ধ্বংস পাহাড় – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৮১
ধ্বংস পাহাড় – বইটির এক ঝলকঃ
টেবিলের উপর পরিপাটি করে সাজানো রয়েছে ব্রেকফাস্ট।
এক গ্লাস অ্যাপল জ্যুস কয়েক ঢোকে শেষ করে ঠক করে টেবিলের উপর গ্লাসটা নামিয়ে রাখল পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের উজ্জ্বলতম তারকা শ্রীমান মাসুদ রানা—বয়স ছাব্বিশ, উচ্চতা পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চি, গায়ের রঙ শ্যামলা, সে বাংলায় কথা বলে।
সকাল আটটা। দশটার দিকে অফিসে একবার নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আজ যাবে ক্লাবের স্যুইমিং পুলে দু’টি মেয়েকে কথা দিয়েছে সাঁতার শেখাবে। দশটার এখনও অনেক দেরি। তাই ধীরে সুস্থে দুটো কাঁচা পাউরুটি আর দুটো মচমচে টোস্টের উপর এক আঙুল পুরু করে চিটাগাং-এর ডিটা মাখন লাগিয়ে নিল রানা। পরিজ আর সেই সাথে দুধের বাটিটা ঠেলে সরিয়ে দিল ডান ধারে, খাবে না। তারপর একটা কাঁচা রুটির উপর কোয়েটা থেকে আনানো হান্টারস বিফ কেটে স্লাইস করে সাজিয়ে এক কামড় দিল। সেই সাথে এক প্লেট ভর্তি স্ক্র্যাম্বলড্ এগ থেকে এক এক টেবল স্পুনফুল অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকল। বিফ শেষ হতেই আরেকটা স্লাইসের উপর সাজানো হলো ক্রাফ্ট পনির। মিনিট খানেকের মধ্যে সেটাও যখন শেষ হয়ে এল তখন মচমচে টোস্টের উপর হালকা করে মিচেলসের গুয়াডা জেলি লাগানো হলো—সেই সঙ্গে চলল গোটা দুই ইয়া বড় মুন্সিগঞ্জের অমৃতসাগর কলা। তারপর ফ্রিজ থেকে সদ্য বের করা বোতলের ঠাণ্ডা পানি ঢেলে নিল রানা একটা গ্লাসে। তিন ঢোকে গ্লাসটা শেষ করতেই ঘরে ঢুকল রাঙার মা ।
বুড়িকে এক নজর দেখে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে আরাম করে সোফায় হেলান দিয়ে জুতোসুদ্ধ পা তুলে দিল রানা টেবিলের উপর। চোখ বন্ধ করেই সে অনুভব করল, ফরসা টেবিল ক্লথের উপর রাখা জুতো জোড়ার দিকে একবার চেয়ে নিয়ে বুড়ি পট থেকে কফি ঢেলে রানার হাতের কাছে টি-পয়ের উপর রাখল, তারপর নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
পরপর দু’কাপ কড়া কফি খেয়েও গতরাত জাগরণের গ্লানিটা শরীর থেকে গেল না মাসুদ রানার। ক’দিন ধরে কাজ নেই হাতে। আজ টেনিস, কান গল্ফ, পরশু স্যুইমিং, তার পরদিন রোয়িং, ফ্লাইং, ডান্সিং, ব্রিজ ইত্যাদি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে রানা। খাঁচায় বন্দী বাঘের মত ছটফট করছে তার বিপদ আর রোমাঞ্চ প্রিয় মনটা। গত রাতে তিনটে পর্যন্ত পোকার খেলেছে ক্লাবে— কিন্তু এসবে কি আর মন ভরে?
একা মানুষ। ৫/১-বি পুরানা পল্টনে ছোট্ট একটা একতলা বাড়ি ভাড়া করে আছে সে। তিনখানা বড় বড় ঘর। লাইট, কল, অ্যাটাচ্ড বাথ, কিচেন, সার্ভেন্টস কোয়ার্টার, সব ব্যবস্থা ভাল। গাড়ি বারন্দার সামনে ছোটখাট বেশ সুন্দর একটা লন আছে। ডাড়া পাঁচশো টাকা। অফিস থেকেই ডাড়া পায় বাড়িওয়ালা মাসে মাসে। ধনীর দুলাল সেজে থাকতে হয় রানাকে অফিসের হুকুমেই। ঘর তিনখানার একখানা রানার বেডরুম, একটা ড্রইংরুম; বাকিটা খালি পড়ে থাকে হঠাৎ যদি কোন অতিথি এসে পড়ে, সেই অপেক্ষায়।
মোখলেস বাবুর্চির হাতে ইংলিশ খানা খাচ্ছিল এতদিন, হঠাৎ বছর দু’য়েক আগে একদিন রাঙার মা এসে উপস্থিত হলো। জিজ্ঞেস করল, ‘ও আব্বা, রান্নার নোক নাগবি ?
