম। তোমার এই সহযোগিতার জন্য সারা জীবন তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি তো জানি আমার হাত দিয়ে কি পাপ করানো হচ্ছে।’
‘আল্লাহ ক্ষমাকারী। আপনি অপারগ। আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দেবেন…ওদেরকে মৃত্যুদন্ড কোথায় দেয়া হবে।’
‘সময় ও স্থান তুমি নিজেই ঠিক করে দাও’-হিজাযী প্রত্যয়ের গলায় বললেন- তুমি যে স্থান নির্ধারণ করবে আমি তা মেনে নেবো।’
আওরিজী তারপর সিপাহসালার হিজাযীর সঙ্গে করমর্দন করে সেখান থেকে বের হয়ে এলেন।
পরদিন সকালের সূর্য উঠলো এক অমানবিক দৃশ্যপটের সাক্ষী হওয়ার জন্য । বিশাল এক ময়দানের এক দিকে ছাটাইকৃত পনের ষোল হাজার ফৌজ দাঁড়ানো। আরেক দিকে দাঁড়ানো বর্তমান ফৌজের সারি। তাদের মাঝখানে এক প্রৌঢ় আরেক যুবককে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। দু’জনের কাছ ঘেষে খোলা তলোয়ার নিয়ে দুই জল্লাদ দাঁড়িয়ে আছে। এদের দু’জনকে একটু পর হত্যা করা হবে। ফৌজি সারির পেছনে ভিড় করে আছে শহরের লোকেরা। আসামী দু’জনের মধ্যে যে প্রৌঢ় তার স্ত্রী ও ছোট ছোট দুটি বাচ্চা দূরে দাঁড়িয়ে আছে । তারা গলা ছেড়ে কাঁদছে।
সিপাহসালার হিজাযী ঘোড়ায় করে নিরপরাধ দুই আসামীর কাছে গিয়ে ঘোষণা করলেন, ফৌজের যে একজন কর্মকর্তা খুন হয়েছে, তার খুনী হিসেবে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণে এ দুজন সাব্যস্ত হয়েছে। সবার সামনে এদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরী করা হচ্ছে।
“ সিপাহসালার মিথ্যা বলছেন’-প্রৌঢ় সিপাহিটি চিৎকার করে বলে উঠলো- ‘তাকে জিজ্ঞেস করো কোন বিচারক এই রায় দিয়েছেন।’
এক জল্লাদ তার কথা শেষ হতেই তার মুখ চেপে ধরলো। আর কোন উচ্চবাচ্য হলো না।
সিপাহসালার এক দিকে চলে গেলেন। দুই জল্লাদ দুই সিপাহীকে কাঠের পাল্লায় মাথা রেখে আসন করে বসালো। আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত পর এই নিরপরাধ প্রাণ দুটি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে। হঠাৎ দুই জল্লাদের হাতের দুই তলোয়ার তাদের মাথার ওপর উঠলো। হাজার হাজার ফৌজসহ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে যে ফিস ফিস গুঞ্জন চলছিলো তা থেমে গেলো। এক ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। তখনই শোঁ শোঁ আওয়াজে দুটি তীর ছুটে এলো। পরমুহূর্তেই হাজার হাজার হতভম্ব চোখ দেখলো দুই জল্লাদ বিদ্ধ তীর নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।
‘কে? কে তীর ছুঁড়লো?-হিজাযীর ভয় ও ঘাবড়ে যাওয়া গলা ভেসে এলো- ‘এখনি ওকে পাকড়াও করো।’
ফৌজের মধ্যে সামান্য তৎপরতা দেখা গেলো। এক কোণ থেকে নায়েবে সিপাহসালার আওরিজী ঘোড়া ছুটিয়ে সেই দুই সিপাহী ও দুই মৃত জল্লাদের কাছে এসে থামলেন ।
