যে গল্পে হৃদয় গলে ৩য় খণ্ড – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৩
যে গল্পে হৃদয় গলে ৩য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
আমি করিনি। আমার সামনে তো বিরাট এক জিন্দেগী আছে। হাশরের ময়দানে খোদার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে গোটা জীবনের হিসাব দিতে হবে। আমি তো মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কিছুই করিনি। ভোগ বিলাস আর আরাম আয়েশের মধ্যেই সারাটি জীবন কাটিয়ে দিলাম । হায়! আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের সামনে আমি কি জবাব দিব । হায়, পরকালে আমার অবস্থা কি দাঁড়াবে।
এসব কথা চিন্তা করতে করতে তার নয়নগুলো অশ্রুসজল হয়ে উঠলো। ফোঁপানো কান্নার সকরুণ সুর আর বাধভাঙ্গা অশ্রু কাপড়ে মুছে দু হাত দিয়ে যুবককে জাড়িয়ে ধরে বললো, ভাই! সত্যিই আমি জীবনের মহামূল্যবান সময়গুলো আল্লাহর নাফরমানি ও অবহেলায় নষ্ট করেছি। আমার মত হতভাগা বোধ হয় পৃথিবীতে আর কেউ নেই । তবে আমি তোমার প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞ যে, তোমার নসীহত আমার জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দিয়েছে। তুমিই আমাকে আলোর পথ দেখিয়েছ। সত্যের পথ প্রদর্শন করেছ। তোমার ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারবো না ।
এভাবে সরদার আরও কিছুক্ষণ অনুশোচনা ও আক্ষেপ করলো। তারপর চাকর-নওকর, গোলাম বাদী সকলকে বিদায় করে দিল। ঘরের যাবতীয় বিলাস সামগ্রী খাট-পালংক, মূল্যবান পোষাক – পরিচ্ছেদ, স্বর্ণ রৌপ্য ইত্যাদি বিক্রয় করে গরীব মিছকীনদের মধ্যে বন্টন করে দিল ।
এবার সে প্রকাশ্য গোনাহের জন্য প্রকাশ্যে এবং গোপনীয় গোনাহের জন্য গোপনে তওবা করল। যে সকল মানুষের হক নষ্ট করেছিল তাও সে কড়ায় গন্ডায় হিসেব করে আদায় করল। তারপর মসজিদে গিয়ে দিবা রাত্র আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হল এবং দুটি মোটা কাপড় ও যবের রুটির উপর দিন গুজরান করতে লাগলো ।
এভাবে চলতে চলতে এক সময় তিনি ইবাদত বন্দেগীতে এতটাই নিমগ্ন হয়ে পড়লেন যে, দিনভর রোজা ও রাতভর জিকির, তিলাওয়াত ও নামাজের মধ্যে কাটিয়ে দিতে লাগলেন ।
সরদার পূর্ব থেকেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে এই পরিবর্তনের ফলে সর্বত্র তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। ক্রমে তার নিকট দীনদার, নেককার ও আল্লাহ ওয়ালাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে লাগলো। একদিন কোন এক আল্লাহ ওয়ালা তাকে বললেন, ভাই ! আল্লাহ পাক তো বান্দার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। আপনি তো নসকে অনেক কষ্ট দিচ্ছেন। আমার মনে হয় স্বাস্থ্যের প্রতি আপনার যত্ন নেয়া উচিত।
জবাবে তিনি বললেন, ভাই সারাটা জীবন আমি আল্লাহর নাফরমানিতে কাটিয়েছি। ভোগ বিলাস আর আরাম আয়েশে মত্ত রয়েছি। দীর্ঘ সাতাইশ বছর এই দেহ কম মজা উপভোগ করে নাই । কম মুখরোচক ও সুস্বাদু খাবার খায় নাই। কম মূল্যবান রাজকীয় পোষক ব্যবহার করে নাই। সুতরাং এগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য কি । এতটুকু বলে তিনি অজস্র ধারায় ক্রন্দন করতে