প্রথম দর্শনেই রানার পছন্দ হয়ে গেল বুড়িকে। বয়স পঞ্চান্নর উপর, দাঁত একটাও নেই। এ বয়সেও শরীর একেবারে ঢিলে হয়ে যায়নি—আঁট-সাঁট কর্মঠ চেহারা। আর আসল কথা হলো, কেন জানি রানার নিজের মরা মায়ের কথা মনে পড়ল ওকে দেখে। কোথায় যেন মিল আছে। বলল, ‘ভাল রান্না করতে জানো? ‘জানি।’ কথাটার মধ্যে আত্মপ্রত্যয় আছে।
‘আগে কোথায় কাজ করেছ?
“ওমা! নোকের বাসায় কাজ করতি যাব কেন? আমার নিজিরই… হঠাৎ চেপে গেল বুড়ি। তারপর একটু মলিন হাসি হেসে বলল, “বিটার বউয়ের সাথি নাগ করে আসছি।’
“বাড়ি কোথায় তোমার?’ ‘যশোহর।’
“ছেলে-বউ কোথায়?” ‘সিখানেই।’
‘ও, পালিয়ে এসেছ ঢাকায়? দু’দিন পর আবার মন টানলেই এখান থেকে পালাবে। যাও তুমি, এমন লোক আমার লাগবে না।’
এই উত্তরই যেন আশা করেছিল, ঠিক এমন ভাবে কোন রকম যুক্তি-তর্কের অবতারণা না করেই চলে যাচ্ছিল বুড়ি। হঠাৎ রানা কি ভেবে ডাকল পিছন থেকে। বুড়ি ঘুরতেই দেখল জল গড়াচ্ছে ওর চোখ দিয়ে। বুঝল রানা, এক কাপড়ে রাগের মাথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে— ঢাকায় কোথাও কিছু চেনে না—এ-বাড়ি ও- বাড়ি ঠোকর খেয়ে ফিরছে, কিন্তু চাকরি হয়নি। খাওয়াদাওয়া হয়নি ক’দিন কে জানে। এমন অপ্রত্যাশিত দুর্বিপাকে পড়ে রাগে দুঃখে হতাশায় ভেঙে পড়েছে বুড়ি । আঁচল দিয়ে চোখ মুছে কাছে এসে দাঁড়াতেই রানা বলল, ‘তা বেতন চাও কত?”
‘আমি তো জানিনে, কাজের নোককে সবাই যা দেয় তাই দেবেন।’
‘বেশ। থাকো আমার এখানেই। মোখলেস তো ওর হাঁড়ি-পাতিল ধরতে দেবে না। তুমি এখন খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নাও, বিকেলে ওর সাথে গিয়ে দোকান থেকে সব কিনে আনবে।’
সেই বুড়ি রয়েই গেল। ঝোঁকের মাথায় ওকে থাকতে বলেই খুব আফসোস হয়েছিল রানার—কেন শুধু শুধু জঞ্জাল বাড়াতে গেলাম? বেশ তো চলছিল, কোন হাঙ্গামা ছিল না। ভেবেছিল-কোন ছুতো পেলেই বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু পরদিন ওর হাতের বাঙালী রান্না খেয়ে পরিতৃপ্তির একটা ঢেকুর তুলে রানা ভাবন— ছলে বলে কৌশলে যেমন করে হোক একে রাখতেই হবে, ছাড়া যাবে না।
এখন অবশ্য বাজার করা ছাড়া মোখলেসের অন্য কাজ নেই—অল্পদিনেই বুড়ি বিলিতী রান্নাতেও ওকে ছাড়িয়ে গেছে, আর মোখলেসও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। টেলিফোনটা বেজে উঠল।
‘হ্যালো, ফাইভ-এইট-টু-সেভেন, রানা ধরল।
‘কে, মাসুদ সাহেব বলছেন?’ প্রশ্ন এল অপর দিক থেকে। ‘হ্যাঁ। কি খবর, সারওয়ার?’