‘খবরদার!’- আওরিজী উঁচু কণ্ঠে বললেন- ‘কেউ নড়বে না। আল্লাহ তাআলা ন্যায় বিচার করে দিয়েছেন। এরা দু’জন নিরপরাধ লোক। সিপাহসালারকে জিজ্ঞেস করো ওদের মৃত্যুদন্ড কোন বিচারক দিয়েছেন? কার সাক্ষ্য প্রমাণে এই রায় দিয়েছেন…? তোমরা কি মুসলমান? যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে খুনের অপবাদ দিয়ে তাকে হত্যা করার অনুমতি কি ইসলাম দেয়? তোমরা কি সবাই কাফের হয়ে মরতে চাও?’ চারদিক আবার নীরব হয়ে গেলো।
“কয়েকজন এসে তোমাদের এই মাজলুম দুই সঙ্গীকে নিয়ে যাও’-আগুরিজী ছাটাইকৃত ফৌজকে লক্ষ্য করে বললেন। সিপাহসালার হিজাযী সেখান থেকে সোজা চলে গেলেন সুলতান বরকিয়ারকের কাছে। নায়েবে সিপাহসালার আওরিজীর এই দ্রোহমূলক আচরণে খুশিই হলেন। কারণ সালার আগুরিজীকে এই উপলক্ষে তার পদ থেকে বরখাস্ত করার জন্য সুলতান বরকিয়ারককে তিনি বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন ।
‘কাজ শেষ করে এসেছেন হিজাযী?’- সুলতান বরকিয়ারক হিজাযীকে দেখে বললো- ‘দর্শকদের মধ্যে ভীতি তো ছড়িয়ে গেছে… এখন আর কেউ কাউকে কতল করবে না।
‘গোস্তাখী মাফ সুলতানে মুহতারাম!’- সিপাহসালার হিজাযী সুলতানের ইশারায় বসতে বসতে বললেন- ‘আপনার হুকুম পালন করা যায়নি।’
‘কেন?’-সুলতান যেন লাফিয়ে উঠলো- ‘কেন হুকুম পালন করা যায়নি?’ *তীর মেরে দুই জল্লাদকে মারা হয়েছে।’
‘কে মেরেছে? তীরন্দায কে ছিলো। আপনি কি তাকে পাকড়াও করেননি।’ সিপাহসালার হিজাযী সুলতানকে পুরো ঘটনা শুনিয়ে সালার আওরিজীকে সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী ও গাদ্দার হিসেবে সাব্যস্ত করেন।
‘মহামান্য সুলতান!’-হিজাযী বললেন- ‘সে অনেক করে আমাকে প্ররোচিত করেছে আমি যেন সুলতানের হুকুম না মানি এবং ঐ দুই সিপাহীকে ঘরে পাঠিয়ে দিই।’
‘এত বড় দুঃসাহস’?-সুলতান অগ্নিশর্মা হয়ে বললো- ‘ওকে কয়েদখানার ভূতলের সেই কামরায় নিক্ষেপ করো যেখানে বিষাক্ত সব পোকামাকড় রয়েছে।’
‘সে সুলতানকে অপদস্থ করেছে’-রুজিনা চড়বড়িয়ে বলে উঠলো- ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও ওকে… এখানে ডেকে আনো। তার হাতে পায়ে শেকল পরিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরিয়ে ঘোষণা করা হোক সে সুলতানের সাথে গাদ্দারী করেছে।’
“হ্যাঁ তাকে এখানেই ডেকে আনুন’- সুলতান তার স্ত্রীর হুকুম পুনরাবৃত্তি করলো।
সিপাহসালার হিজাযী যখন বরকিয়ারকের কাছে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন আওরিজী তখন তার ডেরায় ফিরে আসেন। তার সঙ্গে তখন সাবেক ফৌজের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলো।
‘বন্ধুরা!’-সালার আওরিজী তার ডেরায় ঢুকে সেই চার পাঁচজনকে বললেন- ‘আমি জানি হয় আমাকে জল্লাদের হাতে তুলে দেয়া হবে না হয় আজীবন কারাদন্ড দেয়া হবে। যাই হোক আমাকে আগে কয়েদখানায় নিয়ে যাবে। আমি তাই তোমাদেরকে বলে দিচ্ছি আমার অনুপস্থিতিতে তোমাদের কি করতে হবে । আমরা তো বেশ এগিয়েই গিয়েছি। কিন্তু ভয় পাচ্ছি তোমরা আমার নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাশ হয়ে পড়ো কিনা।’
