যে গল্পে হৃদয় কাঁদে – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

যে গল্পে হৃদয় কাঁদে – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৩

যে গল্পে হৃদয় কাঁদে – বইটির এক ঝলকঃ

চিঠিখানা নিম্নরূপঃ প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আমি নূর। বন্দী এক মুসলিম তরুণী। নিরপরাধ তোমাদের বোন খুনের কালিতে লিখছে তার আকুতি মিনতি। প্রকাশ করতে চাইছে তার বন্দী জীবনের নির্মম কাহিনী। কিন্তু কিভাবে শুরু করবে সে? কোন ভাষায় লিখবে তার কাহিনীমালা? কোত্থেকে তুলে ধরবে তার অসহায় জীবনের করুণ চিত্র? কোনটা ফেলে কোনটা লিখবে সে? তার বন্দী জীবনে তো এমন কোন সময় অতিবাহিত হচ্ছে না, যা মর্মস্পর্শী নয় ।
প্রিয় ভাইগণ! কুখ্যাত আবু গারীব কারাগারে আমি এবং আমার মতো অন্যান্য মা বোনদের উপর যে অমানবিক, নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে তা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। সেখানে আমাদের দুর্বল দেহের উপর যে কল্পনাতীত জুলুম অত্যাচার ও নির্মম নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তা ব্যক্ত করার মতো ক্ষমতাও আমার নেই। তোমরা শুধু এতটুকু জেনে রাখো, আমাদের পবিত্র আঁচল, মর্যাদার চাদর আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। মানবরূপী হায়েনাদের হিংস্র থাবায় আমরা আজ ক্ষত-বিক্ষত। আমাদের রুহ আজ নির্জীব। বন্দী হওয়ার পর থেকে এমন একটি রাতও অতিবাহিত হয়নি যে রাতে মানবতার ধ্বজাধারী আমেরিকার সাদা শয়তানগুলো আমাদের মতো অবলা অসহায় দুর্বল নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আমরা আজ প্রতিবাদের ভাষা ভুলে গেছি। ভুলে গেছি সুন্দর সুস্থ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নের কথাও। লুটেরারা আমাদের ইজ্জত লুন্ঠন করেছে, সম্মান-সূনাম সতিত্ব সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আমাদের গৌরব আজ ভুলুণ্ঠিত, বেঁচে থাকার স্বপ্ন আজ সুদূর পরাহত। মৃত্যুর জন্য আমরা বিলাপ করছি। কিন্তু হায়? মৃত্যু যে এখনো আসছে না ।
হে ভোরের স্নিগ্ধ সমীরণে বসবাসকারী ভাইগণ! তোমরা যখন বিলাসবহুল জীবনে মজাদার খানায় মশগুল, তৃপ্তিদায়ক সুস্বাদু খাবার নিয়ে যখন তোমরা আনন্দে বিভোর, তখন তোমাদেরই মা-বোন এক মুঠো খাবারের জন্য অস্থির। তোমরা যখন বিভিন্ন প্রকার রং বেরংয়ের ঠান্ডা পানীয় দিয়ে পিপাসা মেটাতে ব্যস্ত, তখন তোমাদের মা বোন এক ফোঁটা পানি থেকেও বঞ্চিত। যখন তোমরা নরম তুলতুলে ঝকঝকে আরামদায়ক বিছানায় শায়িত, তখন তোমাদের মা বোন কংকরময় জমীনে মৃত্যুর অপেক্ষায় অপেক্ষমান। তোমরা যখন নানাবিধ উৎসব আয়োজনে মত্ত, আনন্দে উৎফুল্ল, তখন তোমাদের মা-বোন বিরামহীনভাবে বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে তপ্ত অশ্রুমালা ।
প্রিয় মুজাহিদ ভাইগণ! বন্দীশালায় আমরা এমন এক দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি যা কোনোদিন আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। মানুষ যে মানুষের প্রতি এতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হতে পারে তা ইতোপূর্বে কখনোই আমাদের জানা ছিল না । তারা যখন আমাদের সযত্নে লালিত ইজ্জত হরণ করতে আসে তখন তাদের পায়ে ধরে কতো কাকুতি মিনতি করি, জীবন দানের বিনিময়েও ইজ্জত রক্ষার আবেদন জানাই, কিন্তু আমাদের আবেদন নিবেদন এই সব নরপিশাচদের কর্ণকুহুরে মুহূর্তের জন্যেও প্রবেশ করে না।
মুসলিম যুবক ভাইগণ! বন্দীখানায় আমরা পরস্পর জিজ্ঞেস করি, আমাদের স্বজাতি বীর মুজাহিদরা কোথায়? কোথায় সেই সব বাহাদুর নওজোয়ানেরা যাদের একটি মাত্র বজ্র হুংকারে আবু গারীব কারাগারের লৌহ কপাট ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে? প্রিয় ভাইয়েরা আমার! তোমরা হয়ত জান না যে, প্রতিদিন আমরা তোমাদের জন্য জিন্দান খানার অন্ধকারময় পরিবেশে জানালার ফাঁক দিয়ে চেয়ে চেয়ে অপেক্ষা করি আর বলি এই তো আমাদের ভাইয়েরা আসছে। এইতো তারা লম্পট অফিসারদের মাথাগুলো গুড়ো করে দিয়ে আমাদের শিকল পরা হাত-পা হতে বাধন খুলে দিচ্ছে। এই তো তারা বলছে, হে আমাদের মা ও বোনেরা! আজ থেকে আপনারা চির স্বাধীন, চিরমুক্ত। আপনাদেরকে বন্দীশালায় আটকে রাখার মতো ক্ষমতা কারো নেই ।