‘আপনাকে একটু অফিসে আসতে হবে, স্যার। বড় সাহেব জরুরী তলব করেছেন আপনাকে। মেজর জেনারেল রাহাত খানের পি. এ. গোলাম সারওয়ার বলল নির্বিকার কণ্ঠে।
বিশেষ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় উপস্থিত হলে চেহারা-চালচলনে একটা নির্লিপ্ত ভাব চেষ্টাকৃত ভাবে এনে এক ধরনের আনন্দ পায় গোলাম সারওয়ার। বোধহয় আত্মসংযমের আনন্দ। রানার খুব ভাল করে জানা আছে এ কন্ঠস্বর। তাই জিজ্ঞেস করল, ‘ব্যাপার কি বলো তো, সারওয়ার! নতুন গোলমাল বাধল কিছু?”
“কোথায় আছেন, স্যার! হুলুম্বল কারবার। ভোর পাঁচটা থেকে অফিস করছি আজ। জলদি চলে আসেন।’ বলেই ফোন ছেড়ে দিল কাজের চাপে সর্বক্ষণ ব্যস্ত অক্লান্ত পরিশ্রমী গোলাম সারওয়ার অন্য কোন প্রশ্নের সুযোগ না দিয়েই।
মাসুদ রানা চোখ বন্ধ করে স্পষ্ট দেখতে পেল টেলিফোনটা রেখেই চটপট গোটা কতক ‘ইমিডিয়েট’ লেবেল লাগানো ফাইল নিয়ে গোলাম সারওয়ার ছুটল চীফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কামরার দিকে ।
ঘন কালো ভুরু জোড়া অল্প একটু উঁচু করে ছোট্ট একটা শিস দিল মাসুদ রানা । তাহলে তো খেলা জমে উঠেছে মনে হচ্ছে!
প্যান্ট আর জুতো পরাই ছিল—ডোরবেলা গোসল করেই সে এগুলো পরে ফেলে সব সময়। ড্রয়ার থেকে পিস্তল ভরা হোলস্টারটা বের করে বাঁ কাঁধে ঝুলিয়ে নিল রানা। পিস্তলটা খুব দ্রুত কয়েকবার হোলস্টার থেকে বের করে ঠিক জায়গা মত হাতটা পড়ছে কিনা দেখে নিল। তারপর রোজকার অভ্যাস মত স্লাইডটা আটবার টেন্সে একে একে আটটা গুলি বের করে পরীক্ষা করন ইজেক্টার ক্লিপটা ঠিকমত কাজ করছে কিনা। ম্যাগাজিন রিলিজটা টিপতেই সড়াৎ করে বেরিয়ে এল খালি ম্যাগাজিন। আবার স্লাইড টেনে চেম্বারে একটা বুলেট ঢুকিয়ে আস্তে হ্যামারটা নামিয়ে দিল রানা। সব সময় ঠিক ফায়ারিং পজিশনে এনে রাখে সে তার বিপদসঙ্কুল রোমাঞ্চকর জীবনের একমাত্র বিশ্বস্ত সাথী এই পয়েন্ট থ্রী-টু ক্যানিবারের ডাবল অ্যাকশন অটোমেটিক ওয়ালথার পি.পি.কে. পিস্তলটি। ম্যাগাজিনে সাতটা বুলেট ভরে যথাস্থানে ঢুকিয়ে দিল রানা। ক্যাচের সাথে আটকে একটা ক্লিক শব্দ হতেই সন্তুষ্ট চিত্তে আবার শোল্ডার হোলস্টারে ভরে রাখল সে তার ছোট যন্ত্রটা। তারপর একটা নীল টি-শার্ট পরে ড্রেসিং টেবিলের লম্বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘুরে ফিরে ভাল করে দেখে নিল শোন্ডার হোলস্টারটা কোন দিক থেকে দেখা যাচ্ছে কিনা। তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে স্টার্ট দিল ওর একান্ত প্রিয় জাওয়ার এক্স কে ই গাড়িতে।
“ও আচ্ছা, দরোজার চাবিটা নেছেন?’ রাঙার মা এসে দাঁড়াল। ‘না তো, কেন? তুমি বাসায় থাকবে না?”