‘আমরা আপনার নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হবো না’—এক প্রৌঢ় ফৌজি কর্মকর্তা বললো- ‘পুরো আশাবাদী আমরা যে, আপনাকে জল্লাদ পর্যন্ত পৌঁছতে দেবো না আমরা।’
‘তোমাদেরকে আমি আরেকটি গোপন কথা বলছি’- আওরিজী বললেন- ‘সুলতান মালিক শাহর দ্বিতীয় ছেলে মুহাম্মদ ও ছোট ছেলে সাঞ্জার আমাদের সঙ্গে আছে। আমার গ্রেফতারীর পর যা কিছুই হবে তার সব কিছু মুহাম্মদ রায়ের আমীর আবু মুসলিম রাজীর কাছে পৌঁছে দেবে। আমার অনুপস্থিতিতে আবু মুসলিম রাজীই হবেন তোমাদের সালার ও নেতা।’
আওরিজীর কথা শেষ হওয়ার একটু পরেই বরকিয়ারকের লোক এলো তাকে ডেকে নিয়ে যেতে।
‘আমি যাচ্ছি এখন’—আওরিজী তার লোকদেরকে বললেন- ‘ঘোড়া তৈরি করো। আর আমার মুহাফিজ হিসেবে দু’জন আমার সাথে চলো। যে কোন সালার তার মুহাফিজ নিজের সঙ্গে রাখতে পারে। আমাকে যে শাস্তি-দন্ড দেয়া হবে দুই মুহাফিজ সেখান থেকেই জানতে পারবে। তারা এসে এখানে শান্তির কথা শোনাবে। তারপর তোমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।… আমি যাচ্ছি। তোমাদের সাহায্যকারী আল্লাহ।’
আওরিজী যখন ঘোড়ায় চড়ে হাবেলির দরজা দিয়ে বের হতে যাবেন এমন সময় তার স্ত্রী ও মেয়ে পথরোধ করে দাঁড়ালো ।
‘যাবেন না’—মেয়ে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে কান্নাচাপা কণ্ঠে বললো- ‘আপনি যা করেছেন সুলতান তার জন্য আপনাকে জীবিত রাখবেন না। যে কোন ভাবেই হোক পালিয়ে যান এখান থেকে। আমরা আপনার পেছন পেছন পৌঁছে যাবো।
‘আমি পালানোর পথ করে দিচ্ছি’- তার স্ত্রী এগিয়ে এসে বললেন- ‘সুলতানের সামনে যাবেন না। সে আপনার ধড় দেহ থেকে আলাদা করে ফেলবে।’
‘পেরেশান হয়োনা বেটি! আমি জানি তুমি দৃঢ়চেতা এক নারী। আমি যা করছি আল্লাহকে ভরসা করে এবং বুঝে শুনে করছি। ভেতরে যাও এবং আমার জন্য দুআ করো’—একথা বলে তিনি ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
সালার আওরিজী সুলতান বরকিয়ারকের কামরায় ঢুকলেন ঋজু ভঙ্গিতে । মাথা নত করলেন না। স্পষ্ট স্বরে শুধু সালাম দিলেন ।
বরকিয়ারক তার সালামের জবাবও দিলো না এবং বসতেও বললো না ।
‘একি সত্য যে, তুমি দুই জল্লাদকে তীরন্দায দিয়ে মেরে ফেলেছো?’- সুলতান তাকে জিজ্ঞেস করলো।
‘হ্যাঁ সুলতানে মুহতারাম! জল্লাদকে আমি মারিয়েছি’—আওরিজী আস্থাপূর্ণ গলায় বললেন।
‘তুমি কি জানতে না আমার হুকুমে ঐ দুই সিপাহীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছিলো?’ “জানতাম সুলতানে মুহতারাম!’
*তারপরও তুমি কেন আমার হুকুম পালনের সময় বাঁধা দিলে?’-বরকিয়ার ক হুংকার ছাড়লো ।
“কারণ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার যে শর্ত আল্লাহ তাআলা আরোপ করেছেন তা আপনি পূরণ করেননি… আপনি শুধু ঐ নিরপরাধ দুই সিপাহীকেই নয় আল্লাহ ও তার রাসূলের হুকুম হত্যা করছিলেন।’

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top