আমার লাগলেন । শেষ জীবনে এই বুযুর্গ দুটি মোটা কাপড় দেহে জড়িয়ে একটি থালা ও একটি বাটি নিয়ে পদব্রজে হজ্জের উদ্দেশ্যে বাহির হন। দীর্ঘ দিনের বিরামহীন সফরের পর একদিন তিনি মক্কায় এসে উপস্থিত হলেন এবং হজ্জ আদায়ের পর সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মক্কায় থাকাকালে তার অবস্থা এই ছিল যে, রাতের বেলা হাজরে আসওয়াদের নিকট দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বুক ভাসিয়ে দিতেন এবং বিগত জীবনের অপরাধ ও ত্রুটি সমূহের উল্লেখ করে আল্লাহ পাকের দরবারে ফরিয়াদ করে বলতেন-
আয় পরওয়ার দিগার! সারাটি জীবন আমি তোমার নাফরমানী ও গাফলতের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি। জীবনের যাবতীয় সম্পদ ও সুযোগ তোমার হুকুমের খেলাফ ব্যয় করেছি। তোমাকে দেখানোর মত কোন আমল আমার নিকট নেই। তোমার অনুগ্রহ আর দয়াই আমার একমাত্র ভরসা। হে খোদা! তোমার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করার যোগ্যতা আমার নেই। তোমার নিকট আমার মিনতি শুধু এতটুকু যে, তোমার রহমতের দরিয়ার কিনারায় আমি অধমকে সামান্য ঠাই দিও । আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিও। নিঃসন্দেহে তুমি মহাক্ষমাশীল ।
প্রিয় পাঠক! বর্তমানে আমাদের সমাজে কি এমন লোকের অভাব আছে যারা খোদায়ী বিধান লংঘন করে বিভিন্ন অশ্লীল অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে? যারা পরকালকে ভুলে গিয়ে কেবল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগী নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে? যারা দুনিয়ার জীবনকেই আচ্ছামত ভোগ করার জন্য বিভিন্ন প্রকার বিলাসী সামগ্রী যোগাড় করছে?
এসকল প্রশ্নের জবাবে আমাদেরকে ইতিবাচক সাড়াই দিতে হবে। না বলার কোন জো নেই ।
এখন আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, আমরা যারা আখেরাতকে ভুলে দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মত্ত হয়েছি, প্রতিটি মূহুর্তে আল্লাহ তাআলার হুকুম আহকামকে অমান্য করে গড্ডালিকা প্রবাহে জীবন চালিয়ে দিচ্ছি, টিভি ভিসিআর থেকে শুরু করে ডিস এন্টিনা সংযোগ দেয়ার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, তারা কি একটি বারের জন্যও চিন্তা করে দেখেছি যে, আমাকে একদিন মরতে হবে। যে খোদার বিধান আমি অহরহ লংঘন করে চলেছি সেই খোদার কাছে আমাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। হিসেব দিতে হবে সারাটি জীবনের। হিসেব দিতে হবে যৌবন কালের। হিসেব দিতে হবে- মাল কিভাবে সংগ্রহ করেছি এবং কোথায় তা খরচ করেছি। আমি কি চিন্তা করেছি যে, আমাকে একদিন নির্জন কবরে একাকী শুইতে হবে। ফেরেশতাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারলে সেখানেও আমাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে। এমন জোরে চাপ দেয়া হবে যে, এক পাজরের হাড়গুলো অন্য পাজরে ঢুকে যাবে। সেখানে নিযুক্ত করা হবে এমন এক সাপ যার নখগুলো হবে লোহার, চোখগুলো হবে আগুনের মত, এতবড় দীর্ঘ হবে যে, একদিনের রাস্তা অপেক্ষা বড়। তার আওয়াজ হবে বজ্রের মতো। সে একের পর এক দংশন করতে থাকবে। সাপটি একবার দংশন করলে লোকটি ৭০ হাত মাটির নীচে চলে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত এভাবে সে আযাবে গ্রেফতার থাকবে ।