‘দোফরে একটু মীরপুরের মাজার যাব।’
‘ডুয়ার থেকে আমার চাবিটা নিয়ে মোখলেসের কাছে দিয়ে যেয়ো।’ *ও-ও তো আমার সঙ্গে যাবি।’
‘বেশ, তোমার চাবিটা জলদি আমাকে দাও—তুমি ড্রয়ার থেকে আমারটা নিয়ে নিয়ো। নাও, তাড়াতাড়ি করো।’
বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু হাসন রানা। যেদিনই বিশেষ টেলিফোন আসবে অফিস থেকে, সেদিনই বুড়ির মীরপুরের মাজারে যাওয়া চাই। এই দুই বছরের মধ্যে রাঙার মা দেখেছে, যতবারই এমন টেলিফোন এসেছে ততবারই আশা কয়দিন আর বাড়িতে ফেরেনি। প্রায়ই শরীরে কাটাকুটি নিয়ে বাড়ি ফেরে আব্বা। একবার তো বিশদিন পর খাটিয়ায় করে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে দিয়ে গেল কয়েকজন লোক—সারা অঙ্গে জখমের দাগ। একমাস কত সেবা-শুশ্রূষা করে জ্যান্ত করতে হয়েছে তাকে। আব্বা যে কি কাজ করে তা ঠিক জানে না সে, তবে কাজটা যে খুবই ভয়ঙ্কর আর বিপদজনক তা সে বুঝতে পারে। সদাসর্বদা তাই শঙ্কিত হয়ে থাকে সে। একেক বার মনে হয় আব্বা বোধহয় পুলিসের নোক; আবার সন্দেহ হয়, পুলিসের নোক যদি হয় তবে মেজাজ এত ঠাণ্ডা কেন? গোলাগুলির সাথে কারবার আব্বার—তাই তো আব্বার সাথে সব সময় ছোট-বন্দুক থাকে। এইটাই আব্বার চাকরি, বিপদ আছে বলেই না মাসে মাসে ষোলোশো টাকা করে মাইনে দেয় আব্বাকে। কোন ভাবে বারণ করতে পারে না সে, তাই যতবারই রানা কোন কাজে হাত দেয়, ততবারই রাঙার যা মীরপুরের মাজারে গিয়ে মানত করে আসে। যখন সুস্থ বা অসুস্থ অবস্থায় সে ফিরে আসে, তখন মোখলেসকে দিয়ে মানত পুরো করে দেয়। বিরক্ত হয়ে মোখলেস একদিন রাঙার মার এসব গোপন কথা বলে দিয়েছে রানাকে।
মতিঝিল কমার্শিয়াল এরিয়ার একটা সাততলা বাড়ির পিছন দিকটায় গাড়ি পার্ক করে লিফটের বোতাম টিপল মাসুদ রানা। ওকে দেখে লিম্যান কোন প্রশ্ন না করেই ফি ফ্লোর, অর্থাৎ হ’ তলায় উঠে এল। হয় এবং সাততলার সবটা জুড়ে পি.সি.আই. বা পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের অফিস। নিচের তলাগুলো হরেক রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টুকরো টুকরো করে ভাড়া নিয়ে দফতর খুলেছে ।
ছ’তলার বেশির ভাগটাই জুড়ে রয়েছে রেকর্ড সেকশনের ব্যস্ত সমস্ত কেরানীর দল, জনা পনেরো মেয়ে-পুরুষ টাইপিস্ট, স্টেনো ইত্যাদিতে। কেবল ডানধারের সব শেষে করিডরের দু’পাশে মুখোমুখি চারটে কামরায় বসে রানা আর তার তিন সংকর্মী।
সাত তলার এক অংশে মেজর জেনারেল রাহাত খান আর চীফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কর্নেল শেখের কামরা। আর বাকিটায় অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত ওয়ায়্যারলেস সেকশন। সাড়ে তিনশো কিলোওয়াটের অত্যন্ত শক্তিশালী ট্রান্সমিটার রয়েছে ছাতের উপর। বিদঘুটে সব যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে ডায়াল করছে স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত জনাকয়েক অপারেটর, কানে হেডফোন। মাইক্রো ওয়েভ, সানস্পট আর হেভি সাইড লেয়ারের জগতে আছে এরা। পাশের টেবিলে রাখা শর্টহ্যাণ্ড খাতা, ডিকটাফোন।
সব মিলিয়ে নিখুঁত এ প্রতিষ্ঠানটি। কোন গোলমাল নেই; যেন আপনাআপনি সব কাজ হয়ে যাচ্ছে, এমন শৃঙ্খলা ।