মুহতারাম তরুণ ভাইগণ! কোনো দিন এমন যায় না যে, যে দিন আমরা মরুভূমির তপ্ত পথে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একথা বলি না যে, এই তো আসছে যুগের মুহাম্মদ বিন কাসিম। এই তো আসছে খালেদ সাইফুল্লাহ ও তারেক বিন যিয়াদের সিংহ শার্দুলেরা। কিন্তু না, আমাদের অপেক্ষা কেবল অপেক্ষাই থেকে যায়। অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হয় না । দুঃখের দীর্ঘ রজনী আর পোহাতে চায় না। তখন মনের অজান্তে তপ্ত নিঃশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসে- এখনো হয়তো আমাদের মুসলিম মুজাহিদ ভাইদের আরামের নিদ্রা ভঙ্গ হয়নি। জানতে পারেনি আমাদের কলংকময় জীবনের করুণ কাহিনী। উপলব্দি করতে পারেনি মুসলমান মা বোনদের পাহাড় সম বিশাল ও সাগরসম গভীর দুঃখ-বেদনার কথা। হায় আফসোস, যদি তারা বুঝতো !
প্রিয় ভাইয়েরা! আমরা ইতিহাসে পড়েছিলাম, রোমীয় সৈনিকরা এক আরব কন্যার আঁচলে হাত দিয়েছিল, তখন সে শত শত মাইল দূর থেকে বাদশাহ মুতাসিম বিল্লাহকে সম্বোধন করে বলেছিল, হে মুতাসিম! আরবের এক দুর্বল নারী নির্যাতিত হয়ে তোমার নিকট ফরিয়াদ জানাচ্ছে। তুমি এর বিচার কর ।
এ খবর পৌঁছল তৎকালীন বাগদাদের শাসক মুতাসিম বিল্লাহর দরবারে। খবর শুনেই ক্রোধে ফেটে পড়লেন তিনি। সুতরাং আর দেরী নেই। সঙ্গে সঙ্গে সিংহাসন থেকে অবতরণ করে একটি মাত্র মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বিশালবাহিনী নিয়ে অভিযান চালালেন এবং অপরাধের প্রতিশোধ ও প্রতিকার করে মেয়েটিকে উদ্ধার করলেন ।
ভাইগণ! আমরা তো ইতিহাসে এ কাহিনী বারবার পড়েছি। কিন্তু এ কাহিনী মনে হলে অশ্রু বিসর্জন দেয়া ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকে না। আজ হাজারো মা-বোনের ইজ্জত অহরহ লুণ্ঠিত হচ্ছে বেঈমান কাফের ও পাপিষ্ঠদের হাতে। তাদের আর্তনাদ আহাজারিতে আকাশ- বাতাস ভারী হয়ে আসছে। কিন্তু কেউ কি নেই এই আহাজারী শোনার? এই নিষ্ঠুর নির্মমতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার? হায় আফসোস, শত আফসোস, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের আকুতি মিনতি শোনার ফুরসতও তোমাদের নেই।
হে মুসলিম জাতি! সমস্ত মা বোনের পক্ষ থেকে শেষ বারের মতো তোমাদের করজোর নিবেদন করে বলছি, তোমরা একটু সময় করে আমাদের বুকফাটা চিৎকারগুলো শুনো। আমাদের হৃদয়ে পুঞ্জিভূত বেদনাগুলো বুঝতে চেষ্টা করো। তোমরা আমাদের মিনতি শুনে সাড়া দাও। অন্তরের ব্যাকুলতা উপলব্দি করো। আর শুনো, যদি আমাদের এ করুণ সংবাদ জানতে পেয়েও তোমরা নীরব থাক, ব্যস্ততার কারণে আমাদের ফরিয়াদ শ্রবণ করার মতো সময়ই যদি না পাও, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে দেরী না করে আমাদের জন্য এক শিশি বিষ পাঠিয়ে দাও। যা পান করে আমরা চিরতরে হারিয়ে যাব তোমাদের স্মৃতি থেকে। ফলে কেউ তোমাদের আর জ্বালাবে না। বিরক্ত করবে না বার বার ।
প্রিয় ভাইয়েরা আমার! আবারো বলছি, আমাদের ইজ্জত আজ ভুলুণ্ঠিত। আমরা আজ খোদাদ্রোহী শয়তানদের সন্তান গর্ভে ধারণ করে ঘুরছি। ঈমানী চেতনায় উদ্দীপ্ত মুসলিম নারী হয়ে, প্রিয় নবী (সা.) এর একান্ত অনুসারী হয়ে আমরা আমাদের পেটে কাফেরদের সন্তান ধারণ করতে পারবো না। তাই আমাদের বিনীত নিবেদন হলো, তোমরা আমাদের জন্য কিছু করতে না পারলে দয়া করে একটু বিষ পাঠিয়ে দাও। কারণ এই দুর্বিসহ জীবন নিয়ে বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই ।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top