আমার কি চিন্তা করা উচিত নয় যে, যদি আমি খোদার নাফরমানী করার কারণে জাহান্নাম বাসী হই তাহলে আমার কি অবস্থা দাঁড়াবে। আমাকে তো সেখানে এমন বিকট হাতুরী দ্বারা পেটানো হবে, যে হাতুরীকে সমস্ত জ্বীন ইনসান মিলেও উঠাতে পরবে না। আমাকে তো এমন পুঁতি দূর্গন্ধময় পুঁজ পান করানো হবে যার এক বালতি দুনিয়ার পশ্চিম প্রান্তে ঢেলে দিলে পূর্ব প্রান্তের মানুষগুলো অসহনীয় দুর্গন্ধের কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। আমাকে তো সেদিন পান করানো হবে এমন তীব্র গরম পানি যা চেহারার সামনে আনার সাথে সাথে চেহারার গোশতগুলি খসে নীচে পড়ে যাবে। সুতরাং ভাইগণ! দেরী করার আর সময় নেই। মৃত্যু যেকোন সময় আপনার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে। স্তব্দ করে দিতে পারে আপনার আনন্দ উল্লাস আর রং তামাশার জীবন। তাই অধমের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ, তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। শান্তির ধর্ম ইসলামকে জানুন। জানতে চেষ্টা করুন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। যাবতীয় পাপ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেকটি সুন্নতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করুন। খোদার জমীনে খোদায়ী বিধানকে প্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট হোন। টিভি ভিসিআর ঘর থেকে বের করুন। ছেলে মেয়েদেরকে প্রয়োজনীয় দ্বীনি ইলম শিক্ষা দিন। মেয়েরা বড় হলে তাদেরকে পর্দায় রাখার ব্যবস্থা করুন। নিয়মিত কুরআনে পাক তিলাওয়াত করুন। সকাল সন্ধ্যায় জিকির করুন। হালাল উপায়ে উপার্জন করুন। যে কোন দ্বীনি বিষয় জানার জন্য হক্কানী আলেমদের শরনাপন্ন হোন ।
মনে রাখবেন, আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই দ্বীনদার হতে পারেন তাহলে দেখবেন, দুনিয়াতেই আপনি লাভ করবেন স্বর্গীয় সুখ। এক পরম প্রশান্তি সর্বদা আপনার হৃদয়-রাজ্যে বিরাজ করতে থাকবে। কঠিন সমস্যায় পতিত হলেও আল্লাহ পাক আপনাকে সে সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন। উপরন্ত তিনি এমন জায়গা থেকে আপনার রিযিকের ব্যবস্থা করবেন যেখান থেকে রিযিক আসবে বলে আপনি ধারণাও করতে পারেননি। এটা আমার বানানো কথা নয়। এ কথা আল্লাহ তাআলা নিজেই পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন ।
“যে ব্যক্তি পরহেজগারী এখতিয়ার করবে আল্লাহ তাআলা (পুরস্কার স্বরূপ) তার সমস্যা সমাধানের যাবতীয় রাস্তা খুলে দিবেন এবং তার ধারণার অতীত জায়গা থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করবেন।”
সম্মানিত পাঠক, উপরের কথাগুলো আমি হৃদয়ের সমস্ত ভালবাসা ও দরদ দিয়েই লিপিবদ্ধ করেছি। আমার বিশ্বাস, উল্লেখিত ঘটনা ও আমার প্রাসঙ্গিক কথাগুলো আপনাদের হৃদয়ে এক চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত করবে এবং আখেরাতের তৈরীর ব্যাপারে যত্নবান হতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আল্লাহপাক আমাদের তাওফীক দিন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!