মাসুদ রানা প্রথমে ঢুকল নিজের কামরায়। ঘরটার চারভাগের একভাগ কার্ড- বোর্ডের পার্টিশন দিয়ে আলাদা করা। সেখানে টাইপিস্ট মকবুল বসে রানার গত কেসটার পূর্ণ বিবরণ টাইপ করছে। রানাকে দেখে পিঠটা কুঁজো করে উঠে দাঁড়াতে গেল মকবুল। ‘বোসো,’ বলে সুইং ডোর ঠেলে নিজের ঘরে ঢুকল রানা।
ইন লেখা বেতের কারুকাজ করা ট্রে-তে গোটা কয়েক ফাইল জমা হয়ে আছে। গুগুলোর দিকে অনুকম্পার দৃষ্টিতে চেয়ে একটু হাসল রানা। ভাবল আজ বাছাধনেরা একটু বিশ্রাম নাও, আজ আর তোমাদের কাছে ভিড়ছি না।
টেবিলের উপর হাতের ডানধারে রাখা ইন্টারকমের একটা বোতাম টিপে রানা বলল, ‘মাসুদ রানা বলছি, আমাকে ডেকেছিলেন, স্যার?’
“গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর এল, ওপরে এলো।
বুকের মধ্যে ছলাৎ করে উঠল খানিকটা রক্ত। কেমন একটা আনন্দশিহরণের মত অনুভব করল রানা এক সেকেণ্ডের জন্যে। মাসখানেক পর আজ আবার গিয়ে দাঁড়াবে সেই তীক্ষ্ণ দুটো চোখের সামনে—যে চোখকে আজ সাত বছর ধরে সে ভুক্তি করেছে আর ভালবেসেছে। ওই ক্ষুরধার দৃষ্টির ইঙ্গিতে কতবার কত ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়েছে সে বিনা দ্বিধায়।
লিফটের দিকে না গিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোল রানা। সুন্দরী রিসেপশনিস্ট মিষ্টি করে হাসন একটু। রানাও হেসে তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
ডানধারে সবশেষের ঘরটায় বসেন রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল রাহাত খান। বাঙালীদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ আর্মি ইন্টেলিজেন্সের এত উপরে উঠতে পেরেছিলেন। ১৯৫২ সালে শিশু রাষ্ট্র পাকিস্তান যখন বহির্বিশ্বের ক্রমবর্ধমান কুচক্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করছে, ঠিক সেই সময় অবসর গ্রহণ করলেন আর্মি ইন্টেলিজেন্সের সুযোগা কর্ণধার মেজর জেনারেল রাহাত খান। সাথে সাথেই নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলো, নাম দেওয়া হলো পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এবং দ্বিধামাত্র না করে রাহাত খানকে বসিয়ে দেয়া হলো এর মাথায়। অনেক বাক-বিতণ্ডার পর ঢাকায় এর হেড-কোয়ার্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে গৃহীত হলো।
নিজহাতে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন রাহাত খান মনের মত করে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে কয়েক বছরের মধ্যে এত বেশি সুনাম অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠান যে আমেরিকা, ব্রিটেন আর সোভিয়েট ইউনিয়নের গুপ্তচর বিভাগ এখন পি সি.আই. কে নিজেদের সমকক্ষ বলে স্বীকার করতে গর্ব অনুভব করে।
কিছুটা গোপনীয়তার খাতিরে আর কিছুটা পাকিস্তানের বাইরে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র কার্যরত পি.সি.আই. এজেন্টদের জরুরী খবর আদান-প্রদানের সুবিধার জন্যে বাড়িটা ভাড়া নেয়া হয়েছে একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ছদ্মনামে। মস্ত বড় সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে, তাতে ইংরেজিতে লেখা :
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন, এক্সপোর্টার্স-ইমপোর্টার্স ইনডেনটার্স
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!